বাটন ফোন

তোমাদের গল্প ইসমাঈল হাসান আম্মার এপ্রিল ২০২৫

রাত ৩টা বাজে। হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙে গেল, এখন যদি আবার ঘুমিয়ে পড়ি তাহলে ফজরের নামাজ কাজা হয়ে যাবে ভেবে উঠে বসলাম। রাতে পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়া কিশোরকণ্ঠ জুলাই ২০২৪ সংখ্যাটি দেখি পাশেই পড়ে আছে। ভাবলাম বইটা পড়ে বাকি রাতটুকু কাটিয়ে দেই। বেশ কিছু দিন হলো বইটি আনা হয়েছে। বাসায় তখন শুধু আমি, মা-বাবা গ্রামে গিয়েছেন। যাই হোক আমি বইটি খুলে দেখতে থাকি, সব গল্পই প্রায় পড়া শেষ। দু’একটি বাকি। দেখতে দেখতে সামনে এলো কিশোরকণ্ঠে প্রকাশিত এনায়েত রসূলের লেখা ঝিল কন্যা গল্পটি। বেশ কষ্টের একটি ভাইহীন বোনের গল্প। পড়তে পড়তে কখন যে সময় পার হয়ে গেছে, টেরই পাইনি। বেশি দিন হয়নি আমি এই কিশোরকণ্ঠ পড়া ধরেছি। গল্পটি পড়া শেষ। ফজরের আজান হতে এখনো বেশ কিছু সময় বাকি, ভাবলাম অজু করে একটু কুরআন শরিফ তেলাওয়াত করি, অনেক দিন হলো তেলাওয়াত করা হচ্ছে না। সূরা ইয়াসিন পড়া শেষ হতে না হতেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চারিদিকটা অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যায়। আম্মুর রেখে যাওয়া বাটন ফোনটি হাতে নিয়ে ফোনের টর্স লাইট অন করলাম। ভাবলাম পাশের বাসার আরিফকে ডাকি, ওকে নিয়ে মসজিদে যাবো। আমি পাঞ্জাবি-টুপি পরে রওনা দিলাম। যাওয়ার পথে মনে পড়লো ওরা নানা বাড়ি বেড়াতে গিয়েছে। এখন আর কী করার? একা একা মসজিদের পথে হাঁটা শুরু করলাম। বেশ একটু ভয় ভয় লাগছিল! রাস্তায় কোন মানুষ নেই। কুকুরগুলোও আজ ডাকছে না। হাঁটতে হাঁটতে দেখি একটি সাদা প্রাইভেট কার দ্রুত গতিতে আমার দিকে ছুটে আসছে। আমি তাড়াতাড়ি সামনে যেতে থাকি, গাড়িটা তার পরও আমার দিকে আসতে থাকে। আমি বুঝতে পারি ডালমে কুচ কালা হ্যায়। আমি ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে প্রাইভেট কারের ব্যাক ডালায় আবিষ্কার করি। নিঃশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। আমি আল্লাহকে স্মরণ করে মুখস্থ থাকা সব দোয়াগুলো পড়তে থাকি। মনে মনে আল্লাহকে বলতে থাকি ‘হে আল্লাহ আমি তোমার উপর ভরসা করছি, তুমি ছাড়া আমাকে এ বিপদ থেকে আর কেউ উদ্ধার করতে পারবে না। মনে পড়ল, আমিতো নামায পড়তে যাচ্ছিলাম, তাতো আর পড়া হলো না। গাড়ির ব্যাক ডালায় লেগে থাকা ধুলায় হাত লাগিয়ে তায়াম্মুম শেষে অনুমান করে কিবলার দিকে মুখ করে ইশারায় ফজর আদায় করলাম। সালাম ফিরাতেই হঠাৎ মনে পড়ল টর্চ লাইট জ্বালিয়ে মসজিদে যাবার জন্য বাসা থেকে নিয়ে আসা বাটন ফোনটি আমার পকেটেই আছে। ফোনটি বের করে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে ঘটনাটি পুলিশকে জানাই। পুলিশ আমার ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে পিছু নেয়। সামনে একটি ব্রিজের টোলপ্লাজা থাকায় আমাকে বহন করা গাড়িটি থামতে বাধ্য হয়। মুহূর্তেই পুলিশ গাড়িটিকে ঘিরে ফেলে এবং আমাকে উদ্ধার করে আর ড্রাইভারসহ ৪ জন পাচারকারীকে আটক করে নিয়ে যায়। এভাবেই আল্লাহ আমাকে কঠিন বিপদ থেকে উদ্ধার করেন।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ