নবীজি যখন ঘরে

হাদীসের আলো বিলাল হোসাইন নূরী আগস্ট ২০২৬

জুমাবার সারাটা দিনই অন্যরকম সুন্দর। ঝরঝরে। সবাই বাসায় থাকে। পড়ালেখারও চাপ নেই। আজান হলেই বাবার সাথে মসজিদে যাওয়া, সামনের কাতারে বসার প্রতিযোগিতা-সবই ভালো লাগে রাফির কাছে। আর বিকেলের শীতল সময়ে মা-বাবা, ভাই-বোনের মিলনমেলায় জমে ওঠে ভালো লাগার কত গল্প। মাঝেমধ্যে সে মজলিসে এসে যোগ দেন দাদা-দাদিও। ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপেও ছড়িয়ে পড়ে সেই সুমধুর অনুভূতির ছোঁয়া।

সব সময়ের মতো আজও জুমার জন্য তৈরি রাফি। বাবার কাছে এসে দেখল, বাবা নিজের জামার ছেঁড়া একটি বোতাম নিজেই সেলাই করছেন। এ দৃশ্য দেখে রাফি তো হেসেই শেষ। বলল-তুমি সেলাইও করতে জানো নাকি, বাবা? মাকে দিলেই তো হতো।

বাবা হেসে বললেন-সব কাজ কি শুধু মায়ের?

রাফি একটু লজ্জা পেল।

বাবা আবার বললেন-জানো, নবীজি (সা) ঘরে কী করতেন? আয়েশা (রা) বলেছেন-তিনি নিজের কাপড় সেলাই করতেন, নিজের জুতা মেরামত করতেন। ঘরের কাজে পরিবারের সদস্যদের সাহায্য করতেন। আর নামাজের সময় হলে বেরিয়ে যেতেন। [মুসনাদ আহমদ, বুখারি]

রাফি অবাক হয়ে বলল-আল্লাহর রাসূল এসব কাজও করতেন?

-হ্যাঁ। অথচ তিনি ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মানুষ। তিনি কখনো ভাবেননি, ঘরের কাজ করলে সম্মান কমে যাবে; বরং তিনি শিখিয়েছেন, পরিবারের পাশে দাঁড়ানোও ইবাদত। শিখিয়েছেন-মাথার ওপর যত বড় দায়িত্বই থাকুক না কেন,পাশাপাশি পরিবার-পরিজনকেও সময় দিতে হবে। এমনকি আয়েশা (রা)-এর সাথে তিনি দৌড়ের প্রতিযোগিতাও করেছিলেন! 

রাফি বলল-সুবহানাল্লাহ!

এদিকে রান্নাঘর থেকে থালাবাসনের শব্দ ভেসে আসছে। মা একা ব্যস্ত। রাফি ধীরে ধীরে সেদিকে গেল। বলল-মা, আমাকেও কিছু কাজ দাও! মা অবাক হয়ে বললেন-তুমি? রাফি বলল-হ্যাঁ। আমি তোমার কাজে সহযোগিতা করতে চাই। মা হেসে বললেন-এখন মসজিদে যাও। পরে দেখা যাবে।

সেদিন বিকেলেই রাফি বোনের বই-খাতা গুছিয়ে দিয়েছে। ঠিক করে নিয়েছে নিজের বিছানাও। রাতে খেতে বসে মা বললেন-আজ আমাদের ঘরে একজন নতুন সহকারী এসেছে মনে হচ্ছে!

সবাই হেসে উঠল। বাবা তখন দুপুরের ঘটনা খুলে বললেন।

রাফি লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করল।

বাবা বললেন-দেখেছ? নবীজি আমাদের কত কিছু শিখিয়েছেন? চলো, এখন থেকে আমরা সবাই ঘরের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করব। 

বিলাল হোসাইন নূরী

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ