গ্রহাণুর আঘাত ২ ০ ৩ ২

সাইন্স ফিকশন সরকার হুমায়ুন মে ২০২৫

গেল বছর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা একটি গ্রহাণুর সন্ধান পান। গ্রহাণুটির নাম ‘২০২৪ ওয়াই আর ফোর’। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী ২০৩২ সালের ২২ ডিসেম্বর এটি পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে। আমাদের সৌরজগতের গ্রহাণুবেল্টে যেমনি রয়েছে বিশাল আকৃতির গ্রহাণু, তেমনি রয়েছে ছোট-বড়ো আকারের লক্ষ লক্ষ উল্কাপিণ্ড। তাছাড়াও  আছে কোটি কোটি পাথর খণ্ড। পৃথিবীর ওপর ওই সব মহাকাশীয় বস্তু যে-কোনো সময় আছড়ে পড়তে পারে।

গ্রহাণুদের অবস্থান রয়েছে অভ্যন্তরীণ সৌরজগতে। সূর্যের নিকটবর্তী গ্রহ যেমন- বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল এবং গ্রহাণু বেল্ট এই এলাকার অন্তর্ভুক্ত। মঙ্গল গ্রহ ও বৃহস্পতির মধ্যবর্তী স্থানে গ্রহাণু বিরাজিত।

গ্রহাণু বেল্টের বৃহত্তম বস্তু হলো- সেরেস। এটি একটি পাথুরে বস্তু। আকারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা রাজ্যের সাথে তুলনীয়। প্রথম দিকে বিজ্ঞানীরা এই মহাকাশ বস্তুকে খুব একটা গায়ে মাখেনি; কিন্তু এটা যে একদিন তাদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে; মানব সভ্যতা ধ্বংসের কারণ হতে পারে, সেটি সময় গড়ানোর সাথে তারা উপলব্ধি করে। মহাবিপর্যয় আকারে ২০২৯ সালে এই খবর গোটা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। দুনিয়াময় একটা আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বিজ্ঞানীরা নানা হিসাব-নিকাশ করে দেখতে পান; এই  বিপজ্জনক মহাকাশ বস্তুটি আকারে ১৩০ থেকে ৩০০ ফুট লম্বা একটি শিলা। যা পৃথিবীর কোথাও আঘাত করতে পারে। যদি এটি স্থলভাগে আছড়ে পড়ে, তবে গোটা মানবসভ্যতার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। 

দুনিয়া জুড়ে তৎপরতা শুরু হয়। চীন, রাশিয়া, সমস্ত আরব দেশ, জাপান এবং নাসা, ইসার মতো সংস্থাগুলো একযোগে কাজ শুরু করে। তৈরি করা হয় যৌথ প্রজেক্ট আর্মাগেডন, যার মূল লক্ষ্য যে-কোনোভাবে গ্রহাণুটির পথ পরিবর্তন করা।

২০৩১ সালের শুরুতেই বিজ্ঞানীরা ‘কাইনেটিক ইমপ্যাক্টর’ নামে একধরনের মহাকাশযান পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন; যা সরাসরি গ্রহাণুটিকে আঘাত করে তার কক্ষপথ বদলানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু হিসাব অনুযায়ী, এই চেষ্টা হয়তো পুরোপুরি সফল নাও হতে পারে। তাই তারা আরেকটি বিকল্প পরিকল্পনা হাতে নেন নিউক্লিয়ার ডিটোনেশন!

কিন্তু এই পরিকল্পনাও ঝুঁকিপূর্ণ। যদি গ্রহাণুটি আঘাতে ভেঙে কয়েকটি বড়ো টুকরো হয়ে যায়, তবে ক্ষতি আরও মারাত্মক হতে পারে। 

অবশেষে, ২০৩২ সালের আগস্ট মাসে “হেলিওস-৭” নামে একটি মহাকাশযান পাঠানো হয়, যাতে একটি পারমাণবিক ডিভাইস সংযুক্ত ছিল। এর লক্ষ্য ছিল গ্রহাণুটির কাছাকাছি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাকে পৃথিবী থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। 

বিস্ফোরণের ফলে গ্রহাণুটির একটি বড়ো অংশ ভেঙে গেলেও, মূল অংশ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসতে থাকে। বিজ্ঞানীরা হতাশ হয়ে পড়েন। মনে হতে থাকে, এবার হয়তো সর্বনাশ ঠেকানো যাবে না!

২২ ডিসেম্বর, ২০৩২। বিজ্ঞানীদের পূর্ব ঘোষিত নির্ধারিত সময়েই ২০২৪ ওয়াই আর ফোর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। আতঙ্কিত মানুষজন আল্লাহর দরবারে দোয়া করতে থাকে। সারা দুনিয়ায় সমস্ত মসজিদে মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করে। তারা আল্লাহর কাছে এই মহাবিপদ থেকে রক্ষার জন্য মোনাজাত করতে থাকে। কেউ কেউ শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি নেয়।

দুনিয়াবাসী শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। বিজ্ঞানীরা আশা ছেড়ে দেন। এটি কোথায় আছড়ে পড়বে? সাগরে পড়বে না কি স্থলভাগে তা নিশ্চিত নয়। ঠিক তখনই ঘটে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা! পৃথিবীর আকাশজুড়ে জ্বলন্ত আগুনের লাইন দেখা যায়। আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যেন কিয়ামত নেমে আসে। ‘২০২৪ ওয়াই আর ফোর’ প্রবল গতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।

দুনিয়ার সমস্ত মানুষের মুখে হায় আল্লাহ! হায় আল্লাহ! রব ওঠে। মহান আল্লাহর কুদরতে অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়  দুনিয়ার মানুষ এবং জীবজন্তুসমূহ।

বিস্ফোরণের ফলে গ্রহাণুটির গঠন দুর্বল হয়ে গিয়েছিল, ফলে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় এটি প্রচণ্ড ঘর্ষণে প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়! যেটুকু অবশিষ্ট থাকে, তা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদ স্থানে পড়ে, কোনো বড়ো ক্ষয়ক্ষতি না করেই!

এটি প্রশান্ত মহাসাগরের একদম ধারে, একটি নির্জন দ্বীপে আছড়ে পড়ে! দ্বীপটি ছিল জনমানবশূন্য, ফলে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

গ্রহাণুর আঘাতে এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে, কিন্তু যেহেতু এটি সাগরের খুব কাছে পড়ে, বিশাল ঢেউ সৃষ্টি হলেও সেটি বড়ো কোনো সুনামির কারণ হতে পারেনি।

বিজ্ঞানীরা বিস্মিত হন যদি এটি মাত্র কয়েকশো কিলোমিটার এদিক-ওদিক হতো তাহলে তা ঘনবসতিপূর্ণ কোনো শহরে আঘাত হানতে পারতো।

এই ঘটনার পর দুনিয়াবাসী এক নতুন উপলব্ধি লাভ করে। মানুষ উপলব্ধি করে- আল্লাহর শক্তির সামনে তারা কতটা অসহায়! কিন্তু একই সঙ্গে বিজ্ঞান ও ঐক্যের শক্তি দিয়ে আল্লাহর রহমতে তারা বড়ো বিপর্যয় ঠেকাতে পারে।

‘২০২৪ ওয়াই আর ফোর’ আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের ধ্বংস করেনি; বরং আমাদের সতর্ক করে দিয়ে গেল ভবিষ্যতে যেন আমরা এমন বিপদের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত থাকি।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ