সহজ রোজা
কুরআনের আলো বিলাল হোসাইন নূরী ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রমজানের চাঁদ আকাশে ওঠার আগেই হাসিমুখে সে উঁকি দিয়ে যায় হাবিবদের ঘরে। কয়েকদিন আগ থেকেই সবার মধ্যে সে কি সাজসাজ রব! কী ছোট, কী বড়-সবাই দিন গুনতে থাকে, কখন আসবে রমজান! এ যেন ঈদের আগেই আরেক ঈদ!
হাবিব গত বছর সবগুলো রোজা রেখেছিল। এবারও নিয়ত করেছে, একটি রোজাও ভাঙবে না সে।
ছোট ভাই লাবিব জিদ ধরেছে, এবার সে সব কটা রোজা রাখবেই। তার মনে সাহস আছে। কারণ গত বছর তিন তিনটি রোজা রেখেছিল সে। এবার তো আরেকটু বড় হয়েছে। এবার আর কারো কথাই শোনা যাবে না। মাঝে মাঝে মায়ের সামনে গান গেয়ে বেড়ায়-
ছোটন সোনা জিদ ধরেছে, রাখবে এবার রোজা
রোজা রাখা নয়তো কঠিন, একেবারে সোজা!
নিষেধ করায় মায়ের কাছে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো, গত বছর তিনটি রোজা কেমন করে রেখেছিল?
এখন তো সে অনেক বড়, বইতে পারে বোঝা।
রমজানের নবম দিন।
সাহরির সময় মসজিদ থেকে ভেসে আসছে মাইকের শব্দ। কিন্তু হাবিব তো আজ আর বিছানা ছেড়ে উঠতেই পারছে না। ভীষণ জ্বর। চোখ দুটি ঝাপসা হয়ে আসছে যেন। তবুও সে রোজা রাখবেই! একটি রোজাও যদি বাদ পড়ে, তাহলে সারা বছরই তার মন খারাপ থাকবে।
মা কপালে হাত রাখলেন। বললেন, হতাশ হয়ো না বাবা! কিছু মানুষকে আল্লাহ ছাড় দিয়েছেন। রমজানের পর রোজা রাখলেও তারা সমান সওয়াব পাবে।
তারা কারা? হাবিব চমকে উঠল।
মা ধীরে ধীরে অর্থসহ তিলাওয়াত করলেন-“রমজান মাস! যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে-যা মানুষের জন্য পথনির্দেশ, সঠিক পথের সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। অতএব, তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে, সে যেন এতে রোজা রাখে। আর যে অসুস্থ বা সফরে আছে, সে অন্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, কঠিন করতে চান না। আর (এ বিধান দেওয়া হয়েছে) যেন তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূর্ণ করো এবং তিনি তোমাদের যে পথ দেখিয়েছেন তার জন্য আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো, আর যেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও।” [আল-বাকারাহ : ১৮৫]
হাবিবের ঠোঁটে হাসির রেখা ফুটে উঠল বাঁকা চাঁদের মতোই। বাদ পড়া রোজা সে পরেও রাখতে পারবে, এটা ভাবতেই কী যে ভালো লাগছে তার! মৃদু কণ্ঠে শুধু বারবার বলতে লাগল-আলহামদুলিল্লাহ!
আরও পড়ুন...