কুরবানির কথা
কুরআনের আলো বিলাল হোসাইন নূরী মে ২০২৬
বাবার সাথে কুরবানির হাটে যাওয়ার ইচ্ছে বহুদিনের। প্রতিবারই বাবা বলেন-আরেকটু বড় হও, তারপর না হয় যেয়ো। এ বছর বাবা নিজেই বললেন-চলো, আজ আমরা কুরবানির গরু কিনতে যাব। জিসান আনন্দ প্রকাশের ভাষাই যেন খুঁজে পাচ্ছিল না। বারবার বলতে লাগল-সত্যি বাবা?
বাবা মুচকি হেসে বললেন-সত্যি!
এক দৌড়ে সে মায়ের কাছে গিয়ে বলল-মা! হাটে যাচ্ছি বাবার সাথে।
মা বললেন-ফি আমানিল্লাহ! সাবধানে যেয়ো।
হাটে গিয়ে জিসান যেন অন্য এক জগতে ঢুকে পড়ল। চারদিকে নানা ধরনের, নানা রঙের পশু। অসংখ্য মানুষের ভিড়। কেউ দেখছে, কেউ দরদাম করছে। সবকিছু তার কাছে নতুন আর রোমাঞ্চকর। অনেক ঘুরেফিরে তারা একটি গরু কিনল। বড়, লাল রঙের। দেখতে ভীষণ সুন্দর। গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পর খুশিতে জিসানের পা যেন মাটিতে পড়ছে না। সে বারবার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়, খাবার দেয়।
হঠাৎ তার মাথায় একটা ভাবনা এলো। এ-বাড়ি, সে-বাড়ি ঘুরে ঘুরে সে দেখতে লাগল কারা কারা গরু কিনেছে। কেমন গরু কিনেছে।
ফিরে এসে জিসান তার মাকে বলল-মা, আমাদের গরুটাই সবচেয়ে বড়। সবচেয়ে সুন্দর। আহা! কী যে খুশি লাগছে মা! তোমাকে বোঝাতেই পারব না। এ এলাকায় আমরাই এবার সেরা!
মা বললেন-এ কথা আর কাউকে বলেছ?
জিসান বলল-না। এখনও বলিনি। তবে বন্ধুদের বলব। সত্যি, আমার খুব গর্ব হচ্ছে মা!
মা বললেন-আসতাগফিরুল্লাহ! সাবধান, এ ধরনের কথা কাউকেই বলবে না। তোমার বাবা যদি জানতে পারে, ভীষণ রাগ করবে। কারণ এগুলো বলার বিষয় নয়। তুমি কি জানো কুরবানি কেন দেওয়া হয়? কুরবানির আসল উদ্দেশ্য পশুর আকার বা দামের মধ্যে নয়। আল্লাহ বলেন-“এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে কখনোই পৌঁছে না বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই তিনি এগুলোকে তোমাদের অধীন করেছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো এজন্য যে, তিনি তোমাদের হেদায়াত দিয়েছেন। আর [হে রাসূল] আপনি সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ দিন।” [সূরা হাজ্জ : ৩৭]
জিসান চুপচাপ শুনতে লাগল।
মা আবার বললেন-আমরা যদি বড় পশু কিনে মানুষকে দেখাই, গর্ব করি-তাহলে সে কুরবানি আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। কুরবানি আমাদের শেখায়-কীভাবে আল্লাহর খুশির জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে হয়।
জিসান তার ভুল বুঝতে পারল। বলল-মা! আমি তো এসব জানতামই না।
মা বললেন-এখন থেকে মনে রেখো, সব ইবাদত হবে আল্লাহর জন্য, মানুষকে দেখানোর জন্য নয়।
আরও পড়ুন...