ভুল
তোমাদের গল্প জুবাইর আল হাদী সেপ্টেম্বর ২০২৪
ফাহিমের চালাকির কথা আশপাশ এলাকা জুড়ে প্রসিদ্ধ। যেখানেই বসে সেখানকার লোকদের হাসিয়ে ছাড়ে। ওর বন্ধু ওমর বললো, ‘তোর এত প্রতিভা নিজের মধ্যে রেখে লাভ কী! দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কিশোর তরুণ অথবা সাধারণ মানুষ জানলেও তো খুব বিনোদন পাবে।’
‘ধুর, প্রতিভা! এ রকম কথাবার্তায় মানুষ আরো বিরক্ত হয়।’ ওমরের কথা মুখ দিয়ে উড়িয়ে দিলেও মন থেকে ফেলতে পারেনি। কিন্তু প্রকাশ করলো না।
মনের মধ্যে যখন বন্ধু ওমরের কথা ঘুরঘুর করছিল, তখনই চোখ পড়লো কিশোরকণ্ঠের হাসির বাকসো বিভাগে। হাসির বাকসোর জন্য লেখা আহ্বান। সাথে আবার সেরা লেখার জন্য পুরস্কার! ফাহিম ঠিক করলো, কিশোরকণ্ঠের মাধ্যমেই নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেই প্রতিভার ঝলক দেখাবে। দেরি না করে ঝটপট কিছু হাসির কথা লিখে ঠিকানাসহ চিঠিটা খামে করে পোস্ট করে দিলো।
ফাহিম অপেক্ষার প্রহর গুনতে শুরু করলো কোন মাসে হাসির বাকসোতে তার লেখা আসবে। কিন্তু এক সপ্তাহ পার না হতেই হঠাৎ ফাহিমের বাসায় ডাকপিয়নের আগমন। এসেই বললো, ‘ফাহিম কে? মাসিক নতুন কিশোরকণ্ঠ থেকে তার চিঠি এসেছে।’
ফাহিম তো অবাক! ভাবলো, ‘প্রথম লেখাতেই বাজিমাত করে ফেললাম নাকি! হয়তো সম্পাদক মহোদয় আমার লেখা দেখে খুশি হয়ে কোনো অভিনন্দন বার্তা-টার্তা পাঠিয়েছেন।’
ফাহিমের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে, তার সামনে সাত রাজার ধন। আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে পিয়নের হাত থেকে চিঠিটা নিলো।
কিন্তু চিঠি হাতে নিয়ে তো একেবারে থ। ভূত দেখার মতো অবস্থা হলো ফাহিমের। সে যে চিঠিটা পাঠিয়েছিল, সেটাই তার কাছে এসে হাজির!
পিয়নকে বললো, ‘এ-ই চিঠি তো আমিই কিশোরকণ্ঠ অফিসে পাঠিয়েছিলাম। এটা আবার আমার কাছে এলো কেন?’
পিয়ন চিঠিটা আবার হাতে নিয়ে বললো, ‘আচ্ছা, আপনি চিঠি পাঠিয়েছিলেন? তাহলে প্রাপকের জায়গায় প্রেরকের ঠিকানা কেন লিখেছেন?’
এতক্ষণে ফাহিমের হুঁশ ফিরে এলো। খামের ডান পাশে প্রাপকের ঠিকানার জায়গায় ফাহিম তার নিজের ঠিকানা লিখেছে। আর বাম পাশে প্রেরকের ঠিকানার জায়গায় নতুন কিশোরকণ্ঠের ঠিকানা লিখেছে। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। এতদিনে ফাহিমের বোকামির রহস্য কেউ না জানলেও আজ তা উন্মোচন হলো।
আরও পড়ুন...