ভুল থেকে ফুল
হাদীসের আলো বিলাল হোসাইন নূরী জানুয়ারি ২০২৬
বিকেলের নরম রোদ উঠোনের ওপর ছড়িয়ে আছে মসলিন শাড়ির মতো। আসর নামাজ আদায় করে এসেই জাওয়াদ বলল-ভাইয়া, আজ খেলবে না? জুবায়ের বলল-কেন নয়? চলো। শুরুটা ভালোই ছিল। ওদের বাঁধভাঙা উল্লাসে মুখর হয়ে উঠেছিল সারাবাড়ি।
কিন্তু হঠাৎ করেই কী হয়ে গেল!
তুমুল ঝগড়া। কেউ কাউকে একচুলও ছাড় দিচ্ছে না। কথা কাটাকাটি চলছে তো চলছেই। এবং দুজনই সীমা ছাড়িয়ে চলে গেছে বহুদূর।
বাবা ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। বললেন-তোমাদের কী হয়েছে বলো তো। দুজনই একে অপরকে দোষ দিলো। বাবা বললেন-তোমরা দুজনই ভুল করেছ। একজন আরেকজনকে অপমান করে কথা বলেছ। আবার কেউ-ই নিজের দোষটা স্বীকার করছ না। একটা গল্প শোনো। দেখো-কীভাবে নিজের অপরাধবোধ জাগাতে হয়।
সাহাবী রাবিয়াহ বিন কা‘ব আল-আসলামি (রা) বলেন-আমি রাসূল (সা)-এর খেদমত করতাম। তিনি আমাকে এবং আবু বকর (রা)-কে এক টুকরো করে জমি দিলেন। একটি খেজুরগাছের সীমানা নিয়ে আমাদের মধ্যে মতভেদ হলো। আবু বকর (রা) বললেন-‘এটা আমার সীমানায়।’ আমিও বললাম-‘আমার সীমানায়।’ এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলো। আবু বকর (রা) এমন একটি কথা বলে ফেললেন, যা আমার পছন্দ হলো না। কিন্তু সাথে সাথেই তিনি অনুতপ্ত হলেন। বললেন-রাবিয়াহ! তুমি আমাকে একই রকম কথা বলে দাও, যাতে হিসাব সমান হয়ে যায়।
আমি বললাম-‘আমি তা করব না।’ তিনি বললেন-‘তোমাকে করতেই হবে। তা না হলে আমি রাসূল (সা)-এর নিকট তোমার বিচার চাইব।’ আমি বললাম-‘তবুও আমি করব না।’
আবু বকর (রা) রাসূল (সা)-এর কাছে রওনা হলেন। আমি তাঁর পিছু নিলাম। তিনি ঘটনাটি ঠিক যেমন ঘটেছিল, তেমনই বললেন। রাসূল (সা) আমার দিকে মাথা তুলে তাকালেন এবং বললেন-‘রাবিয়াহ! সিদ্দীকের সাথে তোমার কী হয়েছে?’ আমি বললাম-ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঘটনা এমন এমন ঘটেছে।
রাসূল (সা) বললেন-‘ঠিক আছে, তুমি তার কথার উত্তর দিয়ো না; বরং বলো-‘হে আবু বকর! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন।’ আমি বললাম-হে আবু বকর! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন। এ কথা শুনে আবু বকর (রা) কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গেলেন। [তাবারানি, আহমদ]
জাওয়াদ তখন বলে উঠল-‘না, আমারই ভুল ছিল।’ জুবায়ের বলল-‘ভুলটা আমারই!’
বাবা বললেন-‘তাহলে তোমরা একই কথা বলো, যা নবীজি রাবিয়াহকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন।’ দুজনই একে অপরকে বলল-‘আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন!’
বাবার চোখে তখন টলমল করছে আনন্দের অশ্রু।
বিলাল হোসাইন নূরী
আরও পড়ুন...