আসিয়া

সাইন্স ফিকশন মাহমুদুন নাহার ইশা অক্টোবর ২০২৪

ঘুম ভাঙার পর চারপাশের পরিবেশটা অপরিচিত মনে হয় অ্যালিসিয়ার কাছে। ঘরটা যেন তার নিজের নয়। সে কি স্বপ্ন দেখছে? বিছানা থেকে নামতেই সামনে থাকা আয়নায় নিজেকে দেখে আরো বেশি অবাক হয়। এটা কীভাবে সম্ভব, সে তো আঠারো বছর বয়সি এক মেয়ে; সে কীভাবে চার বছরের একটা ছোট্ট মেয়ে হয়ে গেল? আবার বিছানায় বসে পড়ে সে। সবকিছু মনে করার চেষ্টা করে। আস্তে আস্তে তার মনে পড়ে- না, সে তো আঠারো বছরের আসিয়া নয়, সে তো চার বছরের অ্যালিসিয়া। তাহলে কি সে স্বপ্ন দেখছিল? 

তখনই বাবা ওর ঘরে আসেন। ‘অ্যালিসিয়া, আমার মেয়ে, তোমার জ্ঞান ফিরে এসেছে!’ আনন্দে আত্মহারা হয়ে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বললেন অ্যালিসিয়ার বাবা মি. অ্যালেক্স। অ্যালিসিয়া তাকে প্রশ্ন করে, ‘তার কী হয়েছিল?’

বাবা তাকে ছোট বাচ্চা ভেবে সবকিছু পরিষ্কারভাবে বলেন না কিন্তু তিনি যা বললেন তাতে সে বুঝতে পারে তার একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল এবং ছয় মাস ধরে সে কোমায় ছিল। মি. অ্যালেক্স মেয়েকে তৈরি হয়ে নিচে যেতে বলে মেয়ের পছন্দের খাবারগুলো রান্না করতে গেলেন। 

অ্যালিসিয়া এই ফাঁকে বাবার ঘরে গিয়ে তার কম্পিউটারে ফেসবুকে ঢুকে সার্চ করলো ‘আসিয়া ইকরামুল্লাহ’। ওর বিস্ময় চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছালো যখন সে যেই আইডিটি খুঁজছিল সেটি পেয়ে গেল। তার স্বপ্নে দেখা একটা আইডি কীভাবে বাস্তবে থাকতে পারে। মাথায় হাজারো প্রশ্ন নিয়ে সে নিচে যায়। খাবার খেতে খেতে হঠাৎ বাবা বলেন, ‘অ্যালিসা ক্রিসমাসের আগেই সুস্থ হয়ে গেছে। এটা অনেক আনন্দের বিষয়।’

কথাটা শুনে অ্যালিসিয়ার গলায় খাবার আটকে যাওয়ার উপক্রম হয়। তারা খ্রিষ্টান সে তো তা ভুলেই গিয়েছিল! না, সে খ্রিষ্টান নয়। সে তো মুসলিম। কথা খুঁজে পায় না অ্যালিসিয়া। মাথার মধ্যে সব আরো এলোমেলো লাগে। তাড়াতাড়ি খাবার শেষ করে নিজের ঘরে চলে যায় সে। আসিয়া তার কল্পনা নয়, কিন্তু আসিয়া তার স্বপ্নে এলো কীভাবে? একটা স্বপ্নে কীভাবে একজনের আঠারো বছরের জীবনের ঘটনা ও অনুভূতিগুলো সে অনুভব করতে পারে? কীভাবে সে তার বাবাকে বোঝাবে সে মুসলিম? কীভাবে তাকে দীনের দাওয়াত দেবে? তার কিছু করার কি উপায় আছে? সে একটা অসহায় চার বছরের শিশু! পরমুহূর্তে মনে হলো, সে দুর্বল তা সত্য কিন্তু তারও উপায় আছে এবং সেই উপায় শুধুমাত্র তার রবই দেখিয়ে দিতে পারেন! সে অজু করে এসে দুই রাকাত নামাজ পড়ে দোয়া করলো।

হঠাৎ মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। বাবাকে গিয়ে বললো, ‘বাবা, আমাকে ক্যালকুলাসের একটা বই এনে দেবে?’ 

বাবা মনে করলেন তিনি ভুল শুনেছেন। তাই জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী বইয়ের কথা বললে, মামণি?’

‘ক্যালকুলাসের বই।’ আবারো বললো আসিয়া।

এবার বাবা একটু নড়েচড়ে বসলেন, ‘ক্যালকুলাস শব্দটা তুমি কোথায় থেকে শিখলে? ওগুলো তো হাইস্কুল বা কলেজের বই মামণি। ওটা শেখার আগে তো তোমাকে অ্যালফাবেট, কাউন্টিং এসব শিখতে হবে।’

অ্যালিসিয়া বললো, ‘ওইসব আমি পারি বাবা। ক্যালকুলাসও একটু-আধটু পারি। তুমি দেখবে বাবা?’ বলেই সে দৌড়ে গিয়ে কাগজ কলম নিয়ে এলো। বাবা ভেবেছিলেন মেয়ে কী সব হিজিবিজি আঁকিবুঁকি করে বলবে সে সব পারে কিন্তু তেমনটা হয় না। অ্যালিসিয়া ইংরেজি বাক্য লিখে যেমন দেখালো ক্যালকুলাসও করে দেখালো। বাবা এসব দেখে কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। বড়ো বড়ো চোখ ভরা বিস্ময় নিয়ে মেয়েকে বললেন, ‘তুমি এগুলো কীভাবে শিখলে অ্যালিস?’

‘ব্যাস, আমি শিখেছি বাবা।’ বলেই সে তার ঘরে ফিরে এলো। কেননা আপাতত তার কাজ শেষ।

বিকেলে ড. অ্যাডউইন তাদের বাসায় আসেন। তিনি অ্যালিসিয়ার দাদার পুরোনো বন্ধু আর এখন অনেকটা ওদের ফ্যামিলি ডাক্তার। বাবা তাকে সব খুলে বলেন। প্রথমে তার মনে হয় মি. অ্যালেক্স বাড়িয়ে বলছেন এসব। পরে অ্যালিসকে ডাকা হলে সে যখন ডা. অ্যাডউইনকেও দেখালো সে কী কী পারে তখন তারও একই অবস্থা। কিন্তু তিনি ওকে কিছু জিজ্ঞেস না করে চিন্তা করতে লাগলেন। অ্যালিসের অ্যাক্সিডেন্ট হওয়ার পর যখন তিনি ওর অপারেশন করেছিলেন তখন তিনি ওর ব্রেইনে তার বানানো একটা গবসড়ৎুনৎধরহ বসিয়ে দিয়েছিলেন। এটা তিনি বানিয়েছিলেন যেন মানুষ মস্তিষ্কে বেশি স্মৃতি ধরে রাখতে পারে। সেটার জন্যই কি এমনটা হচ্ছে? কিন্তু স্মৃতি ধরে রাখার জন্যও তো আগে শিখতে হবে। সকালে জ্ঞান ফিরতেই সে বিকালের মধ্যে এসব কীভাবে শিখতে পারে? ড. অ্যাডউইন অ্যালিসিয়ার হাতে নিউজপেপার দিয়ে বললেন, এটার এক পৃষ্ঠা পড়ে সে মুখস্থ বলতে পারবে কি না। অ্যালিস তখন বলে, সে এইটা কেন মুখস্থ করবে, মুখস্থ করা ভালো বিষয় নয় আর না এতে কোনো লাভ আছে।

ড. অ্যাডউইন তার ল্যাবে চলে এলেন। এইখানেই তিনি অনেক বছর আগে দুইটা Memorybrain বানিয়েছিলেন। তার মধ্যে একটা Memorybrain তিনি আঠারো বছর আগে একটা বাচ্চার Brain-এ বসিয়েছিলেন। আচ্ছা, এইটা কি সম্ভব যে দুইটা Memorybrain Connect হয়ে গেছে আর দুইটা মিলে Memorybrain নয় বরং Memorybrain -এর কাজ করছে! চিন্তাটা মাথায় আসতেই চেয়ার থেকে লাফিয়ে উঠে পড়েন তিনি। কিন্তু তিনি তো এমন কোনো প্রোগ্রাম সেট করেননি, আর না তা তিনি জানেন তা কীভাবে করা সম্ভব হলো। কিন্তু তার মাথায় ঘুরতে থাকে যে তাকে যেভাবেই হোক এটা জানতে হবে কীভাবে এরকম Mirrorbrain বানানো সম্ভব। তাহলে তিনি শুধু বর্তমান সময়ের নয় ইতিহাসের সবচেয়ে নামকরা বিজ্ঞানী হয়ে যাবেন, ভাবতে থাকেন তিনি।

এদিকে অ্যালিসিয়া জানে যে এটা তার রবেরই ইচ্ছে সে এভাবে হেদায়াত পাবে।

অন্যদিকে অ্যালিসিয়ার ব্যাপারে চারিদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে অ্যালিসদের প্রতিবেশী মিসেস পটারের বদৌলতে। বিভিন্ন নিউজ চ্যানেল ওর ইন্টারভিউ নিতে চায়, বিভিন্ন শো ওকে ইনভাইট করে, এমনকি গিনেস বুক রেকর্ডে ওর নাম ওঠে। 

কিন্তু অ্যালিসিয়া ঠিক এসব চায় না, বরং এসবে ও হাঁপিয়ে ওঠে। কিন্তু বাবা ওকে নিয়ে গর্বিত দেখে ওর অনেক ভালো লাগে।

তারপর কিছুদিন পর একদিন সুযোগ বুঝে সে তার বাবার সাথে কথা বলে। যে কথাগুলো বলার জন্য সে এতদিন ধরে ছটফট করছিল। ধৈর্য ধরে এই সময়টার অপেক্ষা করেছে। ‘বাবা, তোমার সাথে কি কিছু কথা বলতে পারি?’

মি. অ্যালেক্স আবারো অবাক হন এই দেখে, তার চার বছরের মেয়েটা শুধু বড়োদের মতো অঙ্ক করাই শেখেনি বরং কথা বলাও শিখেছে। ‘বলো মামণি।’

‘বাবা, তুমি ইসলাম সম্পর্কে কি কিছু জানো?’ 

এই কথা শুনে বাবার চোখ কপালে উঠলো, ‘তুমি হঠাৎ ইসলাম নিয়ে কথা বলছ কেন? আমরা খ্রিষ্টান। আমাদের অন্য ধর্ম নিয়ে জানার বা বোঝার কোনো প্রয়োজন নেই।’

‘না, বাবা। আমি মুসলিম।’

কথাটা শোনার পর কয়েক মুহূর্তের নীরবতার পর ধাক্কাটা সামলে নিয়ে বাবা বললেন, ‘এসব তুমি কী বলছ অ্যালিসিয়া? তোমার মাথায় এসব উলটা-পালটা কথা কে শিখিয়েছে?’

‘এসব উলটা-পালটা কথা নয় বাবা। আমি বুঝতে শিখেছি বাবা। আর সমস্ত সৃষ্টিকুলের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ আমাকে এসব বুঝতে সক্ষম করেছেন। বোঝার চেষ্টা করো বাবা, আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন আর তাঁর কাছেই মৃত্যুর পরে আমাদের ফিরে যেতে। একটু চিন্তা করো বাবা তুমিও বুঝতে পারবে ইসলামই একমাত্র সত্য। এটিই সেই সত্য পথ।’

বাবা আর কিছু বললেন না। অ্যালিসিয়া কথাগুলো বলে সেখান থেকে চলে গেল। 

সকালে অ্যালিসিয়া ব্রেকফাস্ট করতে এলে বাবা বললেন, ‘অ্যালিসিয়া, আমি শাহাদাহ গ্রহণ করতে চাই।’ অ্যালিসিয়া দৌড়ে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরলো। ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূল্লাহ (সা) আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই আর মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল।’

বাবা আরও বললেন, ‘আমি কাল সারারাত ইসলাম সম্পর্কে আরও জানার চেষ্টা করেছি আর বারবার মনে হয়েছে এটা আগে করিনি কেন।’

কাল রাতে অ্যালিসিয়াও স্টোর রুম থেকে একটা জিনিস খুঁজে পেয়েছিল যা তার বাবাকে দেখানোর জন্য সে অপেক্ষা করছিল। সে বললো, ‘বাবা, কাল আমি মা’র ডায়েরি খুঁজে পেয়েছি।’ বলে সে ডায়েরির শেষ পাতাটা বের করে বাবাকে দিলো। সেখানে লেখা ছিল, “আজ আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন। আজ আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। আমি অ্যালেক্সকে এটা জানাতে চাই, আমি চাই সে-ও ইসলাম গ্রহণ করুক, কয়েকবার চেষ্টা করেছি কথাগুলো বলার কিন্তু ওকে এখনো বলার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওকে সব বলা দরকার। আমাদের মেয়ে পৃথিবীতে এলেই আমি ওকে সব বলবো, বোঝাবো। আর আমাদের মেয়ের নাম রাখবো ‘আসিয়া’।”

লেখাটা পড়ে মি. অ্যালেক্স কাঁদতে লাগলেন। অ্যালিসিয়াও বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো, এই কান্নাটা ছিল আনন্দের। জান্নাতে তার সাথে দেখা হওয়ার আশা আর আনন্দের। 

পরদিন হঠাৎ ডা. অ্যাডউইন আসিয়াদের বাড়িতে এসে বললেন, ‘অ্যালিসিয়ার ব্রেইনের কিছু পরীক্ষা করা দরকার। সেজন্য তোমাকে কিছু পেপারে সাইন করে দিতে হবে।’

মি. অ্যালেক্স এই নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব করছেন দেখে তিনি আরও বললেন, ‘অ্যাক্সিডেন্টের পর ওর ব্রেইন পুরোপুরি রিকভার করেছে কি না দেখা দরকার, ব্রেইনে কোনো আঘাত থেকে গেলে তা পরে বড়ো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।’

অ্যালিসিয়ার বাবা রাজি হতে বাধ্য হলেন। সেদিন তার অফিসে জরুরি মিটিং ছিল দেখে তিনি পরের দিন মেয়েকে হসপিটালে নিয়ে যেতে চান কিন্তু ড. অ্যাডউইন বলেন, দেরি করা ঠিক হবে না এবং তিনিই অ্যালিসিয়াকে সাথে করে নিয়ে যেতে চান। এতদিনের পরিচিত দেখে ওর বাবাও তার ওপর বিশ্বাস রেখে মেয়েকে পাঠিয়ে দেন। 

ড. অ্যাডউইন অ্যালিসিয়াকে তার নিজের ল্যাবরেটরিতে নিয়ে যান। অ্যালিস তাকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন যে এখানে হসপিটালের চেয়ে অনেক ভালো এবং উন্নত যন্ত্র রয়েছে।

ল্যাবে নিয়ে যাওয়ার পর ড. অ্যাডউইন অ্যালিসিয়াকে Mirrorbrain-এর ব্যাপারে সব বললেন। আঠারো বছর আগে তিনি আসিয়া নামের এক মেয়ের ব্রেইনেও একটি Mirrorbrain লাগিয়েছিলেন এবং এখন তিনি Mirrorbrain দুটি নিয়ে গবেষণা করতে চাচ্ছেন তাও বললেন। তিনি কয়েকদিন যাবৎ আসিয়ারই খোঁজ করছিলেন এবং তিনি জানতে পেরেছেন কিছুদিন আগেই সে মারা গেছে কিন্তু দরকার হলে তার কবর খুঁড়ে বের করতে হলেও তিনি Mirrorbrain নিয়ে গবেষণা করবেন। অ্যালিসিয়া এসব শুনে ভয় আর আতঙ্ক অনুভব করছিল ঠিক কিন্তু তবুও ভয়কে সামলে নিয়ে সে রুমের ভেতর এদিক ওদিক দেখতে লাগলো। এখান থেকে বের হওয়ার উপায় খুঁজতে লাগলো। ওর চোখ একটা সেলফের ওপর পড়লো। সেখানে লেজার গান, শক গানসহ আরও বিভিন্ন যন্ত্র রাখা ছিল। 

হঠাৎ ড. অ্যাডউইন ওকে ওখানে থাকতে বলে কোনো দরকারে কিছুক্ষণের জন্য অন্য রুমে গেলেন। সাথে সাথেই অ্যালিসিয়া দৌড়ে সেলফ থেকে লেজার গানটা বের করে নিলো। লেজার গানটা বেশ ভারী হওয়ায় ওর হাত থেকে পড়ে যেতে যেতেও আল্লাহর রহমতে সে সেটা সামলে নিলো। রুম থেকে সরাসরি বাইরে যাওয়ার জন্য একটা স্টিলের দরজা ছিল এবং সেটা লক করা ছিল। লেজার গান দিয়ে সে দরজাটায় বের হওয়ার মতো বড়ো একটা হোল তৈরি করলো। সে ভয় পাচ্ছিল যে এই শব্দে বুঝি ড. অ্যাডউইন ছুটে আসেন। তিনি ল্যাবরেটরিটাকে Sound Absorbing System-এ বানিয়েছিলেন যেন তার কাজ করতে কোনো অসুবিধা না হয়, তিনি নির্বিঘ্নে  কাজ করতে পারেন। বাইরে থেকেও কেউ তার কাজের শব্দ বা ধারণা না পায়। তার জন্যই তিনি অ্যালিসিয়ার বের হয়ে যাওয়ার শব্দ পাননি। ল্যাবের আশপাশে খুব বেশি বাড়ি-ঘর ছিল না তবুও অ্যালিস বের হয়েই কিছুটা দূরে একটা বাড়ি দেখতে পেল এবং প্রাণপণে ছুটে গেল সেদিকে। বাড়িতে একা থাকা বৃদ্ধ মহিলা অ্যালিসিয়াকে আশ্রয় দিলেন আর ওর বাবাকে কল করলেন। এদিকে ড. অ্যাডউইন রুমে এসে দেখলেন অ্যালিসিয়া পালিয়ে গেছে। সাথে সাথে তিনিও বাইরে বেরিয়ে এলেন। অ্যালিসিয়াকে খুঁজে পাওয়ার আগেই পুলিশ তাকে খুঁজতে চলে আসে। অ্যালিসিয়ার বাবাও চলে আসেন, তিনি অ্যালিসিয়াকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘অ্যালিসিয়া, মামণি তুমি ঠিক আছ?’

‘আমি ঠিক আছি বাবা। কিন্তু তুমি আমাকে আর অ্যালিসিয়া বলবে না, আমি আসিয়া বাবা, যেই নামটা মা-ও আমাকে দিতে চেয়েছিল।’

‘ঠিক আছে আসিয়া, চলো এখন আমরা বাসায় যাই।’

আসিয়া ওর বাবার হাত ধরে চলতে লাগলো আর ভাবতে লাগলো, এই পৃথিবীতে আরেক আসিয়ার সাথে ওর দেখা হওয়ার আর সুযোগ নেই কিন্তু জান্নাতে যেন তাদের দেখা হয় আল্লাহর কাছে এই দোয়া করে সে।

কিশোরকণ্ঠ সায়েন্স ফিকশন লেখা প্রতিযোগিতা ২০২৩-এর ৮ম স্থান অধিকারী সায়েন্স ফিকশন

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ