কৌতূহল

তোমাদের গল্প শারমিন আকতার ডিসেম্বর ২০২৪

স্কুল থেকে বাসায় ফিরে গোসল করে আম্মুর সাথে জোহরের নামাজ পড়ে নিলাম। তারপর দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য ডাইনিং টেবিলের সামনের তিন চেয়ারে বসে পড়লাম আমি, আহান ও আম্মু। 

আহান এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে টেবিলের ওপর থাকা একদল পিঁপড়ার দিকে। পিঁপড়াগুলো টেবিলের ওপর পড়ে থাকা এক চিমটি চিনির আশপাশে ঘুরঘুর করছে। কেউ চিনির একটা দানা ধরে টানছে, কেউবা কোনো একটা চিনির দানার ওপর ঘাপটি মেরে বসে আছে। আবার চিনি থেকে দূরে থাকা দু-একটা পিঁপড়া নিজেদের মাঝে কানে কানে কথা বলে কিছু একটা সংবাদ জানাচ্ছে একে অপরকে। এ সময় হঠাৎ আহান প্রশ্ন করলো, “আম্মু পিঁপড়া চিনিতে বসে কেন?” 

আহানের প্রশ্নে আম্মু একটু হকচকিয়ে গেল। তবুও বললো, “চিনি ধবধবে সাদা। পিঁপড়াদের মনে হয় সাদা জিনিস ভালো লাগে।”

আমি বললাম, “লবণও তো সাদা, সেটাতে যায় না কেন পিঁপড়া?”

সত্যি তো! লবণও তো সাদা। আম্মু আমার দিকে তাকিয়ে বললো, “তাই তো। আচ্ছা আমি তোমাদের পরে জানিয়ে দেবো। তোমরা দু’জন তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করো। খাওয়া শেষে আমরা গুগলে সার্চ করে জেনে নেবো কেমন।”

খাওয়া শেষে আমরা বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। তারপর আম্মুকে বললাম, “আম্মু, তুমি কিন্তু আজকেই উত্তরটি দিতে চেয়েছো।”

আম্মু আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “ওহ হাঁ। আহনাফ যাওতো বাবা, মোবাইলটা নিয়ে এসো।”

আমি আম্মুর ব্যাগ থেকে মোবাইলটা এনে তার হাতে দিলাম। আম্মু মোবাইলটা হাতে নিয়ে ঝটপট নেট অন করে গুগলে ব্রাউজ করল। আম্মু হয়তো ভাবছে, আহান তো বেশ চমৎকার জানার ও জ্ঞানের প্রশ্ন করেছে! বাচ্চাদের জানার আগ্রহ অনেক বেশি। হাতের মোবাইলে ব্রাউজ করে আম্মু কিছু একটা জানলো; এরপর আম্মু আমাদের উদ্দেশে বলল, “চিনি হচ্ছে শক্তির উৎস। প্রাণীর জন্য পৃথিবীতে যত ধরনের শক্তি গ্রহণের উৎস আছে, তার মধ্যে চিনি সবচেয়ে উত্তম উৎস। এখান থেকে সহজেই প্রাণী তার শক্তি গ্রহণ করতে পারে।” 

তারপর একটু থেমে আবার বললো, “ওহ হাঁ চিনির রাসায়নিক নাম তো সুক্রোজ, আর এই সুক্রোজ ভেঙে দুইটা গ্লুকোজ তৈরি হয়। আর এই গ্লুকোজই মানুষের শরীরে শক্তির জোগান দেয়। যে-কোনো খাবার হজমের মাধ্যমে ভাঙতে ভাঙতে গ্লুকোজে পরিণত হয়ে আমাদের রক্তে মিশে গিয়ে শক্তি সরবরাহ করে।”

“তাই! চিনি আমাদের সরাসরি গ্লুকোজ সরবরাহ করার মাধ্যমে শক্তির যোগান দেয় আম্মু? সেজন্যই কি মানুষ অসুস্থ হলে গ্লুকোজ বা গ্লকোন ডি-এর শরবত করে খায়?” বেশ উৎফুল্ল কণ্ঠে বললাম আমি। 

“হ্যাঁ বাবা। তাই হবে হয়তো।”

আমার পুঁচকে ভাই আহানের এমন পাকনা টাইপের প্রশ্ন করা দেখে আম্মু হয়তো অবাক হয়ে ভাবছে, কখনও বড়োদের মাথায় এই রকম প্রশ্নের উদয় হয় না। অথচ ছোটদের কত প্রশ্ন! বাচ্চারা আসলে আল্লাহ প্রদত্ত মেধা নিয়েই পৃথিবীতে জন্ম নেয়। তারপর বড়ো হয়ে যখন আস্তে আস্তে জানার আগ্রহ তাদের বাড়ে; তখন তারা প্রশ্ন নিয়ে হাজির হয় বাবা-মা বা অন্য অভিভাবকদের সামনে। তাদের মুখে সারাক্ষণ কী? কেন? কে? কীভাবে?  

এবার খুব আগ্রহের সাথে আমাদের উদ্দেশে আম্মু আবার বললো, “জানো পিঁপড়া নিয়ে কুরআনে একটা সূরাও আছে; সূরা নামল। নামল শব্দের অর্থ পিঁপড়া বা পিপীলিকা।” 

বিছানা থেকে আহান একটা পিঁপড়াকে ওয়ালের ওপর হেঁটে বেড়াতে দেখলো। হঠাৎ আহান বিছানা থেকে নেমে গেল। তারপর দৌড়ে একটা স্টিলের গ্লাস রান্নাঘর থেকে নিয়ে আসলো এবং পিঁপড়াটাকে স্টিলের গ্লাসের নিচের অংশ দিয়ে মারতে যাবে এমন সময় আম্মু বলে উঠলো, “বাবা শুধু শুধু পিঁপড়াটা মেরো না। ও তো আমাদের কোনো ক্ষতি করেনি। তাহলে কেন মারবে তাকে? আল্লাহ তায়ালা অযথা কোনো প্রাণীকে কষ্ট দেওয়া পছন্দ করেন না। সেখানে তুমি তাকে মেরে ফেলবে বাবা কোনো কারণ ছাড়া?” 

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ