রহস্যময় এক জগৎ

তোমাদের গল্প তামিম মাওলা নভেম্বর ২০২৪

সামান্য এক পুরোনো লাইব্রেরির কর্মচারী হলো আরমান। সে অনেক পরিশ্রমী  ও পরিপাটি থাকতে পছন্দ করতো। আরমানের গুণ দেখে তার মালিক দোকানে কাজে রেখেছিল। আরমানের মালিক সাফিম অদ্ভুত মানুষ ছিলেন। ভীষণ গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ ছিলেন তিনি। লাইব্রেরির একদম দক্ষিণ দিকে এক অদ্ভুত দরজা ছিল। দরজার গায়ে লেখা ছিল, এখানে হাত দেওয়া নিষেধ। আরমানের মালিক আরমানের কাজের প্রথম দিনেই বলেছিল, সে যেন দক্ষিণ দিকের দরজাটার কাছে না যায়। পরে আরমান তার মালিককে বললো- আমি কেন ওপাশটায় যাবো না?

- আমাকে বেশি প্রশ্ন করবে না।

কথাটি শুনে আরমানের সন্দেহ হয়। তবে সে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেয় না। দীর্ঘ পাঁচ বছর সে কাজ করে সেখানে। আরমান একটা ম্যাচে ভাড়া থাকতো। একদিন সে রাতের কাজ শেষে ম্যাচের রুমে ফিরছিল। পকেটে হাত রেখে দেখলো তার মায়ের দেওয়া আংটিটি হারিয়ে গেছে। তার মা মারা গেছেন। সেটিই ছিল আরমানের মায়ের শেষ স্মৃতি। তাই সে লাইব্রেরির দিকে রওনা হলো। 

সে সেখানে গিয়ে দেখলো, মালিক একটা চাবি দিয়ে দ্রুত লাইব্রেরির দরজা খুলছেন। সে লুকিয়ে দেখলো, দক্ষিণ দিকের দরজা একটি সোনার চাবি দিয়ে খুলে ফেললো। দরজার ওপাশে দেখা গেল সুন্দর একটি জগৎ। সেটা এমন একটি জগৎ- সেখানে কোনো কিছু মুখ দিয়ে বললেই পাওয়া যায়।

আরমান লুকিয়ে দেখতে দেখতে হাত লেগে কিছু বই পড়ে যায়। মালিক শব্দ শুনে ভয় পেয়ে পৃথিবীর দিকে আসতে লাগে। দরজার কাছে আসতেই মালিক ভেতর থেকেই পড়ে থাকা একটা বইয়ের নাম পড়ে ফেলে। বইয়ের নাম ছিল, আজ আমার মৃত্যু হবে।

নামটি পড়ার সাথে সাথেই একটি তলোয়ার এসে লাগে সাফিমের পিঠে লাগে। সাথে সাথে সাফিমের মৃত্যু হয়। তারপর পুরো  রাজত্বটাই হয়ে যায় আরমানের। সে খুব উদারমনা ছিল। সে সেই জগৎ থেকে মূল্যবান সম্পদ সংগ্রহ করে। সেই সম্পদ বিক্রি করে তার মতো সব অনাথ শিশুদের বিতরণ করে দেয়। আরমান সেই জগৎটা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগায়।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ