কোন পথে আমাদের শিশু-কিশোর ও যুবসমাজ
বিশেষ রচনা আবদাল মাহবুব কোরেশী আগস্ট ২০২৪
একটি বাগানের সৌন্দর্য যদি ফুল-ফল, সবুজ বৃক্ষ তরুলতা আর পাখির কলকাকলি হয় তবে পরিবার সমাজ আর রাষ্ট্রের সৌন্দর্য হলো শিশু-কিশোর আর যুবসমাজ।
ফুল-ফল, তরুলতা, পাখির কল-কাকলি যেমন প্রাকৃতিক নিয়মে আমাদের পরিবেশকে একটি সুন্দর অবকাঠামো দিয়ে সহজে নিজের অপরিহার্যতা জাতির কাছে প্রকাশ করতে পারে ঠিক তেমনি শিশু-কিশোর ও যুবক শ্রেণিকে একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে অপরিহার্য করে গড়ে তুলতে হয়। কিন্তু সে গড়ে তোলা যে খুব সহজ তা কিন্তু নয়। এখানে এমন কোনো সহজ উপায় নেই যে আমাদের গায়ে পড়ে তার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। এক্ষেত্রে আমাদের পরিবার থেকে রাষ্ট্রের সকল নাগরিক তথা কর্তাব্যক্তিদের মেধা, শ্রম দূরদর্শী চিন্তা-চেতনার সর্বোচ্চ চেষ্টা উজাড় করে দিয়ে বর্তমান ও আগামী ভবিষ্যৎ তৈরি করতে সচেষ্ট হতে হয়। শিশু-কিশোর মানেই একটি ভালোলাগা আর ভালোবাসার ঝলমলে উজ্জ্বল মুখ, যার চাহনি, যার হাসি যার মিষ্টি বোল সবার হৃদয়কে নাড়া দেয়। তাদের ফুটফুটে নিষ্পাপ চোখ আগামী সুন্দর দিন বোনার প্রত্যাশা সবার মনে আশার আলো জাগ্রত করে। শিশু-কিশোর মানেই আগামীর ভবিষ্যৎ, আগামীর দেশ ও জাতি গড়ার মূল অস্ত্র। সুতরাং শিশু-কিশোরকে বাদ দিয়ে নতুন আগামী নির্মাণ করা কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়।
শিশু-কিশোর ও যুবক কারা?
জাতিসংঘ ঘোষিত শিশু অধিকার সনদে শিশুর বয়স ১৮ বছর ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানেও ১৬ বছরের নিচে ছেলেমেয়েদের শিশু হিসেবে বিবেচিত করা হয় আর জাতীয় শিশুনীতি ২০১১-এর ২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘শিশু বলতে ১৮ বছরের কম বয়সি বাংলাদেশের সকল ব্যক্তিকে বোঝাবে। এবং কিশোর-কিশোরী বলতে ১৪ বছর থেকে ১৮ বছরের কম বয়সি শিশুদের বোঝাবে।’ প্রথম সংজ্ঞা অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সি সব ব্যক্তি শিশু বলে বিবেচিত হচ্ছে, কিন্তু পরের সংজ্ঞা অনুযায়ী ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সিরা একই সঙ্গে ‘শিশু’ ও ‘কিশোর-কিশোরী’ হিসেবেও সংজ্ঞায়িত হচ্ছে। আর যুবক বলতে আমরা বুঝি যার সম্পূর্ণ বোধশক্তি ও ভালো-মন্দ বোঝার বা জানার ক্ষমতা পরিপক্ব হয়। অর্থাৎ নিজেকে একজন পরিপক্ক মানুষ হিসেবে পরিবার সমাজ বা রাষ্ট্রে ভূমিকা রাখার সক্ষমতা অর্জন করে। জাতীয় যুব নীতিমালা অনুযায়ী একজন যুবক ও যুবমহিলার বয়সসীমা ১৮ হতে ৩৫ বছর ধরা হয়েছে।
শিশু-কিশোরের প্রতি যত্নবান হওয়া প্রয়োজন কেন?
শিশু-কিশোরদের প্রতি যত্নবান হওয়া প্রয়োজন কেন এটি একটি বিরাট প্রশ্ন। কিন্তু উত্তরটি খুবই পরিষ্কার। সোজা কথায় বলতে গেলে শিশু-কিশোর হলো একটি জাতির আগামীর ভবিষ্যৎ নির্মাণের মূল উপাদান। সুতরাং এ মহামূল্যবান উপাদানকে যতবেশি বিচক্ষণতার সাথে যত্ন নেওয়া হবে ঠিক তত বেশিই আমরা তার কাছ থেকে ভালো কিছু আদায় করতে পারবো। এ ক্ষেত্রে ইসলামের সঠিক দিকনির্দেশনাই আমাদের সন্তানদের আলোর পথ দেখাতে পারে। তাই সর্বপ্রথম একজন অভিভাবক ইসলামের মূল বাণী, মানুষ সৃষ্টির কারণ, আল্লাহর একত্ববাদ ও তার গুণাবলি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তার সন্তানের সাথে ভাব বিনিময় করতে পারেন। যদি তিনি তার সন্তানের মননে-মগজে তা ঢুকিয়ে দিতে পারেন তবে এই সন্তানই যে তার চক্ষুশীতল করা এক প্রশান্তির হাওয়া বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সন্তান যদি বদ্ধমূলে বিশ্বাস করে, এই পৃথিবীসহ তামাম সৃষ্টির মালিক একমাত্র আল্লাহ। আমাদের সকল কাজের হিসাব একদিন তাঁর কাছেই দিতে হবে। খারাপ কাজের ভয়াবহ শাস্তি এবং ভালো কাজের পুরস্কার, দুনিয়ার কর্ম নির্ধারণ করবে। এই বোধশক্তি যদি সে বুকে ধারণ করে নিতে পারে, তবে তার দ্বারা মানবতার কোনো অকল্যাণ কর্ম সাধিত হবে, তা কল্পনা করাই যাবে না। আমরা জানি একটি পশু যত সহজে পশু হয় একটি মানুষ তত সহজে মানুষ হয় না। তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হয়। আর মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তাকে অবশ্যই ধর্মীয় জ্ঞান আর রাসূলের আদর্শের শিক্ষা দিয়ে তার মানসিক, নৈতিক, চারিত্রিক যত্ন ও পরিচর্যাসহ সকল কিছুর পরিচর্যা আবশ্যক হয়। সুতরাং একজন সচেতন অভিভাবক তার সন্তানের যত্ন ও পরিচর্যা ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে গড়ে তুলতে পারলে সে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অভিশাপ হবে না বরং আশীর্বাদ হয়ে সবার মুখ উজ্জ্বল করবে।
শিশু-কিশোরদের যত্নে পরিবার ও
মা-বাবার ভূমিকা
এ কথা বলতে বাধা নেই যে, মা-বাবার সামান্য খেয়ালের ভুলে আমাদের আগামীর ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি সোনার টুকরো সন্তানদের বিরাট একটি অংশ জোয়ারের বানে গা ভাসিয়ে আজ দিকভ্রান্ত। জীবনের প্রতিটি ক্ষণে তার সরব উপস্থিতি সমাজ, রাষ্ট্র তথা পরিবারে এক বিভীষিকাময় দিন অতিবাহিত করে। বিশেষ করে তার মা-বাবা ভাই-বোন একটি অজানা আতঙ্কে দিন-কাল যাপন করেন। সারাক্ষণ ভাবনা এই বুঝি সন্তানের কোনো কুকর্মের জন্য তাদের আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। অথচ কিছুকাল আগেও এ রকম ভাবনা কোনো মা-বাবাকে করতে দেখা যায়নি। জ্ঞান-বিজ্ঞানের এই আধুনিক যুগে এসে মা-বাবার এরকম ভাবনার হেতুটা কী তা আমাদের উদঘাটন করে আলোচনার দাবি রাখে বটে। প্রথমত পরিবার নিয়ে কথা বলা যাক, কারণ পরিবারই হচ্ছে সন্তানের প্রথম এবং মৌলিক শিক্ষালয়। পরিবারের শিক্ষাই সন্তানের প্রদর্শিত পথ। এখানে কোনো ভেজাল হলে তার খেসারত সারা জীবন সন্তানের জন্য অভিশাপের দোয়ার উন্মুক্ত করে দেয়। আর এই পরিবার নামক শিক্ষালয়ে বাবা সহকারী শিক্ষক হলে মাকেই প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা পালন করতে হয়। এক্ষেত্রে লেখার কলেবর বৃদ্ধি না করে দুটি উদাহরণের মাধ্যমে সন্তানের প্রতি মায়ের ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করবো। প্রথমত যুগশ্রেষ্ঠ সন্তান আল্লামা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নাদবী রহ. তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেন- “শৈশবে আমার আম্মা আমার দুটি বিষয়ের প্রতি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য রাখতেন। প্রথমত আমি যেন কখনও নামাজ কাজা না করি এবং দ্বিতীয়ত ঘরের কোনো কাজের লোক যেন আমার দ্বারা কষ্ট না পায়। কোনো মজলুমের আহ্ ধ্বনি যেন আমার ভবিষ্যৎ জীবনকে অন্ধকার না করে। কখনও যদি কোনো কাজের লোকের সাথে অন্যায় আচরণ করে বসতাম তবে যত অপমানই হোক না কেন আম্মা আমাকে তার হাতে ধরে মাফ চাওয়াতেন। আম্মার এই তরবিয়তের ফলে কারও প্রতি জুলুম ও অন্যায় আচরণের প্রতি এমন ভীতি ও ঘৃণা আমার মনে জেগে উঠেছিল যে, আজ পর্যন্ত আমি কারও মনে দুঃখ দেওয়াকে কবিরা গুনাহ মনে করি এবং কখনও কোনো ভুল হয়ে গেলে তা স্বীকার করে নিতে সংকোচ বোধ করি না।”
দ্বিতীয়ত আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা স্যার সৈয়দ আহমদ ছোটো বয়সে একবার তাঁর ঘরের এক কাজের লোকের সাথে বেয়াদবি করলে তাঁর মা তাঁর খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সৈয়দ আহমদ মায়ের শাসন থেকে বাঁচার জন্য তাঁর খালার বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে তিন দিন অবস্থান করার পর খালা তাঁকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়িতে সৈয়দ আহমদের জন্য তাঁর মায়ের কাছে সুপারিশ করেন। কিন্তু মা তাঁর সিদ্ধান্তে অটল থাকলেন এবং বললেন, আহমদ চাকরের কাছে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত কোনো মতেই তাকে ক্ষমা করা হবে না। নিরুপায় বালক আহমদ চাকরের হাত ধরে ক্ষমা চেয়ে নিস্তার পেলেন এবং ঘরে প্রবেশের অনুমতি পেলেন। উদাহরণ দুটি থেকে আমরা যে শিক্ষা রপ্ত করতে পারি তা হলো- একটি সন্তানের বুনিয়াদি শিক্ষার ভিত্তিই হলো পরিবার, বাবা ও মা। বিশেষ করে মার ভূমিকা অনন্য। সুতরাং বলা যায় নৈতিক মানে যে পরিবার যত উন্নত সে পরিবারের সন্তান ততবেশি উন্নত মন-মানসিকতার অধিকারী।
বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোর ও যুবসমাজের ভূমিকা
অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমান সময়ে আমরা আমাদের শিশু-কিশোরদের যে মানেই বিচার-বিশ্লেষণ করি না কেন তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশই আজ বিপথগামী। অথচ একজন মানুষের জীবনগড়ার সর্বোত্তম সময়ই হচ্ছে তার কৈশোরকাল। এ বয়সেই সে নৈতিক শিক্ষা, চারিত্রিক মান, বিনয়, অধ্যবসায়, নীতি, আদর্শের ভিত তৈরি করে একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করে নেয়। কিন্তু এসব আশার গুড়ে বালি হয়ে তারা পরিবার ও সমাজের আতঙ্কের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের ভয়াল হিং¯্রতা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তা সম্প্রতি পুলিশের রেকর্ডকৃত পরিসংখ্যান দেখলেই খুব সহজেই অনুমান করা যায়।
পুলিশ সদর দফতরের তথ্য মতে, ২০১২ সালে কিশোর অপরাধের ঘটনায় সারা দেশে মামলা রেকর্ড হয়েছে ৪৮৪টি। মামলায় আসামির সংখ্যা ৭৫১ জন। ২০১৩ সালে কিশোর অপরাধের ৫৮৯ মামলায় আসামি ৮৪৮ জন। ২০১৪ সালে মামলা হয়েছে ৮১৮টি, আসামির সংখ্যা ১,২৬৩। ২০১৫ সালে মামলা হয়েছে ১,১৮৪টি। ২০১৬ সালে এ সংখ্যা ছিল ১,৫৯৬টি। এ হিসাবে এক বছরে কিশোর অপরাধের মামলা বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশের বেশি। আর ২০১৭ ও ২০১৮ সালে এ সংখ্যা আরো বেড়েছে।
অন্যদিকে পুলিশের ক্রাইম অ্যানালাইসিস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শুধু রাজধানী ঢাকাতেই গত কয়েক বছরে প্রায় ৫০টির মতো কিশোর গ্যাং-গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে। শুধু রাজধানীতেই নয় এসব গ্যাং ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে দেশের আনাচে-কানাচে এমনকি জেলা শহর ও গ্রামে। দেশের দুই কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সেখানে থাকা কিশোরদের ২০ শতাংশ খুনের মামলার আর ২৪ শতাংশ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাগুলোর বেশির ভাগই ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত।
শিশু-কিশোর ও যুবদের বিপথগামী হওয়ার কারণ
আমড়া গাছে যেমন আপেল আশা করা যায় না তেমনি একটি অসুস্থ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ভালো কিছু আশা করা যায় না। যেমনটি হয়েছে আমাদের বেলায়। আমার সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে এমন বিলাপ শুনলেও কেন নষ্ট হলো তার উত্তর সহজে পাওয়া যায় না। অথচ সন্তানের এই অধঃপতনের জন্য আমরাই যে শতভাগ দায়ী, তার হিসাব কজনে করে? আসুন আমরা কীভাবে দায়ী তার একটি ফিরিস্তি দেখা যাক।
একটু গভীরে চিন্তা করে দেখুন তো, একটি সন্তান পৃথিবীর মুখ দেখার পর থেকে আমাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছ থেকে সে কী পেয়ে থাকে? জন্মের পরেই আমরা যেন তাকে ভেজাল খাদ্য দিয়ে বরণ করে নেই তার নিরাপত্তাহীন জীবন আমরাই তাকে উপহার দেই। যার ফলশ্রুতিতে একসময় সে অভদ্রতা, কর্কশতা কূটনামি, অশ্লীল কর্ম, অনৈতিক কাজ, মিথ্যাচার, অনাচার, পাপাচার, নির্দয় নিষ্ঠুর, পাষণ্ড এবং অমানবিক হওয়ার সব গুণ আয়ত্ত করে নেয়। শুধু কি তাই, সন্তানকে স্মার্ট করতে গিয়ে আমরা তাদের হাতে মোবাইল নামের বিধ্বংসী অস্ত্র, তথাকথিত প্রগতিশীলতার নামে ধর্মবিমুখ শিক্ষা, মোটো-পাতলু নামে অন্তঃসারশূন্য কার্টুন, চরিত্র হননকারী বিভিন্ন চলচ্চিত্র, ক্রাইম পেট্রোলের মতো সিরিয়ালসহ নানা উপকরণ দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের ষোলোআনা পূর্ণ করি। তাদের কানে ভোর সকালে এখন আর কোনো মা কুরআনের আওয়াজ তুলে দেন না, প্রচারিত হয় না বেতার আর টেলিভিশনে শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, বিদ্যালয় থেকে শিক্ষকের কড়া শাসনও উধাও হয়েছে অনেক আগে যার কারণে কে কত সুন্দর করে ইনিয়ে-বিনিয়ে মিথ্যা কথা বলতে পারে, অপরকে ঠকিয়ে বা প্রতারণা করে নিজের আখের গোছাতে পারে, রাজনৈতিক ময়দানে নেতার পেছনে কে কত বেশি বাহাদুরি দেখাতে পারে, নেতা হতে গিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে এমনকি জীবননাশের সর্বনাশা খেলায় মেতে উঠতে পারে ইত্যাদি নানান রকম ধ্বংসাত্মক কর্মসমূহ রপ্ত করার নানান সুযোগ-সুবিধার জোগান আমরাই তাদের হাতের মুঠোয় তুলে দিচ্ছি।
সুতরাং সর্বশেষে আমরা বলতে পারি যে, কে কি বললো বা না বললো, সে দিকে ভ্রƒক্ষেপ না করে আমার সন্তানকে সত্যিকার মানুষ করার দায়িত্ব আমাকেই নিতে হবে। এক্ষেত্রে ইসলামের সুমহান ছায়াতল ছাড়া বিকল্প আর কোনো পথ নেই। কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত চরিত্র গঠনের সকল গুণাবলি, যেমন- তাকওয়া, শালীনতা, সত্যবাদিতা, ওয়াদা পালন, আমানতদারিতা, সবর, ইহসান, বিনয়, নম্রতা, উদারতা, দানশীলতা প্রভৃতি আমরা যদি আমাদের সন্তানকে শিক্ষা দিয়ে বড়ো করতে পারি সে কখনো বিপথগামী হবে না। কারণ ইসলাম কোনো আদম সন্তানকে অপরাধী হিসেবে তৈরি করে না। অপরাধের শিকড় উচ্ছেদ করার জন্যই ইসলাম আমাদের সবসময় আহ্বান করে।
আরও পড়ুন...