লাল জুলাইয়ের অমরগাঁথা
আমাদের কথা কিশোরকণ্ঠ ডেস্ক জুলাই ২০২৬
সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আসসালামু আলাইকুম।
দেখতে দেখতে পার হয়ে গেল লাল জুলাইয়ের দুইটি বছর!
চব্বিশের লাল জুলাইয়ের কথা সবার মনে আছে তো? কী এক ভয়ঙ্কর বিভীষিকাময় ছিল সেই দিনগুলি!
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এ দেশের স্কুল-কলেজ-মাদরাসা-ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীরা। মিছিলের পর মিছিল। প্রতিবাদ-প্রতিরোধের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে।
পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগসহ স্বৈরাচারের যত সশস্ত্র বাহিনী ছিল, সবাই আক্রমণ চালিয়েছিল বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের ওপর। কিন্তু কোনোভাবেই দমন করতে পারেনি তাদের। অত্যাচারের সকল প্রকারের সীমা ছাড়িয়ে তারা চেষ্টা করেছিল বিক্ষুব্ধ ছাত্রসমাজকে থামাতে। অনেক ষড়যন্ত্রও করেছিল। কিন্তু তাদের সকল ষড়যন্ত্র ও অত্যাচারকে উপেক্ষা করে ছাত্রসমাজ এগিয়ে চলেছিল দুর্বার গতিতে।
সাধারণ জনগণ ছাত্রদের সাথে শামিল হয়ে যায় সরকার উৎখাতের এই আন্দোলনে। তীব্র থেকে তীব্রতর হয় আন্দোলন। কত রক্ত, কত ত্যাগ, কত কুরবানি, কত জীবনের বিনিময়ে, অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনের মাধ্যমে অবশেষে খুনি স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়। ছত্রিশে জুলাই প্রায় দুই দশকের স্বৈরাচারের দুঃশাসনের কবল থেকে মুক্ত হয় বাংলাদেশ।
লাল চব্বিশের সেইসব দৃশ্য চোখের সামনে এখনো ভাসছে। ইচ্ছে করলেও কেউ ভুলতে পারছে না সেসব উত্তাল সময়ের কথা।
হ্যাঁ, এভাবেই লাল চব্বিশ ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবে যুগ থেকে যুগান্তর।
এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, আল্লাহ তাঁদের কবুল করুন। যারা আহত হয়েছেন, আল্লাহ তাদের সুস্থতা দান করুন। আর যারা গাজী হয়ে ফিরে এসেছেন, আল্লাহ তাদের নেক হায়াত এবং উত্তম প্রতিদান দিন।
অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে পাওয়া লাল চব্বিশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা অমর হোক। পূর্ণ হোক লাল চব্বিশের সার্বিক লক্ষ্য ও স্বপ্ন।
আজ এ পর্যন্তই।
আল্লাহ হাফিজ।
আরও পড়ুন...