Home Featured শিক্ষাপাতা সুলুসশৈলীতে হুরুফে কা’সিয়ার “সিন” -মোহাম্মদ আবদুর রহীম

সুলুসশৈলীতে হুরুফে কা’সিয়ার “সিন” -মোহাম্মদ আবদুর রহীম

চারদিকে কুয়াশার চাদরে সকালটা ঢেকে আছে। মিষ্টি রোদের অপেক্ষায় বাড়ির গাছপালা থেকে শিশির ফোঁটা টুপটাপ ঝরে পড়ছে। বেশ শীত পড়ছে শেষরাত থেকে সকাল অবধি। এর ভেতর সকাল সকাল ক্যালিগ্রাফির ছাত্ররা গায়ে গরম কাপড় পরে এসে বসেছে। গত ক্লাসের দরসের পর আজ বাটিওলা হরফ নিয়ে দরস হবে। আজকে সবাই খুব মনোযোগী। রায়হান ক্লাসে ঢুকে সবাইকে সালাম দিলো। ক্লাসের বন্ধুরা জোরে সালামের জবাবে অলাইকুম সালাম অরাহমাতুল্লাহ বলে কুশল জানতে চাইল। রায়হান আলহামদুলিল্লাহ বলে উত্তর দিলো।
ক্লাসের পাঠদানের শুরুতে রায়হান বলল, তোমরা জানো “বাটিওলা বা হুরুফে কা’সিয়া” নিয়ে আজ দরস হবে। সবাই সমস্বরে বলে উঠল, জি উস্তাদজি। রায়হান বলল, হুরুফে কা’সিয়ার সিন হরফ শিখবো ইনশাআল্লাহ।
আমরা “সিন” হরফের মুফরাদাত (স্বতন্ত্র গঠন ও আকৃতি) শিখবো। সিন হরফটির মুফরাদাত সুলুস শৈলীতে দুইটি সুরতে (প্রতিকৃতি) এসেছে। সিন আদি এবং সিন র’স কাসিদা বা মুরসাল। কম্পোজিশনের ক্ষেত্রে সিন আদির ব্যবহার বেশি দেখা যায়। সিন র’স কাসিদার ব্যবহার হয় কম্পোজিশনে অথবা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে। সিন হরফের র’স দুই সুরতে আসে। সিন র’স আদি ও সিন র’স কাসিদা।
আমরা র’স দিয়ে লেখা শুরু করি। র’স আদির এবতেদা হুরুফে খামসার পয়লা দাঁত এক কৎ, ওপর থেকে ডানে সামান্য মায়েল (হেলানো) হয়ে নিচে নামবে। কলম প্রায় ৬০ ডিগ্রি জাবিয়া রেখে নামাতে হবে। তারপর কলম এক কৎ বরাবর ডান থেকে বামে অর্ধ বৃত্তাকার হয়ে সামান্য এরতেফা হয়ে প্রায় এক কৎ ৯০ ডিগ্রি বরাবর উঠবে। সেখান থেকে কলম এক কৎ বরাবর নুযুল হয়ে বামে যাবে দেড় কৎ এবং কলম ৯০ ডিগ্রি জাবিয়া হয়ে এক কৎ উঠবে। এই র’সের সাথে আমরা নুনের জিসম মেলালেই সিন আদি হরফ হয়ে যাবে।
আমরা নুন হরফকে পরিচিতির জন্য হরফে কা’স বলি আর এই নুন হরফ যেসব হরফের সাথে মিলে, সবগুলোকে একত্রে “হুরুফে কা’সিয়া” বলা হয়। এধরনের যত পরিভাষা আছে তা নিয়ে মুসতলাহাতুল খত নামে কিতাব আছে। মাবরুর হাত তুলে বলল, ওস্তাদজি ফেসবুকে এ বিষয়ে পোস্ট দেখেছি।
রায়হান বলল, তোমরা বাংলাদেশ ক্যালিগ্রাফি ইনস্টিটিউটের আর্কাইভে এ বিষয়ে বই পাবে আর তোমাদের উপযোগী করে “ক্যালিগ্রাফির পরিভাষা” নামে বই ছাপা হবে বলে ইনস্টিটিউট থেকে জানা গেছে। সবাই বলল, আলহামদুলিল্লাহ। রায়হান বলল, আমাদের দেশে ক্যালিগ্রাফির সংজ্ঞা, প্রয়োগ ও উপস্থাপন নিয়ে ভালো কোনো বই নেই। এটা উপলব্ধি করে আমি একটি বই লিখেছি, স¤প্রতি ইনস্টিটিউট সেটা “দ্য ইউসেস অব ক্যালিগ্রাফি” নামে প্রকাশ করেছে। সবাই বলল, আলহামদুলিল্লাহ। রায়হান মুচকি হেসে বলল, যাহোক, আমরা কোন কোন হরফে কা’স আছে একটু জেনে নেই। সিন, শিন, সোয়াদ, দোয়াদ, ক্বফ, লাম, নুন এবং ইয়া হরফকে হুরুফে কা’সিয়া বলে।

এবার আমরা সিন র’স কাসিদা বা মুরসাল কিভাবে লিখতে হয়, সেটা দেখি। সিনের র’সটি সতরুল আসাস থেকে প্রায় পাঁচ কৎ ওপর থেকে শুরু করতে হয়। শুরুতে কলমকে ৪৫ ডিগ্রি বরাবর রেখে আধা কৎ বামে সামান্য এরতেফা হবে, তারপর সেখান থেকে বামে কলম যাবে প্রায় দশ কৎ এবং পাঁচ কৎ বরাবর নুযুল হবে এবং এ অংশে পেট এক কৎ বরাবর কাওস (সামান্য চাঁদের মত বাঁকা) হবে।
আমরা সিনের জিসম করব কা’স বা বাটির মতো। আর এটা মূলত নুন হরফ। এটার র’স তিন কৎ এবং জিসম চার কৎ বরাবর বামে যাবে, নুযুল হবে দুই কৎ। এরপর বামে কলম দুই অর্ধ কাওস হয়ে এরতেফা হবে প্রায় আড়াই কৎ।
শিন আদি ও মুরসাল লেখার ধরন সিনের মতোই, শুধু ওপরে তিন নোকতা হবে ।
আজকের দরস এটুকু থাকলো। আগামী ক্লাসে আমরা সোয়াদ হরফ লেখা শিখবো ইনশাআল্লাহ। বন্ধুরা, তোমরা সুন্দর করে কয়েক পাতা বাড়ির কাজ করে আনবে সবাই। আল্লাহ হাফিজ। মা’য়াস সালামাহ।

SHARE

Leave a Reply