Home প্রতিবেদন কিশোরকণ্ঠের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরকণ্ঠের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

তরুণদের মাঝে নৈতিক শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে কাজ করা প্রয়োজন
– রাশেদুল ইসলাম

কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট রাশেদুল ইসলাম বলেছেন- আজকের তরুণরা আগামীর বাংলাদেশের কারিগর। নৈতিক শিক্ষা ছাড়া আগামীর বাংলাদেশের অবস্থা আরো ভয়াবহ হতে পারে। সুতরাং তরুণদের মাঝে নৈতিক শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে কাজ করা প্রয়োজন।
গত ৯ এপ্রিল রাজধানীর মল্লিক অডিটরিয়ামে মাসিক নতুন কিশোরকণ্ঠের উদ্যোগে দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, গবেষক ও লেখকদের সম্মানে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মাসিক নতুন কিশোরকণ্ঠের সম্পাদক কবি মোশাররফ হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী হামিদুল ইসলাম, কবি জয়নুল আবেদীন আজাদ, কবি আসাদ বিন হাফিজ, কবি সোলায়মান আহসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক ড. মোবারক হোসেন, শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. আব্দুল মান্নান, কবি জাকির আবু জাফর প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কিশোরকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম।
জনাব রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমাদের তরুণরা ভার্চুয়াল জগতের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। ভার্চুয়াল জগতের মধ্য দিয়ে কীভাবে নৈতিক শিক্ষা তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যায় সে বিষয়ে আমাদের কাজ করা প্রয়োজন। আজকে কিশোরকণ্ঠের আয়োজনে এই ইফতার মাহফিলে যারা আছেন তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে আমাদের আগামী প্রজন্মের মনের খোরাক যেমন আপনারা দিয়েছেন তেমনি আগামী দিনের তরুণ লেখক, শিল্পী, সাহিত্যকর্মী তৈরিতেও ভূমিকা রাখবেন ইনশাআল্লাহ। যদিও কিশোরকণ্ঠ প্রায় চার দশক ধরে এই কাজ করে যাচ্ছে।
বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী হামিদুল ইসলাম বলেন, কিশোরকণ্ঠের জন্মলগ্ন থেকেই এই পত্রিকার সাথে আমার সম্পর্ক। এই পত্রিকার প্রচ্ছদসহ ইলাস্ট্রেশনের সাথে জড়িয়ে আছে আমার স্পর্শ। আজকের তরুণদের প্রতি আহ্বান থাকবে তারা যেন আগামী দিনে এই পত্রিকার শিল্পবিভাগে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্য হয়ে গড়ে ওঠে। কারণ সময়ের ধারায় একদিন আমরা থাকবো না। কিন্তু কিশোরকণ্ঠ থাকবে লক্ষ পাঠকের মনে।
কবি জয়নুল আবেদিন আজাদ বলেন, দেশের প্রচলিত কিশোর পত্রিকাগুলোর বাইরে কিশোরকণ্ঠ সমাজ গঠনে যে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে জাতি সেটা গর্বের সাথে স্মরণ করবে। কিশোরকণ্ঠের মাধ্যমে অনেক লেখক উঠে এসেছেন। যারা আজকে জাতীয় পর্যায়ে শিল্প সাহিত্য জগতে পরিচিত মুখ। যারা সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে লিখে যাচ্ছেন। আগামীতে এই ধারা আরো শক্তিশালী হবে বলে আশা করি।
কবি আসাদ বিন হাফিজ বলেন, রমজান আসে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করতে। সারাদিন আপনি কী খেলেন না-খেলেন সেটা বড়ো কথা না। সারাদিন কষ্ট করলেন, সেহরী খেলেন, ইফতার করলেন কিন্তু আপনার রোজা হলো না। আপনার রোজা তখনই সফল হবে যদি আল্লাহর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা তৈরি করতে পারেন।
কবি সোলায়মান আহসান বলেন, এখন আমরা একটি দুঃসময় অতিক্রম করছি। শুধুমাত্র করোনা ভাইরাসই নয়। বিশ্বের দিকে যদি তাকাই বিবাদমান যে পরিস্থিতি সেটা আমাদের উদ্বিগ্ন করে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে সাহসের সাথে আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে কবি মোশাররফ হোসেন খান বলেন, কিশোরকণ্ঠ লেখক ও পাঠক তৈরির জন্য সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে। সাথে সাথে কিশোরদের সুস্থ মানস গঠনের জন্যও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এই দীর্ঘ পথচলায় যারা আমাদের সহযাত্রী ছিলেন তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই পত্রিকার সূচনা থেকে আপনারা যেভাবে উদার চিত্তে আমাদের পাশে থেকেছেন, আগামীতেও ঠিক সেইভাবে থাকবেন বলে আশা রাখি।
ইফতার মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিশিষ্ট লেখক সালমান ফারসি, কিশোরকণ্ঠের সহকারী সম্পাদক মু. আব্দুল আলিম, বিশিষ্ট লেখক আশরাফুল ইসলাম, মুহাম্মদ নূরুল হুদা, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী গবেষক কবি ইব্রাহিম মণ্ডল, শিশু-সাহিত্যিক আহমদ মতিউর রহমান, আব্দুর রহমান, কবি ওয়াহিদ আল হাসান, কবি হাসান আল রুমি, তোফাজ্জল হোসাইন, কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী, কবি যাকিউল হক জাকি, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও বাচিক শিল্পী মাহবুব মুকুল, কবি মুহাম্মদ ইসমাঈল, কবি সাইদ ফরিদ, কবি মামুন মাহফুজ, শিশু সাহিত্যিক ও কলামিস্ট হারুন ইবনে শাহাদাত, প্রাবন্ধিক এস এম রুহুল আমিন, কথাশিল্পী মোহাম্মদ লিয়াকত আলী, কবি ওয়াহিদ জামান, কবি সুমন আলী, কবি মোস্তফা মাহাথির, কবি নাবিউল হাসান, আবু তালেব, আতাহার রহমান, আতিকুর রহমান, বেলাল হোসাইন, নাহিদ হাসান, আনিসুর রহমান, নাহিদ জিবরান-সহ বহু কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকবৃন্দ।
– কিশোরকণ্ঠ ডেস্ক

SHARE

Leave a Reply