মাহে রমজান
প্রবন্ধ নিবন্ধ মুহাম্মদ আবু সুফিয়ান মার্চ ২০২৫
হৃদয়ের বসন্ত
শীতকালে গাছের পাতা ঝরে যায়। গাছগুলো কেমন যেন আলসেমি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। যেন সেগুলো ঘুমিয়ে যায়। যেন চলে যায় মৃত্যুর কাছাকাছি। তারপর সময় গড়িয়ে একসময় আসে বসন্ত। কোকিল কুহু কুহু করে ডেকে ওঠে। সে কুহুতানে আড়মোড়া ভেঙে জেগে ওঠে গাছগাছালি পাখপাখালি। গাছের শাখায় শাখায় নতুন পাতা গজায়। সে পাতা সবুজ ও সজীব। চারদিকে সাড়া পড়ে যায়। বসন্ত চলে এসেছে। এসেছে ফুল ফোটার দিন। মৌমাছির গুনগুন গানে মুখর হয়ে ওঠার দিন। বসন্তকে যেন স্বাগত জানায় সবাই।
ঠিক একইভাবে মানুষের মনেও একধরনের শীত আসে। আসে আলস্য। ইবাদতে মন বসে না। ভালো কাজে উদ্দীপনা জাগে না। সবদিকে কেমন যেন মনমরা ভাব। যেন মনের বাগানেও আসে পাতাঝরা মৌসুম। তারপর একসময় বছর ঘুরে সিয়ামের মাস আসে। চাঁদ-তারারা হেসে ওঠে। চারদিকে সাড়া পড়ে যায়। আলস্য ও মনমরা ভাব ঝেড়ে জেগে ওঠে বিশ্বাসীরা। মুমিনের অন্তরে জাগে ইবাদতের নব-উদ্দীপনা। যেন হৃদয়ে হৃদয়ে ফুল ফোটে। গুনগুন করে গুঞ্জরিত হয় কুরআনের তিলাওয়াত। এ যেন আরেক বসন্ত। হৃদয়ের বসন্ত। ইবাদতের বসন্ত। ভালো কাজের বসন্ত। তাই বলা হয় মুমিনের বসন্ত হলো রমজান।
তাই বিশ্বাসীরা অপেক্ষায় থাকে রমজান কখন আসবে। কখন পশ্চিম আকাশে সিয়ামের চাঁদ হাসবে। সে হাসিতে ঝলমল করে উঠবে রমজানের রাতের তারারা। খুলে দেওয়া হবে জান্নাতের দরজাগুলো। বন্ধ করে দেওয়া হবে জাহান্নামের দোরগুলোও। আর অভিশপ্ত শয়তানকে করা হবে শেকলবন্দি।
তাকওয়া অনুশীলনের মাস
তাকওয়া মানে হলো বিরত থাকা, বেঁচে থাকা। আল্লাহর কাছে আমাদের প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তিনি সব কাজের হিসাব নেবেন। ভালো কাজের জন্য দেবেন অফুরন্ত পুরস্কার। আর খারাপ কাজের জন্য দেবেন কঠোর শাস্তি। আল্লাহর কাছে জবাবদিহির অনুভূতি মনে জাগরূক থাকলে মানুষ খারাপ কাজ করবে না। ভালো কাজ করার জন্য প্রেরণা পাবে। ভালো কাজ করলে তার মন আনন্দে ভরে উঠবে। সে এই কথা ভাববে যে, আল্লাহ তায়ালা আমাকে এই ভালো কাজটির জন্য অবশ্যই পুরস্কার দেবেন। আর কোনো খারাপ কাজ করতে ইচ্ছে হলেই আল্লাহর ভয় তাকে বিরত রাখবে। সে আল্লাহর ভয়ে খারাপ কাজ থেকে ফিরে আসবে। আল্লাহর কাছে জবাবদিহির এই অনুভূতির নামই হলো তাকওয়া। এই অনুভূতি আমাদের খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে, বাঁচিয়ে রাখে, সেজন্যই এটাকে ‘তাকওয়া’ বলে নামকরণ করা হয়েছে।
রমজান হচ্ছে তাকওয়া অনুশীলনের মাস। রমজানে আমরা রোজা রাখি। সুবহে সাদিক থেকে সূর্য ডোবা পর্যন্ত কিছু খাই না। কেন খাই না? মানুষ দেখে মন্দ বলবে বলে? না। তাহলে তো মানুষ না দেখে মতো লুকিয়ে লুকিয়ে আমরা খেতে পারতাম। কিন্তু তারপরও আমরা কেন খাই না? আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্যই আমরা খাওয়া থেকে বিরত থাকি। আমরা জানি, কেউ আমাদের খাওয়া না দেখলেও একজন দেখছেন। তিনিই আল্লাহ তায়ালা। তিনি সবকিছু জানেন। সবকিছু দেখেন। সবকিছু শোনেন। তাঁর নির্দেশে আমরা রোজার সময় সারাদিন না খেয়ে থাকি। রোজা পূর্ণ করি। এমনকি এক ঢোক পানিও পান করি না। আল্লাহর কাছে জবাবদিহির অনুভূতি সিয়াম পূর্ণ করতে আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়। আমরা আল্লাহর ভয়ে সিয়াম পালন করি। আমরা আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলতে সিয়াম পূর্ণ করি। আর এটাই তাকওয়ার অনুশীলন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন- “হে বিশ্বাসীরা! তোমাদের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে। তোমাদের আগের লোকদের ওপরও রোজা ফরজ করা হয়েছিল। আশা করা যায়, এতে করে তোমরা তাকওয়ার গুণ অর্জন করতে পারবে।” (সূরা বাকারা : ১৮৩)
রোজার মাধ্যমে আমরা তাকওয়ার অনুশীলন করব। তাকওয়ার আলোয় আমাদের হৃদয় আলোকিত হবে। তাকওয়ার অনুভূতি আমাদের ভালো কাজে উৎসাহ জোগাবে। খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখবে।
রোজার নিয়মকানুন
ইসলামের রুকন পাঁচটি। রুকন বলা হয় সেই ভিত্তিকে, যার ওপর একটি ইমারত বা ভবন নির্মিত হয়। দীন ইসলামের ইমারতও ঠিক তেমনি এই পাঁচটি ভিত্তির ওপর নির্মিত হয়েছে। সেগুলো হলো- ঈমান, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রমজানের রোজা, যাকাত ও হজ।
রমজান মাসজুড়ে রোজা রাখা ফরজ বা অবশ্য পালনীয়। এর বাইরে বছরের যে-কোনো দিন নফল রোজা রাখা যায়। তবে পাঁচটি দিন রোজা রাখা নিষেধ। সেই দিনগুলো হলো ঈদুল ফিতরের দিন, ঈদুল আজহার দিন এবং ঈদুল আজহার পরের তিন দিন।
রোজা রাখার জন্য ফরজ হলো দুটি। প্রথমটি হলো নিয়ত করা বা মনে মনে রোজা রাখার সঙ্কল্প করা। আর সুবেহ সাদিক থেকে সূর্য ডুবে যাওয়া পর্যন্ত কোনোকিছু না খাওয়া, কোনোকিছু পান না করা।
এ দুটো ফরজ আদায় করলেই রোজা হয়ে যাবে। কিন্তু রোজার পরিপূর্ণ উপকার যদি আমরা পেতে চাই, তাহলে আমাদের আরও কিছু কাজ করতে হবে। বেশি বেশি ভালো কাজ করতে হবে। ঝগড়া করা ও খারাপ কাজ করা থেকে বেঁচে থাকতে হবে। দান-সদাকা করতে হবে। মানুষের উপকার করতে হবে। তাসবিহ পড়তে হবে। কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে। এসব কাজ আমরা যত বেশি করতে পারব, তত বেশি রোজার উপকারিতা আমরা হাসিল করতে পারব। শুধু উপোস থাকাটাই রোজার উদ্দেশ্য নয়। রোজার মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করাই উদ্দেশ্য।
সাহরি ও ইফতার
রোজার একটি সুন্নাত হলো সাহরি খাওয়া। সারাদিন না খেয়ে রোজা রাখতে হয়। তাই শেষ রাতে সুবেহ সাদিকের আগে আগে কিছু খেয়ে নেওয়াই সাহরি। আমাদের প্রিয়নবী সাহরি খেতেন। তাই আমরাও সাহরি খাব। সাহরি খেলে সারাদিন রোজা রাখাটা সহজ হয়। আর সাহরিতে উঠলে খাওয়া যেমন হয়, তেমনি তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ারও সুযোগ হয়। সে সুযোগকে আমরা কাজে লাগাতে চেষ্টা করব।
ইফতার হলো রোজার সময় শেষ হওয়ার সাথে সাথে খাওয়া-দাওয়া করা। সূর্য ডুবে যাওয়ার সাথে সাথে ইফতার করা সুন্নাত। ইফতার আমাদের জন্য আনন্দদায়ক অনুষ্ঠানের মতো। সারাদিন আল্লাহর নির্দেশে না খেয়ে থাকার পর সূর্য ডোবার সাথে সাথে খাওয়ার অনুমতিও দিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। আর তখন ক্ষুধার্ত অবস্থায় আমরা আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে খাই। এ যেন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে একটি সুন্দর উপহার। একটি চমৎকার পুরস্কার। ঠিক একইভাবে আমরা যদি সারাজীবন আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলি, তাহলে কিয়ামতের দিনও আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য রেখেছেন অনেক উপহার। অনেক সুন্দর সুন্দর পুরস্কার। সেই পুরস্কার পাওয়াটাও হবে আমাদের জন্য আনন্দের।
আল্লাহর রাসূল (সা) বলেন- “রোজাদারের জন্য রয়েছে দু’টি আনন্দ। একটি আনন্দ ইফতারের সময়। আরেকটি হলো আখিরাতে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের সময়।” (মুসলিম : ২৫৯৮)
রোজার পুরস্কার
আল্লাহ তায়ালা রোজাদারদের জন্য রেখেছেন অনেক পুরস্কার। সেসব পুরস্কারের মধ্যে সবচেয়ে দামি পুরস্কার হলো- আল্লাহর সন্তুষ্টি। রোজাদারদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা খুশি হয়ে যান, এর চেয়ে বড়ো পুরস্কার আর কী হতে পারে!
আরেকটি পুরস্কার হলো, জান্নাতে রোজাদারদের সংবর্ধনার জন্য আলাদা একটি তোরণ বানানো হবে। সেই তোরণ বা গেট দিয়েই রোজাদাররা জান্নাতে প্রবেশ করবে। সেই তোরণের নাম হলো রাইয়ান। আমাদের প্রিয়নবী (সা) বলেন- “জান্নাতে রাইয়ান নামে একটি গেট আছে। এ গেট দিয়ে কিয়ামতের দিন রোজাদাররা জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (বুখারি : ১৮৯৬)
রমজান মাসে ইবাদতের সওয়াব বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। একটি নফল ইবাদতের সওয়াব লেখা হয় ফরজের সমান করে। আর একটি ফরজের সওয়াব লেখা হয় সত্তরটি ফরজের সমান করে।
সুবাসিত মাস রমজান
রমজান একটি সৌরভময় মাস। রমজান এলে মানুষের মনে লাগে একধরনের আনন্দের আমেজ। চারদিকে একধরনের আনন্দঘন পরিবেশ নেমে আসে। সাহরিতে ওঠার আনন্দ। দল বেঁধে মসজিদে যাওয়ার আনন্দ। কে কতটি রোজা রেখেছে, আঙুলের কড়ে গুনে গুনে হিসাব করার আনন্দ। ইফতারের আনন্দ। তারাবির নামাজে কুরআনের মোহনীয় তিলাওয়াত শোনার আনন্দ। আরও কত কী আনন্দের গুঞ্জরণ ওঠে রমজানে!
রমজান সারা বিশ্বের মুসলিমদের মাঝে একটি উৎসবের মতো। বাংলাদেশের মুসলিমদের মাঝে উৎসবমুখরতা যেন আরও বেশি। সাহরির সময় কিশোর-তরুণরা রাস্তায় মহল্লায় মহল্লায় ডাক পাড়ে। তাদের হাঁকডাকে জেগে ওঠে মানুষ। সাহরি খাওয়ার প্রস্তুতি নেয় সবাই। দুপুরের পর থেকেই শুরু হয় ইফতারি তৈরির কাজ। ঘরে ঘরে, হাটে-ঘাটে সবখানে ইফতারির মৌ মৌ সুবাস ছড়িয়ে পড়ে। বাড়ির দহলিজে, মসজিদের আঙিনায়, দোকানপাটে, অফিস-আদালতে সবখানে ইফতার সাজিয়ে বসে পড়ে রোজাদাররা। আশপাশ দিয়ে কেউ গেলেই তাকে ডেকে ইফতারে শরিক করা আমাদের রেওয়াজ। সে এক মহা-আনন্দের পরিবেশ।
মানুষকে সহযোগিতা করা, গরিব-দুঃখীকে সাহায্য করাও রমজানের একটি রীতি। সারা বছরই আমরা যার যার সামর্থ্যমতো গরিব-দুঃখীকে সহযোগিতা করি। কারণ, তাতে আল্লাহ খুশি হন। কিন্তু রমজানে সেই সহযোগিতার হাত আরও উদার হয়ে ওঠে। আরও দরাজ হয়ে যায় সকলের দিল। যেমনিভাবে আমাদের প্রিয়নবী (সা)-এর দিলও অনেক বেশি দরাজ হয়ে উঠত এই মাসে। দখিনা বাতাসের মতো তাঁর উদারতা প্রবাহিত হতো রমজান মাসে। (বুখারি : ১৯০২)
কুরআনের মাস রমজান
রমজান কেন এত সম্মানিত মাস? এই সম্মানের প্রধান কারণ হলো আল কুরআন। কুরআন মাজিদ প্রথম নাযিল হয়েছে রমজান মাসে। এজন্য রমজান মাসকে বলা হয় কুরআনের মাস।
কুরআন মাজিদ প্রথমে লিখিত ছিল লাওহে মাহফুজে। সেখান থেকে সম্পূর্ণ কুরআন আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে নাযিল করেন রমজান মাসে। এরপর আমাদের মহানবী মুহাম্মাদ (সা)-এর ওপর কুরআন নাযিল করতে শুরু করেন আল্লাহ তায়ালা। আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতা জিবরিল (আ) কুরআনের পাঁচটি আয়াত নিয়ে পৃথিবীতে আসেন। তখন মুহাম্মাদ (সা) হেরাগুহায় ইবাদতে মগ্ন ছিলেন। সেখানে আসেন জিবরিল (আ)। তিনি মুহাম্মাদ (সা)-কে সেই পাঁচটি আয়াত শোনান। তিনি নবীজিকে জানান, আপনাকে আল্লাহ তায়ালা নবী হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। সেই আয়াত পাঁচটি ছিল সূরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত। কুরআন নাযিলের সেই শুরুটাও ছিল রমজান মাসে।
এরপর থেকে ধীরে ধীরে নবীজির ওপর কুরআনের বিভিন্ন অংশ নাযিল হতে থাকে। প্রতি রমজানে জিবরিল (আ) এসে নবীজির কাছ থেকে কুরআন শুনতেন এবং শোনাতেন। এতদিন নাযিল হওয়া কুরআনের অংশগুলো জিবরিলের উপস্থিতিতে নতুন করে অনুশীলন করতেন প্রিয়নবী মুহাম্মাদ (সা)।
কুরআনের মাস রমজান। রমজান মাসে যেন কুরআনের খুশবু বেশি বেশি ছড়ায়। তাই রমজান মাসে কুরআনের সাথে আরও বেশি ঘনিষ্ঠতা অর্জনের জন্য আমাদের চেষ্টা করতে হবে। এই মাসে আমরা বেশি বেশি কুরআন পড়ব। কুরআনের অর্থ বোঝার চেষ্টা করব। আল কুরআনের সমাজ গড়ার শপথে বলীয়ান হব।
লায়লাতুল কদর ও ইতিকাফ
রমজান মাসের শেষ দশকে এমন একটি রাত রয়েছে, যে রাতটি হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। সেই রাতকে বলা হয় শবে কদর। শবে কদরের রাতটি ইবাদত করতে করতে কাটাতে সচেষ্ট হতে হবে। তাই রমজানের শেষ দশকের রাতগুলো ইবাদতে মশগুল থেকে কাটানোর চেষ্টা করা উচিত। বিশেষ করে বিজোড় রাতগুলোতেই শবে কদর অনুসন্ধান করার জন্য নবীজি বলেছেন। আমাদের প্রিয়নবী (সা) রমজানের শেষ দশকে ইবাদতের মাত্রা বাড়িয়ে দিতেন। এমনকি তিনি বেশি ইবাদত করার জন্য কোমরকে শক্ত করে বাঁধতেন। (বুখারি : ২০২৪)
রমজানের শেষ দশক ইতেকাফ করা সুন্নাত। ইতেকাফ মানে নিজেকে আবদ্ধ করা। দুনিয়ার সব ব্যস্ততা থেকে ছুটি নিয়ে আল্লাহর ইবাদতের জন্য নিজেকে মসজিদে আবদ্ধ করে রাখাই হলো ইতেকাফ। ইতেকাফ নিতে পারা বড়োই সৌভাগ্যের বিষয়। ইতেকাফকারীরা শবে কদরকে যথাযথ কাজে লাগাতে পারার সম্ভাবনাই বেশি।
বিজয়ের মাস রমজান
ইসলামে ইবাদত শুধু নামাজ পড়া, তিলাওয়াত করা কিংবা তাসবিহ পড়া নয়। ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করাও ইবাদত। অন্যায় ও জুলুম দূরীভূত করাও ইবাদত। জালিমকে তার জুলুম থেকে বিরত রাখাও ইবাদত। সকল অন্যায় ও অপরাধের মূলোৎপাটন করে ইসলামকে বিজয়ী করাও ইবাদত। আর রমজান হলো ইসলামের বিজয়ী হওয়ার মাস।
রাসূল (সা)-এর নেতৃত্বে ইসলামের প্রথম যুদ্ধ বদরে মুসলিমরা বিজয় লাভ করে। আর এই বদর যুদ্ধ হয়েছিল দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজান। এটাই ইসলামের প্রথম ও প্রাথমিক বিজয়। আর এই বিজয় পূর্ণতা লাভ করে দশম হিজরি সালে মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে। আর মক্কা বিজয় হয় ২০ রমজানে।
রমজান হচ্ছে ইসলামের বিজয়ের মাস। ইসলামের পক্ষে সংগ্রামী ভূমিকা রাখার মাস। ন্যায়-ইনসাফকে উচ্চকিত করার মাস। অতএব, রমজান মাসে আমাদের নতুন শপথে বলীয়ান হয়ে উঠতে হবে, আমরা একটি সুন্দর সমাজ ও ইনসাফের পৃথিবী গড়তে কাজ করব।
আরও পড়ুন...