এককালের শ্যামদেশ এখন থাইল্যান্ড । মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

ব্লগ ডিসেম্বর ২০১৮

[caption id="attachment_12147" align="aligncenter" width="451"]এককালের শ্যামদেশ এখন থাইল্যান্ড থাইল্যান্ডে ফি ফি দ্বীপ[/caption]

থাইল্যান্ড বা তাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। এর সরকারি নাম তাইরাজ্য। দেশটির রাজধানী ও বৃহত্তম শহর ব্যাংকক। থাইল্যান্ড হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র রাষ্ট্র যা যুদ্ধকালীন সময়ে ছাড়া কখনো কোন ইউরোপীয় বা বিদেশী শক্তির নিয়ন্ত্রণে ছিল না। থাইল্যান্ডের দক্ষিণে মালয়েশিয়া, পশ্চিম-উত্তরে মিয়ানমার, উত্তর-পূর্ব দিকে লাউস এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে কম্বোডিয়া।

১৭৮২ সাল থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত দেশটিতে পরম রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত ছিল। ১৯৩২ সালে বিদ্রোহীরা একটি অভ্যুত্থান ঘটায় এবং দেশে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। তখন থেকে আজ পর্যন্ত থাইল্যান্ড বহু সামরিক ও বেসামরিক সরকারের অধীনে শাসিত হয়েছে। ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত দেশটি শ্যামদেশ নামে পরিচিত ছিল। ঐ বছর এর নাম বদলে থাইল্যান্ড রাখা হয়। তবে ১৯৪০-এর দশকের শেষের দিকে আবারও একে শ্যামদেশ নামে ডাকা হতো। ১৯৪৯ সালে দ্বিতীয়বারের মত থাইল্যান্ড নামটি গ্রহণ করা হয়।

থাইল্যান্ডের মধ্যভাগে রয়েছে একটি বিস্তীর্ণ উর্বর সমভূমি। এই সমভূমির মধ্য দিয়ে দেশের প্রধান নদী চাও ফ্রায়া এবং এর শাখানদী ও উপনদীগুলো প্রবাহিত হয়েছে। এই অঞ্চলে দেশের ধান ও অন্যান্য ফসলের অধিকাংশের আবাদ হয়। মধ্যভাগের সমভূমির পশ্চিম, উত্তর ও পূর্ব দিক ঘিরে রেখেছে পাহাড় ও মালভূমি। পশ্চিমের পর্বতশ্রেণী দক্ষিণ দিকে মালয় উপদ্বীপে প্রসারিত হয়েছে। রাজধানী ব্যাংকক চাও ফ্রায়া নদীর মোহনায় থাইল্যান্ড উপসাগরের তীরে অবস্থিত।

[caption id="attachment_12148" align="aligncenter" width="436"]থাইল্যান্ডের একটি প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা থাইল্যান্ডের একটি প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা[/caption]

থাইল্যান্ডের আয়তন ৫ লাখ ১৩ হাজার ১২০ বর্গকিলোমিটার (১,৯৮,১২০ বর্গমাইল)। জনসংখ্যা ৬ কোটি ৮৮ লাখ ৬৩ হাজার ৫১৪ জন। থাইল্যান্ডের জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ থাই জাতির মানুষ। এরা প্রায় সবাই (৯৪.৫০%) থেরবাদী বৌদ্ধধর্ম পালন করে। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছে মুসলিম ৪.২৯%, খ্রিষ্টান ১.১৭% ও হিন্দু ০.৩%। থাইল্যান্ডে বসবাসকারী অন্যান্য জাতির মধ্যে আছে চীনা, মালয় ও আদিবাসী পাহাড়ি জাতি, যেমন মং ও কারেন। কৃষিপ্রধান দেশ হলেও ১৯৮০-র দশক থেকে থাইল্যান্ডের অর্থনীতির দ্রুত উন্নতি ঘটছে। দেশের আমদানি রফতানি বাণিজ্য মূলত পাতায়া শহরের নিকটবর্তী লায়েম চাবাঙ বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। থাইল্যান্ডের মুদ্রার নাম থাই বাথ।

বান চিয়াং সংস্কৃতির সময় থেকেই থাইল্যান্ডে বিভিন্ন স্থানীয় সংস্কৃতি বিরাজ করছিল। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এর সংস্কৃতিতে ভারত, চীন এবং অন্যান্য দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় প্রতিবেশীর সংস্কৃতির প্রভাব পড়েছে। প্রথম সিয়ামিজ/থাই রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় বৌদ্ধ সুখোথাই সাম্রাজ্যকে, যার সূচনা হয় ১২৩৮ সালে। চতুর্দশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে বৃহত্তর সিয়ামিজ সাম্রাজ্য আয়ুত্থাইয়া প্রাধান্য লাভ করে। ১৪৩১ সালে সিয়ামিজ সৈন্যরা অ্যাংকর লুণ্ঠন করার পর অ্যাংকরের অনেক হিন্দুপ্রথা ও আচার-অনুষ্ঠান সিয়ামের সংস্কৃতির অংশ হয়ে পড়ে।

১৭৬৭ সালে বর্মিদের হাতে আয়ুত্থাইয়ার পতনের পর কিছুকাল রাজা তাকসিনের অধীনে থোনবুরি থাইল্যান্ডের রাজধানী ছিলো। ১৭৮২ সালে রাজা প্রথম রাম চাকরি সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসেবে ব্যাংকককে বেছে নেন।

[caption id="attachment_12149" align="aligncenter" width="533"]থাইল্যান্ডের মহানাখন আকাশচুম্বী ভবন থাইল্যান্ডের মহানাখন আকাশচুম্বী ভবন[/caption]

ষোড়শ শতাব্দী থেকে থাইল্যান্ডে ইউরোপীয় শক্তিগুলির আগমন ঘটতে থাকে। তবে তাদের প্রচুর চাপ সত্ত্বেও থাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র দেশ যা কোন ইউরোপীয় শক্তির উপনিবেশে পরিণত হয়নি। এর প্রধান দু’টি কারণ হলো সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকে থাইল্যান্ডে ধারাবাহিকভাবে যোগ্য শাসকের শাসন এবং ব্রিটিশ ও ফরাসিদের মধ্যকার শত্রুতার সুযোগ নেয়া। অবশ্য ইউরোপীয় চাপের কারণে তারা ঊনবিংশ শতকে বিভিন্ন সংস্কার করতে বাধ্য হয় এবং ব্রিটিশদের ব্যবসায়িক সুবিধার জন্য কিছু বড় ছাড় দিতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, ১৯০৯ সালে অ্যাংলো-সিয়ামিজ চুক্তির ফলে তারা দক্ষিণের তিনটি প্রদেশ হারায় যা পরবর্তীতে মালয়েশিয়ার তিনটি উত্তর প্রদেশে পরিণত হয়।

১৯৩২ সালে একটি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের ফলে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে থাইল্যান্ড জাপানের পক্ষ নেয়, তবে যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রে পরিণত হয়। থাইল্যান্ড উপর্যুপরি বেশ কিছু সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যায়। ১৯৮০-এর দশকে তাদের গণতন্ত্রে উত্তরণ ঘটে। ২০০৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সামরিক বাহিনী থাকসিন সিনাওয়াত্রার নির্বাচিত সরকারকে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত করে।

থাইল্যান্ড বর্তমানে সামরিক জান্তার অধীনে একটি একক সংসদীয় সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। এ দেশের বর্তমান রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ণ এবং প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ও-চা। ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৬-এর সামরিক অভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশটি একটি কার্যকর গণতন্ত্র হিসেবেই বিবেচিত হয়েছিল। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে একটি বহুদলীয়, মুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটিতে গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়। থাইল্যান্ডের সংবিধানে রাজাকে খুব কম ক্ষমতাই দেয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি জাতীয় পরিচয় ও ঐক্যের প্রতীক।

[caption id="attachment_12150" align="aligncenter" width="478"]থাইল্যান্ডে ধানক্ষেতে কর্মরত কৃষকরা। দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম চাল রফতানিকারক থাইল্যান্ডে ধানক্ষেতে কর্মরত কৃষকরা। দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম চাল রফতানিকারক[/caption]

২০০৭ সালের সংবিধান অনুযায়ী থাইল্যান্ডের জাতীয় আইনসভা দু’টি কক্ষে বিভক্ত- সিনেট বা উচ্চকক্ষ এবং প্রতিনিধিসভা বা নিম্নকক্ষ। উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা ১৫০; এদের মধ্যে ৭৬ জন জনগণের সরাসরি ভোটে প্রতি প্রদেশ থেকে ১ জন করে নির্বাচিত হয়ে আসেন। বাকি ৭৪ জন সিনেট সদস্য নির্বাচন কমিশনের তৈরি করা একটি তালিকা থেকে বিচারক ও ঊর্ধ্বতন অফিসারদের দ্বারা বাছাই হন। নিম্নকক্ষে ৪৮০ জন সদস্য এবং এদের মধ্যে ৪০০ জন থাইল্যান্ডের বিভিন্ন জেলা ও নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। বাকিদেরকে বিভিন্ন দলের তৈরি করা তালিকা থেকে আনুপাতিক হারে বাছাই করা হয়।

থাইল্যান্ডের আইনব্যবস্থায় ঐতিহ্যবাহী থাই এবং পশ্চিমা আইনের সম্মিলন ঘটেছে। সংবিধান অনুসারে সাংবিধানিক আদালত হলো আপিল বিভাগের সর্বোচ্চ আদালত। বিচারক, সংসদীয় নেতা এবং ঊর্ধ্বতন নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের একটি কমিটি সাংবিধানিক আদালতের সদস্যদের মনোনয়ন দেন। সিনেট তাদের মনোনয়ন নিশ্চিত করে এবং রাজা তাদেরকে কাজে নিয়োগ দেন। থাইল্যান্ডের দক্ষিণ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে, যেখানে মুসলমানরা সংখ্যাগুরু, সেখানে প্রাদেশিক ইসলামী কমিটিসমূহ সীমিত পরিসরে পারিবারিক, বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত সালিস পরিচালনা করতে পারে।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের গভর্নর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। কিন্তু থাইল্যান্ডের বাকি ৭৫টি প্রদেশের গভর্নর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিযুক্ত হন।

থাইল্যান্ডের পুরো ভূমি মূল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যভাগে পড়েছে। দেশটির এই ভৌগোলিক অবস্থান জাতির সমাজ ও সংস্কৃতিকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছে। দেশটি এশিয়া থেকে মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর যাওয়ার একমাত্র পথ নিয়ন্ত্রণ করে।

থাইল্যান্ডকে ভৌগোলিকভাবে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করা যায়। দেশের উত্তরাঞ্চল পাহাড়ি, সর্বোচ্চ শিখর দোই ইন্থাননের উচ্চতা ২,৫৭৬ মিটার (৮,৪৫১ ফুট)। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রয়েছে খোরাত মালভূমি, যার পূর্ব সীমা দিয়ে বয়ে চলেছে মেকং নদী। দেশের মধ্যাঞ্চলের বৃহদাংশ জুড়ে আছে চাও ফ্রায়া নদীর প্রধানত সমতল উপত্যকা। দক্ষিণ দিকে সরু ক্রা যোজক মালয় উপদ্বীপে বিস্তৃত হয়েছে।

[caption id="attachment_12151" align="aligncenter" width="488"]ব্যাংককের ওয়াত ফ্রা কিউ মঠ ব্যাংককের ওয়াত ফ্রা কিউ মঠ[/caption]

এখানকার জলবায়ু বিষুবীয় এবং মৌসুমি বায়ু দ্বারা প্রভাবিত। মধ্য মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম উষ্ণ, আর্দ্র মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়, আবার নভেম্বর থেকে মধ্য মার্চ পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব শুষ্ক, শীতল মৌসুমি বায়ুর প্রভাব দেখা যায়। দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়া সবসময়ই উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে। এখানকার গড় তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

থাই ভাষার আদর্শ রূপ থাইল্যান্ডের সরকারি ভাষা। এই আদর্শ থাই ভাষাতে এখানকার প্রায় ৪০% লোক কথা বলে। এ ছাড়া থাই ভাষার অন্যান্য উপভাষায় আরো প্রায় ৫০% লোক কথা বলে। থাইল্যান্ডে আরো প্রায় ৭০টি ভাষা প্রচলিত। এদের মধ্যে দক্ষিণ মিন ভাষা (চীনা ভাষার একটি উপভাষা, যার বক্তাসংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ), মালয়ভাষা (বক্তাসংখ্যা প্রায় ২৪ লক্ষ), এবং খমের ভাষা (বক্তাসংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ) উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা হয়।

[caption id="attachment_12152" align="aligncenter" width="513"]লুমফিনি পার্কসহ ব্যাংককের ছবি লুমফিনি পার্কসহ ব্যাংককের ছবি[/caption]

বাংলাদেশ থেকে যে কয়টি দেশে সহজেই যাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ড একটি। থাইল্যান্ডে আন্ডারওয়ার না পরে বাইরে যাওয়া আইনত দণ্ডনীয়। আবার কোমরের ওপর খোলা শরীর নিয়ে গড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

থাইল্যান্ডের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে মূলত পর্যটনের ওপর। স্রেফ পর্যটনের ওপর ভর করে কিভাবে একটা দেশের অর্থনীতি চলতে পারে, তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। থাইল্যান্ডে ঘুরতে আসা মোট বিদেশি পর্যটকের প্রায় ৩০ শতাংশই ভারতীয়। বিমানবন্দরের বাইরে পা রাখলেই মনে হবে পৌঁছে গেছি ইউরোপের কোনও শহরে। ঝকঝকে রাস্তা, ঝাঁ-চকচকে আকাশছোঁয়া বহুতল ভবন। অফিস বা বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে যেসব ফুটপাথ ফাঁকা, রাতে সেগুলো জমজমাট বাজার হয়ে যায়, চেনাই যায় না যে দিনে এলাকাটা এত ফাঁকা ছিল। এগুলো মূলত নাইট বাজার।

[caption id="attachment_12153" align="aligncenter" width="518"]থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল পার্ক থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল পার্ক[/caption]

ব্যাঙ্ককের ফুটপাথের অন্যতম আকর্ষণ স্ট্রিট ফুড স্টল। দু-পা অন্তর চোখে পড়বে হরেক রকমের থাই-ফুডের পসরা। বেশির ভাগ স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাই ইংরেজি জানেন না। পাহাড়, সমুদ্রঘেরা ছোট্ট শহর পাতায়া। শহর ছোট হলেও এর আকর্ষণ অপরিসীম। বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যায় ভ্রমণপিয়াসী মানুষ থাইল্যান্ড ভ্রমণে যান। কেউ যান ব্যবসায়িক কারণে, কেউবা চিকিৎসার জন্য এবং অনেকেই যান নিছক ভ্রমণের জন্য। ব্যাংকক শহরে বেশ কয়েকটি ব্রিজ আছে।

থাইল্যান্ডের পাতায়ার পর্যটকদের কমপক্ষে ৪০% আসে মধ্যপ্রাচ্যের আরব আমিরাত, ইরাক, ইরান, সুদান, মিসর ইত্যাদি দেশ থেকে। থাইল্যান্ডের সব গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকাগুলো তিন ভাষা থাই, আরবি ও ইংরেজিতে লেখা। থাইল্যান্ড ভ্রমণপিপাসুদের জন্য অতি আকর্ষণীয় একটি দেশ। পাতায়ায় মাদাম তুসুর অনুকরণে মোমের তৈরি সেলিব্রিটিদের একটি গ্যালারিও আছে। থাইল্যান্ড বস্তুত গৌতম বুদ্ধের দেশ। অসংখ্য ছোট বড় বুদ্ধমূর্তি দিয়ে পুরো দেশ ভর্তি।

[caption id="attachment_12154" align="aligncenter" width="451"]সিরিরজি হাসপাতাল সিরিরজি হাসপাতাল[/caption]

রাজধানী ব্যাংকক থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে পাতায়া। পাতায়া থেকে সমুদ্রের ভেতরে তাকালেই দেখা যায় অসংখ্য কোরাল দ্বীপ। পাতায়ায় রয়েছে অসংখ্য হোটেল, রিসোর্ট, রেস্ট হাউজ। খাবার হোটেল নিয়েও ভাবতে হবে না। বেশ কয়েকটি বাংলা-ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। টাকি ভর্তা থেকে শুরু করে নানা স্বাদের সামুদ্রিক মাছও পাওয়া যায় সেখানে।

ব্যাংককের আসল নাম ক্রুং থেপ বা দেবদূতের শহর। আত্মিকভাবে, বাহ্যিকভাবে এবং প্রতীকীভাবেও এখানকার মানুষ তাই বিশ্বাস করে। কেউ এখানে প্রথম এলে তার মনে ব্যাংকক একটা আধুনিক মহানগরী হিসেবে ছাপ ফেলতে পারে গগনচুম্বী অট্টালিকা, কনডোজ, হোটেল, দোকানপাট এবং আধুনিক শপিং মলের ছড়াছড়ি দেখে। এটা ব্যাংককের মাত্র একটি আকর্ষণীয় দিক। এই শহর সত্যিই প্রাচ্যের একটি বিচিত্র শহর।
                        
আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ