বোশেখ এলেই

ছড়া-কবিতা সোহেল মল্লিক এপ্রিল ২০২৬

সে রাতেও ছিল ভীষণ গরম, আকাশে ছিল না মেঘ

আমার কেটেছে ঘুমহীন রাত, চোখে মুখে উদ্বেগ।

হালকা হাওয়ার মিষ্টি পরশ শরীর জুড়ে পেতে

আমি ছুটে যাই খোলা প্রান্তরে সবুজ ধানের ক্ষেতে।

ভাঙা লোহার পুলটি পেরিয়ে গেলাম পুকুর পাড়ে

ফুলকচুরির ঝাড়বাতিরা মনকে ভীষণ কাড়ে।

ঝুম ঝুমা ঝুম বাজনা বাজিয়ে পানির নূপুর বলে,

‘ভিজবি খোকন আর দেরি নয়, এক্ষুনি আয় চলে।’


ভোর না হতেই পুকুরজলে দিলাম শরীর ডুবে

ডুব ভাসিয়েই তাকিয়ে দেখি সূর্য উঠেছে পুবে।

ডুবিয়ে শেষে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ির কাছেই এসে-

ভোরের খাবার মা’র কাছে চাই একটুখানি হেসে।

ভর্তা-ভাজি-ডিম-পরোটায় পেটটি আমার পুরে-

পড়তে থাকি ইস্কুল বই সারাটা দুপুর জুড়ে।


রৌদ্রজ্বালা কমলো যখন বিকেলবেলা আমি

বাবার সঙ্গে নৌকোয় চড়ে মেঘনা ঘাটে নামি।

মেঘনা ঘাটের মাঠের পাশে বৈশাখী এক মেলা

সেই মেলাতেই কাটিয়ে দিলাম সারা বিকেলবেলা।

গান শুনলাম পুতুল নাচের, বাজল বাঁশি পু...পু...

জাদু দেখলাম জাদুকরের ছুঁমন্তর ছুঁ...ছুঁ...।


সন্ধ্যাবেলায় হঠাৎ শুরু কালবোশেখি ঝড়

রাঙা মেলা ভাঙা হলে ছুটল সবাই ঘর।

গর্জে ওঠে তীব্র স্বরে মেঘলা আকাশপাড়া

আকাশ থেকে ঝরল জোরে বৃষ্টি অঝোরধারা।

ভিজতে ভিজতে বাবার সাথে গেলাম বহুদূর

বোশেখ এলেই সেই স্মৃতিটা বাজায় মনে সুর।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ