সাগর তলে সাবমেরিন

প্রচ্ছদ রচনা আহমেদ বায়েজীদ এপ্রিল ২০২৬

সাবমেরিন!

এই নামটি শুনলেই মনে পড়ে পানির নিচে নিঃশব্দে চলা এক যুদ্ধযানের কথা। আধুনিক সামরিক জগতে সাবমেরিন এক বিরাট বিপ্লব হয়ে এসেছে। পানির নিচ দিয়ে চলা স্বয়ংক্রিয় নৌযান সাবমেরিন। অনেকে বলেন ডুবোজাহাজ। বাইরের দুনিয়ার সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রেখেও এটি অনেক দিন থাকতে পারে সাগরের তলদেশে। পানির নিচে নিঃশব্দে বিচরণ করে শত্রুর ওপর হামলা করার কাজ করে সাবমেরিন। পারমাণবিক মিসাইল, টর্পেডো আর শতাধিক ক্রু নিয়ে এই আন্ডারওয়াটার ভেসেলটি ঘুরে বেড়ায় সমুদ্রের তলদেশে। পানির নিচ থেকেই হামলা করতে পারে জল, স্থল এমনকি আকাশেও।

তবে শুধু সামরিক কাজেই নয়; বেসামরিক কাজেও সাবমেরিনের ব্যবহার রয়েছে। সমুদ্রের তলদেশে গবেষণা, অনুসন্ধান, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র নিয়ে গবেষণা ও ভিডিও ধারণ, অ্যাডভেঞ্চার কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটনের কাজেও সাবমেরিনের ব্যবহার শুরু হয়েছে।

সাবমেরিন অত্যন্ত নিঃশব্দে চলতে সক্ষম একটি যান। এর ইঞ্জিন ও অন্যান্য সিস্টেম খুবই কম শব্দ উৎপন্ন করে, যেন উৎপন্ন শব্দ ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের সেনারা সমুদ্রের তলদেশে (ঝড়হধৎ-ঝড়ঁহফ ঘধারমধঃরড়হ ধহফ জধহমরহম) সাবমেরিনটিকে খুঁজে না পায়। এসব বিষয় মাথায় রেখেই সাবমেরিন তৈরি করা হয়।


সাবমেরিনের ইতিহাস

ষোড়শ শতাব্দীতে এ ধরনের সমুদ্রযানের কথা প্রথম উল্লেখ করেছিলেন ইংরেজ গণিতবিদ উইলিয়াম বর্নি। তিনি এক বইতে সমুদ্রের নিচ দিয়ে চলতে সক্ষম এমন যান তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। অনেক ইতিহাসবিদ বলেন, প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ পানির নিচ দিয়ে চলার স্বপ্ন দেখত। প্রাচীন গ্রিসের যোদ্ধারা গোপন সামরিক মিশনে ডুবুরি ব্যবহার করত বলে জানা যায়।  ১৬২০ সালে প্রথম পানির তলদেশ দিয়ে চলাচল করতে সক্ষম যান আবিষ্কার করেন ডাচ ইঞ্জিনিয়ার ও উদ্ভাবক কর্নেলিস ড্রেবল। ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমসের নৌবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় তিনি বৈঠাচালিত ডুবোযানটি তৈরি করেন। কাঠের কাঠামোর ওপর চামড়া দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছিল। পানির কয়েক মিটার গভীরে চলতে পারতো এই যানটি। এরপর এই ধারণাটি নিয়ে ব্যাপক কাজ শুরু হয় ইঞ্জিনিয়ারদের মাঝে।

আধুনিক সাবমেরিনের ধারণা প্রথম নিয়ে আসে ১৭৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি টর্টেল নামক ডুবোযান। ডিম আকৃতির এই যানটির নকশা করেছিলেন ডেভিড বুশনেল। এটিই প্রথম ডুবোযান হিসেবে পানির নিচে স্বাধীনভাবে চলতে শুরু করে। এরপর রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের ইঞ্জিনিয়াররা সাবমেরিন তৈরিতে দ্রুত কাজ করতে থাকেন।

১৮৬৪ সালে আমেরিকান গৃহযুদ্ধের শেষ দিকে কনফেডারেট নেভির সাবমেরিন এইচএল হানলি প্রথম কোনো শত্রু যান ডুবিয়ে দিতে সক্ষম হয়। অবশ্য সাবমেরিনটিও ডুবে গিয়েছিলে সেই কাজ করতে গিয়ে। গান পাউডার বোঝাই করে বানানো টর্পেডোর বিস্ফোরণের শকওয়েভ সামলাতে পারেনি সেটি। তবে সামরিক কাজে সাবমেরিনের ব্যবহার সফলভাবে করা হয় প্রথম বিশ^যুদ্ধে। জার্মান বাহিনী ও মিত্র শক্তি-উভয় পক্ষ সাবমেরিন ওয়ারফেয়ারে পরস্পরকে টেক্কা দিতে চেষ্টা করে।

এরপর সাবমেরিন ক্রমশ এগিয়েছে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে। যুদ্ধের পাশাপাশি পানির নিচে গবেষণা ও নজরদারি কাজেও সাবমেরিন ব্যবহার নিয়ে কাজ শুরু করেন ইঞ্জিনিয়াররা। ১৯৫৩ সালে পানির নিচ থেকে প্রথমবারের মতো সফলভাবে ক্রুজ মিসাইল উৎক্ষেপণ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন ইউএসএস টুনি। এই সাবমেরিনটিকেই প্রথম পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিনে রূপান্তর করে যুক্তরাষ্ট্র। ৫০-এর দশকের শেষ দিকে ডিজেল ইলেকট্রিক সাবমেরিনের বদলে পারমাণবিক শক্তি চালিত সাবমেরিন সাগরে নামতে শুরু করে। একই সময়ে সমুদ্রের পানি থেকে অক্সিজেন নিঃসরণের প্রযুক্তি আবিষ্কার হয়, যে কারণে সাগরের তলদেশে মাসের পর মাস থাকা সম্ভব হয় সাবমেরিনের পক্ষে।


কীভাবে ডুবে থাকে সাবমেরিন

সাবমেরিন কীভাবে পানির নিচে ডুবে থাকে সেটি একটি রহস্য। অবশ্য ঠিক ডুবে থাকে বললেও ভুল হবে। বলতে হবে, সাবমেরিন পানির নিচে ভেসে চলে। কারণ এটি তো আর পানির নিচে কাদায় গিয়ে পড়ে থাকে না। সারফেস থেকে সুবিধাজনক নিচ দিয়ে ভেসে চলে। এতটা নিঃশব্দে চলে যে, শত্রুর রাডার বা সেন্সরেও এটি ধরা পড়ে না।

১৬২০ সালে কর্নেলিস ড্রেবলের বৈঠাচালিত ডুবোযান আবিষ্কারের শোয়াশো বছর পর ইংল্যান্ডেই প্রথম ব্যালাস্ট ট্যাঙ্ক যুক্ত সাবমেরিন তৈরির ধারণা দেন আরেক ইঞ্জিনিয়ার। এই ব্যালাস্ট ট্যাঙ্কে পানি ও বাতাস ভরে সাবমেরিনকে পানির নিচে ডুবানো কিংবা সারফেসে ওঠানো হয়। পানি ও বাতাসের ভারসাম্য যানটিকে পানির নিচে ডুবে থাকা ও ভেসে থাকায় সাহায্য করে। পানিতে ভেসে থাকার সময় ব্যালাস্ট ট্যাংক বাতাসে ভর্তি থাকে। পানির নিচে যাওয়ার প্রয়োজন হলে ট্যাংকের নিচে থাকা ভাল্ব খুলে দেওয়া হয়। ভাল্বের মধ্য দিয়ে ট্যাংকে পানি প্রবেশ করে। ওপরের দিকে আরেকটি ভাল্ব থাকে, যেটির মাধ্যমে বাতাস বেরিয়ে যায়। এভাবে অতিরিক্ত পানি নিয়ে সাবমেরিনটি ভারী হয়ে ওঠে এবং ডুবে যায়। আর ভেসে ওঠার প্রয়োজন হলে ট্যাংকটি খালি করতে হয়। এ সময় পাম্পের সাহায্যে পানি বের করে দেওয়া হয়।


কীভাবে বাঁচেন ক্রুরা

সাবমেরিনের ধরণ ও আকার অনুযায়ী ক্রু সংখ্যা নির্ভর করে। পারমাণবিক শক্তি চালিত সাবমেরিনে ৮০ থেকে ১২০ জন পর্যন্ত ক্রু থাকে। আর ডিজেল ইলেকট্রিক সাবমেরিনে এই সংখ্যা থাকে ৫০-এর আশপাশে। সাবমেরিনের ক্রুদের বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয় দিনের পর দিন। নিরাপত্তার কারণে এই যানটি রেডিওর সাহায্যে কন্ট্রোল রুমের সাথেও খুব একটা যোগাযোগ করে না। সাবমেরিন চালানো সব সময়ই একটি বিপজ্জনক কাজ হিসেবে পরিচিত। কারণ কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি ছাড়াও যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে পৃথিবীতে বহু সাবমেরিন দুর্ঘটনায় ক্রুদের প্রাণহানী হয়েছে।

সাবমেরিনের ক্রুদের জন্য অক্সিজেন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ পানির নিচে বদ্ধ যানবাহনে বাইরে থেকে অক্সিজেন সরবরাহের কোনো উপায় নেই। প্রথম দিকে সিলিন্ডার ব্যবহার করে অক্সিজেন সরবরাহ করা হতো, যে কারণে অল্প কয়েকদিন পরই সাবমেরিনকে সারফেসে উঠে আসতে হতো; কিন্তু এখন সাগরের পানি থেকে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন সংগ্রহ করে সাবমেরিন। তবে সেখানে কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে রিসাইকেল করার কোনো প্রক্রিয়া নেই। সাবমেরিনে ইলেকট্রোলাইসিস বা তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সাগরের পানি থেকে অক্সিজেনকে আলাদা করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়। তবে এই প্রক্রিয়ায় যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিলে যাতে ক্রুরা বেঁচে ফিরতে পারে সে জন্য বড় আকারের বেশ কিছু অক্সিজেন সিলিন্ডারও রাখা হয়। সাবমেরিনের ভেতরে সাধারণত ভূপৃষ্ঠের চেয়ে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকে, যে কারণে অগ্নিকাণ্ড হলে আগুন দ্রুত ছড়াতে পারে না।

যেহেতু বেঁচে থাকার প্রশ্ন, তাই সাবমেরিনে অক্সিজেন সরবরাহের বিষয়টি অত্যন্ত কঠোরভাবে মনিটরিং করা হয়। প্রতি মুহূর্তে দক্ষ টেকনিশিয়ানরা বিষয়টি তদারকি করেন। ক্রুদের নিঃশ^াসে যে কার্বন-ডাই অক্সাইড নির্গত হয় সেটিও সাবমেরিন থেকে বের করে দেওয়া হয় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে। এজন্য ব্যবহার করা হয় অ্যামাইন নামের এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ। এই রাসায়নিকটি কার্বন-ডাই-অক্সাইড শুষে নিয়ে বাইরে বের করে দেয়। এই রাসায়নিক থেকে হালকা একটি গন্ধ বের হয়, সেটিকে অবশ্য সহ্য করেই থাকতে হয় সাগর তলের নাবিকদের। এ ছাড়া সাবমেরিনে রান্না ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য সাগরের পানিকে লবণমুক্ত করে ব্যবহার করা হয়।


সেইল বা ফিন

সিলিন্ডার আকৃতির এই ডুবোযানের মাঝ বরাবর ওপর দিকে একটি কাঠামো থাকে যেটিকে সেইল অথবা ফিন নামে ডাকা হয়। এই সেইল বা ফিনের মধ্যেই থাকে কমিউনিকেশন ও সেন্সিং ডিভাইস। সাবমেরিন থেকে পানির উপরিভাগ দেখার জন্য এখানে পেরিস্কোপও থাকে।

সাবমেরিনের কন্ট্রোল রুম থেকে বাইরে দেখার জন্য ব্যবহার করা হয় সাউন্ড নেভিগেশন অ্যান্ড রেঞ্জিং সিস্টেম বা সোনার। শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে বাইরের জগতের চিত্র অপারেটরের সামনের মনিটরে তুলে ধরে সোনার সিস্টেম। একই পদ্ধতিতে সাবমেরিন থেকে টার্গেট চিহ্নিত করা হয়। এ ছাড়া পানির উপরিভাগে ভাসমান জাহাজ ও আকাশে থাকা বিমান চিহ্নিত করার জন্য সাবমেরিনে ব্যবহৃত হয় কয়েক ধরনের সেন্সর। আর কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগের জন্য থাকে ভেরি লো ফ্রিকোয়েন্সি বা এক্সট্রিমলি লো ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও। তবে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই রেডিও ব্যবহার করা হয় না। কারণ রেডিও যোগাযোগের ফ্রিকোয়েন্সি শত্রুর রাডারে ধরা পড়ার ভয় থাকে। তাই সামরিক অভিযানে থাকা সাবমেরিন বলতে গেলে দুনিয়া থেকে একপ্রকার বিচ্ছিন্নই থাকে।


নিউক্লিয়ার সাবমেরিন

এখন যুগ নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের। নিউক্লিয়ার সাবমেরিন বলতে বোঝায়, যে সাবমেরিন পারমাণবিক শক্তির সাহায্যে চলে। নিউক্লিয়ার রিয়্যাকটরের মাধ্যমে এই সাবমেরিনগুলোতে শক্তির যোগান দেওয়া হয়। পুরোনো দিনের ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন বদলে এখন উন্নত দেশগুলো দ্রুত পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনের দিকে ঝুঁকছে। ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন একটানা কয়েক সপ্তাহের বেশি পানির নিচে থাকতে পারে না। কারণ ব্যাটারি চার্জ করার জন্য সেটিকে সারফেসে উঠতে হয়। সারফেসে উঠে ডিজেল-চালিত ইঞ্জিন স্টার্ট করে ব্যাটারি চার্জ করা হয়। এই ব্যাটারিগুলোর সাহায্যে চলে ইলেকট্রিক মটর। এই মটরই সাবমেরিনকে নিঃশব্দে পানির নিচে এগিয়ে নেয়। সাবমেরিনটি ডুব দেওয়ার আগে ডিজেল ইঞ্জিন বন্ধ করে রাখা হয়। কারণ এই ইঞ্জিন অনেক শব্দ উৎপন্ন করে। তা ছাড়া ডিজেল ইঞ্জিনের জন্য জ¦ালানি নিতেও ওপরে উঠতে হয় সাবমেরিনকে।

অন্যদিকে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনে জ¦ালানি নেওয়ার ঝামেলা নেই। পারমাণবিক শক্তিকে বারবার রিসাইকেল করে এটি অন্তত ২৫ বছর একটানা চলতে পারে। অবশ্য ক্রুদের জন্য কতদিনের খাদ্যদ্রব্য সাবমেরিনে রয়েছে সেটির ওপর নির্ভর করে এর প্রতিটি মিশনের দৈর্ঘ্য। এ ছাড়া একটানা পানির নিচে থাকতে থাকতে ক্রুদের অবসাদে পেয়ে বসে। সেটি কাটাতেও মাঝে মধ্যে উঠে আসে নিউক্লিয়ার সাবমেরিন। কখনো কখনো ক্রু পরিবর্তনের জন্যও জেটিতে বা জাহাজের গায়ে ভিড়তে হয়।

নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের ভেতরের অন্যসব কাজ-যেমন অক্সিজেন সাপ্লাই দেওয়া, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মিসাইল ছোড়ার জন্য শক্তির জোগানও দেয় এই রিয়্যাকটর। একজন ক্রুকে এই বিষয়টি তদারকি করতে হয়। তবে সাবধানতা হিসেবে অন্তত দশ জনের একটি দক্ষ টিম থাকে প্রতিটি সাবমেরিনে। তবে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিটি নিউক্লিয়ার সাবমেরিনে ডিজেল-ইলেকট্রিক সিস্টেমও রাখা হয়, যাতে কখনো নিউক্লিয়ার রিয়্যাকটর অচল হয়ে গেলে সাবমেরিনটি টিকে থাকতে পারে।


কার কত সাবমেরিন

ছয়টি দেশের কাছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন রয়েছে। এই দেশগুলো হলো-যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন ও ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর রয়েছে ৭১টি সাবমেরিন, যার সবগুলোই পারমাণবিক শক্তিচালিত। রাশিয়ার নিউক্লিয়ার সাবমেরিন আছে ৩৩টি। ব্রিটেনের ১১টি, ফ্রান্সের ১০টি, চীনের ৩টি ও ভারতের ২টি। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, বর্তমানে বিশে^ ৪১টি দেশের নৌবাহিনীর কাছে সামরিক সাবমেরিন রয়েছে। এসবের মাঝে কোনোটি অ্যাটাক সাবমেরিন, কোনোটি নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহকারী।

অ্যাটাক সাবমেরিনে সাধারণত টর্পেডো ও মিসাইল ছোড়ার ব্যবস্থা থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও ক্লাস, রাশিয়ার টাইফুন, ডেলটা ও বোরেই ক্লাস, চীনের টাইপ ০৯৪ সাবমেরিন ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুঁড়তে পারে। ফ্রান্স, ব্রিটেন ও ভারতের সাবমেরিনও ছুঁড়তে পারে ব্যালিস্টিক মিসাইল। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও রাশিয়ার কিছু সাবমেরিনে পারমাণবিক ব্যালিস্টিক মিসাইল মোতায়েন থাকে সব সময়। সমুদ্রের নিচ থেকে আক্রমণ করেই তারা শেষ করে দিতে পারবে শত্রু দেশের কোনো শহর বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

রাশিয়ার গোয়েন্দা সাবমেরিন লোশারিক ৮ হাজার ২০০ ফুট পর্যন্ত পানির নিচে পৌঁছতে পেরেছে এখন পর্যন্ত। তবে বেশিরভাগ সাবমেরিনের পানির গভীরে পৌঁছানোর ক্ষমতা আরও কম হয়। রাশিয়ার টাইফুন ক্লাস ও যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেস ক্লাস সাবমেরিন যেতে পারে ৩ হাজার ফুট গভীরে। বিশে^র বেশির ভাগ সাবমেরিনের গভীরে যাওয়ার ক্ষমতা এক হাজার ফুটের আশপাশে।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ