পড়াশোনার বিজ্ঞান জিরো থেকে হিরো
প্রবন্ধ নিবন্ধ সাইফুল আরেফীন জানুয়ারি ২০২৬
‘পড়ো এবং পড়ো
ভালোর জন্য পড়ো
যে পড়ে সে বড়ো’
মানুষের কাছে আসা মহাগ্রন্থ আল কুরআনের প্রথম বাণীটিই হচ্ছে-পড়ো। সেটাকে ওপরের লিরিক্যাল ফরমেটে এভাবেই কাব্যিক ভাষা দিয়েছেন বরেণ্য কবি মতিউর রহমান মল্লিক। মানুষকে মানুষ হয়ে ওঠার জন্য, বিশেষত সুন্দর একজন পরিশীলিত মানুষ হয়ে উঠতে তাকে অনেক কিছুই জানার ও শেখার এক দীর্ঘ জার্নিতে যুক্ত হতে হয়। অর্জন করে নিতে হয় জীবনজুড়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার নানান রকমের কৌশল ও অভিজ্ঞতা। আর তাই উত্তরাধুনিক এই জেন-জেড সময়ে ট্র্যাডিশনাল সেইয়িং কহড়ষিবফমব রং ঢ়ড়বিৎ-কে বিশেষভাবে বলা হয় চড়বিৎ রং শহড়ষিবফমব.
‘তাই
গড়তে জীবন
লড়তে হবে,
লড়তে হলে
পড়তে হবে’
এটাই পৃথিবীপৃষ্ঠে শাশ্বত। যদিও দুর্ভাগ্যক্রমে গত দেড় দশকে এ দেশকে ডিজিটাল বানানোর নামে শিক্ষা, শিক্ষণ ও শিক্ষায়তনকে বেমালুম ধোঁকা দিয়ে বোকা বানানো হয়েছে। কৌশলে আমাদের পড়ালেখা চুরি করে বিদ্যাবিমুখ ও কূপমণ্ডূক এক তাইরে-নাইরে প্রজন্ম তৈরি করাটাই ছিল অন্ধকারওয়ালাদের আসল লক্ষ্য। ভিনদেশি প্রেসক্রিপশনে অকাট মূর্খতার খাদে ফেলে দিয়ে তেজস্বী তরুণদের ইতিহাসবিস্মৃত নপুংসক শ্রেণি বানাতে সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছিল ‘আওয়ামী জাহেলিয়াত’। সেই দুর্জেয় অন্ধকারের সাথে যুদ্ধ করে জাতিকে আলোর জীবন দিয়ে গেছে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বীর আবু সাঈদ আর তাঁর অগণিত শহীদ সাথীরা। তাঁদের অসামান্য দেশপ্রেম আর অফুরন্ত সাহসের স্ফুলিঙ্গ-আলোয় হাজার বছর ধরে তৈরি হতে থাকবে আমাদের নিজস্ব ‘চির উন্নত মম শির’ শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য ও ইতিহাস। এবং অচিরেই আপন যোগ্যতায় বিভাসিত আমরা মাথা তুলবই বিশ্বের দরবারে।
তবে মুরগির বাচ্চারা জন্ম নিলেই যেমন মুরগি হয়, হাতির বাচ্চারা হাতি, কিন্তু মানুষের বাচ্চাকে মানুষ হয়ে উঠতে হলে তার প্রয়োজন হয় অনেক অনেক কিছু জানার ও শেখার। এই জানাশোনার কাজটি ফরমালি সম্পন্ন হয় বিরতিহীন পড়া এবং শোনার মাধ্যমে। আমাদের ইন্দ্রিয় চোখ ও কান এ দুটো কাজ সুচারুভাবে চালিয়ে নেয় বিনে পয়সায়। তবে আমাদের মধ্যকার অন্ধ ও বধির মানুষেরা বিকল্প পদ্ধতি ব্রেইল ও ইশারা ভাষার মাধ্যমে অদ্ভুতভাবে সেই কাজটি সম্পন্ন করে নেয়। সত্যিকার অর্থে-জ্ঞানার্জন ও পরিবর্তন কারোর সংক্ষিপ্ততার জন্য থেমে থাকে না।
আর শেখাশেখির স্টোর হাউজ মস্তিষ্কই ধরে রাখে আমাদের সকল স্মৃতি। অজ¯্র লেসন মনে রাখতে ব্রেইনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ধীশক্তি বাড়ানোর জন্য গবেষণাভিত্তিক পরামর্শ আমলে নিতে হবে। যেমন-ইবাদত করা, কল্পনা করা, ব্যায়াম করা, ঘুমানো ইত্যাদি। মনে রাখা দরকার, লম্বা ঘুম মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করে দারুণভাবে। প্রাকৃতিক চিকিৎসায় এটাই সহজাত।
গবেষণা আরও নিশ্চিত করে যে, শক্তিশালী ব্রেইনের জন্য ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড তার শীর্ষস্থানীয় বন্ধু। সম্পূরক বা ভিটামিন ওষুধ হিসেবে গ্রহণ না করে কেবল খাবার থেকেও পর্যাপ্ত ওমেগা-৩ পাওয়া যায়।
মেমোরির ক্যাপাসিটি নিয়েও আমাদের কৌতূহল অনেক। মার্কেটে ১ থেকে ১২৮ জিবি বা তারও বেশি জিবির মেমোরি কার্ড-পেনড্রাইভ আছে। কিছু হার্ডডিস্ক-পেনড্রাইভ তো ১০০০-২০০০ গিগাবাইট পর্যন্ত মেমোরি ধারণ করতে পারে। কিন্তু আমরা কি ভেবে দেখেছি আল্লাহ আমাদের ব্রেইনে কী পরিমাণ মেমোরি দিয়েছেন? ব্রেইনের মেমোরি কার্ডে কমপক্ষে ২.৫ পেটাবাইট (১ মিলিয়ন জিবি বা ১০ লাখ গিগাবাইট) ধারণক্ষমতা রয়েছে। এটা ভাবতেই মানুষের ক্ষমতা সম্পর্কে তোমার ধারণা পালটে যাবে নিশ্চিত।
তবে নতুন বিশ্বব্যবস্থায় আমরা নানান অজুহাতে পড়ালেখার আগের ফরমেট থেকে বেরিয়ে এসেছি যার প্রভাব সব জায়গায় দৃশ্যমান। ব্যক্তিগতভাবে প্রফেসর মাকসুদকে জানতাম-সে তার ইউনিভার্সিটি লাইফে শীত গ্রীষ্ম বর্ষায় কোনো একটি ক্লাসও মিস করেননি, বিনিময়ে গোল্ড মেডেলিস্ট হয়েছিলেন। নবীনগরে জন্ম এক রাজনীতি বিজ্ঞানের প্রফেসরের অমূল্য পরামর্শ সবিশেষ কাজে দিয়েছে অনেকের জীবনে-তিনি বলেছিলে, লেসনগুলোকে স্যান্ডউইচ বানিয়ে নাও, ক্লাসের আগে তুমি তোমার মতো পড়বে, এরপর ক্লাসের লেকচার শুনবে, তারপর ফিরে এসে আরেকবার পড়বে। ব্যস, খেলা ফাইনাল। এতে করে তুমি আর কখনোই তা ভুলবে না। জনাব অধ্যাপক এটাকে পাকাপোক্ত পড়াশোনা বলতেন।
কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী-ভোর, সকাল, দুপুর বা সন্ধ্যায় পড়ার অভ্যাস করা ভালো। নচেৎ অসমর্থিত নিয়মকানুনে রাত জেগে জেগে পড়া একসময় মস্তিষ্ককে ঠেলে দিতে পারে বড় বিপর্যয়ের দিকে। প্রতিনিয়ত রাতজাগা মস্তিষ্ক শেষমেশ ভালো কিছু করতে সত্যিই ব্যর্থ।
চোখ বন্ধ করে একবার ভাবো তো
- মানুষের প্রতি মহাগ্রন্থ কুরআনের প্রথম নির্দেশ-পড়ো।
- ”Curse for them whose today isn’t better than yesterday” (Al Hadith)
- একজন সিইও মাসে কমপক্ষে দশটি বই পড়ে থাকেন।
- বিখ্যাত (সফল) সব মানুষেরাই জেগে উঠতেন প্রত্যুষে।
- মানুষের মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা একটি কম্পিউটারের কয়েক লক্ষ গুণ বেশি।
- বিজ্ঞানী এডিসনের মতে-১ ভাগ মেধা আর ৯৯ ভাগ পরিশ্রমের নামই হলো প্রতিভা।
- যাবতীয় টেনশন বা দুঃখ-কষ্ট থেকে নিমেষেই সরিয়ে রাখতে পারে বই পড়ার সময়টুকুন।
- পড়াশোনা বলতে বোঝায়-শুধু ব্যক্তিগত পড়াশোনা। কোচিং, গ্রুপ স্ট্যাডি বা ক্লাসের লেকচার ছাড়াই।
- নোটপত্তর বা কোচিং হয়তো সহায়ক, কিন্তু মূল বই ও ক্লাসই একজন শিক্ষার্থীর আসল সম্পদ।
- আর হ্যাঁ, শুধু ক্লাসের বইয়ের মধ্যেই পৃথিবীর তাবৎ জ্ঞান সংকলিত নয়। পারিপার্শ্বিক সংশ্লিষ্ট জ্ঞানও জরুরি।
- খরগোশ যত দ্রুত গতিসম্পন্নই হোক না কেন, শেষমেশ জিতে যায় কচ্ছপ। কারণ-তার রেগিউলারিটি।
- পড়াশোনা মানেই চোখ আর বইয়ের পাতার অ্যাকশন নয়। আমাদের কান অথবা হাতের আঙুলও পড়াশোনার অনন্য মাধ্যম, যার ব্যবহার অধিকাংশ মানুষই জানে না বা করে না। দেশের একটি জেলার একজন এডিসিকে তার ছেলেবেলা থেকে চিনি যিনি বিশেষ প্রতিবন্ধিত্ব নিয়ে জন্মানোর কারণে চোখে খুব একটা দেখতে পান না। অথচ অনার্স দিয়ে প্রথমবারেই BCS G Admin Cadre জিতে নিলেন। পড়ার কৌশল হিসেবে নিজ ছোট বোনকে দিয়ে বিভিন্ন বিষয় অডিও রেকর্ড বানিয়ে রাখতেন। হাস্যরসিকতায় মি. এডিসি প্রায়ই বলে থাকেন-আমি তো পড়ে BCS নই, আমি শুনে BCS!
- স্কুলের বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের Basic এ সামান্যতম ফাঁকফোকর রাখলে ওপরের ক্লাসে গিয়ে হা করে বসে থাকা ছাড়া উপায় থাকে না। ফাইনালিBCS, IELTS বা Bank Job-এর প্রস্তুতি ক্লাসে ক্লাস ফোর-ফাইভের লেসনে তাদেরকে ফিরতেই হয়। তা ছাড়া ক্রমাগত একাডেমিক খারাপ রেজাল্টের মূলেই আছে এই ভূত।
- হালে IELTS এ computerized exam চালু হয়েছে। কিন্তু যেহেতু হাতে লিখেই আমাদের দেশে সকল পরীক্ষায় পার হতে হয়, সেহেতু হাতের লেখা সুন্দর হওয়া আবশ্যিক না হলেও তা সোজা লাইনে ওভার রাইটিং ও কাটাকাটি ছাড়াই স্পষ্ট করে লেখা খুব জরুরি। সাইকোলজিস্টদের মতে-খাতার চেহারা মনের চেহারার দর্পণ।
টাইম ম্যানেজমেন্ট
- Time, the ultimate villain, destroys if abused.
- If you fail to plan, you plan to fail.
- সময়ের গণ্ডিতেই বাঁধা আমাদের জীবন। সময় শেষ মানেই আমাদের জীবনের চ্যাপ্টারও ক্লোজ। তাই জীবন মানেই সময়ের সমষ্টি ছাড়া আর কিছুই না।
- নিপাট শত্রুরাও কখনো সখনও তোমাকে ক্ষমা করে দেয়, কিন্তু সময়ই একমাত্র যে কাউকেই এবং কখনোই ক্ষমা করে না। তুমি যখন এই লেখাটি পড়ছ, তখন ঘড়ি বা ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে একবার ভাবতে পারো-এই তারিখ এবং এই সময়টি পৃথিবীতে আর কখনো ফিরে আসবে না।
- নামাজ হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ টাইমার। এসো, কাজ বা পড়াশোনার জন্য দিনটাকে কয়েক ভাগে ভাগ করে ফেলি: ইবঃবিবহ ঋধুৎ ্ ঔঁযৎ, ঔঁযৎ ্ অংৎ, অংৎ ্ গধমৎরন, গধমৎরন ্ ওংযধ এবং ওংযধ ্ ঋধুৎ-এইভাবে। তুমি যদি দুই নামাজের মাঝখানের সময়কে কাজ, ঘুম, ব্যায়াম বা পড়ার জন্য টার্গেট করো, তাহলে নামাজ এবং কাজ কোনোটাই মিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। সত্যি বলতে কি-নামাজ পবিত্রতা ও প্রশান্তির পাশাপাশি তোমার একঘেয়ে চিন্তা বা কাজে খানিক বিরতি বা ফবপবহঃৎধষরুধঃরড়হ-এর মাধ্যমে নতুন গতি আনবে। শরীর বিজ্ঞান এটাকে দারুণভাবে সমর্থন করে।
- যত যাই বাহাদুরি থাকুক না কেন, শেখার কাজে সময়টা না দিলেই নয়। সময়দানের বিকল্প কোনো কিছু আজও তৈরি হয়নি।
- সময় কাজে লাগাতে কেউ কেউ প্রতি ঘণ্টায় মোবাইলে মিষ্টি অ্যালার্ম সেট করে রাখে, বেজে উঠতেই নিঃশব্দে জেনে যায়-আরও একটি ঘণ্টা পার হলো। কেউবা দিনের যাবতীয় কাজ আগের দিন মুঠোফোনে বা বুকপকেটের ছোট্ট চিরকুটে লিখে রাখে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে দেখে নেয়-কী কী শেষ হলো, আর কী কী বাকি। ঐদিনের সফলতার জন্য ঐ চিরকুটখানি তাদের দায়িত্বশীল বিগ বস বা গাইড হিসেবে কাজ করে। এই পন্থায় খুব ব্যস্ত মানুষেরাও হাসতে হাসতে অনেকগুলো কাজ সেরে ফেলে, ক্লান্তি বা পেরেশানি ছাড়াই। তুমিও ট্রাই করো। আজকেই।
সফলতার জন্য মাত্র দুটি কাজ
- সর্বৈবভাবে চেষ্টা (Effort) করা। মানে সব দিক থেকে মাত্র ১০০% চেষ্টা করা।
- অধৈর্য না হয়ে আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ ভরসা করে চেষ্টাটুকু বারবার করা। সত্যি বলতে কি-এ ছাড়া ছাত্র তথা মানুষের আর বিশেষ কোনো কাজও নেই।
ব্যর্থতার নিকেশ
- আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো হাল ছেড়ে দেওয়া।
- কপালের দোষ দিয়ে পাশকেটে যাওয়া। ‘আমি ঠিকই ওটা পারতাম, আমার ওটা থাকলে এটা পারতাম’-ইত্যাদি বলা।
- শর্ট টাইম এবং লং টাইমের প্ল্যান না করা।
- দিন চলে যায়, কিন্তু দিনশেষে আত্মসমালোচনা বা নিজ কাজের হিসেব না নেওয়া।
- Time is the ultimate villain-কারো জন্য সে বসে থাকে না। আমরা অনেকেই সময়ের কাজ সময়ে করতে না পেরে ব্যর্থ হই। অথচ গ্রীষ্মের রাতে কদম ফোটে না।
মা-বাবারা এভাবে ভাবতে ও বলতে পারেন
- তোমাকে ক্লাসে ফার্স্ট হতে হবে না; বরং বইয়ের ফ্রন্ট থেকে ব্যাক কাভার পর্যন্ত সবটুকুই তোমাকে জানা উচিত। এটা তোমার বই।
- কারো সাথে তোমার কোনো প্রতিযোগিতা নেই। তোমার প্রতিযোগী তুমি।
- ঘণ্টা ধরে পড়তেই হবে-তা না। পড়া শেষ, তো খেলতে যাও।
- শুধু স্মার্টরাই আজকের কাজ আজকেই শেষ করে। কালকের জন্য ফেলে রাখা মানেই গাধার পিঠে ভার বাড়ানো।
- জীবনে যারা বহুদূর যাবে, তারাই শুধু প্ল্যান (লিখে) করবে। অন্যদের তা না করলেও চলবে। ইংরেজি প্রবাদে রয়েছে-Well begun is half done অথবা কবিতায়-Without a plan, a man is not a man.
- যে পড়ালেখা করে না-তাকে ‘মেধাবী কিন্তু পড়ে না, পড়লে অনেক কিছু করতো’ ইত্যাদি কথা নিঃসন্দেহে তাকে আরেকটু পিছিয়ে দেবে। আসলে যে পড়ে, সেই মেধাবী।
শিক্ষকদের ভূমিকা অনেক বড়ো
কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকদেরকে পূজনীয় দেবদূত জ্ঞান করে, যা কিনা বাবা-মায়ের চাইতেও অনেকাংশে বেশি। খারাপ একাডেমিক সংস্কৃতির প্রভাবে সবখানেই নেমেছে মূল্যবোধের ভয়ংকর ধস। জাতির শেষ রক্ষাকল্পে তাই সবকটি জায়গা থেকে শুরু করতে হবে এগিয়ে যাবার আন্দোলন। ভালো শিক্ষক তৈরি ছাড়া ভালো প্রজন্ম তৈরি অসম্ভব।
পড়া মনে রাখার কিছু কৌশল
তোমার নিজের কৌশলই কিন্তু তোমার জন্য সবচেয়ে কার্যকর। তবু অনেক কাঠিন্যকে সহজ করেছে এইসব ফরমুলা।
অ্যাকটিভ রিকল : চোখ দিয়ে পড়লে আমরা ৩০%-এর মতো মনে রাখতে পারি। কিন্তু পাঠ শেষে বই বন্ধ করে একবার মনে করার চেষ্টা করলেই তা ৭০-৮০% হয়ে গেঁথে যায় মনে।
রিপিটিশন : একবার পড়েই বুঝে গেছি-এরকম বাহাদুরি মার্কা কথা শুনে মস্তিষ্ক নিজেই হেসে ফেলে। মহানবী (সা) গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো তিনবার করে বলতেন। তাই নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে তোমার পড়া রিপিট করো-বলো, পড়ো, শোনো বা শোনাও।
স্কেচ-ছক-রেখাচিত্র : যেকোনো বিষয় পড়ার সময় বইয়ের পাশে একটা স্বাস্থ্যবান খাতা রেখে পড়তে পড়তে তাতে আঁকিবুঁকি বা চার্ট, ম্যাপ দিয়ে ছোট্ট ছবি করে ফেলো। হ্যাঁ, মস্তিষ্ক ভীষণ ভিজুয়্যাল পছন্দ করে। একটু কালার করতেও পারো যেন চোখ বন্ধ করলেই তা মনের ক্যানভাসে ভেসে ওঠে। পাশাপাশি, বইয়ের পাতায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট-লাইনে পেন্সিল-হাইলাইটার দিয়ে দাগিয়ে রাখতে পারো।
থ্রু টিচিং : শিখে শেখানো মনে রাখার সবচেয়ে কার্যকর কৌশল। পড়া বা লেকচার শোনার পর গ্রুপের বন্ধুদের মাঝে তা আলাপ করো বা শিক্ষকের মতো করেই পয়েন্ট নোট করে প্র্যাকটিস করতে পারো।
ইংরেজির নতুন শব্দ বা নিয়মের ক্ষেত্রে মনে রাখার জন্য সেটা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাপ্লাই করে দাও বলা বা লেখার যেকোনো ফরমেটে।
শর্টহ্যান্ড কবিতা বানানো : অনেক লম্বা পড়া যখন মনে রাখতে হয়, তখন খেই না হারিয়ে সেগুলোকে পয়েন্টে-পর্বে ভাগ করে আলাদা আলাদা টাইটেল দাও। তারপর টাইটেলের অদ্যাক্ষরগুলো নিয়ে একটা হিব্রু ল্যাঙ্গুয়েজ মার্কা কবিতা বানিয়ে নাও (যেমন : বাএলাজাপু বিনাবিকাভা/ BBSTIV TJUKELA)। ব্যস, শুধু ঐ কিম্ভূত কবিতাটুকু মনে থাকলেই দু-দশ পাতা লেখা তোমার জন্য অনেক সহজ হবে।
সব মিলিয়ে, পড়াশোনা এককথায় সাধনা। এলেবেলে বা বেঞ্চ পাশ করে লেখাপড়া করা খুব অন্যায়। মনোযোগ ঠিক করে নিয়মিত শেখার কাজটি না করলে তা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ কারোরই কাজে আসে না। জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদই তো পড়াশোনা যা কিনা মানুষকে Burden-এর বদলে Asset বানায়। ‘ধ্বংস তার জন্য, যার আজকের দিনটা গতকালের চেয়ে উত্তম হলো না’-এই অসম্ভব শক্তিশালী হাদিসটি আমরা যত্ন করে মনে রাখব যা আমাদের কোনো দিনই থামতে দেবে না।
আরও পড়ুন...