খবরের খবর

কুরআনের আলো আবু তাহের বেলাল অক্টোবর ২০২৫

ছুটি শেষে বাসায় ফেরার সময়টাতে পৃথিবীর সকল আনন্দ যেন বাতাসে ছড়িয়ে থাকে। সবচেয়ে ভালো লাগে ঝাঁকবেঁধে সহপাঠীদের একসাথে বাড়ি ফেরা। এ যেন দিনশেষে নীড়মুখী ক্লান্ত পাখির ঝাঁক। 

এ ঝাঁক থেকে মাহমুদ আজ আলাদা হয়ে গেছে!

আমানের সাথে আজ ভীষণ কথা কাটাকাটি হয়েছে তার। একজন এসে তাকে ভয় দেখিয়ে গেল। বলল, আমান দল পাকিয়ে ফেলেছে। পথে মাহমুদকে মারবে। এ কারণে ছুটির পরও মাহমুদ বসে থাকে। ঘণ্টাখানেক পর রওনা দেয় বাড়ির পথে। একাকী। বাড়িতে পৌঁছার পর আব্বু-আম্মু ধরলেন তাকে। বললেন, দেরি হলো কেন? সব খুলে বলল সে। আব্বু খোঁজখবর নিলেন। নিশ্চিত হলেন-আমান এর কিছুই জানে না! এরপর মাহমুদকে বললেন, খবরদাতা তোমাকে সঠিক খবর দেয়নি। আর আমিও এমনটিই ভেবেছিলাম। তোমার উচিত ছিল, সংবাদটি যাচাই-বাছাই করা। এবার একটি গল্প শোনো-

একবার নবীজি ওয়ালিদ ইবনে উকবাকে পাঠালেন বনি মুস্তালিক গোত্র থেকে জাকাত আদায়ের জন্য। ওদের সাথে তার আগে থেকেই শত্রুতা ছিল। তিনি ভয় পেয়েছিলেন এই ভেবে, তারা তাকে হত্যা করতে পারে। তিনি মাঝপথ থেকে ফেরত এলেন। বললেন, ওরা বলেছে-জাকাত দেবে না।

নবীজির দূত বলে কথা! তার সাথে এমন আচরণ! এ তো নবীজিকেই অমান্য করার শামিল!

নবীজি খালিদ বিন ওয়ালিদকে বাহিনীপ্রধান করে সৈন্য প্রেরণ করলেন। কিন্তু পরক্ষণেই জানতে পারলেন, সংবাদটি সঠিক ছিল না। তখন আল্লাহ তায়ালা আয়াত নাজিল করলেন-‘হে ঈমানদারগণ, যদি কোনো ফাসিক তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা তা যাচাই করে নাও। এ আশঙ্কায় যে, তোমরা অজানাবশত কোনো সম্প্রদায়কে আক্রমণ করে বসবে, ফলে তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হবে।’ [আল-হুজুরাত : ০৬]

মাহমুদ নিজেই এবার লজ্জিত হলো। বলল, এভাবে তো ভাবিনি। 

এবার পেছনে ফিরতেই দেখল, আমান দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। মাহমুদকে বুকে জড়িয়ে বলল, ভাই! আমাদের মাঝে দ্বিমত থাকতে পারে কিন্তু দূরত্ব থাকতে পারে না।

আব্বু বললেন-এভাবেই অনেক গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এখনকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তো ভয়াবহ অবস্থা। তাই, আমাদের জানতে হবে খবরের খবর। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো খবরই আমরা প্রচার করব না, বিশ^াসও করব না।

মাহমুদ ও আমান একসাথে বলে উঠল-ইনশাআল্লাহ।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ