আক্ষেপের নাম নেইমার

খেলার চমক আবু আবদুল্লাহ জানুয়ারি ২০২৫

বিশ্ব ফুটবলে সবচেয়ে বড়ো আক্ষেপ বা আফসোসগুলোর তালিকা করলে তার ওপরের দিকেই থাকবে নেইমার জুনিয়রের নাম। প্রচণ্ড সম্ভাবনা নিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা ব্রাজিলের ফুটবলার নেইমার হতাশা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেননি। নিজেকে নিয়ে যেতে পারেননি অনন্য উচ্চতায়, দেশকেও উপহার দিতে পারেননি বড়ো কোনো শিরোপা। অথচ এক সময় তাকে লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কাতারে বিবেচনা করা হতো; কিন্তু ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় নেইমারকে নিয়ে দর্শকরা শুধু আফসোসই করতে পারেন।

নেইমারের এমন ব্যর্থতার জন্য ইনজুরি, খারাপ ফর্ম নাকি তার শৃঙ্খলাহীন জীবনযাপন বেশি দায়ী সেটি নিয়ে তর্ক হতে পারে। অনেকে বলেন, অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ সামলাতে না পেরে নেইমারের এই দশা হয়েছে। কারণ যাই হোক, বাস্তবতা হলো নেইমার এখন ফুরিয়ে গেছেন। তাকে নিয়ে এখন শুধু আফসোসই করা যায়। গত মৌসুম থেকে খেলছেন সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালে।

ইউরোপের ফুটবলে তার চাহিদা কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন। অবশ্য ইনজুরির কারণে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগও পাচ্ছেন না। ইনজুরিতে পড়লে ঠিকমতো পুনবার্সন প্রক্রিয়া শেষ করেন না বলেও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। আবারও ব্রাজিলে নিজের প্রথম ক্লাব সান্তোসে ফিরে যাওয়ার গুঞ্জনও চলছে। এবারের ফেব্রুয়ারিত বয়স ৩৩ হচ্ছে, কাজেই শীর্ষ ফুটবলে নেইমারের দিন ফুরিয়ে আসছে দ্রুত। আর যতদিন খেলবেন বিশে^র কোনো নামিদামি ক্লাবে তাকে আর দেখা যাবে না।

১৮ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলে হলুদ জার্সিতে অভিষেক। তারচেয়েও বড়ো কথা বয়স বিশ পার হতেই হয়ে উঠেছিলেন ব্রাজিলের মতো ফুটবল দলের সবচেয়ে বড়ো তারকা। ২০১০ সালের বিশ^কাপের আগে নেইমারকে ব্রাজিল দলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন ফুটবল কিংবদন্তি পেলে। দর্শকরাও রীতিমতো আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তখন নেইমারের বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। এরপর অবশ্য তিনটি বিশ^কাপ (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২) খেললেও দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। নেইমরাকে ঘিরেই ছিল ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ বা ‘হেক্সা’ জয়ের স্বপ্ন; কিন্তু দিনে দিনে নেইমার যেভাবে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছেন তাতে  তাকে নিয়ে সেই স্বপ্ন পূূরণ হওয়া সম্ভব নয়।

অথচ নেইমার যখন নিজ দেশের ক্লাব সান্তোসে খেলছিলেন তখন বারবার তাকে ইউরোপে যাওয়ার তাড়া দিয়েছেন পেলেসহ নামিদামি সাবেক ফুটবলাররা। কারণ সবার প্রত্যাশা ছিল নেইমার বিশ্ব ফুটবলে দাপটের সাথে খেলবেন। তার প্রতিভা আর খেলার সামর্থ্যই সবার মাঝে এই বিশ্বাস এনে দিয়েছিল।

এরপর নেইমার যখন ইউরোপের ক্লাব এফসি বার্সেলোনায় (২০১৩) ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন তখন ফুটবল বিশ্বে দাপট মেসি আর রোনালদোর। একটা দীর্ঘ সময় ফুটবল বিশ্বে তাকে থাকতে হয়েছে তৃতীয় সেরা খেলোয়াড় হয়ে। মনে করা হতো যে, মেসি আর রোনালদোর সেরা সময়টা শেষ হয়ে গেলে নেইমার সেরা ফুটবলারের জায়গা নেবেন; কিন্তু তিনি সেটা পারেননি। মেসি, রোনালদো একের পর এক ব্যালন ডি’ অর জিতেছেন। নেইমারের ঝুলিতে ওঠেনি একটিও। ক্লাবের হয়ে একটি মাত্র চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছেন। সেটিতেও ছিলেন মেসির ছায়ায় পড়ে।

বারবার ইনজুরিতে পড়েছেন, অবহেলায় ফিটনেস নষ্ট করেছেন, নিত্য নতুন চুলের স্টাইল বদলেছেন; কিন্তু যে কাজের জন্য বিশ্বেরর কোটি কোটি দর্শক তার দিকে চেয়েছিল সেটা পারেননি। যদিও নেইমারের প্রতিভা নিয়ে কারো এতটুকু সন্দেহ নেই। প্লেমেকিং, ফিনিশিং কিংবা অ্যাসিস্টে তিনি কারো চেয়ে কম যান না। তবু নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি।

লিওনেল মেসির সাথে দুটি ক্লাব- এফসি বার্সেলোনা ও পিএসজিতে খেলেছেন। এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে তাকে সৌদি ক্লাবের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে পিএসজি। জাতীয় দলের হয়েও তিনটি বিশ^কাপে তেমন কোনো ঝলক দেখাতে পারেননি। যে কারণে ফুটবল বিশে^ নেইমার এক আক্ষেপের নাম হয়ে আছেন।

২০২৬ বিশ^কাপে তাকে ব্রাজিল দলে দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। একে তো বয়স হবে ৩৪ বছর। তার ওপর ফর্ম ভালো নয়। যে কারণে বুড়ো নেইমারকে দলের সঙ্গে টানতে চাইবেন না কোনো কোচ। যে কারণে ধরে নেওয়া যায় এমন তুমুল প্রতিভাবান এক ফুটবলারের ক্যারিয়ার হয়তো সৌদি লিগ বা নিজ দেশের ঘরোয়া লিগেই শেষ হতে চলেছে, যার হাতে ওঠেনি কোনো বিশ^কাপ কিংবা কোনো ব্যালন ডি’অর।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে গত নভেম্বর পর্যন্ত ১২৮ ম্যাচে ৭৯টি গোল করা এই তারকা ভক্তদের হতাশ রেখেই হয়তো বুট  জোড়া তুলে রাখবেন। তার বাবা জানিয়েছেন, চলতি বছর ক্লাব বিশ^কাপ পর্যন্ত সৌদি ক্লাব আল হিলালেই থাকতে চান নেইমার। তারপর হয়তো দেখা যেতে পারে ব্রাজিলের ক্লাবে।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ