জুলাই স্মৃতি

জুলাই-নিবন্ধ উম্মে হানি বিনতে বোরহান আগস্ট ২০২৬

পাঠকের কলম থেকে

চারিদিকে কারফিউ চলছে। ঢাকার আকাশে বাতাসে ঠুসঠাস গুলির শব্দ। এর মধ্যে বাবার অফিস চলছে এগারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত। আমার স্কুল ছুটি। বাবাও বাসাতে নেই, আমি স্কুলেও যেতে পারছি না- বাসাটা আমার কাছে জেলখানা মনে হচ্ছে। ছাত্ররা আন্দোলন করছে। অনেকে শহীদ হয়েছেন। চব্বিশের এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে? আমি ছাদেও যেতে পারছি না। খবরে দেখেছি, ছাদে খেলতে গিয়ে আমার মতো বাচ্চারা গুলি লেগে মারা গেছে। জানালা দিয়ে আকাশে র‌্যাবের অনেক হেলিকপ্টার দেখেছি। কখনো মিছিল যায় বাসার সামনে দিয়ে।

আব্বুর অফিসে যাওয়া-আসার পথে অনেক ঘটনা ঘটে। শুনে আমি অবাক হই, ভয়ও পাই! ৩১ জুলাই আব্বু অফিসে গিয়ে সেদিন আর বাসায় ফিরতে পারেননি। চারিদিকে থমথমে পরিবেশ। আব্বু অফিসে যাওয়ার পথে প্রতিটি মোড়ে মোড়ে পুলিশে চেক করছে। যাদের কাছে অফিসের কার্ড ছিল তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছে। আর যাদের কাছে স্টুডেন্ট কার্ড ছিল তাদের ধরে নিয়ে গেছে। আব্বু অফিসে গিয়ে আমাদের ফোনে বলেছেন এসব ঘটনা।

আব্বু অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে কঠিন সমস্যার মুখোমুখি হন। আনুমানিক বিকেল চারটা। মতিঝিল থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত যেখানে ছাত্রদের মিছিল যাচ্ছে, সেখানে পুলিশ কি জানি একটা স্প্রে করেছে। চারিদিকে ধোঁয়া আর ধোঁয়াÑকিছুই দেখা যাচ্ছে না। ছাত্রদের ওপর সরাসরি গুলি করেছে পুলিশ। এসব দেখে আব্বু বাসার দিকে আসতেই পারেননি। বাধ্য হয়ে ওয়ারীতে ফুপুর বাসায় চলে যান। পরের দিন বাসায় এসেছিলেন অনেক কষ্টে।

৩ আগস্ট আব্বুর আবার অফিসে যেতে হবে শুনে আমি ভয়ে কান্না করে দিয়েছি। আম্মু আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন- হে আল্লাহ! আপনি আমাদের দেশটাকে রক্ষা করুন। আব্বু ঐদিন আবারও আজিমপুরে আটকা পড়ে গিয়েছিলেন। পুলিশ কাউকে এদিকেও আসতে দিচ্ছে না আবার ওই দিকেও যেতে দিচ্ছে না। ঐদিন আব্বুর ভাষ্যমতে, আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডের চার রাস্তার মোড়ে ইডেন কলেজ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র-ছাত্রী আন্দোলন করছিল। তাদেরকে পুলিশ লাঠিপেটা করছে, যাকে পাচ্ছে তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আমার আব্বু ঐদিন আবারও ফুপুর বাসায় চলে যান।

৩৬ জুলাই স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়েছে। আমরা আনন্দিত হয়েছি। আমার আব্বু আজকে  বাসায় ফিরবে। আমি খুবই খুশি। খুনি স্বৈরাচার পালিয়েছে সেই আনন্দে। বাসার সামনে মিষ্টি বিতরণ করছে। আমি অপেক্ষা করছি আব্বু ফিরলে আমরা বীর ছাত্র-জনতার বিজয় দেখতে যাব। এই ছিল আমার জুলাই স্মৃতি। আমি এখনো মাঝে মাঝে আমার ডায়েরি বের করে আমার লেখাগুলো পড়ি। কারণ আমি জুলাইকে ভুলতে চাই না।

শিক্ষার্র্থী : বিজিবি মডেল সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢাকা

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ