পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট ফুল
চিত্র-বিচিত্র জাহাঙ্গীর আলম জানুয়ারি ২০২৫
পৃথিবীতে প্রায় ৪ লাখ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে ফুল রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৪০০ প্রজাতির। নানা আকৃতির নানা রঙের ফুল রয়েছে। এদের মধ্যে ওয়াটার মিল সবচেয়ে ছোট ফুল হিসেবে স্বীকৃত। বাংলায় একে সুজিপানাও বলা হয়। এগুলো এতটাই ক্ষুদ্র হয় যে একটি কণা দেখতে মাইক্রোস্কোপ প্রয়োজন হয়।
একবীজপত্রী উদ্ভিদ বর্গের লেমনেসিয়া গোত্রের অন্তর্গত অবাধ ভাসমান জলজ সপুষ্পক উদ্ভিদ। বৈজ্ঞানিক নাম ওলফিয়া আরিজাহ। এই ফুলের সঙ্গে সবাই পরিচিত আমরা। প্রায় পুকুর বা জলাশয়ে এটি দেখা যায়। এক ধরনের শ্যাওলা বলা হলেও এগুলো এক ধরনের ফুল। যেগুলো অনেক বেশি ক্ষুদ্র হয়ে থাকে। পানিতে চড়ে বেড়ানো পাখি আর হাঁসের প্রিয় খাবার এটি।
যদিও এটি সপুষ্পক উদ্ভিদ, এর বংশবৃদ্ধি হয় মূলত অঙ্গজ মুকুলে। মূল নেই বলেই এটি পানিতে ভেসে থাকে। উদ্ভিদটির দৈর্ঘ্য ১ থেকে ৫ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফুলটির স্বতন্ত্র কোনো কাণ্ড ও পাতা নেই।
বাংলাদেশ এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে এগুলোর অবস্থান গত এক শতক ধরে। এই ক্ষুদ্র ফুল উৎপাদনকারী উদ্ভিদটি থ্যালাস প্রজাতির উদ্ভিদ। এর সমস্ত উদ্ভিদ চ্যাপ্টা ছোট একটি পত্রকল্প কাঠামো বা ফ্রন্ড। এ ফ্রন্ড নিচে ঝুলন্ত এক বা একাধিক কৈশিক মূলসহ একক বা দলবদ্ধ থাকে।
ফুল সাধারণত উদ্ভিদের ওপরের স্তরে জন্মে থাকে। এর একটি করে পুংকেশর ও গর্ভকেশর থাকে। এদের সম্পূর্ণ পুষ্পবিন্যাসের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১ মিলিমিটার হয়ে থাকে। ওলফিয়া শতকরা ৮০ ভাগ প্রোটিনসমৃদ্ধ একটি উদ্ভিদ। আদর্শ পরিবেশে এগুলোর জীবনকাল ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দ্বিগুণ হয়ে যায়।
পানিতে বেড়ানো পাখিদের প্রিয় খাদ্য এটি। দ্রুত বংশবৃদ্ধির ফলে অন্যান্য গাছগাছালিকে সহজেই ছাড়িয়ে যায় এবং খরা, ঠাণ্ডা, খাদ্যাভাব ইত্যাদি পরিবেশগত দুর্যোগেও টিকে থাকতে পারে। শুধু যে পাখিদের খাদ্য তা কিন্তু নয়। বিভিন্ন দেশে মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও রয়েছে বলে জানা যায়। সালাদ হিসেবে গ্রহণযোগ্য এই ফুল প্রোটিন, ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘বি’ সমৃদ্ধ। মিয়ানমার, লাওস ও উত্তর থাইল্যান্ডে এই ফুল বহুকাল আগে থেকেই খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।
ওয়াটার মিল বা সুজিপানা পশু ও মাছের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। গৃহস্থালির বর্জ্য পানি শোধনে সুজিপানা চমৎকার কাজ করে। পুকুরের পানি সুজিপানায় ঢাকা থাকলে মশার লার্ভার সংখ্যা হ্রাস পায়।
আরও পড়ুন...