কিপটে কাকার কৃপণতা
তোমাদের গল্প সাদ মুহাম্মদ উবায়দুল্লাহ মার্চ ২০২৬
গ্রামের সবচেয়ে কিপটে মানুষ ছিলেন হাবুল কাকা। কাকা এতটাই কৃপণ ছিলেন যে, কেউ যদি তার বাড়িতে বেড়াতে যেত, তিনি চা-বিস্কুট দূরে থাক, এক গ্লাস পানিও দিতেন না! এমনকি নিজের ছেলেমেয়েদেরও খুব হিসাব করে খাবার দিতেন। গ্রামের লোকেরা মজা করে বলতো, হাবুল কাকা যদি বাতাসও বিক্রি করতে পারতেন, তাহলে নিঃশ্বাস নিতেও টাকা লাগতো!
একদিন গ্রামের এক চালাক ছেলে রাজু ঠিক করল, সে হাবুল কাকার কৃপণতা পরীক্ষা করবে।
রাজু সকালবেলা কাকার বাড়িতে গিয়ে দরজায় নক করল, ‘কাকা, কাকা! খুব গরম লাগছে, একটু পানি খাওয়াবেন?’
হাবুল কাকা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, ‘বাছা, পানি খেলে বেশি গরম লাগে! বরং একটা তালপাতার পাখা নিয়ে বাতাস কর, ঠাণ্ডা লাগবে।’
রাজু এবার অন্য চাল দিলো, ‘ঠিক আছে কাকা, আমি খুব ক্ষুধার্ত, একটু মুড়ি-চানাচুর দেবেন?’
কাকা কপাল কুঁচকে বললেন, ‘বাছা, ক্ষুধা সহ্য করলেই নাকি পাকস্থলী শক্তিশালী হয়, তুমি তো ছোট মানুষ, শরীর ঠিকঠাক রাখতে বেশি খাওয়া ঠিক না।’
রাজু এবার আরেকটা চাল দিলো, ‘ঠিক আছে কাকা, তাহলে কিছু টাকা দেন, আমি নিজেই কিনে খেয়ে নেবো।’
এবার হাবুল কাকা বিশাল হাসি দিয়ে বললেন, ‘বাহ বাহ! তুমি তো দারুণ বুদ্ধিমান! আমিও ছোটবেলায় ঠিক এমনই ছিলাম। কিন্তু জানো, আমি তখন টাকা চাইলে আমার কাকা কী বলতেন?’
রাজু আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘কী বলতেন?’
হাবুল কাকা গম্ভীর মুখে বললেন, ‘বলতেন, টাকা চাইতে নেই!’
রাজু এবার বলল, ‘ঠিক আছে কাকা, তাহলে আমি একটু ভাত খেয়ে যাই, কিছু দিতে হবে না, তোমাদের যা রান্না হয়েছে, তাই খেয়ে নেবো!’
হাবুল কাকা এবার একটু চিন্তায় পড়ে গেলেন। কিন্তু তিনি সহজে হার মানবেন কেন? তিনি তাড়াতাড়ি বললেন, ‘বাহ বাহ! তুমি তো দেখি বুদ্ধির খেলায় আমাকেই হারিয়ে দিচ্ছ! ঠিক আছে, তোমাকে আমি আজ একটি মজার গল্প বলবো, সেটা শুনলেই তোমার ক্ষুধা ভুলে যাবে!’
রাজু হতভম্ব। খাবারের বদলে গল্প! সে বুঝতে পারলো, কাকার কাছ থেকে কিছু পাওয়া সম্ভব নয়। তখন সে শেষ একটা চালাকি করল, ‘ঠিক আছে কাকা, আপনি গল্প বলুন, আমি খেতে খেতে শুনবো!’
হাবুল কাকা এবার আর না পেরে মনের কষ্টে রান্নাঘর থেকে এক মুঠো মুড়ি এনে দিলেন।
রাজু মুখে মুড়ি দিতে দিতে ভাবলো, ‘উফ! এই কিপটে কাকাকে জিততে দিলে একদিন পুরো গ্রাম না খেয়ে মরবে!’
আরও পড়ুন...