Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো কুরআনের আলো

কুরআনের আলো

হৃদয় হারানোর স্মৃতি

জোয়ারের পানিতে কচুরিপানার মতো ভেসে যাচ্ছে সিলেটের মানুষ, এদিকে চোখের পানিতে ভাসছেন দাদা! এক-একটি ভিডিও দেখছেন আর অঝোরে কাঁদছেন। ঘর-বাড়ি, দোকানপাট, গবাদিপশু ভাসিয়ে নিয়ে পানি যেন তার শত বছরের ক্ষুধা নিবারণ করছে। খাবার নেই, আগুন নেই, লাশ দাফনের জায়গা নেই! আহা, কী করুণ দৃশ্য! ইদরিস বলল, দাদা! সিলেটবাসীর জন্য সমগ্র বাংলাদেশ কাঁদছে। সবাই সহযোগিতা করছে। আপনি এত ভেঙে পড়লে শরীর খারাপ হবে তো!

দাদা আবার হু হু করে কেঁদে উঠলেন অবুঝ শিশুর মতো। বললেন, আমি তো আমার জন্যই কাঁদি! সিলেট আমাকে ফিরিয়ে নিয়েছে আমার অতীতে, হৃদয় হারানোর স্মৃতিতে।

কী সেই স্মৃতি? দাদা বলতে শুরু করলেন:
১৯৭০ সালের ১২ই নভেম্বর। যেন কিয়ামতের আলামত এসে আঘাত হেনেছিল আমাদের ভোলায়। যা ‘ভোলা ঘূর্ণিঝড় ১৯৭০’ নামে পরিচিত। এ ঝড়ে মাটির সাথে মিশে গিয়েছিল একের পর এক লোকালয়। প্রাণ হারিয়েছিল তিন থেকে পাঁচ লাখ মানুষ! চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল মানুষের লাশ। তোমার দু’জন ফুফু ছিল। ফুলের মতো ফুটফুটে। তাদের লাশও পেলাম না। ভেসে গেছে অজানায়। আমি তো তাদের আজও খুঁজে ফিরছি রে ভাই!
দাদার গলা ধরে এলো। ইদরিস এখন কী বলবে? কাকে কী বোঝাবে সে? নিজেকেই তো সামলাতে পারছে না এখন। সে তো এ কথা জানতই না, তারও দু’জন ফুফু ছিল। আচ্ছা, তাঁরা বেঁচে থাকলে তাকে কী নামে ডাকত? কীভাবে আদর করত? এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে তার দু’চোখ নদী হয়ে গেছে, বুঝতেই পারেনি সে।

ইদরিস বলল, আল্লাহ যেন মানুষকে এমন বিপদ আর না দেন। দাদা বললেন, বিপদ তো মানুষের কারণেই আসে। আল্লাহ বলেছেন, “মানুষের কৃতকর্মের কারণেই ভূভাগে ও সাগরে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তিনি চান, তাদেরকে তাদের কিছু কিছু কাজের শাস্তি ভোগ করাতে, যাতে তারা ফিরে আসে।” (সূরা আররূম : ৪১)। জানোই তো, নূহ নবীর সময়েও এক মহাপ্লাবন হয়েছিল। অবাধ্যরা ডুবে মরেছিল, আর ঈমানদারদের তিনি তুলে নিয়েছিলেন নৌকায়। আজ আমাদের ঈমানদার হওয়া প্রয়োজন, সত্যিকারের ঈমানদার!
ইদরিস বলল, জি দাদা! আর সে যেন তার মাথা থেকে দুই ফুফুর ভেসে যাওয়ার ইতিহাস সরাতেই পারছে না।

SHARE

Leave a Reply