সুন্দরবনে শিকার

তোমাদের গল্প আসমা বিনতে হায়দার মে ২০২৬

সুন্দরবনের পাশের গ্রামে থাকা একদল চোরা শিকারি  মধ্যরাতে বনে ঢুকল। ভোর রাতে তারা গহিন বনে ঢুকে পড়ল। চোরা শিকারিদের একজন বলল, ‘সাবধান! এটা গ্রাম নয় এটা সুন্দরবন, সাবধানে চলাফেরা করতে হবে।’

অন্য একজন শিকারি বলল ‘হ্যাঁ, সাবধান, সুন্দরবনে বাঘ থাকে, কেউ একা একা কোথাও যাবে না।’

এখন ভোর। অনেক প্রাণীর দেখা পাওয়া যাচ্ছে-বানর, হরিণ, বনমোরগ। সাতসকালে তারা গহিন বনে ঢুকে পড়ল। একটি বিশাল বন থেকে পিলে কাঁপানো গর্জন করে বেরিয়ে এলো একটি বাঘিনী, পেটের নিচে একটি বাচ্চা। ঐ বাঘিনীকে দেখে চোরা শিকারির দল ভয়ে শেষ। এখন কী করবে?

গুলি করতে গেলে সর্দার থামিয়ে দিলো। কারণ সাথে ছোট্ট একটি বাচ্চা আছে। বাচ্চাটি দেখতে ভারি সুন্দর, গুলি করবে কী করে? বাধ্য হয়ে চোরা শিকারির দল নৌকা ঘুরিয়ে অন্যদিকে চলে গেল। চলতে চলতে তারা শরণখোলা গিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে পাড়ে উঠল।

পাশের একটি বাগান থেকে মোয়াব মোয়াব ডাক ছেড়ে বেরিয়ে এলো একটি মেছোবিড়াল। মেছোবিড়াল দেখে আবার ভয় পেয়ে গেল চোরা শিকারির দল। তারা মেছোবিড়াল দেখেছে কিন্তু সাদা তো দেখেনি, তাই তারা ভাবল, না জানি কোনো ভূত?

ভূত! ভূত! করে তারা চলে এলো একটি বাগানে। সেই বাগান থেকে বেরিয়ে এলো একটি মা বনবিড়াল। বনবিড়াল দেখে তারা ভয় পেল না। তারা তাড়াতাড়ি গ্রামে পৌঁছল।

সেদিন আর তারা কিছু শিকার করল না। বাড়ি ফিরে গেল। পরদিন সবাই আবার একত্রিত হলো। সর্দার বলল, ‘জানিস, গতকাল বনে র‌্যাব চোরা শিকারি ধরতে অভিযান চালিয়েছিল?’

‘কখন?’ অন্য একজন বলল।

‘সময়টা আমরা চলে আসার পরই।’

এরপর আর কেউ কথা বলল না। একজন গম্ভীরস্বরে বলল, ‘মা বাঘটাকে গুলি করিনি আমরা। ওটা একটি ভালো কাজ ছিল। আর এই ভালো কাজের জন্যই হয়তো আল্লাহ এবার বাঁচিয়ে দিলেন।’

শিকারিরা তাদের ভুল বুঝতে পারল। মসজিদ থেকে আসরের আজাদ শোনা গেল। সর্দারের নেতৃত্বে তারা নামাজে গেল। নামাজ শেষে বেরিয়ে পড়ল। সেদিন থেকে তারা প্রতিজ্ঞা করল-আর কোনো অন্যায় কাজ করবে না।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ