Home বিজ্ঞান ও বিশ্ব বৈচিত্র্যময় এক দেশ -রেদওয়ান উল্লাহ

বৈচিত্র্যময় এক দেশ -রেদওয়ান উল্লাহ

কঙ্গো নদীর দুই কূলে অবস্থিত দু’টি রাজধানী শহর নিয়ে গড়ে উঠেছে ভিন্ন দুই দেশ কঙ্গো। কাগজে-কলমে ভিন্নতা থাকলেও ইতিহাস ও সংস্কৃতির দিক থেকে একই জাতিসত্তা।
১৯৬০ এ স্বাধীনতার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা দুই কঙ্গোকে ভিন্ন অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে কঙ্গো বিশ্বের অন্যতম সম্পদশালী এক দেশ। কিন্তু অভ্যন্তরীণ সঙ্কটে বিপর্যস্ত এ দেশটি নিজেদের সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারছে না। দেশটিতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই।
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র আফ্রিকা মহাদেশের একটি রাষ্ট্র। আয়তন ২৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪০৯ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ৮ কোটি। বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে কঙ্গো দ্বিতীয় স্থানে।
কঙ্গোতে ১৯৯০ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। যদিও ২০১৩ সালের শেষের দিকে সরকার বিদ্রোহীদের দমনে সক্ষম বলে ঘোষণা দেয়। বাস্তবে এখনো বিদ্রোহীরা সক্রিয়।
তাছাড়া ইথিওপিয়া, বুরুন্ডি, জিবুতি, কেনিয়া, উগান্ডা, সিয়েরা লিয়ন, ঘানা এবং নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে আরো বেশি সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
কঙ্গোতে প্রচুর স্বর্ণের খনি রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড় খুঁড়ে স্বর্ণ উত্তোলন করেন কঙ্গোর বাসিন্দারা। হার্ডি বিসিমওয়া নামে একজন শ্রমিক জানিয়েছেন, ‘বনের পশুর মতো গুহায় প্রবেশ করি। ক্লান্ত হয়ে গেলে একটু বিশ্রাম নেই।’ ২২ বছরের বিসিমওয়া দেশটির সাউথ কিভু প্রদেশের লুহিহির একটি খনিতে নানা কসরত করে স্বর্ণ আহরণের চেষ্টা করেন। মাথায় বসানো থাকে টর্চ লাইট। টর্চের আলোয় চলে খননকাজ। নেই কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা। আর তাই থাকে জীবন হারানোর মারাত্মক ঝুঁকি।
কঙ্গোর ওই অঞ্চলটিতে স্বর্ণ উত্তোলনের ইতিহাস বেশি দিনের নয় দুই বছর আগে স্থানীয়রা সেখানে একটি পাহাড় আবিষ্কার করে, যে পাহাড়ের নিচে গুপ্তধনের মতোই স্বর্ণ লুকিয়ে আছে বলে ধারণা করা হয়।
এমন ধারণায় স্থানীয়রা ওই পাহাড়কে ঘিরে ভিড় করতে থাকে। কাঠ আর ত্রিপলের ঘর বানিয়ে এখানে প্রায় দুইশ পরিবার বাস করছে।
তবে স্বর্ণ উত্তোলনের বিষয়টি অত্যন্ত ভয়াবহ। কেননা, স্থানীয় গোত্রগুলোর মধ্যে এ খনিজসম্পদ নিয়ে কোন্দল তো আছেই, সেই সাথে গুহায় শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এতসব ঝুঁকি আর নিরাপত্তাহীনতার পর খুব বেশি কিছু যে পাওয়া যাচ্ছে তা নয়। সর্বশেষ সাতবারের চেষ্টায় বিসিমওয়া একবার স্বর্ণ পেয়েছিলেন।
মধ্য-আফ্রিকার দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে স্বর্ণ ও কোবাল্টসহ প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য রয়েছে। তারপরও দেশের জনগোষ্ঠীর একটি বড়ো অংশের অবস্থান দারিদ্র্যসীমার নিচে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, তাদের দৈনিক আয় দুই ডলারেরও কম।
এত পরিশ্রমের পর যে সোনা সংগ্রহ হয় সেটার ন্যায্য দাম পান না। স্থানীয় কারবারিদের কাছে প্রতি কেজি সোনা ৪৫০ ডলারে বিক্রি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় যা অনেক কম। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বর্ণ তোলায় নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন খুব একটা হয় না।
লুহিহির বাসিন্দা সিফা নাশোবোলে বলেন, আমরা যে আসলে স্বর্ণ উত্তোলন থেকে লাভবান হচ্ছি তা কিন্তু নয়। কারণ, সব স্বর্ণ চলে যায় কারবারিদের কাছে
স্নায়ুযুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার বাইরে কঙ্গো বহির্বিশ্বে বিখ্যাত পর্যটন শিল্পের জন্য। আফ্রিকার বন্যতা এবং অসাধারণ সৌন্দর্যমণ্ডিত প্রকৃতি একে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

SHARE

Leave a Reply