Home স্বপ্নমুখর জীবন জীবন পথে সফল হতে -আমিনুল ইসলাম ফারুক

জীবন পথে সফল হতে -আমিনুল ইসলাম ফারুক

আমরা কম-বেশি সবাই চাই জীবনে সফল হতে। রাতে ঘুমোতে যাই কীভাবে সফল হওয়া যায় তা ভেবে, সকালে ঘুম থেকে উঠি সফল হওয়ার সাধনা করার জন্যই। সবাই চায় জীবনে ভালো কিছু করতে, বড়ো হতে, সবার কাছে সম্মান পেতে। নিজ নিজ ক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতা দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় সবাই। আক্ষরিক অর্থে যদি বলতে হয় তাহলে বলা যায় সফল হওয়ার অনেক উপায় রয়েছে। আবার বলা যায় সফলতা অনেক পরিশ্রমের একটি বিষয়। জীবনে যে কেউ সফল ব্যক্তিতে পরিণত হতে পারে না। যারা জীবনে সফল হয়েছেন, তাদের অনেক সাধনা করতে হয়েছে। কারণ সফল ব্যক্তিদের একটি লক্ষ্য থাকে। আর লক্ষ্য ছাড়া সফলতা অনিশ্চিত। প্রবাদে আছে, ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট আর বিশ্বাস হৃদয়ে, তবে হবেই হবে দেখা; দেখা হবে বিজয়ে।’ একজন সফল মানুষ হতে গেলে কেবল কিছু কাজ করলেই হয় না, এর পাশাপাশি কিছু কাজ থেকে বিরতও থাকতে হয়।
আপনি সফল হতে চান? তাহলে প্রথমেই আপনার জীবনের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করুন এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করে যান। যদি আপনার জীবনের লক্ষ্য হয় আপনি রিকশা চালাবেন, তাহলে বিশ্বাস করুন আপনি রিকশা চালিয়েই সফল হবেন। যদি আপনার লক্ষ্য থাকে আপনি বিমান চালাবেন, তাহলে লক্ষ্য সে রকম উঁচুতেই রাখবেন। আপনি যদি আপনার লক্ষ্য অনুযায়ী এগোতে পারেন, তাহলে আপনার চেয়ে সফল আর কেউ হতে পারবে না। সবচেয়ে বড়ো কথা- আপনি সুখী হবেন। মনে রাখবেন- কোনো কাজই ছোটো নয়।
সফল হওয়ার জন্য জীবনের সিদ্ধান্তগুলো সঠিক সময়ে সঠিকভাবে নেওয়াটা অনেক বড়ো একটি কাজ। আর এই কাজটি করতে কোনো প্রকার দ্বিধাবোধ করবেন না। নিজের জীবন সম্পর্কে বেশ সচেতন থাকুন। কোন কাজে ভালো হবে, কোন কাজে মন্দ হবে এই বিষয়ে সব সময় সচেতন থাকুন। সঠিক সময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত জীবনের বিফলতা অনেক কমিয়ে দেয়। একটি ভুল সিদ্ধান্ত সারা জীবনের কান্নার কারণ হতে পারে, জীবনকে অনেক পিছনে ফেলে দিতে পারে। তাই আর দেরি না করে এখনই সঠিক সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলুন। কারণ জীবন আপনার, সিদ্ধান্তটাও কিন্তু আপনারই, সফলতাও আপনারই হবে।
আমি স্বপ্ন দেখতে অনেক ভালোবাসি। স্বপ্ন যদিও অনেকেই দেখতে ভালোবাসেন, তারপরও সফল ব্যক্তিরা স্বপ্ন দেখেন এবং তা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যান। আমার অনেকগুলো স্বপ্ন আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড়ো স্বপ্ন হচ্ছে, আমার মৃত্যু যাতে তখনই হয়, যখন আমার আর কোনো স্বপ্ন থাকবে না।
বিশ্বাস করুন নিজের স্বপ্নকে। আপনি স্বপ্ন দেখলেন আপনার একটি বাড়ি হবে, একটি গাড়ি হবে, আপনি দেশ-বিদেশ ঘুরবেন। এমন স্বপ্ন আপনি দেখতেই পারেন। কিন্তু আপনি যে স্বপ্ন দেখছেন তার জন্য কি যথাযথ পরিশ্রম করছেন? আমি করছি, আপনিও করুন। স্বপ্ন দেখে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবেন না। স্বপ্ন পূরণের জন্য অগ্রসর হন এবং শেষ পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে আপনার স্বপ্ন পূরণ করুন। সম্মান করুন নিজের মনে পুষে রাখা স্বপ্নকে। জাগ্রত হওয়ার অনুপ্রেরণা পান এই স্বপ্ন থেকেই। কথায় আছে- পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। বিষয়টি আসলেও সত্যি। কেননা পরিশ্রম করলে যে কেউ তার ফল পাবেন। শুধুমাত্র পরিশ্রমই মানুষকে তার স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করে এবং সফল গন্তব্যে পৌঁছিয়ে দেয়।
অনেক সময়ই কোনো সিনেমা দেখে অথবা কোনো গল্পের বই পড়ে মনে হয় এখনই আমি সফল হয়ে যাবো। রক্ত গরম হয়ে দৌড়াতে শুরু করে। এমনটা জীবনের কোনো এক পর্যায়ে কারও কথা দিয়ে অনুপ্রাণিত হলেও মনে হয় আজকেই জীবনকে বদলে দেবো, পরের দিনেই আবার আগের মতো হয়ে যায় সব। এমন সাময়িক পরিবর্তনের চিন্তা পরিহার করে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যান। দেখবেন সফলতা এমনিতেই আপনার হাতে ধরা দেবে। সফল ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠী অতীত নিয়ে নয়, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনযাপন করে।
সফল হওয়ার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আমাদের মনে রাখতে হবে। আর তা হলো নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলা। কোনো প্রকার দোটানায় থাকা যাবে না। বলা হয়- আত্মবিশ্বাসই সফলতার মূল শর্ত। আত্মবিশ্বাসীরা নিজেদের স্বপ্ন পূরণে ব্যাকুল থাকে সবসময়। হোক তা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার, তারপরও নিজের স্বপ্নে অটুট থেকে এগিয়ে যান আপন গতিতে। “আমাকে দিয়ে হবে না, আমি পারবো না, এত কঠিন কাজ সম্ভব হবে না”- এমন সংশয়ই আপনাকে সফলদের লাইন থেকে টেনে নিচে নিয়ে আসতে পারে। কেনই বা পারবেন না? যারা জীবনে সফল হয়েছেন তারাও তো আপনার মতোই রক্তে-মাংসে গড়া মানুষ। আপনি আজকে পারেননি দেখে কাল পারবেন না এমন তো হতে পারে না, তাই নয় কি?
আপনার চিন্তা-ভাবনাকে প্রশস্ত করুন। সঠিক চিন্তা-ভাবনা মানুষকে সফল হতে বেশ সহায়তা করে। দিন-রাতের ২৪ ঘণ্টা এক রকম থাকে না। কখনো নিজেকে সফলতার অগ্রনায়ক হিসেবে মনে হয়, কিন্তু পরক্ষণেই নেতিবাচক চিন্তা আসে হতাশার বাণী শোনাতে। বলতে থাকে- এত মানুষের মাঝে তুমি কি করতে পারবে? এসব চিন্তার পরিবর্তে ইতিবাচক চিন্তা জীবনকে অনেকটা এগিয়ে নিতে পারে। দৃষ্টিভঙ্গি বদলিয়ে ফেলুন। দেখবেন আপনি সফলতার সিঁড়িতে এক ধাপ ওপরে উঠে যাবেন।
তবে জীবনে সফল হতে হলে অবশ্যই আপনাকে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। আজকে থাক, কালকে করবো, সময় তো আছেই; আরে এটা তো একদম সহজ কাজ, বেশিক্ষণ সময় লাগবে না- এই ধরনের কথা ও কাজ পুরোপুরি বর্জন করতে হবে। শেষ মুহূর্তে আপনি হয়ত কাজটি করে ফেলবেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তের কাজ সব সময় ভালো হয় না। ছোটবেলায় পড়েছি, ‘ঊসঢ়ঃু সরহফ রং ফবারষং ড়িৎশংযড়ঢ়’ অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। কথাটি ভুল নয়।
কিছু মানুষ আছেন যারা বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে থাকেন। কারণ তারা সবসময় অলীক কল্পনায় ডুবে থাকেন। কল্পবিলাসীরা মনে মনে সারা বিশ্ব ঘুরে এসে দেখে দাঁড়িয়ে আছে এক টুকরো হতাশার সামনে। তারা ভাবে, আরে সময় হলে আল্লাহ্‌ই দেবে। হ্যাঁ! ঠিক আছে, আল্লাহ্‌ তো দেবে। কিন্তু আপনারও তো চেষ্টা করতে হবে। এখন আপনি যদি ঐ আশায় বসে বসে হাওয়া খান তাহলে তো কোনো দিনও সফলতার মুখ দেখবেন না। অলীক কল্পনার জগৎ থেকে বের হয়ে আসুন। বাস্তবতার মুখোমুখি হন, কারণ বাস্তবতা অনেক কঠিন।
কথা কম কাজ বেশি। ছোটোবেলা থেকেই শুনে এসেছেন এটা। আক্ষরিক অর্থেই সত্যি। সফল মানুষরা কথা কম বলেন। চুপচাপ থাকলে মনের সঙ্গে সংযোগ বাড়ে, এর চেয়ে ভালো নিজের সঙ্গে কথা বলুন। আপনার কাজের মান বাড়বে। লোকে অনেক কথাই বলবে। কান দেবেন না। শুধু এটাই মনে রাখুন সময় এবং পরিস্থিতিই জানান দিয়ে দেবে অন্যদের চেয়ে আপনি কতটা সফল।
অন্য কারো ইচ্ছের মতো নয়, নিজের ভালো লাগার কাজটি করুন। জীবনের একটা উদ্দেশ্য খুঁজে বের করুন এবং বিশ্বাস করুন যে, আপনি ব্যতিক্রমী কিছু করতে সক্ষম।

SHARE

Leave a Reply