ভূমিকম্প কেন হয়
বিজ্ঞান শিমুল রানা জানুয়ারি ২০২৬
ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা পৃথিবীতে ভূমির কম্পনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। ভূমিকম্প পৃথিবীর কাঠামোর মধ্যে একটি আকস্মিক ব্যাঘাত যা সিসমিক তরঙ্গ তৈরি করে। ভূ-অভ্যন্তরে যখন একটি শিলা অন্য একটি শিলার ওপরে উঠে আসে তখন ভূমি কম্পন হয়। পৃথিবীপৃষ্ঠের অংশবিশেষের হঠাৎ অবস্থার পরিবর্তন বা আন্দোলনই ভূমিকম্পন।
পৃথিবীতে বছরে গড়ে ৬,০০০ ভূমিকম্প হয়। এগুলোর বেশির ভাগই মৃদু, যেগুলো আমরা টের পাই না। সাধারণত তিন ধরনের ভূমিকম্প হয়ে থাকে। প্রচণ্ড, মাঝারি ও মৃদু। আবার উৎসের গভীরতা অনুসারে ভূমিকম্পকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়-অগভীর, মধ্যবর্তী ও গভীর ভূমিকম্প।
ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব সাধারণত কয়েক সেকেন্ড হয়ে থাকে। কিন্তু এই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হয়ে যেতে পারে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ।
ভূমিকম্প কয়েকটি কারণে সংগঠিত হয়। পৃথিবীর ওপরের পৃষ্ঠকে আমরা যেমন দেখি, ভেতরের দিক থেকে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে অনেকটা নারকীয় উত্তাপ বিদ্যমান। লোহাসহ অন্যান্য ভারী ভারী উপাদান এখানে গলিত অবস্থায় থাকে। এসব গলিত পদার্থ তরলের মতো আচরণ করে। এরা পৃথিবীর অভ্যন্তরে নিয়মতান্ত্রিক পরিচালন প্রবাহ তৈরি করে। এই প্রবাহ এতই শক্তিশালী যে, এরা মহাদেশীয় প্লেটকে নাড়িয়ে দিতে পারে।
পৃথিবীর পৃষ্ঠতল তথা ভূত্বক সব জায়গায় সমান নয়। যে অংশে এর পুরুত্ব কম সে অংশে মাঝে মাঝে অভ্যন্তরের গলিত ম্যান্টল বের হয়ে আসে। যে পথে তারা বের হয়ে আসে তাদেরকে আমরা বলি আগ্নেয়গিরি। এই তরল ম্যান্টলগুলো যখন আগ্নেয়গিরির মুখ দিয়ে বের হয়, তখন আমরা তাকে বলি লাভা। আগ্নেয়গিরির কারণে ভূমিকম্প অনুভূত হতে পারে।
পৃথিবীর অভ্যন্তরে তাপের চলন প্রক্রিয়া গতিশীল থাকে। পৃথিবীর এমন চলনের প্রভাবে মহাদেশীয় প্লেটগুলো একটু একটু করে বিচ্যুত হয়। পৃথিবীর তরলিত অভ্যন্তর ভাগের চলনের সময় প্রচুর শক্তি জমা হয়। মহাদেশগুলোর বিচ্যুতির সময় মাঝে মাঝে এই শক্তিগুলো অবমুক্ত হয়ে যায়। শক্তির মাত্রা এতই বেশি থাকে যে, তারা শক ওয়েভ তৈরি করে সামনের দিকে এগিয়ে চলে। এ ধরনের শক ওয়েভের মাধ্যম প্রচণ্ডভাবে প্রকম্পিত হয়।
শক ওয়েভ একধরনের বিশেষ কম্পন। সাধারণ কোনো কম্পন বা তরঙ্গের দ্বারা তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না। তবে তরঙ্গের শক্তির পরিমাণ যদি খুব বেশি হয়ে যায়, তাহলে তরঙ্গটি এগিয়ে যাবার সাথে সাথে মাধ্যমকেও কাঁপিয়ে যায়। পৃথিবীর প্লেটগুলোর চলনেও মাঝে মাঝে এ রকম শক ওয়েভ অবমুক্ত হয় এবং ওয়েভ বা তরঙ্গ চলার পথে ভূমিকেও কাঁপিয়ে নিয়ে যায়। এভাবেও ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।
ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য যে বিশেষ যন্ত্র ব্যবহৃত হয়, তার নাম রিখটার স্কেল। রিখটার স্কেলে এককের সীমা ১ থেকে ১০ পর্যন্ত। এই স্কেলে মাত্রা ৫-এর বেশি হওয়া মানেই ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা। ভূমিকম্প এক ডিগ্রি বৃদ্ধি পেলে এর মাত্রা ১০ থেকে ৩২ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৫-৫.৯৯ মাঝারি, ৬-৬.৯৯ তীব্র, ৭-৭.৯৯ ভয়াবহ এবং ৮-এর ওপর অত্যন্ত ভয়াবহ। ৮-এর ভূমিকম্পকে শক্তিশালী এবং সক্ষম বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশে সর্বশেষ ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। ভূমিকম্প কতটা গুরুতর ক্ষতি করবে সেটা নির্ভর করে এর গভীরতার ওপর।
আরও পড়ুন...