হলদে পাখি হরিয়াল
চিত্র-বিচিত্র মাহফুজ রহমান সেপ্টেম্বর ২০২৪
রাজ হরিয়াল শান্ত স্বভাবের পাখি। হরিয়াল কবুতর প্রজাতির এক সুদর্শন বিরল পাখি। পৃথিবীর সব হরিয়াল ট্রেরন গণের অন্তর্গত। সমগ্র বিশ্বে প্রায় ২৩ প্রজাতির হরিয়াল রয়েছে। বাংলাদেশেও বেশ কয়েক প্রজাতির হরিয়াল বিদ্যমান।
বাংলাদেশ ছাড়াও উত্তর-পূর্ব ভারত, শ্রীলঙ্কা, পূর্ব ফিলিপাইন ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে হরিয়াল পাখি দেখতে পাওয়া যায়। এটি ভারতের মহারাষ্ট্রের জাতীয় পাখির মর্যাদা পেয়েছে।
এরা দলবদ্ধভাবে খুব কমই বিচরণ করে। জোড়ায় জোড়ায় কিংবা একা ঘোরাফেরা করতে বেশি পছন্দ করে। বট বা পাকুড় গাছে এদের আনাগোনা বেশি। কারণ বট-পাকুড়ের ফল এদের খুব প্রিয়।
হরিয়ালের গলা, পাখা ও লেজের পালক ঝকঝকে সোনালি রঙের। এদের পা দুটি সোনালি রঙের হয়ে থাকে। হরিয়ালের গায়ের রং সাধারণত হলুদ জলপাই ও সবুজ হয়ে থাকে। এদের বুক, পেট পরিচ্ছন্ন ধূসর। পিঠ ধাতব-সবুজ। লেজের নিচে বাদামি লাল। চোখের মণি গাঢ় লাল। ঠোঁটের মাঝে নীলচে সাদা। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম। উভয়ের ঠোঁট সবুজাভ-ধূসর। চোখ হালকা নীলাভ। পা গোলাপি লাল। পা ও পায়ের আঙুল চকচকে হলুদ। পায়ের তলায় মাংসল গদি থাকে, যা বৃক্ষে চলাফেরা করার উপযোগী।
এরা দৈর্ঘ্যে ২৫ থেকে ২৮ সেন্টিমিটার হয়। স্ত্রী ও পুরুষ পাখির চেহারার গড়ন আলাদা। পুরুষ পাখির কপাল ধূসরাভ। মাথা সবুজাভ-হলুদ। ঘাড়ে হালকা ধূসর পট্টি।
একসময় পথের প্রান্তে বটগাছের উঁচু ডালে সকালে দল বেঁধে এই পাখিগুলোকে রোদ পোহাতে দেখা গেলেও এ দৃশ্য এখন বিরল। বর্তমানে এদের দেখা পাওয়া দুষ্কর। এরা গাছেই থাকে সবসময়। শুধু পানি পানের জন্য নিচে নামে।
শীতকাল মূলত হরিয়ালের প্রজনন সময়। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে একটি মেয়ে হরিয়াল নিজেদের তৈরি পত্র-পল্লবে ঘেরা বাসায় ডিম পাড়ে। এরা বাসা বাঁধে মাটি থেকে অন্তত দশ মিটার উঁচুতে। বিশেষ করে গাছের ঘন পাতার আড়ালে বাসা বাঁধে। সহজে কারো নজরে পড়ে না। একসাথে দু’টি ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা হতে সাধারণত ১৬ থেকে ১৮ দিন সময় লাগে ।
বট-পাকুড়ের ফল এদের প্রধান খাদ্য। এছাড়া ডুমুর, জয়ফল ইত্যাদি খেয়ে থাকে। তবে এরা সাধারণত ফলের খোসাসহ গিলে খায়। হজমের পর খোসা ফেলে দেয়। এদের একটা বড়ো সুবিধা হলো এরা খাদ্যনালি ইচ্ছেমতো বাড়াতে পারে। ফলে খোসাসহ গিলে ফেললেও সমস্যা হয় না।
আমাদের দেশে অনুকূল পরিবেশ না থাকায় হলদে পা হরিয়াল প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। মানবসম্পদের প্রয়োজনে বটগাছ, পাকুড়গাছ, খেজুরগাছ ও নাকুড়গাছ কেটে ফেলার কারণে তাদের আবাসস্থল হারিয়ে যাচ্ছে। গাছ সংরক্ষণ ও গণসচেতনতা ছাড়া এসব প্রজাতির পাখি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে না। হরিয়ালের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় এরা শিকারির লক্ষ্যবস্তুতেও পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন...