দুইটা ভাত দাও মা

জুলাই-গল্প আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা এপ্রিল ২০২৬

‘আইজ কয় টাহা পাইলি বাপ?’

‘আইজকা অনেক কামাই হইছে মা। ভার্সিটির পোলাপান কিয়ের জানি আন্দোলন করতাছে। এই গরমে সবাই স্লোগান দিয়া গলা শুকাইয়া পানি খায় আর খালি বোতল ফালায়।’ বলেই আনন্দে খিলখিল করে হেসে ওঠে রাতুল।

দুরন্ত কিশোর রাতুল রাস্তায় বন্ধুদের সাথে প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে সন্ধ্যায় দোকানে বিক্রি করে। সামান্য যা টাকা হাতে আসে, তা নিয়ে মায়ের কাছে জমা দেয়। অভাবের সংসারে বাবা নেই। বাবার স্মৃতিও রাতুলের ঠিকমতো মনে নেই। দুঃখিনী মা আর ছোট বোন মিনাকে নিয়ে মিরপুরের এক বস্তিতে তাদের বসবাস।

আজকেও তেমন বোতল বিক্রি করে দোকানির কাছ থেকে পাওয়া টাকার ময়লা নোটগুলো মায়ের হাতে দিয়ে বলে, ‘দুইটা ভাত দাও মা, খুব খিদা পাইছে।’

ভাত খেয়ে রাতুল বিছানায় শুয়ে চিন্তা করে। মা’র বয়স হচ্ছে। অন্যের বাড়িতে কাজ করে শরীর ভেঙে যাচ্ছে। যা বেতন পায়, সেটা দিয়ে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। বাস মালিক কালাম চাচার সাথে কথা হয়েছে তার। চাচা বলেছে ৩-৪ মাস পর তিনি একটা নতুন বাস কিনবেন। ওই বাসে হেলপার হিসেবে রাতুলকে রাখবে। হেলপার হলে ভালো টাকা পাওয়া যাবে। অন্তত বোতল কুড়ানো থেকে বেশি। এই টোকাইয়ের জীবন তার ভালো লাগে না। ভালো ইনকাম করলে মাকে একটা নীল শাড়ি আর মিনাকে টুকটুকে লাল ফ্রক কিনে দেবে। আর কী কী করবে ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে যায় রাতুল।

সকালে প্রতিদিনের মতো রাতুল বন্ধুদের সাথে বোতল, চিপসের প্যাকেট কুড়াতে বের হয়েছে। রাস্তায় কোথা থেকে এক মিছিল এলো। মিছিল দেখে রাতুল বোঝার চেষ্টা করে কী হচ্ছে। বুঝতে পারে না। তার বন্ধুরাও বলতে পারে না। মিছিলে তার কী যায় আসে? সে আবার বোতল কুড়ায়।

পরের দিন আবার মিছিল দেখে। আজ মানুষ আগের দিনের থেকে বেশি। মিছিলকারীরা এই কাঠফাটা গরমে তৃষ্ণা মেটাতে পানি খাচ্ছে। রাতুল দেখে কাদের কাঁধে বস্তা ভর্তি বোতল নিয়ে মিছিল থেকে বের হচ্ছে, রাতুলও মিছিলের ভেতরে প্রবেশ করে। ছেলেমেয়েরা স্লোগান দিচ্ছে, “তুমি কে আমি কে; রাজাকার রাজাকার”, “কে বলেছে কে বলেছে; স্বৈরাচার স্বৈরাচার”, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা; দেশ কারোর বাপের না।”

রাতুল এসব বোঝে না। কিন্তু স্লোগানগুলো তার বড্ড ভালো লাগছিল। সে চুপচাপ বোতল নিয়ে বের হয়।

পরদিন সকালেও একই অবস্থা। রাস্তায় শত শত মানুষ স্লোগান দিচ্ছে, “দালালি না রাজপথ; রাজপথ রাজপথ”, “আপস না সংগ্রাম; সংগ্রাম সংগ্রাম।” বিক্ষোভকারীদের স্লোগানে মুখরিত ব্যস্ত সড়ক।

তেইশ-চব্বিশ বছরের এক তরুণ রাতুলকে ডেকে বলে, ‘আমাদের সাথে স্লোগান দে।’

রাতুল জিজ্ঞেস করে, ‘ভাই, আপনারা কীসের মিছিল করেন প্রতিদিন?’

‘সরকারি চাকরিতে আবার ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটা করেছে। আমরা মেধাবীরা কী শুধু বঞ্চিত হব? শুধু তাই না, হাসিনা আমাদের রাজাকার বলেছে। তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছি।’

রাতুল এতসব বোঝে না। সে পড়াশোনা করেনি। সরকারি চাকরিতে তার কী আসে যায়? তার প্রয়োজন বোতল। সে বোতল কুড়িয়ে চলে যায়।

এমনভাবে কয়েক দিন কেটে গেল। রাতুলের ভালোই লাগছে। আয় বেশি হচ্ছে কিছুদিন ধরে।

রাতুল সেদিন বস্তি থেকে বের হওয়ার সময় শুনতে পায়, আবু সাঈদ নামে রংপুরে কে যেন পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছে। তাতে তার কী? কত মানুষই তো মারা যায় প্রতিদিন। তার বাবাও মৃত।

সেই দিন রাতুল রাস্তায় অন্যরকম একটি মিছিল দেখে। সবার চোখে আগুনের ফুলকি। ছাত্রদের ওপর পুলিশের হামলা চলে। কারা যেন মাথায় হেলমেট পরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের আঘাত করছে। তার চোখের সামনে অনেকে আহত হয়। রাতুল ভয়ে বস্তিতে ফিরে যায়।

রাতে ভাত খেয়ে রাতুল শরীরে হাওয়া লাগাতে ঘরের বাইরে বের হয়। বস্তির লোকজন একসাথে বসে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছে। রাতুল মন দিয়ে শোনে।

রিয়াজ ভাই কিছুটা শিক্ষিত। সে সবাইকে বলে, ‘আমরা আয়েশ করে দুই বেলা ভাত খাইতে পারি না শুধুমাত্র হাসিনা আর তার লোকেদের জন্য। সংসদে শোনায় পেঁয়াজ ছাড়া রান্দো, কুমড়া দিয়া বেগুনি ভাজো, মাংসের বদলে কাঁঠাল খাও। হেরা তো এইসব খায় না। ঘরে গিয়া তো ঠিকই এসিতে বইসা মুরগির রান চাবায়। এরে উচিত শিক্ষা দেওন উচিত এখন।’

রাতুল মনে মনে ভাবে, তার মা এত পরিশ্রম করেও যে মুখে ভাত তুলতে পারে না, এইটার জন্যও কী হাসিনা দায়ী? ভাবতে ভাবতে ঘরে ফিরে যায়।

সকালে রাতুল, তারেক, কাদের একসাথে বোতল কুড়াতে বের হয়। তারেক বলে, ‘জানোস, হাসিনা বুড়ি তো পাখির মতো মানুষ মারতেছে। আমরা নাইলে গরিব, আমাগো জীবনের দাম নাই। কিন্তু এত সুন্দর সুন্দর পোলাপান মারতেছে। এইগুলার জীবনের তো দাম আছে। বাপ-মা কত কষ্ট কইরা এইগুলারে পালছে। আর পুলিশ কিনা মাইরা ফেলতেছে। মানুষজন চাল, ডাল কিনতে পারে না ঠিকমতো। সবখানে হাহাকার। আমাগোরও এদের সাথে মিছিলে যাওন উচিত না? অহন তো ছাত্র ছাড়াও কত মানুষ মিছিলে থাকে। জনগণ নাইমা গেসে। চল আমরাও মিছিল করি আজকে। একদিন বোতল না কুড়াইলে কী হইব?’

তারেকের কথায় কাদের-রাতুল সম্মতি দেয় না। রাতুল বলে, ‘মায়া আমারও লাগে এদের লইগা। কিন্তু একদিন না টোকাইলে বহুত কিছু হইব। খামু কী?’

তারেক মন খারাপ করে একটা চিপসের প্যাকেট তুলতে গিয়ে দেখে ছোট এক মেয়ে বাবার কাঁধে বসে স্লোগান দিচ্ছে, “দিল্লি না ঢাকা; ঢাকা ঢাকা”, “তোমার দেশ আমার দেশ; বাংলাদেশ বাংলাদেশ।” গালে কী সুন্দর করে বাংলাদেশের পতাকা আঁকা। ছোট ছোট বাচ্চারা পারলে সে কেন পারবে না? দেশের জন্য কিছু করতে না পারার অনুশোচনা পীড়া দিচ্ছিল তাকে। কিন্তু বন্ধুরা না গেলে সে একা কীভাবে যাবে?

পরদিন মিনার জ্বর আসে। মা রাতুলকে বাড়িতে থাকতে বলেছেন। দুপুরে ছোট বোনকে ভাত খাইয়ে রাতুল ভাতঘুম দেয়। টিনের দরজায় ধাক্কার শব্দে রাতুলের ঘুম ভাঙে। ঘুমন্ত মিনুকে পাশে রেখে দরজা খুলে রাতুল দেখে দরজায় কাদের দাঁড়ানো। কাদের রাতুলকে দেখামাত্র জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না শুরু করে।

তাদের বন্ধু তারেক নাকি নিরপরাধ মানুষদের মৃত্যু সহ্য করতে না পেরে একাই মিছিলে গিয়েছিল। সেখানে মাথায় গুলি লেগে মারা গেছে। লাশ মর্গ থেকে বের করতে দিচ্ছে না পুলিশ।

রাতুলের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। তারেক কীভাবে ওদের না নিয়ে মিছিলে গেল! কেন তারা তখন রাজি হলো না? আজকে একসাথে থাকলে তারেককে হয়তো বাঁচাতে পারত।

রাতুলের রক্ত গরম হয়ে ওঠে। এইবার একটা দফারফা করতেই হবে। কাদের আর রাতুল সিদ্ধান্ত নেয়, তারা আগামীকাল মিছিলে যাবে। এত মানুষের হত্যার বিচার করতে হবে। তারেকের হত্যার প্রতিশোধ নিতে হবে।

সকাল সকাল রাতুলকে ঘুম থেকে উঠতে দেখে মা অবাক হয়। রাতুল তো এত সকালে ওঠা ছেলে নয়। হাত-মুখ ধুয়ে নামাজ পড়ে রাতুল। মা তো আরও খুশি। সারা রাত দু-চোখের পাতা এক করতে পারেনি সে।

উৎফুল্ল মনে মা ভাবে, তার জন্য কিছু রান্না করা দরকার। রাতুলের দুধ-সেমাই খুব পছন্দ। কিন্তু টাকার অভাবে মা রান্না করতে পারেন না। যে বাসায় কাজ করে, সে বাসা থেকে গতকাল সামান্য পোলাও চাল দিয়েছে। তিনি একটু দুধও চেয়ে এনেছেন অসুস্থ মেয়েকে খাওয়াবেন বলে। সেমাই রান্নার চিনি নেই। রিয়াজদের বাড়ি থেকে সামান্য চিনি এনে মা সেমাই রান্না করলেন। নারকেল দিতে পারলে স্বাদ দ্বিগুণ বেড়ে যেত। কিন্তু গরিবের কী আর এত বিলাসিতা চলে?

রান্না সারতে সারতে কাজে যাওয়ার সময় হয় তার। মা রাতুলকে বলে, ‘তোর প্রিয় দুধ-সেমাই পাক করেছি। ঠাণ্ডা হলে খাইয়া নিস রে বাছাধন। কাজের তাড়া না থাকলে নিজ হাতে তোদের খাইতে দিতাম।’

রাতুল বলে, ‘সমস্যা নাই মা, তুমি কামে যাও। আমরা খাইয়া নিমু।’

মা বিদায় নিলে দরজায় কাদের আসে। সেমাই খাওয়ার সময় নেই। ইচ্ছাও করছে না। মানুষ প্রাণ দিচ্ছে দেশের জন্য, অন্যের জন্য। সে কীভাবে ঘরে বসে সেমাই খায়? মিনাকে আদর করে রাতুল। মাকে একটা চুমু খেতে পারলে ভালো লাগত। আর কখনো দেখা হয় কি না কে জানে। মিনাকে বাসায় রেখে কাদেরের সাথে বেরিয়ে পড়ে রাতুল।

আজ রাজপথ কানায় কানায় পূর্ণ। স্লোগান হচ্ছে, “কথায় কথায় বাংলা ছাড়; বাংলা কী তোর বাপ-দাদার”, “ইনকিলাব ইনকিলাব; জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ।” রাতুলের শরীরের প্রতিটি লোম দাঁড়িয়ে গেল।

মিছিল কিছুদূর যেতেই শুরু হলো গোলাগুলি। রাতুল কাদেরকে নিয়ে বাকিদের সাথে আড়ালে লুকায়। একটু পর আবার স্লোগান দিতে দিতে তারা বের হয়। কোথা থেকে কয়েকটা টিয়ারশেল উড়ে এলো তাদের সামনে। ভয়ে কাদের রাতুলের হাত জড়িয়ে ধরে। অন্ধকারে আশেপাশে কিছু দেখা যায় না। ধোঁয়ায় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। চোখ জ্বালাপোড়া করছে। রাতুল কাদেরের হাত ছেড়ে দুহাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলে। ধোঁয়া থেকে বাঁচতে গিয়ে তারা নিজেদের অজান্তেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ধোঁয়া ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আশেপাশে আবছা দেখা যায়। কাদের বুঝতে পারে পাশে রাতুল নেই। ‘রাতুল’ বলে চিৎকার দেয় কাদের। ঠিক সেই সময় বৃষ্টির ফোঁটার মতো গুলি এসে কাদেরের শরীর ঝাঁঝরা করে দেয়। কাদের জ্ঞান হারায়।

এদিকে বিকেলে বস্তিতে ফিরে রাতুলের মা দেখে রাতুল বাসায় ফেরেনি। ভাতের হাঁড়িতে ভাত পড়ে আছে। সেমাই খায়নি তার ছেলে। যে ছেলে চুলা থেকে সেমাই তুলে খাওয়া শুরু করে, সেই ছেলে সেমাই না খেয়ে কীভাবে কাজে যায়-ভেবে পান না মা। তিনি দেখেন রাতুল বস্তা নিয়ে বের হয়নি। বস্তা আলনাতে রাখা। মিনাকে জিজ্ঞেস করলে মিনা বলে, ‘ভাইয়া তো কাদের ভাইয়ার সাথে বাইরে গেসে তুমি যাওনের পরপর। কই গেসে তা তো আমি কইতে পারি না। কীয়ের জানি তাড়া আছিল। সকালে না খাইয়া বাইর হইসে।’

রাতুলের মা কাদেরের বাড়িতে যায়। কাদের বাড়িতে নেই। কাদেরের মা’র সাথে রাতুলের মায়ের দেখা হলে তাদের বুঝতে বাকি থাকে না ছেলেরা কোথায়।

জ্ঞান ফেরার পর কাদের নিজেকে হাসপাতালের বিছানায় পায়। শরীরে বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত। ডাক্তার বলেছে, একটুর জন্য বেঁচে গেছে সে। কয়েক দিন পর অপারেশন করে গুলি বের করতে হবে। এখন বাসায় চলে যেতে পারে।

কে শোনে ডাক্তারের কথা! শরীরের আগে বন্ধু। হাসপাতাল থেকে বের হয়ে ক্লান্ত শরীর নিয়ে কাদের রাতুলের খোঁজে যায়। আশেপাশে না পেয়ে বাসায় গিয়েছে কিনা ভেবে বস্তিতে ফিরে যায়।

ততক্ষণে সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়েছে। বস্তিতে গিয়ে দেখে সেখানে থমথমে পরিবেশ। কাদেরকে দেখে রিয়াজ চিৎকার করে বলে, ‘কে কই আছেন? আমাগো কাদের আইসে!’ কাদেরের মা দৌড়ে এসে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে।

রাতুলকে দেখতে না পেয়ে রাতুলের মা ছেলের কথা জানতে চায়। কাদের বুঝতে পারে রাতুল বাড়িতে ফেরেনি। কাদের সব ঘটনা খুলে বলে।

দুই দিন পেরিয়ে গেল। রাতুলের কোনো খবর নেই। বস্তির সবাই মিলে তাকে খোঁজে। কোথাও তার দেখা নেই। আন্দোলন আরও বেগবান হয়। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। কারাবন্দির সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। ফাগুনে যেখানে সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার কথা, সেখানে ফাগুন আসার আগেই সংখ্যা হাজার গুণ ছাড়িয়েছে।

শুরু হয় এক দফা। ছাত্ররা ডাক দেয়, “ঢাকায় আসুন জনতা, ছাড়তে হবে ক্ষমতা”, “মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু”, “এক দুই তিন চার; শেখ হাসিনা গদি ছাড়।” স্লোগানে মুখরিত পুরো বাংলাদেশ। হাসিনা ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে গেল। এই খবর রাতুল জানে কি না কে জানে।

রাতুলের হারানোর ৯ মাস পেরিয়ে গেল।

‘মিনু, এক গ্লাস পানি দে।’ মিনু দৌড়ে এসে মাকে পানি দেয়।

‘আমার মন কইতাছে একটু পর রাতুল আইবো। পোলাটা খিদা সহ্য করতে পারে না। ঢুইকাই ভাত চাইবো। যাই, দুইটা ভাত বসাই। আর তুই কিন্তু দুলালের থিকা নারিকেল আনিস মনে কইরা। সেমাই পাক করমু।’

মিনু মায়ের এসব কথায় এখন অভ্যস্ত।

চুলায় ভাত চড়িয়ে রাতুলের মা পিঁড়ি টেনে বসে। ঢাকনার ফাঁকা দিয়ে ফ্যান গড়িয়ে পড়ছে। সেদিকে তার মনোযোগ নেই। তিনি একদৃষ্টিতে দরজার দিকে তাকিয়ে আছেন।

যেকোনো সময় তার মানিকধন ঘরে ফিরে বলবে-‘দুইটা ভাত দাও মা, খুব খিদা পাইসে।’

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ