Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো আলোর পথে, ভালোর পথে

আলোর পথে, ভালোর পথে

দেখো, দেখো আজকের আকাশটা কত অপরূপ! রঙ আর রঙ! হাজার রঙের আলপনায় আঁকা এ যেন এক শিল্পনগর। রাইয়ানের কথা শুনে মাহফুজের চোখও হারিয়ে গেল দূর আকাশের রংমহলে! নিমেষেই বলে উঠল, সুবহানাল্লাহ!
মাহফুজ বলল, চলো এ আকাশ দেখতে দেখতে আজও আমরা চলা শুরু করি পথে পথে। আসর নামাজের পরের সময়টা প্রায় প্রতিদিনই তারা পথে কাটিয়ে দেয়। আর এ পথে পথেই তারা মানুষকে দিতে চায় পথের দিশা। তাদের দাওয়াতি কাজের জন্য এরচেয়ে চমৎকার সময় আর নেই।
চলতে চলতে দেখতে পেল, তাদের সমবয়সী দু’জন ছেলে বসে বসে গল্প করছে।
রাইয়ান বলল, চলো তাদের কাছে যাই।
পরিচিত হওয়ার পর, মাহফুজ বলল, ভাইয়া তোমরা কি আসরের নামাজ পড়েছ? একজন বলল, পড়িনি। অন্যজন বলল, সেটা তোমাকে বলব কেন? এ তো আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তার চোখে মুখে রাগ ফুটে উঠল। মাহফুজও কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। সে-ও খানিকটা রেগে কথা বলতে শুরু করল।
রাইয়ান মাহফুজকে থামিয়ে, ওদের সাথে হাসিমুখে কথা বলে বিদায় নিলো।
যেতে যেতে বলল, মাহফুজ! দাওয়াত দিতে গেলে এমনটা হবেই। নবীরাও অনেক বাধার মুখোমুখি হয়েছেন। সে তুলনায় এ তো কিছুই না। কেউ রেগে গেলেও তার সাথে ভালো আচরণ করতে হবে। ফেরাউন ছিল আল্লাহ তায়ালার চরম দুশমন। তবুও আল্লাহ মূসা ও হারুন (আ)-কে কী আদেশ করেছেন, শোনো- “তোমরা দু’জন ফেরাউনের কাছে যাও। সে তো সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তোমরা তার সাথে নরম ভাষায় কথা বলো। এতে হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে, নয়তো (আল্লাহকে) ভয় করবে।” (সূরা ত্ব-হা : ৪৩-৪৪)।
ইবরাহিম (আ) তাঁর পিতাকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন। কিন্তু পিতা তার পুত্রকে পাথর মেরে হত্যার হুমকি দেয়! দেখো, নবী ইবরাহিম (আ) তারপরও কী দরদমাখা সুরে কথা বলেছেন- “আপনার প্রতি সালাম! আমি আমার রবের কাছে আপনার জন্য ক্ষমা চাইব। নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহশীল।” (সূরা মারইয়াম : ৪৭)।
মাহফুজ বলল, অনেক কিছুই শেখা হলো ভাই! দোয়া করো, এরপর থেকে যেন কোমল ভাষায় মানুষকে ডাকতে পারি আলোর পথে, ভালোর পথে!

SHARE

Leave a Reply