দিঘির নিচে

রহস্যভেদ খন্দকার নূর হোসাইন আগস্ট ২০২৪

লোকালয় থেকে দূরে দীঘিটির অবস্থান। নাম অতল দীঘি। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে দীঘির টলমলে পানি। চারপাশে অনেক গাছ জন্মেছে। ছোটোখাটো একটা জঙ্গল তৈরি হয়েছে। দিনের আলোতেও গা ছমছমে পরিবেশ। ছোটোবেলায় দীঘির অনেক নাম শুনেছে বিজন। আগে এদিকে আসার সাহস করেনি। কিন্তু এখন সে দুরন্ত কিশোর। এমন অ্যাডভেঞ্চার ছেড়ে দূরে থাকতে পারে? ছুটি পেয়েই গতকাল এসেছিল ফুপুর বাড়িতে। আজ ফুপাতো ভাই নিটুকে নিয়ে দিঘিটা দেখতে এলো সে। দূর থেকেই দিঘিটা দেখছিল ওরা। আশেপাশে ওরা ছাড়া কেউ নেই। লোকে বলে দীঘির তল নেই। সবসময় পানি থাকে। আগে নাকি অনেক মানুষজনকে গায়েব করে দিয়েছে এই দিঘি। গ্রামের মানুষজন এটাকে এড়িয়ে চলে। কেউ কেউ তো এর অনিষ্ট থেকে বাঁচতে পূজা করে। গ্রামের মানুষের কুসংস্কারে বিশ্বাস বেশি। বিজন এসব বিশ্বাস করে না। আরেকটু এগিয়ে যেতেই নিটু খপ করে বিজনের হাত চেপে ধরলো, ‘খবরদার! আর যাস না!’ নিটুর চোখেমুখে ভয়। জোরে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছে।

‘চিন্তা করিস না। কিচ্ছু হবে না।’

নিটু পড়ে গেল বিপদে। ওকে ছেড়ে যেতেও পারছে না আবার একা ছাড়তেও পারছে না। আগত্য বিজনের পিছু নিলো। দিঘির আরো কাছে চলে এলো ওরা। নিটু বিজনের হাত ধরে টেনে গাছের আড়ালে নিয়ে এলো। দুটো সাদা পাতিহাঁস সাতার কাটছে পানিতে। একটা মাছ ধরার জন্য ডুব দিলো। আশ্চর্য! পাঁচ মিনিট হয়ে গেলেও আর উঠলো না হাঁসটি। দ্বিতীয় হাঁসটি কিছু দেখে ভয় পেল মনে হলো। প্যাঁক প্যাঁক করে সরে যেতে লাগলো। পারলো না। কিসে যেন টেনে নিলো পানির তলায়। কালো পানি। কিচ্ছু দেখা যায় না। নিটু বিজনের চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝিয়ে দিলো, ‘আগেই বলেছিলাম।’

বিজনের কাছে এখনো অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। কী হলো এটা? নিটু ততক্ষণে ভয়ে কাঁপতে শুরু করেছে। কষে একটা ধমক দিলো বিজন। ‘হচ্ছেটা কী? দীঘির নিচে কিছু একটা আছে। তোর কথামতো ভূত আছে। এখন বল, ভূত কি দিনের বেলা বের হয়?’

নিটু জবাব দিতে পারলো না। তবে কাঁপুনি কমে এলো। বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করলো ওরা। আর কিছুই দেখা গেল না। নিটুর টানাটানিতে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হলো বিজন। আর একটু থাকলে নিটুটা মনে হয় ভয়েই মারা যেত। তাছাড়া ক্ষুধাটাও জানান দিচ্ছে। বাড়ি ফিরে দিঘির কাছে যাওয়ার কথাটা কেউ বললো না। বাড়িতে জানলে বকা খেতে হবে।

বিজনের মনে নানা ভাবনা এসে ঘুরপাক খাচ্ছে। রাতে নাকি কালেভদ্রে ওখানে অদ্ভূত শব্দ শোনা যায়। আলোও দেখা যায়।

রাতের খাবার খেয়ে নিটুর সাথে ঘুমাতে গেল বিজন। নিটু ঘুমিয়ে গেলেও বিজন ঘুমালো না। জেগে রইলো। হাতে একটা টর্চ লাইট নিয়ে আস্তে আস্তে বেরিয়ে পড়লো। হেঁটে আবার দিঘির পাড়ে চলে এলো সে। ভূত-ফুত বিশ্বাস করে না বিজন।

তবে প্রকৃতির কিছু রহস্য আছে। যা এখনো বিজ্ঞান আবিষ্কার করতে পারেনি। পবিত্র কুরআনে জিন জাতি সম্পর্কে বলা আছে। যারা অদৃশ্য হতে পারে। সুযোগ মতো মানুষকে বিপদে ফেলে দুষ্ট জিনেরা। তবে দিঘির ঘটনা ভিন্ন। বিজনের পড়াশোনা জ্ঞান বলছে এখানে অন্য কিছু আছে। তাই নিটুর মতো ভয় তার মনে বাসা বাঁধতে পারেনি। দিঘির কাছেই একটা গাছের আড়ালে বসে পড়লো বিজন। একঘণ্টা পার হয়ে গেল। কিছুই ঘটলো না। মশার কামড়ে পা দুটো চুলকাতে লাগলো। হঠাৎ দিঘির মাঝখানে জ্বলে উঠলো লাল আলো। দুবার জ্বলেই নিভে গেল। ঘাড়ে এসে লাগলো গরম নিঃশ্বাস। চমকে উঠলো সে। পাই করে ঘুরে দাঁড়ালো।

‘তুই এখানে? বলে কয়ে আসবি না?’ দীর্ঘস্বাস ফেললো বিজন। নিটু এসে দাঁড়িয়েছে পেছনে। ঘুম ভেঙে গেলে বুঝতে পেরেছিল বিজন কোথায় যেতে পারে। তাই নিজের বিপদের তোয়াক্কা না করে খুঁজতে চলে এসেছে। এমন দুঃসাহসী কাজের জন্য নিটুর পিঠ চাপড়ে দিলো বিজন। আবার সামনে তাকালো ওরা। পাঁচ মিনিট পর দু’জন লোককে দেখা গেল। দিঘির পাড়ে এসে দাঁড়িয়ে গেল। হাতে টর্চ লাইট। নিটুকে ইশারায় দেখালো বিজন, ‘দেখলি তো, আমাদের মতোই মানুষ। ভূতে টর্চ লাইট সাথে রাখে না।’

নিটু কোনো কথা বললো না। চোখ থেকে ভয় কেটে দেখা গেল বিস্ময়। পানির নিচ থেকে ভুস করে একটা মাথা ভেসে উঠলো। মুখে অক্সিজেন মাস্ক। পিঠে ঝোলানো ব্যাগ ও অক্সিজেন সিলিন্ডার। ব্যাগটা এগিয়ে দিলো পাড়ে দাঁড়ানো লোকদের দিকে। একজন অক্সিজেন মাস্ক ও সিলিন্ডার পিঠে বেঁধে নিলো। মাস্ক পরার আগে চেহারাটা ক্ষণিকের জন্য দেখতে পেল দুই কিশোর। পানিতে নেমে পড়লো লোকটা। দু’জনই হারিয়ে গেল গভীর পানির নিচে। আর কিছু দেখা গেল না। পাড়ে দাঁড়ানো লোকটা যেদিক থেকে এসেছিল সেদিকে চলে গেল। সে রাতে আর কিছু ঘটলো না। শেষ রাতের দিকে বাড়িতে ফিরে চললো ওরা। ফজরের ওয়াক্ত হয়ে গেছে। নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে পড়লো দু’জন।

উঠলো দুপুরে। গোসল খাওয়া শেষে বিজনকে দাদুর স্টাডি রুমে নিয়ে এলো নিটু। দাদু এখানে পড়াশোনা করেন। এখন নেই। টেবিলে রাখা আজকের পত্রিকাটি চোখে পড়লো। রীতিমতো চমকে উঠলো বিজন। হাতে তুলে নিলো পত্রিকাটি। কোনো ভুল নেই। একেবারে প্রথম পাতায় বড়ো করে ছেপেছে ছবিটা। নিটুর দিকে তাকালো বিজন। সে-ও একমত। এই লোককেই গতরাতে দিঘির পানিতে ডুব দিতে দেখেছে। সিরিয়াল কিলার। শতাধিক খুনের আসামী। জেল থেকে পালিয়েছে। দিঘির পানিতে কী হয় অনেকটাই বুঝতে পারলো দুই কিশোর। এ কথা কাউকে বললো না। জানে, বললে কেউ বিশ্বাস করবে না। উলটো ওদের দিঘির আশেপাশে যাওয়া বন্ধ হবে। উত্তেজনা চাপা দিতে পারলো না ওরা। নিটুও বেরিয়ে পড়লো বিজনের সাথে। এবার আর ভয় পাচ্ছে না সে। বরং কৌতূহল বাসা বেঁধেছে মনে। দিঘির চারপাশটা সাবধানে আবার ঘুরে দেখলো ওরা। কিছুই পেল না। দুটো লোক গতকাল পানির নিচে নেমেছে। একজন আবার ভয়ংকর খুনি। সারারাত আর ওঠেনি। এখন এই দিনের আলোয় মনে হচ্ছে সত্যি দেখেছিল না কি স্বপ্ন ছিল? না। দু’জন একসাথে একই স্বপ্ন দেখতে পারে না। লোকগুলো নিশ্চয়ই দিঘির তলা দিয়ে অন্য কোথাও চলে গেছে। নিটু বুঝতে পারলো কেন দিঘির নিচে লোকজন হারিয়ে যেত। তলায় এমন কোনো ব্যবস্থা আছে যার দ্বারা মানুষসহ অন্য কোনো প্রাণী নামলে টেনে নেয়। তবে দিঘির মাছের কোনো ক্ষতি করেনি ওরা। মাছগুলোও হয়েছে ডাসা পেঁয়ারার মতো।

দিঘি ছেড়ে আরো দূরে চলে এলো ওরা। ভাবনা চলছে বিজনের মনে। দিঘি থেকে পানিতে নামলে অবশ্যই বের হবার বিকল্প আরেকটি পথ থাকবে। এখান থেকে গলাচিপা নদীটা বেশি দূরে নয়। তবে কি ওদিক দিয়ে কোনো পথ আছে? দেখতে হবে। নিটুকে সে কথা জানালো। দিঘির সীমানা ছেড়ে নদীর দিকে এগোলো ওরা। চলে এলো গলাচিপা নদীর তীরে। হালকা ঢেউ আছে। নদীটা গিয়ে পড়েছে বঙ্গোপসাগরে। নদী তীরে ও আশেপাশে সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লো না। এদিকেও মানুষজনের আনাগোনা নেই। নেই কোনো বাড়িঘর। তবে? দিঘি থেকে আসার পথে একটা কুঁড়েঘর চোখে পড়েছিল। ওটা কার? নিটু জানালো সে জানে না।

পায়ে হেঁটে কুঁড়েটার কাছে চলে এলো ওরা। বেশ সুন্দর কুঁড়েটা। চারপাশের গাছগুলো ছাতার মতো ঢেকে রেখেছে। পাশে ভাঙাচোরা একটা রান্নাঘর ও পরিত্যক্ত বাথরুম। আগে কেউ বাস করতো। ঘরের দরজায় তালা নেই। দরজা খুলে ঢুকে পড়লো ভেতরে। ভেতরে অন্ধকার। তবে চোখ সয়ে এলো। দেখা গেল দুটো বদ্ধ জানালা। একপাশে চেয়ার-টেবিল। একটা পুরোনো আলমারিও আছে। এগিয়ে গেল আলমারির দিকে। পুরোনো আমলের কাঠের আলমারি। দরজার নব ধরে টান দিতেই খুলে গেল। ভেতরে ফাঁকা। ফিরতে যাচ্ছিল বিজন। থমকে গেল নিটুর কথায়, ‘আলমারিতে কোনো তাক নেই কেন?’

তাই তো। যেন এটা কোনো দরজা। এবার খেয়াল করলো ভেতরের পাশটা বেশ পরিষ্কার। আলমারির ভেতর দেওয়ালটা মনে হলো স্লাইডিং ডোর। ওপাশে কোনো ডয়ার আছে নাকি? ঠ্যালা দিলো নিটু। খুলে গেল দেওয়ালটা। ওপাশে দেখা গেল অন্ধকার। কয়েক ধাপ সিঁড়ি নিচে নেমে গেছে। মোবাইলের ফ্লাশ লাইট জ্বালিয়ে নেমে পড়লো সিঁড়িতে। নিটু এখন আর ভয় পাচ্ছে না। খুশি হলো বিজন। সিঁড়ি দিয়ে ওরা নেমে এলো একটা করিডোরের মতো জায়গায়। ডানে তিনটা ঘর দেখা গেল। মৃদু আলো আসছে ওদিক দিয়ে। সামনে এগিয়ে গেল ওরা। করিডোরটা শেষ হয়েছে একটা দরজার কাছে। ঘরে পা দিয়েই থমকে দাঁড়ালো। মেঝেতে পানি। পাশে অক্সিজেন মাস্ক ও সিলিন্ডার রাখা আছে। বোঝা গেল এখান দিয়ে দিঘিতে যাওয়া হয়।

ঘড়ির দিকে তাকলো বিজন। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। যা দেখার দেখে ফেলেছে। এখানে আর থাকা যাবে না। বেরিয়ে এলো ও ঘর থেকে। সিঁড়ির কাছে আসতেই খুট করে খুলে গেল তিনটা দরজার একটা। বেরিয়ে এলো দু’জন সশস্ত্র লোক। ওদের দেখে ফেলেছে।


দুই.

এখন মধ্যরাত। বিজন ও নিটুর হাত দুটো বাঁধা। মোবাইল আগেই কেড়ে নিয়েছে অস্ত্রধারীরা। কুঁড়েঘর থেকে নদী পর্যন্ত গোপন পথ আছে। পুরোটাই পানিতে ডোবা। জরুরি মুহূর্তের জন্য বানানো হয়েছে। তবে এখন কুঁড়েঘরের দরজা দিয়েই ওদের বের করে আনলো। সাথে এলো জেল পালানো সিরিয়াল কিলার। নদী হয়ে সাগরে যাবে ওরা। কোস্টগার্ডকে ফাঁকি দিয়ে চলে যাবে পার্শবর্তী দেশে। বিজন ও নিটুকেও নিয়ে যাবে সাথে। এরপর কি করবে কে জানে। সম্ভব শিশু পাচারকারীদের হাতে তুলে দেবে।

দীর্ঘদিন ধরে দাগি আসামীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে দিঘির নিচের ঘরগুলো। বড়ো বড়ো অপরাধীরা এখানে এসে লুকিয়ে থাকে। এরপর সুযোগমতো চলে যায় সীমান্তের ওপারে।

বোটে করে সাগরের মোহনার কাছাকাছি আসার পর ইঞ্জিন ও আলো বন্ধ হয়ে গেল। নিটু ও বিজন বিপরীতমুখী হয়ে বসেছে। অন্ধকার রাত। ওদের বেশ সুবিধা হয়েছে। টানাটানি করে খুলে ফেলেছে হাতের বাঁধন। মুখে গোঁজা কাপড় ইচ্ছে করেই খুললো না। বিজন ভাবছে কিছু একটা করবে। আবার ভয়ও পাচ্ছে। লোকগুলোর কাছে অস্ত্র আছে। অন্ধকার রাত অপরাধীদের জন্যও সুবিধা এনে দিয়েছে। নিটুর এ এলাকা সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে। বুঝতে পারলো আশেপাশে কোথাও কোস্টগার্ডের পেট্রোল বোট আছে। ইঞ্জিন বন্ধ করে এজন্যই সন্ত্রাসীরা দাঁড় টেনে এগোচ্ছে। হঠাৎ চোখের পলকে ঘটে গেল ঘটনাটি। মুখে গোঁজা কাপড় খুলে ফেললো নিটু। গলা ফাটিয়ে দিলো চিৎকার, ‘বাঁচাও! বাঁচাও!’

দু’বার বলতেই আর দেরি করলো না সে। ড্রাইভ দিয়ে লাফিয়ে পড়লো পানিতে। ঝপ করে শব্দ হলো। অস্ত্রধারীদের একজন ঘটনার আকস্মিকতায় বোকার মতো গুলি চালিয়ে দিলো। গাল দিয়ে উঠলো সিরিয়াল কিলার। তারপর যা হবার তাই হলো। তীরের কাছে কোস্টগার্ডের পেট্রোল বোট থেকে জ্বলে উঠলো তীব্র সার্চলাইট। সরাসরি এসে পড়লো সন্ত্রাসীদের বোটে।

ভয় পেয়ে গেল বিজন। মাঝ নদী থেকে ঝাঁপ দেওয়ার কথা চিন্তাই করা যায় না। প্রচুর স্রােত নদীতে। সার্চ লাইটের আলোয় দেখা গেল ভেসে উঠেছে নিটুর মাথা। কিচ্ছু হয়নি ওর। পানিতে লাফ দিয়েই বোটের তলায় চলে গিয়েছিল মনে হয়। কোস্টগার্ডরা তাকে দেখতে পেয়েছে। এগিয়ে যাচ্ছে ওর দিকে।

সার্চলাইট জ্বলার সাথে সাথেই সন্ত্রাসীরা বোটের ইঞ্জিন চালু করে দিয়েছে। কী ঘটতে যাচ্ছে বুঝে ফেললো বিজন। ওকে জিম্মি বানাতে পারে। বেশিকিছু ভাবলো না সে। নিটুর মতো দক্ষ সাঁতারু সে নয়। আত্মবিশ্বাস নিয়ে লাফিয়ে পড়লো পানিতে। প্রথম দফায় দুবার পানি খেলো। কোনোক্রমে ভেসে থাকার চেষ্টা করলো সে। চিত সাঁতার দিয়ে তীরের দিকে এগোতে লাগলো। সার্চলাইটের আলোয় দেখা গেল গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে দূরে সরে যাচ্ছে অস্ত্রধারীদের বোটটি। শোনা গেল নিটুর চিৎকার। কোস্টগার্ডরা তাকে উদ্ধার করেছে। দূরে দেখা গেল সাগরের দিক থেকে সার্চলাইট জ্বেলে এগিয়ে আসছে একটি পেট্রোল ক্রাফট। ফাঁদে পড়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। দেখতে দেখতে আরেকবার পানি খেলো বিজন। বেশ ক্লান্ত আর দুর্বল হয়ে পড়েছে সে। ঢেউয়ের শব্দকে উপেক্ষা করে ভেসে আসছে গুলির শব্দ। কোস্টগার্ডের পেট্রোল বোট থেকে ঘোষণা হচ্ছে আত্মসমর্পণের। শব্দগুলো ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে বিজনের কানে। মনে হলো আর পারবে না। জ্ঞান হারানোর আগে ধাতব কিছুর সাথে ধাক্কা খেলো সে। সম্ভবত পেট্রোল বোটের পোর্ট সাইডে।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ