সোশ্যাল মিডিয়া আধুনিক যুগের হাতিয়ার

আইটি কর্নার নাদিম নওশাদ অক্টোবর ২০২৪

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা, কেমন আছো সবাই। নিশ্চয়ই অনেক ভালো আছো। তোমরা সবাই নিশ্চয়ই সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে পরিচিত। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা অনলাইনে একটা নতুন সমাজ তৈরি করি। এ সমাজ কিন্তু শুধু আমাদের চারিপাশের মানুষকে নিয়ে নয়, বরং পুরো পৃথিবীর মানুষ একটা সমাজের মতো সবাই সবার সাথে সংযুক্ত থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একজন অপরজনের খোঁজখবর রাখতে পারে। নিজের বিভিন্ন অর্জন, পারিপার্শ্বিক অবস্থা এমনকি পারিবারিক বিভিন্ন তথ্য আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়ার মাধ্যমে আমাদের সুখ দুঃখ, খুশি, আনন্দ মানুষের সাথে ভাগাভাগি করে নিই।

১৯৯৭ সালে প্রথম সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম বোল্ট ও সিক্স ডিগ্রিস্ মানুষের কাছে সোশ্যাল মিডিয়ার ধারণা নিয়ে আসে। পরবর্তীতে একবিংশ শতাব্দীর প্রথমে ফ্রেন্ডসটার ও মাইস্পেস জনপ্রিয় হয়। পরবর্তীতে ফেইসবুক, টুইটার, ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

সোশ্যাল মিডিয়ার এমন অভ্যুত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড়ো ভূমিকা রেখেছে টেকনোলজির উন্নতি। টেকনোলজির উন্নতির শতকে উন্নত হয়েছে অনেক প্রযুক্তি। ইন্টারনেট হয়েছে উচ্চগতিসম্পন্ন। তৈরি হয়েছে উন্নতমানের স্মার্টফোন। ফলে স্মার্টফোনের ব্যবহারকারী বৃদ্ধি পেয়েছে। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের দৈনন্দিন ব্যস্ততাও বেড়েছে। ফলে মানুষ একে অপরের খোঁজ খবর নেওয়ার মতো তেমন সময় আধুনিক যুগে পায় না। মূলত এ কারণেই সোশ্যাল মিডিয়া এত বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষ অপরের দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পর্কে খুব সহজেই খোঁজ-খবর রাখতে পারে।

প্রথমদিকে সোশ্যাল মিডিয়া শুধুমাত্র মানুষের সাথে তথ্য ও ভাব আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়িক এমনকি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও শক্তিশালী একটা প্ল্যাটফর্ম হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সোশ্যাল মিডিয়া

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা বিভিন ধরনের গান, কবিতা, নাটক ইত্যাদি হরহামেশাই দেখে থাকি। অনেক প্রতিভাবান ব্যক্তির প্রতিভা প্রকাশ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া। এর ফলে যোগ্য ও প্রতিভাবান ব্যক্তিরা তাদের গান, কবিতা, নাটকসহ বিভিন্ন উপায়ে সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম, অনাচার, দুর্নীতি মানুষের কাছে সুনিপুণভাবে তুলে ধরতে পারেন। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন গান, কবিতা, নাটক মানুষকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।

ব্যবসায়িক অঙ্গনে সোশ্যাল মিডিয়া

মানুষের জীবনের সাথে সোশ্যাল মিডিয়া এতটা গভীরভাবে যুক্ত হয়েছে যে মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্রিক বিভিন্ন ব্যবসাও করছে। অনেকেই পড়াশুনার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়তে ছোট আকারের ব্যবসা করে বেশ লাভবান হচ্ছে। যেগুলো অনেক সময় অনেক বড়ো ব্যবসায় রূপ নিচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়িক বিজ্ঞাপন সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচারের মাধ্যমে খুব কম সময়ে ও কম খরচে অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। এজন্য ব্যবসার জন্য দিন দিন সোশ্যাল মিডিয়া অতি জনপ্রিয়তা লাভ করছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে সোশ্যাল মিডিয়া

সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন মানুষ শুধু তার মতামতই প্রকাশ করছে না, বরং মানুষ তার মতাদর্শ অন্যের কাছে প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে করে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আরেকজনের মত আলোচনা-পর্যালোচনা করা সম্ভব হচ্ছে। মানুষের চিন্তা করার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিটি জাতির মানুষ বহুমত গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারছে। 

কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া যেমন আমাদের সামনে সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়িক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, ঠিক তেমনই তৈরি করছে বৈরিতা। অতিমাত্রায় সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার মানুষকে কৃত্রিম দুনিয়ার দিকে ঠেলে দিয়ে সামাজিক জীব হিসেবে সমাজে বাঁচতে অনাগ্রহী করে তুলছে। ফলে মানুষ আত্মকেদ্রিক ও স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার জন্য অনেক অপ্রতিভাবান মানুষ বিভিন্ন অশালীন, জ্ঞানহীন কনটেন্ট তৈরি করছে। ফলে প্রতিভান মানুষ তার কাজের সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছে না। জ্ঞান, সামাজিক ও জাতিগত মূল্যবোধ, ধর্মীয় আদর্শের প্রতি মানুষ উদাসীন হয়ে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে, বড়োদের সম্মান করা, ছোটদের ¯েœহ করা, জ্ঞানী ব্যক্তির কদর করা, মানুষের অধিকারের প্রতি যত্নবান হওয়া, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মতো সামাজিক আদর্শের চরম অবক্ষয় হয়েছে। এছাড়াও, ভুল খবরের প্রচার মানুষের মনে ধোঁয়াশা তৈরি করছে। এর কারণে মানুষ দিন দিন অনেক বেশি সন্দেহপ্রবণ হয়ে পড়ছে। মানুষ এতবেশি ব্যক্তিগত তথ্য সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ করছে যে তার জীবনের গোপনীয়তা বলে কিছু অবশিষ্ট থাকছে না। ফলে মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া মানুষকে যেমন দিয়েছে বিশ্বজুড়ে যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ, তেমনিভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ককে। একদিকে সোশ্যাল মিডিয়া যেমন মানুষের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, মতপ্রকাশ করার অধিকারের মতো বিষয়কে উন্নত করেছে, অপরদিকে সামাজিক, জাতিগত, ধর্মীয় আদর্শের প্রতি মানুষকে করেছে চরম উদাসীন। সোশ্যাল মিডিয়ার ভালো ও মন্দ দিক বিবেচনা করেই সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক করা অত্যাবশ্যক।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ