গণঅভ্যুথানের ২ বছর
জুলাই-নিবন্ধ জয়নুল আবেদীন আজাদ আগস্ট ২০২৬
বৃক্ষ একদিনেই বৃক্ষ হয়ে যায়নি। একদিনেই সে আমাদের ছায়া দিতে পারেনি। ফুল-ফলও এক দিনের বিষয় নয়। বীজ, অঙ্কুর-এরপর বিকালের দীর্ঘ ধারা। বীজ থেকে বৃক্ষ হওয়ার যে গল্প, সেখানে রয়েছে সংগ্রাম ও ধৈর্যের নানা উদাহরণ। মানবশিশুরও মানব হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে ত্যাগ-তিতিক্ষা, সাধনা ও সংগ্রামের বিচিত্র উদাহরণ। মানব তো প্রথমে শিশু; তারপর কিশোর, তরুণ-অবশেষে পূর্ণাঙ্গ মানুষ। তবে বয়স বাড়লেই সব মানুষ পূর্ণাঙ্গ তথা প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠে না। মানুষ নানাভাবে নিজেকে ছোট ও খণ্ডিত করে ফেলে। এর কারণ, সঠিক জীবনদর্শনের অভাব। অঙ্কের হিসেবে মানুষ কখনো শিশু, কখনো কিশোর, এরপর তারুণ্য ও যৌবনের সিঁড়ি বেয়ে পৌঁছে যায় বার্ধক্যে। বয়সের এই যে বিচিত্র বাঁক, সেখানেও রয়েছে উপলব্ধি করার মতো সৌন্দর্য। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায় কৈশোর ও তারুণ্যের কথা। কিশোর যে কখন তরুণ হয়ে যায়, তা এক রহস্যের ব্যাপার বটে। পার্থক্য নির্ণয় করা আসলেই কঠিন। তাই কিশোরদের নিয়ে, তাদের স্বপ্ন নিয়ে কথা বলাই সহজ।
কিশোর মনে ভাবনা অনেক। তাই তাদের মনে জমা হয় অনেক প্রশ্ন। প্রকৃতি ও আকাশ নিয়ে তারা প্রশ্ন করে। কিশোর প্রশ্ন করে সমাজ এবং রাজনীতি নিয়েও। কিশোর বদ্ধঘরে বন্দি থাকতে চায় না। সমাজ ও রাজনীতির অসংগতি নিয়েও প্রশ্ন করে সে। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিষয়গুলো অবলোকন করেছেন। কিশোরদের আশা-আকাক্সক্ষা ও অভিযাত্রার কথা কাব্য ভাষায় প্রকাশও করেছেন তিনি। যেমন : ‘সংকল্প’ কবিতায় লিখেছেন-
থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে
কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে।
দেশ হতে দেশ দেশান্তরে
ছুটছে তারা কেমন করে,
কিসের নেশায় কেমন করে মরছে যে বীর লাখে লাখে,
কিসের আশায় করছে তারা বরণ মরণ-যন্ত্রণাকে।
কিশোর মনে প্রশ্ন আছে, অভিযাত্রার প্রতিজ্ঞা আছে। তবে এর সাথে যে প্রস্তুতিও প্রয়োজন। প্রস্তুতির অনেক বিষয় রয়েছে, তবে দেশ সম্পর্কে জানাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ভূগোল ও মানচিত্রের পাশাপাশি জানতে হবে দেশের ইতিহাস, ধর্মদর্শন, সংস্কৃতি এবং রাজনীতি সম্পর্কেও। আমাদের দেশে আমরা ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল দেখেছি, তখন কিন্তু আমরা স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পাইনি। পাইনি বৈষম্যমুক্ত সমাজ। তাইতো দেশের অধিকার সচেতন ছাত্র-জনতা নেমে এসেছেন রাজপথে, গড়ে তুলেছেন গণআন্দোলন, যুক্ত হয়েছেন স্বাধীনতা সংগ্রামেও। রক্ত¯œাত রাজপথে আমরা দেখেছি ৫২, ৬৯, ৭১। ১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে প্রতিষ্ঠা করেছি স্বাধীন বাংলাদেশ। তবে স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসটা একরকম নয়। ফ্যাসিবাদী আমলের ১৫ বছরের স্বৈরশাসনে দেশের মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের লক্ষ্যে ছাত্র-জনতা আবার গর্জে ওঠে রাজপথে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসটা বাংলাদেশের ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাস হিসেবে বিবেচিত। অবশ্য এর সাথে আগস্ট মাসের পাঁচটি দিনও যোগ করতে হয়। তাহলে জুলাইয়ের ৩১ দিন ও আগস্টের ৫ দিন যোগ করলে হয় ৩৬ দিন। বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলন জনগণকে সাথে নিয়ে এই ৩৬ দিনে সৃষ্টি করেছে অবাক করা এক গণঅভ্যুত্থান। অবশ্য এর সাথে যুক্ত ছিল গণতন্ত্রমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনও। যার ফলে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হলো। স্বৈরশাসকদের পরিণতি এমনই হয়। প্রশ্ন জাগে, এত স্বল্প সময়ে অর্থাৎ মাত্র ৩৬ দিনে কী করে এমন পরিণতি হলো? বিশ্লেষকরা বলছেন-এর কারণ হলো দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন, ব্যাপক দুর্নীতি এবং শেষের ৩৬ দিনে দমন ও হত্যার মাধ্যমে ‘রেডলাইন ক্রস’।
রেডলাইন ক্রসের বড় চিত্র হলো, নির্বিচারে গুলিবর্ষণ। গুলিতে শুধু শিক্ষার্থীরাই নিহত হননি; নিহত হয়েছেন পথচারী, দোকানদার, হকার, রিকশাচালক, শ্রমিক, দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এমনকি ছাদে কিংবা বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা শিশুরা পর্যন্ত। নির্বিচারে ছররা গুলি করে সাধারণ মানুষের বুক ঝাঁঝরা করা কিংবা চোখ নষ্ট করে দেওয়া ঔপনিবেশিক দখলদার বাহিনীর কাজ হতে পারে, কিন্তু একটি স্বাধীন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এমন কাজ কীভাবে করল? দেশের সংবিধান কিংবা আইন এমন বলপ্রয়োগের অনুমতি দেয়নি। এটি রেডলাইন ক্রসের নির্মম উদাহরণ।
শিশুরা সব দেশেই বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। শিশুর নিরাপত্তা সবার আগে। প্রত্যেক পরিবারে একটি বংশবৃক্ষ থাকে। সেই বৃক্ষের সবচাইতে প্রিয় কুঁড়িটি হলো শিশু। শিশু হাসলে পুরো পরিবার হাসে, শিশু কাঁদলে পুরো পরিবার কাঁদে। সেই শিশুরাই জুলাই হত্যাকাণ্ডে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের মতে জুলাই আন্দোলনে অন্তত ৩২ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। শিশুদের প্রাণহানিতে উদ্বেগ জানিয়ে ইউনিসেফের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক সঞ্জয় উইজেসেকেরা বলেছেন, শিশুদের সবসময় সুরক্ষিত রাখতে হবে। এটা সবার দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, অনেক শিশু আহত হয়েছে এবং অনেককে আটক করা হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে অনেকের। এই মৃত্যু ভয়ানক ক্ষতি। এই ঘটনার নিন্দা জানিছে ইউনিসেফ। ইউনিসেফ তো শিশুদের সুরক্ষার কথা বলল, বলল শিশুদের মৃত্যু এক ভয়ানক ক্ষতি। কিন্তু ফ্যাসিবাদী সরকার কি তা বোঝে বা উপলব্ধি করে? ওই অপশক্তি তো ক্ষমতার মোহে অন্ধ থাকে। অন্ধের বিজয় নেই, আলোর অভাবে তার পরাজয় ঘটে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার মোকাবিলায় পরাজয় ঘটেছে ফ্যাসিবাদী সরকারের। তারা বাধ্য হয়েছে দেশ থেকে পালাতে।
ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলো। এরপর গঠিত হলো ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল-সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন। এই লক্ষ্যের সাথে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো একমত পোষণ করলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কৌশলের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা গেছে নানা বিতর্ক। এসবের পরও সংস্কারের ক্ষেত্রে বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। কাক্সিক্ষত নির্বাচনও হয়েছে। তবে এখন সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী জোটের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিতর্ক ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। এই বিতর্ক সংসদের বাইরে রাজপথেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ‘রকমফের’ বলে একটা কথা আছে। সংস্কারের ক্ষেত্রে এই রকমফের কোনো ভালো লক্ষণ নয়। এ নিয়ে দেশের ছাত্র-জনতার মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা সন্দেহ-সংশয়। ফলে মাঠে-ময়দানে ও ক্যাম্পাসে লক্ষ্য করা যাচ্ছে সরকারবিরোধী নানা বক্তব্য ও স্লোগান। অনেকেই বলছে, সরকারে গেলে প্রতিশ্রুতির কথা আর তেমন মনে থাকে না। তবে সরকারের মন্ত্রীবাহাদুররা বলছেন, জুলাই সনদ তথা সংস্কারের বিষয়গুলো তারা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন।
কথা নয়, ছাত্র-জনতার কাছে বাস্তবায়নের কাজটাই গুরুত্বপূর্ণ। তারা সরকারের কাজকর্ম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কথা কাজে গরমিল দেখলে তারা আবার রাজপথে নেমে আসবেন, এমন আওয়াজও শোনা যাচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আমরা রাজপথে ছাত্র-জনতার পাশে দেখেছি অভিভাবকদের এবং তাদের প্রিয় সন্তান শিশু-কিশোরদেরও। লক্ষণীয় বিষয় হলো, আন্দোলনের সময় কিশোররা যেন তরুণ হয়ে ওঠে। এমন হওয়ারই কথা। তাইতো কবি বলেছেন-
ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা,
ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ,
আধ-মরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।জয়নুল আবেদীন আজাদ
বৃক্ষ একদিনেই বৃক্ষ হয়ে যায়নি। একদিনেই সে আমাদের ছায়া দিতে পারেনি। ফুল-ফলও এক দিনের বিষয় নয়। বীজ, অঙ্কুর-এরপর বিকালের দীর্ঘ ধারা। বীজ থেকে বৃক্ষ হওয়ার যে গল্প, সেখানে রয়েছে সংগ্রাম ও ধৈর্যের নানা উদাহরণ। মানবশিশুরও মানব হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে ত্যাগ-তিতিক্ষা, সাধনা ও সংগ্রামের বিচিত্র উদাহরণ। মানব তো প্রথমে শিশু; তারপর কিশোর, তরুণ-অবশেষে পূর্ণাঙ্গ মানুষ। তবে বয়স বাড়লেই সব মানুষ পূর্ণাঙ্গ তথা প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠে না। মানুষ নানাভাবে নিজেকে ছোট ও খণ্ডিত করে ফেলে। এর কারণ, সঠিক জীবনদর্শনের অভাব। অঙ্কের হিসেবে মানুষ কখনো শিশু, কখনো কিশোর, এরপর তারুণ্য ও যৌবনের সিঁড়ি বেয়ে পৌঁছে যায় বার্ধক্যে। বয়সের এই যে বিচিত্র বাঁক, সেখানেও রয়েছে উপলব্ধি করার মতো সৌন্দর্য। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায় কৈশোর ও তারুণ্যের কথা। কিশোর যে কখন তরুণ হয়ে যায়, তা এক রহস্যের ব্যাপার বটে। পার্থক্য নির্ণয় করা আসলেই কঠিন। তাই কিশোরদের নিয়ে, তাদের স্বপ্ন নিয়ে কথা বলাই সহজ।
কিশোর মনে ভাবনা অনেক। তাই তাদের মনে জমা হয় অনেক প্রশ্ন। প্রকৃতি ও আকাশ নিয়ে তারা প্রশ্ন করে। কিশোর প্রশ্ন করে সমাজ এবং রাজনীতি নিয়েও। কিশোর বদ্ধঘরে বন্দি থাকতে চায় না। সমাজ ও রাজনীতির অসংগতি নিয়েও প্রশ্ন করে সে। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিষয়গুলো অবলোকন করেছেন। কিশোরদের আশা-আকাক্সক্ষা ও অভিযাত্রার কথা কাব্য ভাষায় প্রকাশও করেছেন তিনি। যেমন : ‘সংকল্প’ কবিতায় লিখেছেন-
থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে
কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে।
দেশ হতে দেশ দেশান্তরে
ছুটছে তারা কেমন করে,
কিসের নেশায় কেমন করে মরছে যে বীর লাখে লাখে,
কিসের আশায় করছে তারা বরণ মরণ-যন্ত্রণাকে।
কিশোর মনে প্রশ্ন আছে, অভিযাত্রার প্রতিজ্ঞা আছে। তবে এর সাথে যে প্রস্তুতিও প্রয়োজন। প্রস্তুতির অনেক বিষয় রয়েছে, তবে দেশ সম্পর্কে জানাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ভূগোল ও মানচিত্রের পাশাপাশি জানতে হবে দেশের ইতিহাস, ধর্মদর্শন, সংস্কৃতি এবং রাজনীতি সম্পর্কেও। আমাদের দেশে আমরা ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল দেখেছি, তখন কিন্তু আমরা স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পাইনি। পাইনি বৈষম্যমুক্ত সমাজ। তাইতো দেশের অধিকার সচেতন ছাত্র-জনতা নেমে এসেছেন রাজপথে, গড়ে তুলেছেন গণআন্দোলন, যুক্ত হয়েছেন স্বাধীনতা সংগ্রামেও। রক্ত¯œাত রাজপথে আমরা দেখেছি ৫২, ৬৯, ৭১। ১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে প্রতিষ্ঠা করেছি স্বাধীন বাংলাদেশ। তবে স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসটা একরকম নয়। ফ্যাসিবাদী আমলের ১৫ বছরের স্বৈরশাসনে দেশের মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের লক্ষ্যে ছাত্র-জনতা আবার গর্জে ওঠে রাজপথে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসটা বাংলাদেশের ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাস হিসেবে বিবেচিত। অবশ্য এর সাথে আগস্ট মাসের পাঁচটি দিনও যোগ করতে হয়। তাহলে জুলাইয়ের ৩১ দিন ও আগস্টের ৫ দিন যোগ করলে হয় ৩৬ দিন। বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলন জনগণকে সাথে নিয়ে এই ৩৬ দিনে সৃষ্টি করেছে অবাক করা এক গণঅভ্যুত্থান। অবশ্য এর সাথে যুক্ত ছিল গণতন্ত্রমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনও। যার ফলে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হলো। স্বৈরশাসকদের পরিণতি এমনই হয়। প্রশ্ন জাগে, এত স্বল্প সময়ে অর্থাৎ মাত্র ৩৬ দিনে কী করে এমন পরিণতি হলো? বিশ্লেষকরা বলছেন-এর কারণ হলো দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন, ব্যাপক দুর্নীতি এবং শেষের ৩৬ দিনে দমন ও হত্যার মাধ্যমে ‘রেডলাইন ক্রস’।
রেডলাইন ক্রসের বড় চিত্র হলো, নির্বিচারে গুলিবর্ষণ। গুলিতে শুধু শিক্ষার্থীরাই নিহত হননি; নিহত হয়েছেন পথচারী, দোকানদার, হকার, রিকশাচালক, শ্রমিক, দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এমনকি ছাদে কিংবা বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা শিশুরা পর্যন্ত। নির্বিচারে ছররা গুলি করে সাধারণ মানুষের বুক ঝাঁঝরা করা কিংবা চোখ নষ্ট করে দেওয়া ঔপনিবেশিক দখলদার বাহিনীর কাজ হতে পারে, কিন্তু একটি স্বাধীন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এমন কাজ কীভাবে করল? দেশের সংবিধান কিংবা আইন এমন বলপ্রয়োগের অনুমতি দেয়নি। এটি রেডলাইন ক্রসের নির্মম উদাহরণ।
শিশুরা সব দেশেই বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। শিশুর নিরাপত্তা সবার আগে। প্রত্যেক পরিবারে একটি বংশবৃক্ষ থাকে। সেই বৃক্ষের সবচাইতে প্রিয় কুঁড়িটি হলো শিশু। শিশু হাসলে পুরো পরিবার হাসে, শিশু কাঁদলে পুরো পরিবার কাঁদে। সেই শিশুরাই জুলাই হত্যাকাণ্ডে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের মতে জুলাই আন্দোলনে অন্তত ৩২ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। শিশুদের প্রাণহানিতে উদ্বেগ জানিয়ে ইউনিসেফের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক সঞ্জয় উইজেসেকেরা বলেছেন, শিশুদের সবসময় সুরক্ষিত রাখতে হবে। এটা সবার দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, অনেক শিশু আহত হয়েছে এবং অনেককে আটক করা হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে অনেকের। এই মৃত্যু ভয়ানক ক্ষতি। এই ঘটনার নিন্দা জানিছে ইউনিসেফ। ইউনিসেফ তো শিশুদের সুরক্ষার কথা বলল, বলল শিশুদের মৃত্যু এক ভয়ানক ক্ষতি। কিন্তু ফ্যাসিবাদী সরকার কি তা বোঝে বা উপলব্ধি করে? ওই অপশক্তি তো ক্ষমতার মোহে অন্ধ থাকে। অন্ধের বিজয় নেই, আলোর অভাবে তার পরাজয় ঘটে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার মোকাবিলায় পরাজয় ঘটেছে ফ্যাসিবাদী সরকারের। তারা বাধ্য হয়েছে দেশ থেকে পালাতে।
ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলো। এরপর গঠিত হলো ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল-সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন। এই লক্ষ্যের সাথে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো একমত পোষণ করলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কৌশলের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা গেছে নানা বিতর্ক। এসবের পরও সংস্কারের ক্ষেত্রে বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। কাক্সিক্ষত নির্বাচনও হয়েছে। তবে এখন সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী জোটের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিতর্ক ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। এই বিতর্ক সংসদের বাইরে রাজপথেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ‘রকমফের’ বলে একটা কথা আছে। সংস্কারের ক্ষেত্রে এই রকমফের কোনো ভালো লক্ষণ নয়। এ নিয়ে দেশের ছাত্র-জনতার মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা সন্দেহ-সংশয়। ফলে মাঠে-ময়দানে ও ক্যাম্পাসে লক্ষ্য করা যাচ্ছে সরকারবিরোধী নানা বক্তব্য ও স্লোগান। অনেকেই বলছে, সরকারে গেলে প্রতিশ্রুতির কথা আর তেমন মনে থাকে না। তবে সরকারের মন্ত্রীবাহাদুররা বলছেন, জুলাই সনদ তথা সংস্কারের বিষয়গুলো তারা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন।
কথা নয়, ছাত্র-জনতার কাছে বাস্তবায়নের কাজটাই গুরুত্বপূর্ণ। তারা সরকারের কাজকর্ম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কথা কাজে গরমিল দেখলে তারা আবার রাজপথে নেমে আসবেন, এমন আওয়াজও শোনা যাচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আমরা রাজপথে ছাত্র-জনতার পাশে দেখেছি অভিভাবকদের এবং তাদের প্রিয় সন্তান শিশু-কিশোরদেরও। লক্ষণীয় বিষয় হলো, আন্দোলনের সময় কিশোররা যেন তরুণ হয়ে ওঠে। এমন হওয়ারই কথা। তাইতো কবি বলেছেন-
ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা,
ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ,
আধ-মরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।জয়নুল আবেদীন আজাদ
বৃক্ষ একদিনেই বৃক্ষ হয়ে যায়নি। একদিনেই সে আমাদের ছায়া দিতে পারেনি। ফুল-ফলও এক দিনের বিষয় নয়। বীজ, অঙ্কুর-এরপর বিকালের দীর্ঘ ধারা। বীজ থেকে বৃক্ষ হওয়ার যে গল্প, সেখানে রয়েছে সংগ্রাম ও ধৈর্যের নানা উদাহরণ। মানবশিশুরও মানব হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে ত্যাগ-তিতিক্ষা, সাধনা ও সংগ্রামের বিচিত্র উদাহরণ। মানব তো প্রথমে শিশু; তারপর কিশোর, তরুণ-অবশেষে পূর্ণাঙ্গ মানুষ। তবে বয়স বাড়লেই সব মানুষ পূর্ণাঙ্গ তথা প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠে না। মানুষ নানাভাবে নিজেকে ছোট ও খণ্ডিত করে ফেলে। এর কারণ, সঠিক জীবনদর্শনের অভাব। অঙ্কের হিসেবে মানুষ কখনো শিশু, কখনো কিশোর, এরপর তারুণ্য ও যৌবনের সিঁড়ি বেয়ে পৌঁছে যায় বার্ধক্যে। বয়সের এই যে বিচিত্র বাঁক, সেখানেও রয়েছে উপলব্ধি করার মতো সৌন্দর্য। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায় কৈশোর ও তারুণ্যের কথা। কিশোর যে কখন তরুণ হয়ে যায়, তা এক রহস্যের ব্যাপার বটে। পার্থক্য নির্ণয় করা আসলেই কঠিন। তাই কিশোরদের নিয়ে, তাদের স্বপ্ন নিয়ে কথা বলাই সহজ।
কিশোর মনে ভাবনা অনেক। তাই তাদের মনে জমা হয় অনেক প্রশ্ন। প্রকৃতি ও আকাশ নিয়ে তারা প্রশ্ন করে। কিশোর প্রশ্ন করে সমাজ এবং রাজনীতি নিয়েও। কিশোর বদ্ধঘরে বন্দি থাকতে চায় না। সমাজ ও রাজনীতির অসংগতি নিয়েও প্রশ্ন করে সে। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিষয়গুলো অবলোকন করেছেন। কিশোরদের আশা-আকাক্সক্ষা ও অভিযাত্রার কথা কাব্য ভাষায় প্রকাশও করেছেন তিনি। যেমন : ‘সংকল্প’ কবিতায় লিখেছেন-
থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে
কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে।
দেশ হতে দেশ দেশান্তরে
ছুটছে তারা কেমন করে,
কিসের নেশায় কেমন করে মরছে যে বীর লাখে লাখে,
কিসের আশায় করছে তারা বরণ মরণ-যন্ত্রণাকে।
কিশোর মনে প্রশ্ন আছে, অভিযাত্রার প্রতিজ্ঞা আছে। তবে এর সাথে যে প্রস্তুতিও প্রয়োজন। প্রস্তুতির অনেক বিষয় রয়েছে, তবে দেশ সম্পর্কে জানাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ভূগোল ও মানচিত্রের পাশাপাশি জানতে হবে দেশের ইতিহাস, ধর্মদর্শন, সংস্কৃতি এবং রাজনীতি সম্পর্কেও। আমাদের দেশে আমরা ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল দেখেছি, তখন কিন্তু আমরা স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পাইনি। পাইনি বৈষম্যমুক্ত সমাজ। তাইতো দেশের অধিকার সচেতন ছাত্র-জনতা নেমে এসেছেন রাজপথে, গড়ে তুলেছেন গণআন্দোলন, যুক্ত হয়েছেন স্বাধীনতা সংগ্রামেও। রক্ত¯œাত রাজপথে আমরা দেখেছি ৫২, ৬৯, ৭১। ১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে প্রতিষ্ঠা করেছি স্বাধীন বাংলাদেশ। তবে স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসটা একরকম নয়। ফ্যাসিবাদী আমলের ১৫ বছরের স্বৈরশাসনে দেশের মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের লক্ষ্যে ছাত্র-জনতা আবার গর্জে ওঠে রাজপথে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসটা বাংলাদেশের ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাস হিসেবে বিবেচিত। অবশ্য এর সাথে আগস্ট মাসের পাঁচটি দিনও যোগ করতে হয়। তাহলে জুলাইয়ের ৩১ দিন ও আগস্টের ৫ দিন যোগ করলে হয় ৩৬ দিন। বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলন জনগণকে সাথে নিয়ে এই ৩৬ দিনে সৃষ্টি করেছে অবাক করা এক গণঅভ্যুত্থান। অবশ্য এর সাথে যুক্ত ছিল গণতন্ত্রমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনও। যার ফলে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হলো। স্বৈরশাসকদের পরিণতি এমনই হয়। প্রশ্ন জাগে, এত স্বল্প সময়ে অর্থাৎ মাত্র ৩৬ দিনে কী করে এমন পরিণতি হলো? বিশ্লেষকরা বলছেন-এর কারণ হলো দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন, ব্যাপক দুর্নীতি এবং শেষের ৩৬ দিনে দমন ও হত্যার মাধ্যমে ‘রেডলাইন ক্রস’।
রেডলাইন ক্রসের বড় চিত্র হলো, নির্বিচারে গুলিবর্ষণ। গুলিতে শুধু শিক্ষার্থীরাই নিহত হননি; নিহত হয়েছেন পথচারী, দোকানদার, হকার, রিকশাচালক, শ্রমিক, দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এমনকি ছাদে কিংবা বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা শিশুরা পর্যন্ত। নির্বিচারে ছররা গুলি করে সাধারণ মানুষের বুক ঝাঁঝরা করা কিংবা চোখ নষ্ট করে দেওয়া ঔপনিবেশিক দখলদার বাহিনীর কাজ হতে পারে, কিন্তু একটি স্বাধীন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এমন কাজ কীভাবে করল? দেশের সংবিধান কিংবা আইন এমন বলপ্রয়োগের অনুমতি দেয়নি। এটি রেডলাইন ক্রসের নির্মম উদাহরণ।
শিশুরা সব দেশেই বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। শিশুর নিরাপত্তা সবার আগে। প্রত্যেক পরিবারে একটি বংশবৃক্ষ থাকে। সেই বৃক্ষের সবচাইতে প্রিয় কুঁড়িটি হলো শিশু। শিশু হাসলে পুরো পরিবার হাসে, শিশু কাঁদলে পুরো পরিবার কাঁদে। সেই শিশুরাই জুলাই হত্যাকাণ্ডে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের মতে জুলাই আন্দোলনে অন্তত ৩২ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। শিশুদের প্রাণহানিতে উদ্বেগ জানিয়ে ইউনিসেফের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক সঞ্জয় উইজেসেকেরা বলেছেন, শিশুদের সবসময় সুরক্ষিত রাখতে হবে। এটা সবার দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, অনেক শিশু আহত হয়েছে এবং অনেককে আটক করা হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে অনেকের। এই মৃত্যু ভয়ানক ক্ষতি। এই ঘটনার নিন্দা জানিছে ইউনিসেফ। ইউনিসেফ তো শিশুদের সুরক্ষার কথা বলল, বলল শিশুদের মৃত্যু এক ভয়ানক ক্ষতি। কিন্তু ফ্যাসিবাদী সরকার কি তা বোঝে বা উপলব্ধি করে? ওই অপশক্তি তো ক্ষমতার মোহে অন্ধ থাকে। অন্ধের বিজয় নেই, আলোর অভাবে তার পরাজয় ঘটে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার মোকাবিলায় পরাজয় ঘটেছে ফ্যাসিবাদী সরকারের। তারা বাধ্য হয়েছে দেশ থেকে পালাতে।
ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলো। এরপর গঠিত হলো ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল-সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন। এই লক্ষ্যের সাথে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো একমত পোষণ করলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কৌশলের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা গেছে নানা বিতর্ক। এসবের পরও সংস্কারের ক্ষেত্রে বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। কাক্সিক্ষত নির্বাচনও হয়েছে। তবে এখন সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী জোটের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিতর্ক ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। এই বিতর্ক সংসদের বাইরে রাজপথেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ‘রকমফের’ বলে একটা কথা আছে। সংস্কারের ক্ষেত্রে এই রকমফের কোনো ভালো লক্ষণ নয়। এ নিয়ে দেশের ছাত্র-জনতার মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা সন্দেহ-সংশয়। ফলে মাঠে-ময়দানে ও ক্যাম্পাসে লক্ষ্য করা যাচ্ছে সরকারবিরোধী নানা বক্তব্য ও স্লোগান। অনেকেই বলছে, সরকারে গেলে প্রতিশ্রুতির কথা আর তেমন মনে থাকে না। তবে সরকারের মন্ত্রীবাহাদুররা বলছেন, জুলাই সনদ তথা সংস্কারের বিষয়গুলো তারা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন।
কথা নয়, ছাত্র-জনতার কাছে বাস্তবায়নের কাজটাই গুরুত্বপূর্ণ। তারা সরকারের কাজকর্ম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কথা কাজে গরমিল দেখলে তারা আবার রাজপথে নেমে আসবেন, এমন আওয়াজও শোনা যাচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আমরা রাজপথে ছাত্র-জনতার পাশে দেখেছি অভিভাবকদের এবং তাদের প্রিয় সন্তান শিশু-কিশোরদেরও। লক্ষণীয় বিষয় হলো, আন্দোলনের সময় কিশোররা যেন তরুণ হয়ে ওঠে। এমন হওয়ারই কথা। তাইতো কবি বলেছেন-
ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা,
ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ,
আধ-মরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।
আরও পড়ুন...