বিশ্বকাপে দুই প্রজন্ম

খেলার চমক আবু আবদুল্লাহ আগস্ট ২০২৬

জিনেদিনে জিদান ও লুকা জিদান

এবারের ফুটবল বিশ্ব কাপে আলজেরিয়ার হয়ে খেলেছেন গোলরক্ষক লুকা জিদান। লুকার বাবা জিনেদিনে জিদান ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফুটবলার। ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক তিনি। ২০০০ সালে দেশকে ইউরো জিতিয়েছেন। এছাড়া ২০০৬ বিশ্বকাপেও ফ্রান্সকে ফাইনালে তুলেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। মোটকথা ইতিহাসের সেরা ফুটবলারদের একজন জিনেদিনে জিদান।

তার ছেলে লুকা আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলছেন শেকড়ের দেশ আলজেরিয়ার হয়ে। লুকার দাদা-দাদি অর্থাৎ জিদানের বাবা-মা আলজেরিয়া থেকে ফ্রান্সে অভিবাসী হয়েছিলেন। জিদানের জন্ম ফ্রান্সেই। লুকাও বড় হয়েছেন ফ্রান্সে। তবে তিনি এখন নিজের শেকড়ের কাছে ফিরে গেছেন। গায়ে তুলেছেন আলজেরিয়ার জার্সি।

লুকা তার বাবার দ্বিতীয় পুত্র। তার ফুটবলে হাতেখড়ি হয়েছে বাবার ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের অ্যাকাডেমিতে। বয়সভিত্তিক দলে ফ্রান্সের হয়ে বেশ কিছু ম্যাচও খেলেছেন। তবে ফ্রান্স জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া তার জন্য কঠিন হবে এটা বুঝতে পেরে আলজেরিয়ার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। ফিফার অনুমোদনের পর এবারের বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেই তাকে ডাকা হয় আলজেরিয়া দলে। এরপর খেললেন বিশ^কাপেও।

বাবা ছেলের বিশ্বকাপ খেলার অনেকগুলো ঘটনা থাকলেও দুজন দুই দলের হয়ে খেলার রেকর্ড খুব বেশি নয়।

তালিকার বাকিরা হলেন-

জোসেফ এলাঙ্গা, ক্যামেরুন-১৯৯৮ ও অ্যান্থনি এলাঙ্গা, সুইডেন-২০২৬, মাজিনহো, ব্রাজিল-১৯৯০, ১৯৯৪ও থিয়াগো, স্পেন-২০১৮।

ভ্লদিমির ওয়েইস, চেকোস্লভাকিয়া- ১৯৯০ ও ভ্লাদিমির ওয়েইস (জুনিয়র), স্লোভাকিয়া-২০১০

ইয়ান কোজাক, চেকোস্লভাকিয়া- ১৯৮২, ও ইয়ান কোজাক (জুনিয়র), স্লোভাকিয়া-২০১০।

মার্তি ভানতোলরা, স্পেন- ১৯৩৪ ও হোসে ভানতোলরা, মেক্সিকো- ১৯৭০।


নরওয়ের তিন-তিন

বিশ্ব ফুটবলে দাপটের সাথে খেলছেন নরওয়ের আরলিং হালান্ড। এবারের বিশ্বকাপেও তার পায়ের জাদু দেখেছে ফুটবল দুনিয়া। তার বাবাও নরওয়ের হয়ে ১৯৯৪ বিশ্বকাপ খেলেছিলেন। আরলিং স্ট্রাইকার হলেও তার বাবা ছিলেন রাইট ব্যাক। আলফ-ইঙ্গে হালান্ড মোট ৩৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন দেশের হয়ে। 

জিদানের ছেলে বাবাকে ছাড়িয়ে যেতে না পারলেও এক্ষেত্রে সফল আরলিং হালান্ড। তিনি ইতোমধ্যেই নরওয়ের পক্ষে সর্বোচ্চ গোলদাতা। বিশ^কাপে খেলতে নেমে প্রথম দুই ম্যাচেই করেছেন জোড়া গোল। ২৫ বছর বয়সি হালান্ড এখনই বিশ্ব ফুটবলের সেরা পাঁচ তারকার একজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। হয়তো ভবিষ্যতে আরও অনেক দূর যাবেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা।

এবারের নরওয়ে টিমে হালান্ডের আরও দুজন টিমমেট ছিলেন যাদের বাবারাও খেলেছেন হালান্ডের বাবার সাথে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে। অর্থাৎ ১৯৯৪ বিশ্বকাপে খেলা নরওয়ের তিন ফুটবলারের সন্তান এবারের বিশ্বকাপে এক সাথে খেলেছেন নরওয়ের হয়ে। কি অদ্ভুত মিল তাই না!

বাকি দুজনের একজন হলেন এরিক থরস্টভেট যিনি ৯৪ বিশ্বকাপে নরওয়ের হয়ে ৩টি ম্যাচ খেলেছেন। গোলরক্ষক এরিকের ছেলে ক্রিস্টিয়ান থরস্টভেট নরওয়ের মিডফিল্ডার হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে খেলেছেন।

একই দলের গোরান সোরলথের ছেলে আলেকজান্ডার সোরলথ খেলেছেন এবারের বিশ^কাপে। বাবা ছেলে দুজনেই দুই যুগে স্ট্রাইকার পজিশনে নরওয়ে দলের ভরসা হয়েছেন। ফিফা বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এমন কাকতালীয় ও গৌরবময় ঘটনা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।

আরও যারা


বাবা-ছেলে জুটির তালিকায় আরও যারা আছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব ফুটবলে পরিচিতি মুখ ফ্রান্সের থুরাম পরিবার। জার্মানির হয়ে তিন বিশ্বকাপে (’৯৮, ’০২, ’০৬) ১৬টি ম্যাচ খেলেছেন ডিফেন্ডার লিলিয়ান থুরাম। তার ছেলে মারকাস থুরাম ফ্রান্স দলে খেলেছেন গত দুটি বিশ্বকাপেই।

আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার দিয়াগো সিমিওনে আকাশী-সাদা জার্সিতে খেলেছেন ’৯৪, ৯৮, ’০২ বিশ্বকাপে। সব মিলে বিশ্বকাপে খেলেছেন ১১টি ম্যাচ। তার ছেলে গিলিয়ানো সিমিওনে খেলেন উইঙ্গার হিসেবে। অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের এই ফুটবলারও বাবার উত্তরসূরি হিসেবে নাম লিখিয়েছেন এবারের আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপ দলে।

’৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে একটি ম্যাচ খেলেছেন ডিফেন্ডার পাবলো পাজ। আর তার ছেলে নিকো পাজ খেলেছেন এবারের বিশ^কাপে। বাবা ডিফেন্ডার হিসেবে খেললেও ছেলে হয়েছেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।

ইতালির বিখ্যাত ডিফেন্ডার পাওলো মালদিনি দলটির হয়ে ’৯০, ’৯৪, ’৯৮ ও ’০২- এই চারটি বিশ্বকাপে খেলেছেন ২৩টি ম্যাচ। পাওলো ওই সময় ইতালি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। তার বাবা সিজার মালদিনিও ইতালির হয়ে বিশ^কাপ খেলেছেন ’৬২ আসরে। বাবা-ছেলে দুজনেই ছিলেন ডিফেন্ডার।

উরুগুয়ের তারকা স্ট্রাইকার দিয়াগো ফোরলানের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ছয়টি। ’০২, ’১০ ও ’১৪ এই তিনটি আসরে লাতিন আমেরিকার দেশটির হয়ে ১০ ম্যাচে ছয় গোল করেছেন দিয়াগো। তার বাবা পাবলো ফোরলান ’৬৬ ও ’৭৪ আসরে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন দেশের হয়ে।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ