স্বাধীনতা
কুরআনের আলো বিলাল হোসাইন নূরী মার্চ ২০২৪
ছুটির দিন। মধ্যদুপুর। ঝলমলে রোদে ভিজছে চারদিক। রোদের বৃষ্টি ঢেউ খেলছে মুহিবের ঘরেও। নিজ ঘরের আলমারিতে সাজানো বইগুলো এক এক করে খুলে দেখছিল মুহিব। অনেক বই। নানা রঙের, নানা স্বাদের। আজ কিছুটা আনমনা সে। কোনো কাজেই মন বসছে না।
এদিকে একটা ঘুঘুর ডাক তাকে আরও আনমনা করে দিলো।
ঘুঘু তার খুব প্রিয় পাখি। জানালার বাইরে চোখ রেখে খুঁজতে থাকলো কোথায় সে। ওই তো, উঠোনের পাশে কড়ই গাছের ডালে বসে ডাকছে তো ডাকছেই। দেখতেও দারুণ। ঠিক যেন এক কবুতর। খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে সে। ঘুঘুটির মাথার চাঁদি ও কান-ঢাকনি ধূসর রঙের। কালো রঙের ঘাড়ে সাদা রঙের অগণন ছিট-ছোপ। বাদামি পিঠ ও ডানায় রয়েছে পীতাভ তিলা। ফিকে লালচে বাদামি চোখ। কালচে ঠোঁট। পা ও পায়ের পাতা লালরঙে মেশানো। বাদামি নখর।
দূর থেকে কি এত নিখুঁতভাবে কোনো পাখির রঙের ধারণা পাওয়া যায়?
আসল কথা হচ্ছে, মুহিব একসময় খাঁচায় একটি ঘুঘু পুষতো। তিলা ঘুঘু। এ কারণে এ পাখির শরীরের সবকিছু তার মুখস্থ। এখন শুধু দূর থেকে মিলিয়ে মিলিয়ে দেখছে। তার পোষা পাখিটি মারা গিয়েছিল খাঁচার ভেতরই। তখন খুব কষ্ট পেয়েছিল মুহিব। এরপর থেকে সে আর পাখিই পোষে না। পাখিরা আকাশে উড়ছে, গাছের ডালে বসে ডাকাডাকি করছে- এমন দৃশ্য দেখতেই তার ভালো লাগে।
তারও ইচ্ছে করে পাখির মতো ঘুরে বেড়াতে।
ইচ্ছে থাকলেই কি আর হয়? মা-বাবাই তো তাকে একা একা কোথাও যেতে দেন না। শুধু ভয়। কখন আবার কী হয়ে যায়। কত মানুষ নিখোঁজ হয়ে যায় এ দেশে। খুন হয়ে যায় কত শিশু-কিশোর। কত জুলুম-নিপীড়ন চারদিকে। তাহলে আর স্বাধীনতার কী দাম থাকলো? এসব ভাবতে ভাবতে মুহিবের চোখ দু’টি ঝাপসা হয়ে এলো।
যেন এখনই রাত নামবে।
বাবা একদিন বলেছিলেন- স্বাধীনতার সুখ পেতে হলে আরও অনেক লড়তে হবে। এখনও অনেক শত্রু ওত পেতে আছে সবখানে। আল কুরআনের একটি আয়াতও বলেছিলেন তিনি। আহা, মনেই তো পড়ছে না! ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে- “(আর আল্লাহর কাছে যা আছে তা উত্তম ও স্থায়ী, তাদের জন্য), যারা অত্যাচারিত হলে প্রতিশোধ গ্রহণ করে।” (সূরা আশ-শূরা : ৩৯)
মুহিব ভাবে, মজলুমরা বারবার জাগবে স্বাধীনতার জন্য। আর সে জাগরণের মিছিলে সে-ও থাকবে ইনশাআল্লাহ।
আরও পড়ুন...