ভালো ছাত্র হতে চাও?

ক্যারিয়ার গাইডলাইন কিশোর কল্লোল জানুয়ারি ২০২৫

আচ্ছা তোমাদের মা কিংবা বাবা নিশ্চয়ই বলেন, ‘তোমার চাচাতো ভাই কত্ত মেধাবী, আর তুমি এমন হয়েছ কেন?’ কিংবা তারা বলেন, ‘আতিক তো সব পারে, তুমি পার না কেন?’ এই কথা শুধু তোমাদের নয়, কিশোর বয়সে প্রায় সবাইকে শুনতে হয়েছে। বর্তমানে যে বিশ্বের শীর্ষ ধনী, হয়তো তাকেও শুনতে হয়েছে। আসল কথা হলো, বাবা-মা আমাদের ভালো চান। তাই তারা আমাদের এভাবে বলেন। তাই তোমরা যখন ভালো কিছু করো, তারা কিন্তু ঠিকই তখন তোমাদের নিয়ে গর্ব করে। তাহলে তোমাদের করণীয় কী? 

তোমার করণীয় হলো, পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়া। স্কুল-কলেজে ভালো রেজাল্ট করা। তোমাদের ভুলে গেলে চলবে না, সব মানুষ সমান মেধা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে না। কিন্তু চেষ্টা থাকলে অনেক ভালো কিছু করা সম্ভব। আর সবসময় মনে রাখতে হবে, আল্লাহতায়ালা তাকেই সাহায্য করেন যে নিজে চেষ্টা করে। 

তাই তোমরা যারা ভালো ছাত্র হতে চাও তাদের জন্য এই লেখা। এখানে শুধু কয়েকটা টপিক বলা হলো, এগুলো নিয়মিত মেনে চললে নিজেকে একজন ভালো ছাত্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

সময় ও কাজের সমন্বয় : সারা দিন ধরে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো কিংবা পাঁচ মিনিট পড়ার পর ৫০ মিনিট বিশ্রাম নেওয়া মোটেই ভালো অভ্যাস নয়। আমরা খাবারের সঙ্গে পুষ্টি গ্রহণ করি ও কাজের মাধ্যমে যে শক্তি ব্যয় করি তা খুবই মূল্যবান। তাই এগুলোর যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। ভালো ছাত্র হতে অবশ্যই নিজের সময়কে সেরা ব্যবহার করতে হবে। ছাত্রজীবনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দরকার আছে। কিন্তু পড়ালেখা সবার আগে। তাই তোমাদের করণীয় হলো, কাজকে ছোট ছোট করে ভাগ করে নেওয়া। তারপর সময়ের সঙ্গে সেগুলোকে সমন্বয় করতে হবে। যারা ভালো ছাত্র তারা এটা করে।

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য : একজন পথচারীর যদি কোনো গন্তব্য বা লক্ষ্য না থাকে, তাহলে তিনি পথে পথে ঘুরবেন। একইভাবে একজন ছাত্রের যদি কোনো লক্ষ্য না থাকে, তাহলে সে নিজেও বুঝতে পারবে না- কোথায় যেতে হবে। এ কারণে তোমাদের একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। তারপর সেই অনুযায়ী পড়তে হবে। মেধাবী ও ভালো ছাত্ররা জানে তাদের লক্ষ্য কী।

শেখার সঠিক কৌশল ব্যবহার : ভালো ছাত্র হতে অবশ্যই শেখার জন্য সঠিক ও কার্যকর কৌশল মেনে চলতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো, সঠিক কৌশল কী? এগুলো আসলে মানুষভেদে আলাদা হয়। কারণ সবার জন্য একই কৌশল কাজ করবে না। যেমন- কেউ সকালে পড়তে করতে পছন্দ করে, আবার কেউ কেউ রাতে পড়াকে সহজ মনে করে। এজন্য তোমাদের আগে খুঁজে বের করতে হবে তোমার জন্য কোন সময়টা ভালো হবে। সেই অনুযায়ী পড়ার রুটিন ঠিক করতে হবে।

নিরিবিলি পড়ার রুম : পরিবারের সবার মধ্যে বসে পড়ায় মনোযোগী হওয়া যায় না। আবার রাস্তার পাশে কিংবা গলিতে আইসক্রিমওয়ালার চিৎকার কানে এলে মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। কিন্তু পড়া মনে রাখতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মনোযোগ ধরে রাখা। এজন্য পড়ার রুম হিসেবে তোমারা বাড়ির সবচেয়ে নিরিবিলি রুমটা বেছে নিতে পারো। তাহলে কোনো গোলমাল বা শব্দ বিরক্ত করতে পারবে না।

প্রশ্ন করতে শেখা : ক্লাসে শেখার সেরা উপায় হলো প্রশ্ন করা। ক্লাসরুমে অবশ্যই শিক্ষককে প্রশ্ন করতে হবে। আর ভালো ছাত্র হতে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বিষয়ে মনে কোনো প্রশ্ন এলে বা কোথাও বুঝতে সমস্যা হলে অবশ্যই শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করতে হবে। তাহলে তিনি বুঝিয়ে বলবেন। কিন্তু মনের মধ্যে সংকোচ রেখে প্রশ্ন না করলে, ওই বিষয়টি আর ভালোভাবে শেখা হয়ে ওঠে না।

অনুপ্রাণিত থাকা : ভালো ছাত্ররা সবসময় অনুপ্রাণিত থাকে। তাই তোমাদের উদ্দেশ্য যদি হয় ভালো ছাত্র হওয়া, তাহলে এটি মানতে হবে। নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখতে হবে। কিন্তু কীভাবে? এই ‘কীভাবে’র অনেকগুলো উত্তর আছে। তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো, ভয় না পাওয়া। পড়ালেখাকে মোটেও ভয় পাওয়া যাবে না। যত কঠিন হোক না কেন সহজভাবে নিতে হবে। তাহলেই অনুপ্রাণিত থাকা সম্ভব। আরেকটি উত্তর হলো, জীবন ও শেখাকে উপভোগ করা।

এক্সট্রাকারিকুলাম অ্যাক্টিভিটি : সারা বছর ধরে শুধু সিলেবাস নিয়ে পড়ে থাকতে হবে তা কিন্তু নয়। তোমরা যদি ভালো ছাত্রদের দেখো, তাহলে দেখবে তারা শুধু পড়ালেখা নয়- অনেক কিছুতেই নিজেকে ব্যস্ত রাখে। সিলেবাসের বাইরে বিভিন্ন সৃজনশীল কাজ করে। এতে তাদের মেধার বিকাশ ভালোভাবে হয়। আর সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত থাকলে মাথার মধ্যে অন্য চিন্তা জায়গা পাবে না।

সময়োপযোগী হওয়া : যেসব ছাত্র সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করে না, তারা কখনোই ক্লাসে বা ক্লাসের বাইরে ভালো করতে পারে না। তাই ভালো ছাত্র হতে সময়োপযোগী হতে হবে। মনে রাখবে, সময়ানুবর্তিতা সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।

ভালো শ্রোতা হওয়া : একজন ভালো ছাত্র একজন ভালো শ্রোতা। কোনো কিছু যদি মনোযোগ সহকারে না শোনা হয়, তাহলে শিক্ষকও বিরক্ত হন। তোমাদের একটি পরিসংখ্যান জানিয়ে রাখি, যেকোনো বিষয় ভালোভাবে শেখার ৮০ শতাংশ নির্ভর করে মনোযোগ সহকারে শোনার ওপর।

এর বাইরে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে হবে। প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে। বাবা-মায়ের কথা মেনে চলতে হবে। কারণ ভালো ছাত্র হওয়া মানে শুধু ভালো রেজাল্ট নয়। বরং ভালো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ