রূপান্তর
উপন্যাস নাজিব ওয়াদুদ মার্চ ২০২৫
হাতে একটা চ্যালা কাঠ নিয়ে তেড়ে এলো রাজু। অবস্থা বেগতিক দেখে তার কোমর জাপটে ধরলো নাদিয়া, ‘ভাইয়া, থামো! ভাইয়া!’
ঘটনা হচ্ছে পাড়ার প্রতিবেশী আজগর মিয়া অভিযোগ নিয়ে এসেছেন- রাজু তার বাগান থেকে পেঁপে চুরি করেছে। হাফিজা বানু তখন রান্নাঘরের বারান্দায় বসে পেঁপে কাটছিলেন রান্না করবেন বলে। ঘরে কোনো সবজি ছিল না। হাট থেকে আনতে গেলে সেই বিকেল। তাদের নিজেদের পেঁপের আবাদ রয়েছে। সেখান থেকে কয়েকটা পেঁপে পেড়ে আনতে বলেছিলেন তিনি। মনে মনে ভাবলেন, ছেলে কি তাহলে অপরের বাগান থেকে পেঁপে পেড়ে এনেছে? কপাল চাপড়াতে লাগলেন তিনি।
‘কী রে রাজু, একি কথা শুনছি? তুই পেঁপে চুরি করে এনেছিস?’
‘না, মা। এই পেঁপে আমাদের বাগান থেকে এনেছি।’
প্রতিবেশী আর তাদের বাগান দুটো পাশাপাশি, বাড়ির পেছনের মাঠে। দুটো বাগানই ফলন্ত। ‘আমাদের বাগানে কি পেঁপে নেই যে অন্যের বাগান থেকে পেঁপে আনব?’ রাজুর যুক্তি ফেলনা নয়। মা বিভ্রান্ত বোধ করেন।
তরকারি কুটা রেখে প্রতিবেশীর দিকে এগিয়ে গেলেন হাফিজা বানু। ‘কথা তো সত্যি আজগর ভাই, আমাদের নিজেদের বাগানেই তো অনেক পেঁপে। তা থুয়ে আপনার বাগান থেকে আমার ছেলে পেঁপে আনবে কেন?’
‘লোকেরা ওকে আমার বাগান থেকে পেঁপে পাড়তে দেখেছে ভাবী।’
‘কে দেখেছে? বলুক তো কার বুকের এত বড়ো পাটা!’ চোখ পাকিয়ে বললো রাজু।
ষোলো বছর বয়স তার। লম্বাপানা চেহারা। দেখে যুবক-যুবক মনে হয়। লোকেরা ভয় পায় তাকে। বিশেষত ছেলে-ছোকরারা। সে নিজে তো এক ডাকা-বুকো, তার সঙ্গী-সাথীরাও তার মতোই ডানপিটে। এর গাছের ডাব, ওর গাছের নারকেল, পেয়ারা, জামরুল, বরই, আম, জাম পেড়ে খাওয়া এদের কাছে ডাল-ভাত। তাছাড়া এগুলোকে ওরা খেলা বা আমোদ-প্রমোদ হিসেবে বিবেচনা করে, অপরাধ মনে করে না। কিন্তু এই অভিযোগের বিষয়টা অন্যরকম, এটাকে খেলা বা আমোদ-প্রমোদ বলে চালিয়ে দেওয়া যায় না।
প্রতিবেশী আজগর বললেন, ‘যারা নিজের চোখে দেখেছে প্রয়োজনে তারা সাক্ষীও দিবে। কিন্তু আমি কোনো বিচার-সালিশ চাই না, ভাবী। আর কটাই বা পেঁপে পেড়েছে! বলতে এসেছি এজন্যে যে ছেলেটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আর যত অল্পই হোক বারবার চুরি করলে খারাপ লাগে। এর আগেও সে এ কাজ করেছে।’
‘আমাকে আপনি চোর বলছেন?’ বেশ রুষ্ট কণ্ঠে বললো রাজু।
‘চুরি করলে লোকে তো তাকে চোর বলবেই।’
এভাবে কথার পিঠে কথা বলতে গিয়ে ঝগড়া শুরু হয়ে গেল।
হাফিজা বেগম গিয়ে ছেলেকে টেনে আনলেন। আজগর সাহেবও চলে গেলেন।
এ পাড়ায় এই পরিবারের খুব একটা সুনাম নেই। সেটা মূলত তাদের আচার-আচরণের কারণেই। ভারি রুক্ষ স্বভাব তাদের। আর সততারও যথেষ্ট অভাব। রাজুর পিতা লোকটা হারুন মিয়া, খুব অহংকারী। ছেলেটা হয়েছে একেবারে বাপের মতো। স্কুলে যায় না ঠিক মতো। এখানে-সেখানে সারাদিন টইটই করে ঘুরে বেড়ায়। এর সঙ্গে মারামারি, ওর সঙ্গে লাঠালাঠি, এইসবই তার নিত্যকার কাজ যেন। তবে নাদিয়া মেয়েটা একটু আলাদা। ভাইয়ের একেবারে বিপরীত, বংশের বাহির যাকে বলে। যেমন দেখতে সুন্দর, তেমনি তার স্বভাব-চরিত্র। বয়স বেশি নয়, কিন্তু নামাজ-কালাম-ইবাদাতের প্রতি বেশ আগ্রহী। ফজরের নামাজের পর মসজিদের হুজুর যখন বাচ্চাদের কুরআন পড়াতে বসেন, তখন নাদিয়াও গিয়ে হাজির হয় সেখানে। এখন কুরআন পড়তে পারে সে। বেশ কিছু সূরা এবং দোয়া-দরুদও শিখেছে। বাড়িতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। তার মাকেও নামাজ ধরিয়েছে সে, যদিও তিনি এখনো নামাজে বেশ গাফিলতি করেন। তার আফসোস, তার আব্বা আর ভাইটা ঠিক হলো না। তাদের ছোট ভাইটা এখনো একেবারেই ছোট।
মৌলবি সাহেব মাঝে মাঝে পাড়ায় বের হন। লোকেদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইসলামের কথা প্রচার করেন। কতদিন হারুন মিয়ার সঙ্গেও বসেছেন। বুঝিয়েছেন- ঈমানের পরেই নামাজের স্থান। নামাজ না পড়লে মুসলমানিত্ব থাকে না। আর মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হয়। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। লোকে বলে আল্লাহ হারুন মিয়ার অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন। ও অন্তর আর গলবে না।
হারুন মিয়াকে বাড়ির সবাই, এমনকি হাফিজা বানুও ভয় করেন। ছেলেমেয়েরা তো তার ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে থাকে। এত যে দুঃসাহসী রাজু, সেও বাপকে সমঝে চলে। তবে ছেলেকে ভীষণ ভালোবাসেন হারুন মিয়া। তার প্রশ্রয় পেয়েই সে এমন বেপরোয়া হয়েছে। অবশ্য অন্য ছেলেমেয়েদেরও কম ভালোবাসেন এমন নয়।
বাড়ি ফিরে সব শুনলেন হারুন মিয়া। ভারি অবাক আর হতাশ হলেন তিনি। ‘চুরি? আমার ছেলে চুরি করেছে? বংশের আর নাম-ডাক বলে কিছু থাকলো না দেখছি।’
রাজুকে ডাকলেন তিনি। তিন ভাইবোনই সুড়সুড় করে এসে হাজির হলো অপরাধীর মতো।
‘কী রে ব্যাটা, শেষ পর্যন্ত তুই চুরি শুরু করলি? ডাকাতি করলেও নাহয় মেনে নিতাম। কিন্তু চুরি? এমন ছ্যাঁচড়ামো কাজ কেউ করে?’
পিতার কণ্ঠ এবং মুখভাব দেখে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলো ভাইবোন সবার মধ্যে। তাদের আশঙ্কা ছিল, বাপ হয়তো বেধড়ক পিটুনি শুরু করবে।
‘সত্যিই চুরি করেছিস?’
মাথা ঝাঁকালো রাজু, ‘একদিন আমাকে বকাঝকা করেছিল, তাই রাগ করে...’
‘রাগ করে কেউ চুরি করে? আর কোনোদিন করবি না। যা।’
ওরা পারলে দৌড় দেয় আরকি! কিন্তু সাহস পায় না। বিস্মিত মুখে ছোট ছোট ধাপ ফেলে চলে যায় ওরা।
নিজেদের ঘরে গিয়ে নাদিয়া বললো, ‘আজ বেঁচে গেলে। কিন্তু ও কাজ আর কখনো কোরো না ভাইয়া, চুরি করা ভালো নয়। হুজুর বলেন, না বলে কারো কোনো জিনিস নিতে নেই। এটা একটা বড়ো পাপ। এটা এতটাই জঘন্য কাজ যে আমাদের ধর্মে চুরি করলে হাত কেটে দেওয়ার বিধান আছে। কী সাংঘাতিক ভেবে দেখো!’
‘কী যা-তা বলছিস!’
‘যা-তা নয়, আমি ঠিকই বলছি। তুমি হুজুরকে জিজ্ঞেস করে দেখো।’
‘হু! আমার তো খেয়েদেয়ে কাজ নেই, যাচ্ছি মৌলবি সাহেবকে জিজ্ঞেস করতে।’ নাক সিঁটকালো রাজু।
নাদিয়া বললো, ‘কেন, গেলে অসুবিধা কী? তোমার জানা হবে।’
‘ওসব জেনে আমি কী করবো? আমি কি ওয়াজ করে বেড়াবো নাকি? তাছাড়া গেলেই তো খালি বলবে নামাজ পড়ো, মিথ্যা কথা বলবে না, কারো কোনো ক্ষতি করবে না, মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করবে, হাবি-জাবি আরো কত কী!’
‘তিনি যদি এসব বলেই থাকেন ভালোই তো বলেন, তাই না? এসব কি খারাপ কিছু বলেন? বলো, ভাইয়া? এসব কি খারাপ কথা?’
‘না, খারাপ না...’, গাঁইগুঁই করে রাজু। ‘দ্যাখ, তুই খুব পাকামি করছিস। এসব বড়োদের ব্যাপার, তোর নাক না গলালেও চলবে।’
‘না ভাইয়া, এসব ছোটকাল থেকেই শিখতে হয়। এখন থেকে অভ্যাস করলে বড়োকালে ভালো হবে। ঠিক কিনা বলো?’ বড়োদের মতো করেই উপদেশ দেয় নাদিয়া।
রাজু ভাবে তার বোনটা এই বয়সেই জ্ঞান-বুদ্ধিতে বেশ সাবালক হয়ে উঠেছে। তার এসব কথায় সে বিরক্ত হয়, কিন্তু কথাগুলো যে মিথ্যে নয় তা অস্বীকার করা যায় না। কেন জানি বোনটাকে সে খুব ভালোবাসে, তাই অন্যদের সঙ্গে যে-রকম রূঢ় আচরণ করে তা সে নাদিয়ার সঙ্গে করতে পারে না। তবু এবার সে একটু শক্ত হয়।
‘নে, যথেষ্ট হয়েছে। এখন পড়তে বস।’
‘আমাকে তো বলছো, তুমি পড়বে না? এবার রেজাল্ট খারাপ করলে আব্বা কিন্তু ছাড়বে না।’
‘এখন মন ভালো নেই। মনটা আগে ভালো হোক, তারপরে পড়বো।’
হঠাৎ রাজুর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে নাদিয়া বললো, ‘আমি এখনি তোমার মন ভালো করে দিচ্ছি।’ বলে হাসতে লাগলো। তার চোখ ঠিকরে নির্মল আনন্দ ও ভালোবাসার আলো বিচ্ছুরিত হতে লাগলো। কিছুটা রহস্যও ছিল তার কথার সুরে এবং চোখের আলোয়, রাজু বিস্মিত হয়ে বললো, ‘কী রে?’
পাকা মেয়ের মতো সে এবার রাজুকে টেনে নিয়ে খাটের ওপর বসালো। ‘এখানে একটু চুপটি করে বসো, আমি এক্ষুনি আসছি। কোথাও যেও না কিন্তু!’ কোনো জবাবের জন্য অপেক্ষা না করে ছুটলো নাদিয়া। যেমন গুলির মতো গেল, তেমনি গুলির মতো এলো। হাতে একটা ঠোঙা। আর তার পেছন পেছন ছোট্ট ভাইটা।
‘কী রে, কী এটা?’ উৎসুক এবং লোভী চোখে তাকালো রাজু।
‘দাঁড়াও দিচ্ছি তোমাকে, আগে ছোটকুকে দিই।’
ঠোঙা খুলে চিনির গজা বের করলো নাদিয়া।
‘আরেব্বাস! কোথায় পেলি?’ চিনির গজা রাজুর খুব প্রিয়। তার চোখ দুটো চকচক করে উঠলো।
‘মা পুরোনো ভাঙা হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করতে দিয়েছিল, সেই টাকা দিয়ে কিনেছি।’
মজা করে গজা খেতে লাগলো তিন ভাইবোন মিলে।
গজা খেতে খেতে নাদিয়া বললো, ‘যেখানেই যাই লোকে খালি তোমার বদনাম করে। তোমাকে কেউ খারাপ বললে আমার খুব কষ্ট হয়।’ তার চোখ দুটো ছলছল করতে লাগলো।
গজা মুখেই গর্জে উঠলো রাজু, ‘কে আমার দুর্নাম করে, রে? কার বুকের এত বড়ো পাটা?’
‘এই তো! এটাই তো খারাপ। কতজনের মুখ বন্ধ করবে তুমি? তার চেয়ে ভালো হয়ে যাও।’
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ওদের বাপ-মাও এসব নিয়েই আলাপ করছিলেন।
‘রাজু শেষে চুরি করা ধরলো? এ কেমন কথা!’
‘আপনার আশকারা পেয়ে-পেয়েই ও বখে যাচ্ছে। লেখাপড়া করে না, সবসময় রাগ-ঝাল, মুখে গালাগাল লেগেই আছে। আপনি তো শাসন করেন না।’
‘তাই বলে চুরি করবে? আমাদের বংশের একটা দুর্নাম আছে, আমরা বদমেজাজি, আমরা ধর্ম-কর্ম কম করি, তাই বলে চুরির অভিযোগ কেউ করতে পারবে না।’
‘মানুষের স্বভাবটাই এমন, একবার অভ্যাস হয়ে গেলে একটা দোষ আরেকটা দোষের দিকে ঠেলে দেয়। আপনিও তো শোনেন না।’
একটা ধমক লাগাতে গিয়েও সামলে নিলেন হারুন মিয়া। তার মনে হলো হাফিজা বানু ভুল কিছু বলেননি।
‘কাল থেকে ওর বাইরে বের হওয়া বন্ধ।’
‘স্কুলে যাবে না?’
‘ও, তাই তো! ঠিক আছে, স্কুল আর বাড়ি। আর কোথাও যাওয়া চলবে না। ব্যস!’
হাফিজা বানুর মনে কিছু পরামর্শ উঁকি দিচ্ছিল, কিন্তু তিনি চেপে গেলেন। দেখা যাক কী হয়।
স্কুলে আসা-যাওয়া করতে গিয়ে ইয়ার-বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা একেবারেই হচ্ছে না তা নয়, কিন্তু দুধের স্বাদ কী আর ঘোলে মেটে? হাঁপিয়ে উঠলো রাজু। তার দম বন্ধ হয়ে আসতে লাগলো।
সেদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মোড়ের ওপর ছোট্ট জটলা দেখে দাঁড়ালো রাজু। সাত-আট জন তরুণ ও কিশোর। তার মনে হলো তারা হয়তো আগে থেকেই আড্ডা দিচ্ছিল, এখন বিদায় নিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত দু’জন থাকলো। তারা হয়তো আরো খানিকক্ষণ বসবে। তাদের একজন তার কিছুটা পরিচিত। তাদের স্কুলেরই সিনিয়র ভাই। এখন কলেজে পড়ে। চোখাচোখি হতেই তাকে ডাকলো সে। ‘তুমি আমাদের স্কুলে পড়ো না? তুমি একবার ছোটদের দৌড়ে ফাস্ট হয়েছিলে?’
সে দু’বছর আগেকার কথা। শুধু দৌড়ে নয়, লং জাম্পেও ফাস্ট হয়েছিল রাজু। ‘আপনি হাই জাম্পে ফাস্ট হয়েছিলেন।’
‘মনে আছে তোমার?’ বলে সঙ্গীর দিকে তাকালো সিনিয়র। ‘জানেন ভাই, ও যে কী ভীষণ দৌড়াতে পারে! সবাইকে অনেক পেছনে ফেলে ছুটে যায়। তার পাত্তাই পায় না কেউ।’ তারপর আবার রাজুর দিকে তাকিয়ে বলে, ‘এখনো খেলো তো? খেলবে। খুব ভালো স্পোর্ট্সম্যান হতে পারবে তুমি।’
ওরা তাকে চা খাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করতে লাগলো। এ রকম আড্ডার জন্য এতদিন উন্মুখ হয়ে ছিল সে। সিনিয়র ভাইয়ের নাম শিহাব। অন্যজন আরো একটু সিনিয়র। সে এখানে একটা কাজে এসেছে।
‘আপনিও তো খুব ভালো স্পোট্র্সম্যান ছিলেন। এখন খেলেন না?’ জিজ্ঞেস করলো রাজু।
এ প্রশ্নে শিহাবের মন খারাপ হয়ে গেল। তারা দু’জন মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগলো।
‘আসলে হয়েছে কী... ও আর দ্রুত দৌড়াতে পারে না, লাফাতে পারে না।’
‘কেন? পায়ের সমস্যা হয়েছে? অসুখ?’
‘সমস্যা, তবে ঠিক অসুখ নয়। ওর পা ভেঙে গিয়েছিল।’
‘ও! অ্যাক্সিডেন্ট?’
‘না, অ্যাক্সিডেন্টও ঠিক না। সন্ত্রাসীরা ওকে মেরেছিল। মরেই যাচ্ছিল বেচারা, কোনোরকমে আল্লাহর রহমতে বেঁচে গেছে। ডান পাটা একেবারে কুচি-কুচি হয়ে গিয়েছিল, ওই পায়ে সে বেশি জোর পায় না।’
ভারি বিস্মিত হয় রাজু। ‘এইভাবে মেরেছিল! কেন মেরেছিল? ছিনতাই না ডাকাতি?’
‘ওসব কিছু না। ও কুরআনের কথা বলে, নামাজ-রোজার কথা বলে, সততা ও ত্যাগের কথা বলে, মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকে, এই তার অপরাধ।’
সে তো নাদিয়াও বলে। মনে মনে ভাবে রাজু। তাদের পাড়ার মৌলবি সাহেবও বলেন। সেটা অপরাধ হবে কেন? অবাক হয় সে।
‘অপরাধ তো নয় আসলে। ভেবে দেখো এই দুনিয়া, এই সৃষ্টিকুল, মানুষ, পশু-পাখি, প্রকৃতি সব আল্লাহর সৃষ্টি। তো যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনিই তো সবচেয়ে ভালো জানেন কীভাবে চললে বা চালালে সে ভালো থাকবে। তাই না? তো আমরা চাই সবাই আল্লাহর আইন মেনে চলুক। তাহলে সবার কল্যাণ হবে। তারা এটা করতে দিতে চায় না। এই আরকি।’
‘সেজন্যে এভাবে মারবে? কোন সে মামুর ব্যাটা বলেন তো?’
রাজুর অগ্নিমূর্তি দেখে ঘাবড়ে গেল তারা। ‘না, না, ঠিক আছে। রাগ হওয়ারই কথা। কিন্তু এটা নতুন নয়, বুঝছো? সমস্ত নবী-রাসূলকে এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। তাঁদের মতো ভালো মানুষ তো আর কেউ হতে পারে না, তাই না? তাঁদের মতো মহান মানুষদের ওপরেও অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে। কিন্তু তারা সেজন্যে পিছপা হননি। তাঁরা তাদের কাজ করে গেছেন। আমাদেরও সে পথ ধরে চলতে হবে।’
আরো অনেক বিষয়ে আলাপ হলো তাদের। রাজুর মনের মধ্যে একটা ঝড় সৃষ্টি হলো। উথাল-পাথাল ঝড়। তারা তাকে একটা বই পড়তে দিলো। সেটা নিয়ে বাড়ি ফিরলো সে।
বইটা দেখে নাদিয়া বললো, ‘ওমা! এই বই তো আমি হুজুরকেও পড়তে দেখেছি।’
‘তাই নাকি? তা হতে পারে, ইসলামী বই যখন সেটা অনেকের কাছেই থাকতে পারে।’ রাজু পড়ায় মন দিলো।
‘কিন্তু ভাইয়া, তুমি তো ধর্ম-কর্ম কিছুই মানো না। এই বই পড়ে কী করবে?’
‘ধর্ম-কর্ম মানি না মানে কী? আমি কাফের না মুশরেক? নামাজ-রোজা হয়তো করি না ঠিক মতো, তাই বলে কি মুসলমান না? তুই বেশি জ্বালাস না। পড়ে তো দেখি আগে।’
নাদিয়াও চায় বইটা তার ভাই পড়ুক। তাকে সে বিরক্ত করতে চায় না। সে কেবল ভেবে পায় না তার দুরন্ত ভাইটার হাতে বইটা এলো কী করে। আর সেটা পড়ার মানসিকতাই বা হলো কেমন করে। সে আল্লাহর শোকর গোজার করে। ‘মাবুদ, আমার ভাইকে হিদায়াত দান করো।’
বইটার নাম ‘ঈমানের হাকিকত’। ছোট বই। এক রাতেই, প্রায় এক নিঃশ্বাসে বইটা পড়ে ফেলে রাজু। তার ভাবনার দুনিয়াটা একেবারে ওলট-পালট হয়ে যায়। ঘুমাতে পারে না। কীভাবে যে ভোর হয়, সে ছুটে যায় স্কুলে। কিন্তু মন বসাতে পারে না ক্লাসে। কখন দেখা হবে শিহাবের সঙ্গে সে চিন্তায় উচাটন হয়ে থাকে মনটা। ফেরার পথে আবার সেই মোড়ে দেখা হওয়ার কথা। তার সঙ্গে কথা না বললে শান্ত হবে না অস্থির মন।
শিহাব আগে থেকেই দাঁড়িয়ে ছিল। আজ একা। আগের দিনের ভাইটা চলে গেছে। তারা একটা ফাঁকা চায়ের স্টলে গিয়ে বসলো।
‘খবর কী বলো। বইটা পড়তে পেরেছ?’
‘কী বলবো ভাই,’ রাজু আবেগে যেন থরথর করে কাঁপছে, কথা বলতে পারছে না ভালো করে। ‘এরকম করে তো কখনো ভাবিনি আগে। তবে সব কথা বুঝতে পারিনি।’
তার ঘাড়ে হাত রাখে শিহাব। ‘বোঝার কি শেষ আছে, বলো? একেকটা জিনিসকে একেক সময় একেক রকম লাগে। ছোটকালে যে জিনিস ভালো লাগে, বয়সকালে সেটা অত ভালো লাগে না। তো বোঝারও রকমফের আছে। পড়তে থাকো, যত পড়বে, যত জানবে, জ্ঞানের দরজা ততো খুলে যাবে, ততো বুঝতে পারবে। ঈমানটাই আসল, বুঝলে? তো ঈমান বলতে কী বোঝায় সেটা কিছু তো অনুমান করতে পারছো?’
মাথা নাড়ে রাজু। ‘এরকম আরেকটা বই দেন ভাই।’
তার আগ্রহ দেখে খুশি হয় শিহাব। ‘অনেক বই আছে, দেওয়া যাবে। তবে আমার মনে হয় এই বইটাই অন্তত আরেকবার পড়ো তুমি। তাহলে আরো ভালো বুঝতে পারবে, সবকিছু আরো পরিষ্কার হবে।’
বেশ কয়েকদিন পর রাতে স্বামীকে বলছিলেন হাফিজা বানু, ‘আপনার সেদিনের শাসনে খুব কাজ হয়েছে, জানেন? রাজু এখন রোজ স্কুলে যায়, স্কুল থেকে সোজা বাড়ি ফিরে আসে। বাইরে খুব একটা ঘোরে না আজকাল। পড়াশোনাতেও মন দিয়েছে।’
‘তাই তো বলি! রোজই বাড়ি ফিরে দেখি ভাইবোনদের নিয়ে পড়ছে।’
লেখাপড়ায় কোনোদিনই মন দেয়নি রাজু। এতদিনে তার কলেজে পড়ার কথা। অথচ ক্লাস নাইনে পড়ে আছে এখনো। তার বয়সের অনেক ছেলেমেয়ে কেউ এসএসসি পাস করেছে, কেউ এসএসসি দেবে। তার মেধা কম নয়, পড়লে সে-ও ভালো করতে পারতো। হারুন মিয়ার জমি-জমা আছে, ছোটখাটো একটা ব্যবসাও করেন, বড়ো হয়ে এসব কিছুর হাল রাজুকেই ধরতে হবে। এর জন্য খুব বেশি লেখাপড়ার প্রয়োজন নেই, এমনটাই মনে করেন তিনি। তাই ছেলের লেখাপড়া নিয়ে কখনো তেমন একটা ভাবেননি। কিন্তু ছেলেটা বখে যাচ্ছে, সেটা একটা মাথাব্যথার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন রাজুর লেখাপড়ায় মন বসেছে শুনে তার একটু ভালো লাগলো। ‘আজকাল কোনো অভিযোগও কানে আসছে না। খুব ভালো খবর তো!’
‘হুঁ। তবে কয়দিন এরকম থাকে সেটাই ভাবছি। বংশের ধারা কি সহজে যায়?’ কথাটা বলেই জিভ কাটেন হাফিজা বানু। স্বামীর দিকে ক্ষমাপ্রার্থীর দৃষ্টিতে তাকান। ‘না, মানে বলছিলাম যে আপনাদের বংশে রাগ-ঝাল সবারই একটু বেশি তো। ও কি তার থেকে বেরতে পারবে?’
ধমকে উঠলেন হারুন মিয়া, ‘কেন পারবে না? খালি বংশ তুলে কথা!’ কটমট করে তাকালেন স্ত্রীর দিকে। যথেষ্ট বেশি বলা হয়ে গেছে, ভাবলেন হাফিজা বানু। তিনি চুপ করে রইলেন।
পরদিন বিকেলে দোকানে বসে ছিলেন হারুন মিয়া। সামনে বাঁশের মাচানে কয়েকজন লোক গল্প করছিলেন। হঠাৎ প্রতিবেশী আজগর এসে হাজির। তাকে দেখে মেজাজটা বিগড়ে গেল তার। নিশ্চয়ই কোনো অভিযোগ নিয়ে এসেছে। মুখ বেজার করে তাকালেন তার দিকে। ‘তোমার ছেলের কাণ্ড দেখেছ হারুন ভাই?’
কষটে মুখে হারুন মিয়া বললেন, ‘কী আর দেখবো! তুমিই বলো কী কাণ্ড করেছে আমার ছেলে।’
‘কাল মাগরিবের নামাজের পর মসজিদের ইমামকে নিয়ে আমার বাসায় হাজির। তো ছেলে বলে কি- চাচা, আমি ভুল করেছি, আমাকে মাফ করেন। আমি তো অবাক। কীসের মাফ রে বাবা! আবার কী করলি তুই!’
অবাক হারুন মিয়াও। তিনি এখনো ধরতে পারছেন না লোকটার মতলব কী। তার কথার ধরন দেখে মাচানে বসা লোকগুলোও তার দিকে তাকিয়ে কান পেতেছে।
‘ইমাম সাহেব বললেন, রাজু আমার বাগান থেকে পেঁপে চুরি করেছিল, সে তার ভুল বুঝতে পেরেছে, তার জন্যে ক্ষমা চাইছে, আপনি আল্লাহর ওয়াস্তে তাকে মাফ করে দেন।’ বলে হা-হা করে হাসতে লাগলেন আজগর মিয়া।
‘দেখ তো ভাই ছেলেমানুষি। না বলে কবে চারটা পেঁপে পেড়েছিল সেটা কি আর আমার মনে আছে? আরো অনেক কথা হলো, জানো? তোমার ছেলেটা খুব ভালো হয়ে গেছে ভাই।’
মাচান থেকে একজন বললেন, ‘তাই তো দেখছি। আজকাল এভাবে মাফ চায় কেউ?’
রাতে বাড়িতে এসে সে কথা স্ত্রীকে শোনালেন হারুন মিয়া। হাফিজা বেগম তখনই যাচ্ছিলেন ছেলের কাছে, কিন্তু নিষেধ করলেন তিনি। ‘থাক, শরম পাবে। কাজটা আমাদের বংশের সাথে যায় না। তবে খারাপ হয়নি, কী বলো রাজুর মা? ছেলেপিলেদের সদাচার শেখানো উচিত, তাই না।’
‘হ্যাঁ। আর ইদানীং সে নামাজ পড়ছে।’
‘তাই নাকি? কী বলছো?’
‘ঠিকই বলছি। দুই ভাইবোন মিলে কুরআন পড়ে।’
‘বাড়িতে এতসব ঘটে যাচ্ছে তা আগে বলোনি তো?’
‘কী বলবো? নামাজ পড়া, কুরআন পড়া তো ভালো কাজই, তাই না? পড়–ক। তাতে যদি মতিগতি ঠিক হয়।’
‘তা অবশ্য ঠিক।’ বিস্ময় ফুটে উঠলো তার চোখে-মুখে।
হাফিজা বেগম ততোধিক বিস্মিত হচ্ছিলেন তার স্বামীর ব্যাপার-স্যাপার দেখে। তার মধ্যেও কি পরিবর্তন আসছে? এরকম সম্ভাষণ আর মোলায়েম কথা তো তার মুখ থেকে এর আগে কোনো দিন বেরয়নি। বাপ-বেটার হলোটা কী? তার মনের এই চিন্তার ভুটভুটিকে তিনি বাইরে বের হতে দেন না, আটকে রাখেন বুকের ভেতরেই।
কিছুটা উদাস হয়ে পড়লেন হারুন মিয়া।
‘কী ভাবছেন? ছেলেমেয়েদের জন্য দুশ্চিন্তা হচ্ছে?’
‘না। ওরা তো ভালো কাজই করছে।’ একটু থামলেন হারুন মিয়া, কিছু একটা যেন ভাবলেন, তারপর কিছুটা করুণ আর নরম সুরে বললেন, ‘জানো রাজুর মা, এক খদ্দেরকে আমি কিছু টাকা বেশি ফেরত দিয়ে ফেলেছিলাম, অজান্তে। পরদিন লোকটা আমার দোকানে এসে টাকা ফিরিয়ে দিলো। আমি বললাম, ‘আমি তো জানতামই না যে আমি আপনাকে বেশি দিয়ে ফেলেছি। আপনি ফিরিয়ে না দিলে কী হতো?’ লোকটা কী বললো জানো? বললো, ‘আপনি না জানলে কী হবে, আল্লাহ তো জানেন, তিনি সব দেখেন, কাল কেয়ামতের ময়দানে এর জন্যে আমাকে তার কাছে জবাবদিহি করতে হতো। যদি টাকাটা আমি ফেরত না দিতাম তাহলে সেদিন কী জবাব দিতাম বলেন তো? আমাকে শাস্তি পেতে হতো। এই দুনিয়াতে ভালো-মন্দ যে কাজই করেন তার সব হিসাব আল্লাহর কাছে থাকে। তাকে ফাঁকি দেওয়ার কোনো উপায় নাই। সবসময় মনে রাখবেন আল্লাহ আপনাকে দেখছেন।’ এই লোকটার কথা আমার বুকের ভেতর কাঁটার মতো বিঁধে আছে, জানো? আমি স্বস্তি পাচ্ছি না।’
স্বামীর হাত দুটো নিজের মুঠোর মধ্যে টেনে নিলেন হাফিজা বেগম। ‘জেনে-শুনে কোনো খারাপ কাজ করবেন না, তাহলেই হবে।’
ওদিকে নিজেদের ঘরে বসে ঘোঁট পাকাচ্ছিলো দুই ভাইবোন। ‘ভাইয়া, আব্বা-আম্মা কেউ যে নামাজ পড়ে না।’
‘কেন, মা তো নামাজ পড়ে।’
‘পড়ে, মাঝে-মধ্যে, নিয়মিত না। আর আব্বা তো জুমার নামাজটাও ঠিক মতো পড়ে না। আমাদের কিছু একটা করা দরকার।’
‘হুজুরকে ডেকে এনে বোঝাতে হবে।’
‘তিনি তো মাঝে-মধ্যে বলেন, তাতে কাজ হয় কই? আমাদেরই কিছু করতে হবে।’
‘হুম! কী করা যায় তাহলে? ভাব, ভাবতে থাক।’
নিজ নিজ ঘরে গিয়ে শুয়ে শুয়ে ভাবতে থাকে ওরা।
মোবাইলে অ্যালার্ম দেওয়া ছিল, সেটা বাজতেই ঘুম ভেঙে গেল রাজুর। পাশের ঘরে নাদিয়া আর ছোট ভাইটা ঘুমাচ্ছে। সে ঘরের দরজায় গিয়ে টোকা দিলো। নাদিয়া যেন জেগেই ছিল, এক টোকাতেই উঠে পড়লো। পরিকল্পনা সাজানোই ছিল, তারা পরস্পরের দিকে তাকিয়ে শুধু মাথা নাড়লো। তাদের ওজু শেষ হওয়ার আগেই মসজিদের মাইক থেকে ভেসে এলো আজানের ধ্বনি- আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। দু’জন গিয়ে বাপ-মায়ের ঘরের দরজার সামনে দাঁড়ালো। আজান শেষ হয়েছে। সুনসান পৃথিবী। ঘরের ভেতর থেকে তাদের পিতার মৃদু নাকডাকার শব্দ ভেসে আসছে। নাদিয়া ভাইয়ের দিকে তাকালো। মাথা ঝাঁকিয়ে দরজার কড়া নাড়ার জন্য ইঙ্গিত করলো। তবু দ্বিধা হচ্ছে তাদের। এটা কি ঠিক হচ্ছে?
ভাইয়ের দ্বিধান্বিত ভাব দেখে মৃদু গুঁতো লাগালো নাদিয়া। এবার আল্লাহর নাম নিয়ে দরজার শেকল ধরে নাড়া দিলো রাজু। এক বার। দুই বার। তিন বার। ঠক-ঠক। ঠক-ঠক। ঠক-ঠক।
‘কে রে? কে ডাকে এত রাতে?’
‘ব্যাপার কী? কিছু হয়েছে নাকি? ওঠেন তো।’
‘না, কিছু হয়নি, তেমন কিছু না।’ বাপ-মায়ের উদ্বেগাকুল কণ্ঠ শুনে দ্রুত বললো রাজু।
হাফিজা বেগম দরজা খুলে দিলেন। উদ্বিগ্ন মুখে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী হয়েছে?’
‘কিছু হয়নি মা।’
ততক্ষণে হারুন মিয়াও উঠে এসেছেন। ছেলেমেয়েদের দেখে তিনিও অবাক এবং উদ্বিগ্ন। ‘কী ব্যাপার?’
কিন্তু লজ্জায়, এবং কিছুটা ভয়ে কিছু বলতে পারছে না ওরা।
‘ভয় পেয়েছিস নাকি? আয়, ভেতরে আয়। ছোট্কু কই?’
‘ও ঘুমাচ্ছে মা। ও ঠিক আছে।’
‘তাহলে? কী হয়েছে তোদের?’
নাদিয়া কাঁচুমাচু মুখে ভাইয়ের দিকে তাকায়। পরিকল্পনাটা তারই, এবং কথাটা তারই বলার কথা। রাজু বুঝলো সেটা, বললো, ‘ফজরের আজান হয়েছে। আমরা নামাজ পড়বো। আমরা ওজু করেছি। এবার তোমরা ওজু করে নাও।’ একদমে, কোনো শ্বাস না নিয়ে কথাগুলো বলে ফেললো রাজু, বলে যেন শ্বাস ফিরে পেলো সে। আব্বা-আম্মা হতবাক। তখন আবার মুখ খুললো রাজু, ‘আম্মা আর নাদিয়া বাড়িতেই নামাজ পড়বে। আমি আর আব্বা মসজিদে যাবো। জামায়াতে নামাজ পড়ার অনেক ফায়দা।’
বিস্ময়ের ঘোর কাটলে ফিক করে হেসে উঠলেন হাফিজা বেগম। স্বামীর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমাদের সোনামনিদের কাণ্ড দেখো।’ তারপর ছেলেমেয়েদের দিকে ঘুরে বললেন, ‘বেশ তো। কিন্তু এরকম নাটক করার কী দরকার ছিল বাবা! আমাদের আগে বললেই পারতিস।’ দুই হাতে দুই ছেলেমেয়েকে টেনে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি মিষ্টি হাসতে লাগলেন। যে কথাটা তারা প্রকাশ করলেন না সেটা হলো, রাতে ঘুমানোর আগেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আজ থেকে তারা আল্লাহর পথে চলা শুরু করবেন, আর তার উদ্বোধন করবেন ফজরের নামাজ দিয়ে।
আরও পড়ুন...