Home Featured শিক্ষাপাতা সুলুসশৈলীতে আইন হরফ লেখার কৌশল -মোহাম্মদ আবদুর রহীম

সুলুসশৈলীতে আইন হরফ লেখার কৌশল -মোহাম্মদ আবদুর রহীম

অনেক দিন পর ক্যালিগ্রাফির ক্লাসে সব ছাত্র এসে জড়ো হয়েছে। পূর্বের দরসগুলো নিয়ে তারা আলোচনা করছে। বিশেষ করে সবাই গত ক্লাসের দরস নিয়ে কথা বলছে আর “রা” হরফের জুঝগুলো পরস্পর বুঝে নিতে চাইছে, ধীরে ধীরে ক্যালিগ্রাফি শেখার ক্লাস জমে উঠছে। রায়হান ক্লাসে ঢুকে সবাইকে সালাম দিলো। ক্লাসের বন্ধুরা জোরে সালামের জবাবে ওয়ালাইকুম সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ বলে কুশল জানতে চাইল। রায়হান আলহামদুলিল্লাহ বলে উত্তর দিলো।
কোনো ভূমিকা ছাড়া ক্লাসের পাঠদান শুরু করল সে। ক্যালিগ্রাফির আজকের দরসে সিরিয়াল ভেঙে “আইন” হরফের পাঠ থাকবে বলে সে জানালো। মাবরুর কিছু বলার জন্য হাত তুলল। রায়হান ইশারায় অনুমতি দিলে সে জানতে চাইল “দাল” হরফের আগে “জিম” বাদ পড়েছে আর এখন কয়েকটা হরফ পরে “আইন” কেন আমরা শিখছি? জবাবে রায়হান বলল, ক্যালিগ্রাফির ওস্তাদগণ হরফগুলোর বিভিন্ন গঠন অনুসারে গ্রুপ করে শেখান। আজকে “হিলালী গ্রুপ” শুরু হলো। কারণ জিম, হা, খা, আইন এবং গাইন হরফের জিসম নতুন চাঁদের মতো দেখায়। নতুন চাঁদের নাম আরবিতে হিলাল। রমজান, ঈদের চাঁদ ও অন্যান্য আরবি মাসের নতুন চাঁদ দেখার জন্য সরকারিভাবে একটা জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি আছে। পাকিস্তান আমলে এই কমিটির নাম ছিল- রুইয়াতে হেলাল কমিটি। মাবরুর বলল, তার দাদাজানও আব্বা-আম্মাকে জিজ্ঞেস করেন, রুইয়াতে হেলাল কমিটির রোজার চাঁদ দেখার খবর টিভিতে জানিয়েছে কি না! রায়হান বলল, আচ্ছা, আমরা আইন ও গাইন হরফ শেখার পর জিম হরফ শিখবো ইনশা আল্লাহ।
আজকের ক্লাসে আমরা “আইন” হরফের মুফরাদাত (স্বতন্ত্র গঠন ও আকৃতি) শিখবো। আইন হরফটি সুলুস শৈলীতে তিনটি সুরতে (প্রতিকৃতি) এসেছে। আইন আদি, আইন মুরসাল এবং আইন মালফুফ। কম্পোজিশনের ক্ষেত্রে আইন মালফুফের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। এরপর মোটামুটি আইন আদি হরফটির ব্যবহার হয় আর আইন মুরসাল হরফের ব্যবহার হয় সবচেয়ে কম। আইন হরফের র’স দুই সুরতে আসে। আইন র’স আদি ও আইন র’স ফামু আসাদ (সিংহের মুখের মতো)।
আমরা র’স দিয়ে লেখা শুরু করি। র’স আদির ছাদের সামান্য বাঁকা চাঁদটি তিন কৎ আরদ (প্রস্থে) এবং উচ্চতা (এরতেফা’) এক কৎ হবে। চাঁদের বাম পাশে কলম ৬০ ডিগ্রি কোণে জাবিয়া রেখে নিচে দুই কৎ বরাবর নামবে, তবে সেটা ধীরে ধীরে ঢালু হয়ে দেড় কৎ বরাবর ডানে যাবে। তারপর কলম ৪৫ ডিগ্রি বরাবর ডানে যাবে আর কলম এরতেফা’ হবে এক কৎ। (ছবি এক)
সেখান থেকে বামে কলম পাঁচ কৎ বরাবর নুযুল হবে এবং এ অংশে পেট এক কৎ বরাবর কাওস (সামান্য চাঁদের মতো বাঁকা) হবে। (ছবি দুই)
আইন মালফুফের জিসম ছবির মতো কৎ দিয়ে মেপে করতে হবে। মালফুফ অংশের পেটের ভেতর পাঁচ কৎ আরদ এবং এরতেফা’ হবে তিন কৎ। (ছবি তিন) মালফুফ আইনকে “আইন মাজমুয়ু”ও বলা হয়।
আইন আদি লেখার ধরন মালফুফের মতো প্রায় একই। শুধুমাত্র জিসমের নিচের রেখাটি আনুভূমিক ১৮০ ডিগ্রি বরাবর মূল শরীর থেকে বাম দিকে দেড় কৎ বাইরে যাবে এবং শেষ অংশ তলোয়ারের ফলার মতো হবে।
আইন মুরসালও আইন আদি সদৃশ হবে। তবে জিসমের শেষ অংশ এক কৎ বরাবর ঢালু হয়ে নুযুল হবে। তোমাদের সুবিধার্থে “আইন” হরফের কয়েকটি সুরত দেখানো হলো।
আইন হরফ আর গাইন হরফের গঠন ও আকৃতি একই রকম। আইন হরফের ওপরে একটা নোকতা দিলে গাইন হয়ে যায়। আজকের দরস এটুকু থাকলো। সবাই আগামী ক্লাসে সুন্দর করে কয়েক পাতা বাড়ির কাজ করে আনবে। আল্লাহ হাফিজ। মা’য়াস সালামাহ।

SHARE

Leave a Reply