Home চিত্র-বিচিত্র মিষ্টি পাখি মুনিয়া -শামসুল আরেফীন

মিষ্টি পাখি মুনিয়া -শামসুল আরেফীন

পৃথিবীতে অনেক রঙের পাখি আছে। এদের মধ্যে অতি পরিচিত পাখি লাল মুনিয়া। লাল মুনিয়ার ইংরেজি নাম রেড অ্যাভাডাইভাট।
এই প্রজাতির পাখি বাংলাদেশের ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেট অঞ্চলে দেখা যায়। এছাড়াও এই পাখি ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও পাকিস্তানে পাওয়া যায়।
লাল মুনিয়া প্রায় ১০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। এদের ঠোঁট, বুক, লেজ লাল রঙের। ডানা ও পিঠ কালচে বাদামি। এদের লেজের ওপরে ও পেটের নিচ থেকে লেজের শেষ প্রান্ত পর্যন্তও একই রকম।
মুনিয়া পাখির চোখে লাল বৃত্তের মাঝখানে কালো বিন্দু রয়েছে। পাগুলো গোলাপি রঙের। শরীরের পালকে ছোটো ছোটো সাদা ডটের মতো দাগ আছে। যা এই পাখিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।
এদের প্রজনন সময় মে থেকে ফেব্রুয়ারি। এ সময় পুরুষ পাখি ঘাস ও নলের ডাঁটার ওপরে বসে শিস বাজিয়ে গান গায়। স্ত্রী পাখি ৮ থেকে ১০টি ডিম দেয়। ডিমের রং সাদা হয়। ১২ থেকে ১৬ দিনে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। আর ছানা ফোটার ১৯ থেকে ২৪ দিনের ভেতর এরা উড়তে পারে।
প্রজননের সময়ে পুরুষ পাখিরা দেখতে আরও সুন্দর হয়। মেয়ে পাখির পিঠ, ডানার পালক এবং লেজ গাঢ় বাদামি হয়। ঘাড়, গলা, বুক হালকা বাদামি হয়। লেজের পালক লাল বর্ণের হয়।
লাল মুনিয়া প্রধানত সমতল সমভূমিতে প্রায়ই পানির কাছাকাছি ঘাসবন, চাষের জমির আশপাশের গুল্ম- ঝোপঝাড়, আখক্ষেত ইত্যাদি জায়গায় বাসা বানায়। এই পাখির অন্য প্রজাতিদের জঙ্গলে, ঝোপে বা ঘাসবনে দেখা যায়। এরা নরম শুকনো ঘাস দিয়ে গোলাকার বাসা বানিয়ে থাকে।
নানা রকম শস্যদানা এদের প্রধান খাদ্য। অনেকে এদেরকে পোষ মানায়। পোষা পাখি হিসেবেও বেশ পরিচিত লাল মুনিয়া।
বর্তমানে মানুষের বাসস্থানের বৃদ্ধির ফলে বনের সংখ্যা কমেছে। যার ফলে এদের আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়েছে। তাই এদের সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে। আমাদের উচিত এদের রক্ষার জন্য এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

SHARE

Leave a Reply