দৈত্যাকার জেলিফিশ

চিত্র-বিচিত্র মোহাম্মদ শিবলী এপ্রিল ২০২৬

সমুদ্রের গভীরে এমন অনেক জায়গা রয়েছে, যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারে না। সেখানে যেমন প্রচণ্ড অন্ধকার থাকে তেমনি থাকে পানির অধিক চাপ। এমন জায়গায় বাস করে পৃথিবীর অন্যতম রহস্যময় প্রাণী-জায়ান্ট ফ্যান্টম জেলিফিশ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Stygiomedusa gigantea। অদ্ভুত গড়ন আর বিরল উপস্থিতির কারণেই বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ফ্যান্টম বা মায়া।

সম্প্রতি আর্জেন্টিনা উপকূল মহাসাগরের গভীরে দেখা গেছে বিরল দৈত্যাকার এই জেলিফিশ। প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিকসহ বিশ্বের প্রায় সব মহাসাগরের গভীরতম অংশে এদের বাস।

১৮৯৯ সালে প্রথম আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে মাত্র ১০০ থেকে ১৩০ বারের মতো একে দেখা গেছে বিরল এই ফ্যান্টমের। প্রায় ২৫০ মিটার নিচে পানির রোবট ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এটি। এরা সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,০০০ ফুটেরও বেশি গভীরে বাস করে, যেখানে সূর্যের আলো একেবারে পৌঁছায় না।

ফ্যান্টম জেলিফিশ দেখতে অনেকটা ভিনগ্রহের প্রাণীর মতো। এরা সাধারণত গাঢ় খয়েরি বা বেগুনি রঙের হয়। এর ওপরের অংশ বা শরীরের মূল কাঠামোটি একটি বিশাল ছাতার মতো, যা প্রায় ৩.৩ ফুট চওড়া। এর দৈর্ঘ্য প্রায় একটি স্কুল বাসের সমান বলে ধারণা করা হয়। জেলিফিশের ব্যাল্ফ বা মাথার অংশ প্রায় ৩.৩ ফুট। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এর পা বা বাহুগুলো। এই জেলিফিশের মুখ থেকে ফিতার মতো চারটি লম্বা বাহু ঝুলে থাকে, যার একেকটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৩ ফুট বা ১০ মিটার। সমুদ্রের স্রােতে এই লম্বা বাহুগুলো যখন নড়াচড়া করে, তখন মনে হয় যেন পানির নিচে কোনো বিশাল ওড়না উড়ছে। এর বিশাল গম্বুজাকৃতির দেহ আর ১০ মিটার দীর্ঘ বাহুগুলো দেখে মনে হয় যেন পাতাললোকের কোনো এক রহস্যময় দৈত্য ভেসে বেড়াচ্ছে।

অন্যান্য জেলিফিশের মতো এতে বিষাক্ত টেন্টাকলস নেই। ফলে সাধারণ জেলিফিশের মতো এদের কামড় দেওয়ার ক্ষমতা নেই। এরা লম্বা বাহু দিয়ে শিকার পেঁচিয়ে ধরে খায়। দীর্ঘ হাতগুলো ব্যবহার করে এটি প্লাঙ্কটন ও ছোট মাছ শিকার করে খায়।

দেখতে ভয়ংকর হলেও এরা আক্রমণাত্মক নয়। সহজে দেখা যায় না বলে অনেকের কাছেই এটি অপরিচিত। বিচিত্র এই প্রাণী আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পৃথিবীর বহু রহস্য এখনো আমাদের অজানাই রয়ে গেছে।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ