আমরা সবাই হাদি হবো

প্রচ্ছদ রচনা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এপ্রিল ২০২৬

বিকেলের হালকা সোনালি রোদ এসে পড়েছে দশ বছরের কিশোর সিনান আল আজওয়াদের পড়ার টেবিলে। টেবিলের ওপর একটা বড় আর্ট পেপার ছড়ানো। সিনান খুব মন দিয়ে জলরংতুলি দিয়ে সেখানে বড় বড় করে কিছু একটা লিখছে। তার চোখে-মুখে দারুণ উত্তেজনা আর গভীর মনোযোগ। ছেলের এই মনোযোগ দেখে দরজার কাছে এসে দাঁড়ালেন বাবা সাইফুল্লাহ সাঈদ। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক, আর ছেলেকে তিনি নিজের বন্ধুর মতোই ভালোবাসেন।

সাইফুল্লাহ সাঈদ ধীরপায়ে ছেলের পেছনে এসে দাঁড়ালেন। দেখলেন, আর্ট পেপারের ওপর লাল আর সবুজ রঙে বড় বড় করে লেখা হচ্ছে-‘আমরা সবাই হাদি হবো’। লেখাটার চারপাশে সিনান এঁকেছে বাংলাদেশের মানচিত্র, কিছু পাখির ছবি আর একটা উদীয়মান সূর্য।

ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে সাইফুল্লাহ সাঈদ হাসিমুখে বললেন, “কী বাবা সিনান, কালকে তোমাদের ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে বুঝি নতুন কোনো অনুষ্ঠান আছে? এত সুন্দর করে পোস্টার বানাচ্ছ যে!”

সিনান তুলিটা নামিয়ে রেখে বাবার দিকে ফিরে তাকাল। তার চোখে এক অদ্ভুত দীপ্তি। সে বলল, “হ্যাঁ আব্বু, কালকে আমাদের কালচারাল সেন্টারে একটা নতুন নাটক মঞ্চস্থ হবে। নাটকের শেষে আমরা সবাই এই পোস্টারটা নিয়ে মঞ্চে দাঁড়াব। আচ্ছা আব্বু, আমরা তো প্রতিদিন স্লোগান দিই, প্রতিদিন বলি ‘আমরা সবাই হাদি হবো’। আমি জানি ওসমান হাদি আঙ্কেল আমাদের খুব বড় একজন আদর্শ ছিলেন। কিন্তু আমি তাঁর সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানতে চাই। তুমি কি আজ আমাকে হাদি আঙ্কেলের পুরো গল্পটা শোনাবে? তিনি কীভাবে আমাদের সবার হিরো হয়ে উঠলেন?”

ছেলের এই কথা শুনে সাইফুল্লাহ সাঈদের মুখের হাসিটা একটু মিলিয়ে গিয়ে সেখানে একটা গর্ব আর বেদনার মিশ্র ছায়া ফুটে উঠল। তিনি সিনানের বিছানায় বসলেন এবং ছেলেকে নিজের পাশে বসতে ইশারা করলেন। সিনান ছুটে এসে বাবার পাশে বসল। তার চোখ দুটো আগ্রহে চকচক করছে।

সাইফুল্লাহ সাঈদ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে গল্প শুরু করলেন। “সিনান বাবা, সুপারহিরোদের গল্পে তো তুমি দেখেছ তারা আকাশ থেকে উড়ে আসে, তাদের গায়ে থাকে বিশেষ পোশাক। কিন্তু আমাদের ওসমান হাদির কোনো বিশেষ পোশাক ছিল না। তিনি ছিলেন তোমার মতোই সাধারণ একজন মানুষ। বাংলার কাদা-মাটি, আলো-বাতাস মেখেই তার জন্ম আর বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই হাদি ছিলেন একটু অন্যরকম। তিনি চারপাশের মানুষগুলোকে খুব গভীরভাবে খেয়াল করতেন। কৃষকের গলার গান, মাঝির ভাটিয়ালি, আর গ্রামের সাধারণ মানুষের সহজ-সরল হাসি তাকে খুব টানত।”

সিনান মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। সে জিজ্ঞেস করল, “তারপর কী হলো আব্বু?”

সাইফুল্লাহ সাঈদ বললেন, “১৯৯৩ সালে ঝালকাঠির এক গ্রামে হাদির জন্ম হয়। ছোটবেলা থেকেই ধর্মভীরু ও মানুষের প্রতি ছিল তার ভালোবাসা। সেখানকার মাদরাসা থেকে পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। এখানে এসে সে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর সাথে মিশে বুঝতে পারল-এরা দেশের সঠিক ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের মুক্তির যে ধর্ম তা জানে না। শুরু হলো এগুলো নিয়ে কাজ করা। বাংলাদেশই তার ধ্যান জ্ঞান হয়ে ওঠে।”

অবাক হয়ে সিনান শুনছে বাবার কথা। সাইফুল্লাহ সাঈদ আবারও বলে উঠলেন,

“হাদি যখন আস্তে আস্তে বড় হলেন, তিনি মানুষের মনের ভাষা আর আকাক্সক্ষাগুলো খুব ভালো করে বুঝতে শিখলেন,” সাইফুল্লাহ সাঈদ বলতে লাগলেন। “তিনি দেখলেন, আমাদের দেশে একটা অদ্ভুত ব্যাপার ঘটছে। আমাদের এত সুন্দর একটা নিজস্ব সংস্কৃতি আছে, অথচ একদল মানুষ সেটাকে ধ্বংস করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। সংস্কৃতি মানে কী জানো বাবা? সংস্কৃতি হলো, আমাদের কথা বলার ধরন, আমাদের গান, আমাদের বিশ্বাস, আমাদের মূল্যবোধ আর আমাদের মাটির গন্ধ।”

সিনান মাথা নেড়ে বলল, “হ্যাঁ আব্বু, আমাদের নিজেদের যা কিছু ভালো, সেটাই তো আমাদের সংস্কৃতি।”

“ঠিক বলেছ,” বাবা হেসে বললেন। “কিন্তু আমাদের দেশে এমন কিছু মানুষ ছিল, যারা বাঙালি জাতীয়তাবাদের মিথ্যা বুলি আওড়াত। তারা মুখে বলত বাঙালির কথা, কিন্তু আসলে তারা ভারতীয়, বিশেষ করে কোলকাতাকেন্দ্রিক সংস্কৃতিকে আমাদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দিতে চাইত। আমাদের নিজস্বতা বলতে যেন কিছু না থাকে, আমরা যেন তাদের মতো করেই চিন্তা করি, তাদের মতো করেই কথা বলি-এটাই ছিল তাদের লক্ষ্য। আবার আরেক দল ছিল যারা পশ্চিমা দেশের অন্ধ অনুকরণ করত। তারা মনে করত, বিদেশি জিনিস মানেই আধুনিকতা, আর আমাদের দেশের নিজস্ব জিনিস মানেই সেকেলে বা ক্ষ্যাত।”

সিনান একটু রেগে গিয়ে বলল, “এটা তো খুব অন্যায়! আমাদের জিনিস কেন আমরা বাদ দেবো?”

“এটাই তো ওসমান হাদি বুঝতে পেরেছিলেন,” সাইফুল্লাহ সাঈদ ছেলের কাঁধে হাত রেখে বললেন। “২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে আমাদের ছাত্র-জনতা মিলে যে এক বিশাল বিপ্লব করেছিল, তা তো তোমার মনে আছে। সেই চব্বিশের বিপ্লবে দেশ তো স্বৈরাচার থেকে মুক্ত হলো। কিন্তু হাদি বুঝলেন, শুধু দেশ স্বাধীন হলেই হবে না, আমাদের মন আর চিন্তাকেও স্বাধীন করতে হবে। আমাদের সংস্কৃতির স্বাধীনতা দরকার। বিদেশি আর কোলকাতাকেন্দ্রিক তাঁবেদারি থেকে আমাদের সংস্কৃতিকে বাঁচাতে হবে। সেই চিন্তা থেকেই তিনি তার বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তুললেন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’।”

“ইনকিলাব মানে তো বিপ্লব, তাই না আব্বু?” সিনান জিজ্ঞেস করল।

“একদম ঠিক। এই ইনকিলাব মঞ্চের কাজ ছিল গান, কবিতা, নাটক আর শিল্পের মাধ্যমে মানুষকে জাগিয়ে তোলা। হাদি আর তার বন্ধুরা রাস্তায় রাস্তায় নাটক করতেন, গান গাইতেন। তাদের গানে থাকত আমাদের দেশের কথা, আমাদের শহীদদের কথা, আমাদের নিজেদের পরিচয়ের কথা। মানুষ অবাক হয়ে দেখল, আরে! আমাদের নিজেদের সংস্কৃতি তো এত সুন্দর! এত দিন তো আমরা ভুল পথে ছিলাম। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হাদির এই উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ল। ইনকিলাব মঞ্চ পরে আরও বড় পরিসরে পরিণত হলো ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে’। এই যে তুমি আর তোমার বন্ধুরা এখন সেখানে গিয়ে নাটক শিখছ, গান শিখছ, আর্ট করছ-এটা হাদি আঙ্কেলেরই স্বপ্ন ছিল।”

সিনানের চোখ দুটো খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। সে বলল, “হাদি আঙ্কেল তো তাহলে একটা জাদুর মতো কাজ করেছিলেন! সবাই নিশ্চয়ই তাকে খুব ভালোবাসত?”

বাবার মুখটা এবার একটু গম্ভীর হয়ে গেল। তিনি শান্ত স্বরে বললেন, “সাধারণ মানুষ তাকে পাগলের মতো ভালোবাসত, বাবা। বিশেষ করে তোমার মতো শিশু-কিশোর আর তরুণদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন স্বপ্নের নায়ক। কিন্তু সবাই তো আর ভালো হয় না। ওই যে বললাম, কিছু মানুষ যারা আমাদের দেশের ভালো চায় না, যারা বাইরের দেশের তাঁবেদারি করত, তারা খুব ভয় পেয়ে গেল। তারা দেখল, হাদি তো দেশের সব মানুষকে এক করে ফেলছে! কিশোররা তো আর বিদেশি অপসংস্কৃতি গিলছে না, তারা তো নিজেদের শিকড়ের দিকে ফিরে আসছে। বাংলাদেশবিরোধীদের মাথা নষ্ট হয়ে গেল হাদির এই সাফল্য দেখে।”

সিনান উদ্বিগ্ন হয়ে বাবার হাত চেপে ধরল। “তারপর তারা কী করল আব্বু?”

সাইফুল্লাহ সাঈদ একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। তার চোখের কোণে এক ফোঁটা পানি চিকচিক করে উঠল। “তারা যখন দেখল হাদিকে যুক্তি দিয়ে, শিল্প দিয়ে বা বুদ্ধি দিয়ে কোনোভাবেই হারানো যাচ্ছে না, তখন তারা কাপুরুষের মতো একটা পথ বেছে নিল। তারা হাদিকে তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করল। গত ডিসেম্বর মাসের কথা। সেদিন ছিল শুক্রবার। জুম্মার নামাজের পর হাদি একজনের সাথে রিকশায় আসতেছিলেন। হঠাৎ তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় হত্যাকারী। দেশে-বিদেশে চিকিৎসা চলল কিন্তু হাদি আর ফিরে এলেনন না। যুক্ত হয়ে গেলেন শহিদী কাফেলায়। তারা চেয়েছিল হাদির বৈপ্লবিক কাজকে থামিয়ে দিতে।

“তারা কি সফল হয়েছিল আব্বু?” সিনানের কণ্ঠে এখন আর ভয় নেই; বরং একটা অদ্ভুত দৃঢ়তা কাজ করছে।

সাইফুল্লাহ সাঈদ গর্বের হাসি হাসলেন। “না সিনান, তারা একদম সফল হয়নি; বরং তারা তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা করেছিল। তারা বুঝতে পারেনি যে, ওসমান হাদি শুধু একটা মানুষের নাম নয়, হাদি হলো একটা চেতনার নাম, একটা স্বপ্নের নাম। তারা একজন হাদিকে শহীদ করেছিল ঠিকই, কিন্তু পরদিন সকালে সারা দেশের লাখ লাখ কিশোর, তরুণ আর শিশু রাস্তায় নেমে এলো। তাদের চোখে কোনো ভয় ছিল না, ছিল আগুন। তারা বুঝতে পেরেছিল, হাদি ভাই তাদের জন্যই নিজের জীবন দিয়েছেন। আর সেদিন থেকেই সারা দেশের শিশু-কিশোররা একটা স্লোগান বুকে ধারণ করে নিল।”

সিনান বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে নিজের অজান্তেই বলে উঠল, “আমরা সবাই হাদি হবো!”

“ঠিক তাই,” বাবা বললেন। “হাদি শহীদ হওয়ার পর থেকে সে চিরস্থায়ীভাবে তোমাদের মতো কিশোরদের মনে আসন গেড়ে নিয়েছে। এখন তুমিই বলো, হাদি কি মরে গেছে? না। সে বেঁচে আছে তোমার তুলির রঙে, তোমার নাটকের সংলাপে, তোমাদের গানে আর কবিতায়। যখনই তোমরা ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে গিয়ে নিজেদের দেশের কথা বলো, নিজেদের সংস্কৃতির চর্চা করো, তখনই হাদি সেখানে ফিরে আসে। শত্রুরা হাদির শরীরটাকে কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু তার আদর্শকে তারা এক চুলও টলাতে পারেনি।”

সিনান অনেকক্ষণ চুপ করে রইল। দশ বছরের একটা ছোট্ট ছেলের মনে যেন আজ অনেক বড় একটা পৃথিবীর দরজা খুলে গেছে। সে বুঝতে পারল, কেন সে প্রতিদিন এই স্লোগানটা দেয়। সে বুঝতে পারল, আর্ট পেপারে লেখা ওই লাল-সবুজ অক্ষরগুলোর আসলে কত দাম। ওসমান হাদি কোনো রূপকথার রাজপুত্র ছিলেন না, তিনি ছিলেন তাদেরই বড় ভাই, যিনি তাদের জন্য একটা সুন্দর, স্বাধীন আর নিজস্ব সংস্কৃতির দেশ রেখে যাওয়ার জন্য নিজের জীবন দিয়েছেন।

সিনান বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল। সে সোজা গিয়ে তার পড়ার টেবিলের সামনে দাঁড়াল। আর্ট পেপারের ওপর লেখা ‘আমরা সবাই হাদি হবো’ স্লোগানটার দিকে সে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল। তার মনে হলো, হাদি আঙ্কেল যেন আকাশ থেকে তার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসছেন।

সে পেছন ফিরে তার বাবার দিকে তাকিয়ে খুব শক্ত গলায় বলল, “আব্বু, আমি কথা দিচ্ছি, হাদি আঙ্কেলের স্বপ্ন আমরা কখনো নষ্ট হতে দেব না। ওই খারাপ মানুষগুলো যারা আমাদের দেশের সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের আমরা আমাদের গান দিয়ে, আমাদের নাটক দিয়ে, আর আমাদের শিল্প দিয়ে হারিয়ে দেবো। কালকে নাটকের শেষে যখন আমি মঞ্চে দাঁড়াব, আমি সবচেয়ে জোরে স্লোগান দেবো।”

সাইফুল্লাহ সাঈদ উঠে এসে ছেলের কপালে একটা চুমু খেলেন। তার বুকটা আজ এক অজানা শান্তিতে ভরে গেছে। তিনি জানেন, এই প্রজন্ম কখনো হার মানবে না। চব্বিশের বিপ্লব যে নতুন দিনের সূচনা করেছে, সেই দিনে হাদির মতো বীরেরা কখনো হারিয়ে যাবে না।

পরদিন বিকেলে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের বিশাল হলরুম দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ। মঞ্চে তখন নাটক চলছে। সিনান আর তার বন্ধুরা অসাধারণ অভিনয় করছে। নাটকের গল্পটাও ছিল এমন একদল সাহসী কিশোরের, যারা ভিনদেশি দানবদের হাত থেকে নিজেদের দেশের রূপকথার গল্পগুলোকে উদ্ধার করে আনছে।

দর্শকের সারিতে বসে আছেন সাইফুল্লাহ সাঈদ। তিনি মুগ্ধ হয়ে দেখছেন তার দশ বছরের ছেলেটার অভিনয়। নাটকের একেবারে শেষ দৃশ্য। সিনান আর তার বন্ধুরা হাতে হাত রেখে মঞ্চের ঠিক মাঝখানে এসে দাঁড়াল। সবার হাতে সেই লাল-সবুজ রঙে আঁকা পোস্টার।

হলরুমের পিনপতন নীরবতা ভেঙে সিনান তার ছোট্ট কিন্তু তেজোদীপ্ত কণ্ঠে চিৎকার করে উঠল, “আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের অহংকার!”

সাথে সাথে তার সব বন্ধু এবং হলরুমে বসে থাকা শত শত শিশু-কিশোর একসাথে মুষ্টিবদ্ধ হাত ওপরে তুলে বজ্রকণ্ঠে স্লোগান দিয়ে উঠল-“আমরা সবাই হাদি হবো! আমরা সবাই হাদি হবো!” স্লোগানের শব্দে কালচারাল সেন্টারের দেওয়ালগুলো যেন কেঁপে উঠল। সাইফুল্লাহ সাঈদের চোখ দিয়ে আনন্দ আর গর্বের অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। তিনি নিশ্চিত জানতেন, এই আওয়াজ শুধু এই হলরুমের ভেতরেই আটকে নেই। এই আওয়াজ ছড়িয়ে পড়ছে বাংলার প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি শহরে। ষড়যন্ত্রকারীদের কালো থাবা গুটিয়ে যাচ্ছে এই নতুন প্রজন্মের আলোর বন্যায়।

ওসমান হাদি শহীদ হয়েছেন, কিন্তু তিনি রেখে গেছেন লাখো কোটি নতুন হাদি। এই শিশু-কিশোরদের অন্তরে তিনি এক চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছেন, যে আসন টলানোর সাধ্য পৃথিবীর কোনো অশুভ শক্তির নেই। সত্য আর নিজস্বতার এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত হাদিরাই জিতবে, বাংলাদেশই জিতবে।

কবির ভাষায় বিপ্লবী ওসমান হাদি উঠে এসেছেন ঠিক  এভাবে-

ওসমান হাদি

বুক তার বাংলার জমিন

নতহীন শির,

ভাটি বাংলার তরুণ তুর্কি

শহীদ তিতুমীর।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ