ঘুড়ি
গল্প অলোক আচার্য এপ্রিল ২০২৬
রাতে খাওয়াদাওয়ার পর ঘুম আসছে না ইমরানের। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ঘুড়িটার দিকে। লাইট নিভিয়ে দেয়নি। ইমরান অন্ধকার ঘরে ঘুমাতে ভয় পায়। এজন্য সারা রাত লাইট জ্বালানো থাকে। পাশেই পড়ার টেবিলের ওপর লাল ঘুড়িটা রাখা। ঘুড়িটা ওর কাছে বেশ অন্যরকম লাগছে। ঘুড়িটা কী দিয়ে তৈরি হয়েছে সেটাই বুঝতে পারছে না। একবার মনে হচ্ছে কাগজ, আবার মনে হচ্ছে এটা তো কাগজ না! বেশ শক্ত ধরনের। টান দিলেও কিছু হয় না। মনে হয় জলে ভিজেছে, কিন্তু একটুও নরম হয়নি।
আজ বিকেলে খেলার জন্য ছাদে গিয়েছিল ইমরান। আর ঠিক তখনই ঘুড়িটা কোথা থেকে যেন উড়ে এসে ছাদে পড়ে। এ রকম তো হতেই পারে! সুতা কেটে গেলে ঘুড়ি এভাবে উড়ে এসে পড়তেই পারে। ভেবেছিল, কেউ হয়তো এখুনি এসে নিয়ে যাবে। কিন্তু না, সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ ঘুড়িটা নিতে এলো না। সন্ধ্যার দিকে ইমরান ঘুড়িটা নিজের সঙ্গে নিয়ে এলো। এর আগে ও অনেক ধরনের ঘুড়ি দেখেছে, কিন্তু এই ধরনের ঘুড়ি আগে দেখেনি। কাল একবার ওড়ানোর চেষ্টা করে দেখতে হবে। কেউ নিতে আসলে তো কথাই নেই।
ইমরানের একটা বিষয় অবাক লাগছে, ঘুড়িটা যদি সুতা ছিঁড়েই আসে তাহলে সুতা ছিঁড়ে যাওয়ার কোনো চিহ্ন তো থাকবে! আশ্চর্য! কিছুই নেই। তাহলে ঘুড়িটা উড়ছিল কীভাবে! সেসবই ভাবছিল এতক্ষণ। ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে টেরই পায়নি।
ঘরের ভেতর খুব চাপা ভোঁ ভোঁ ধরনের শব্দে ইমরানের ঘুম ভেঙে গেল। প্রথমটায় বুঝতেই পারল না শব্দটা ঘরের ভেতর কীভাবে হচ্ছে! ঘরের চারদিকে চোখ রাখতেই ইমরান তো অবাক হয়ে গেল। টেবিলে রাখা ঘুড়িটা দিব্যি ঘরের ভেতর উড়ছে! শব্দটা ঘুড়িটা থেকেই আসছে।
ঘুড়িটাকে উড়তে দেখে তো ইমরানের দম প্রায় বন্ধ হয়ে এলো। এ তো রীতিমতো ভৌতিক কাণ্ডকারখানা! কিছুক্ষণ পরেই ঘুড়িটা ওড়া বন্ধ করে আবার টেবিলের ওপর ফিরে এলো।
কিন্তু এটা উড়ছে কীভাবে? তখনই একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। কে যেন বলে উঠল, আমার ঘুড়িটা দাও!
ইমরান বিছানায় শোয়া অবস্থায়ই চিৎকার করে উঠল, কে? কে?
সেই কণ্ঠস্বর থেকে আবারও উত্তর এলো, আমি।
তুমি কে? ভূত?
না, আমি ইলন। এখান থেকে দশ হাজার কোটি আলোকবর্ষ দূরের গ্রহ ভি-৭৭-এ থাকি। আজ বিকেলে যখন আমি ঘুড়িটা ওড়াচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ ঘুড়িটার সঙ্গে আমার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারপর সারাদিন ঘুড়িটা খুঁজেছি। তারপর একটু আগেই জানতে পারলাম, সেটি তোমাদের পৃথিবীতে তোমার বাড়ির ছাদে এসে পড়েছে। তাই ঘুড়িটা নিতে এলাম। নিয়ে চলে যেতে পারতাম। কিন্তু ঘুড়িটা দেখে ওড়াতে ইচ্ছা করল। তুমি জেগে উঠলে। আচ্ছা, আমি এখন ঘুড়িটা নিয়ে যাই।
কিন্তু আমি তো তোমাকে দেখতে পাচ্ছি না।
আমি চাইছি না তোমার সামনে আসতে।
কেন?
কারণ, আমাকে দেখলে তুমি অবাক হবে। ভয়ও পেতে পারো। আমাদের শরীর ঠিক তোমাদের মতো নয়। আমাদের কোনো আকৃতি নেই। আমরা ত্রিমাত্রিক গড়নের। তবুও তুমি চাও আমাকে দেখতে?
হুঁ, চাই।
ঠিক আছে, দ্যাখো।
ইমরান দেখল, তার বিছানার পাশেই যে ছেলেটা বসে আছে, তার চেহারা হুবহু ওর মতোই। কোনো পার্থক্য নেই।
নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না ইমরান।
আমি বলেছিলাম আমাকে দেখার দরকার নেই। আচ্ছা, ঠিক আছে, আমি এখন যাই। আর শোনো, এই ঘুড়িটা আমি তোমাকে উপহার দিয়ে যাচ্ছি।
টেবিল থেকে ঘুড়িটা হাতে নেয় ইমরান। অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে ঘুড়িটার দিকে। আর সেই সময় ম্যাজিকের মতো অদৃশ্য হয়ে যায় ছেলেটা।
আরও পড়ুন...