Home ঈদ প্রবন্ধ ঈদ আনন্দ -মুহাম্মদ রবিউল ইসলাম

ঈদ আনন্দ -মুহাম্মদ রবিউল ইসলাম

রমযান মাসেই তিতলির স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। তাই ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে এসেছে তিতলি। এবারের ঈদ ওর জন্য আলাদা। কারণ দাদুর উৎসাহে সবগুলো রোজা রেখেছে। তাছাড়া করোনার কারণে দু’বছর শহরে ঈদ করতে হয়েছে। কিন্তু এবার দাদু বাড়িতে ঈদ করছে। এজন্য একটু বেশিই আনন্দ হচ্ছে তিতলির।
সন্ধ্যার পর দাদু তিতলিকে ঈদ নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। আচ্ছা তোমরা কি জানতে চাও দাদু তিতলিকে ঈদ নিয়ে কী বলেছিলেন? ঠিক আছে তাহলে আমিই তোমাদের তিতলির দাদুর কথাগুলো বলছি।
‘ঈদ’ শব্দটি আরবি, যার অর্থ আনন্দ। ‘ফিতর’ শব্দটিও আরবি, যার অর্থ রোজা ভাঙা। অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের অর্থ হলো- রোজা শেষ হওয়ার আনন্দ, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করার আনন্দ। হিজরি সনের দশম মাস তথা শাওয়াল মাসের ১ তারিখ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়।
হ্যাঁ, বন্ধুরা ঈদ আল্লাহর নিয়ামত। তাই আমাদের উচিত এই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা। আর এটা সব মুসলিমের কর্তব্য। তোমাদের মনে রাখতে হবে ঈদ হচ্ছে- খুশি ও পবিত্র অনূভূতির প্রকাশ এবং গরিব মানুষের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শনের উৎকৃষ্ট পরিবেশ। এদিন ধনী-গরিব গোটা মুসলিম জাহান জান্নাতি আনন্দের ঢেউয়ে ভাসতে থাকে। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার কষ্ট ও ক্লান্তির পর ঈদুল ফিতর হলো মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ উপহার।
ঈদেও আমাদের ভুলে যেতে হবে পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ। আর তা যেন পুরোটা জীবন অব্যাহত থাকে। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঈদগাহে সবাই এক কাতারে এ বিশেষ ইবাদত করব। এটাই হলো বাকি জীবনের জন্য ঈদের অন্যতম শিক্ষা।
ইসলামি পরিভাষায় শাওয়াল মাসের ১ তারিখে রোজা ভাঙার উৎসবকে ঈদুল ফিতর বলে। ইবনুল আ’রাবি বলেন, ‘ঈদকে ঈদ বলে নামকরণ করা হয়েছে; কারণ তা প্রতি বছর নতুন নতুন খুশি নিয়ে ফিরে আসে।’
তোমরা ঈদের দিন বড়োদের সঙ্গে ঈদগাহে যাবে। আর তোমাদের বাড়ির পাশে যদি গরিব বা এতিম কেউ থাকে তাকেও সঙ্গে নিয়ে যাবে। যখন ঈদের মাঠে যাবে তখন তাকবির বলবে, ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’ মনে রাখবে রমজানের শেষ দিন সূর্যাস্তের পর থেকে ঈদের সালাত পর্যন্ত তাকবির বলা সুন্নত।
তোমরা হয়তো ঈদের দিনে অনেক পোশাক পাবে। কিন্তু, খোঁজ নিয়ে দেখলে হয়তো জানতে পারবে তোমার বাড়ির পাশেই অনেকের পোশাক কেনার সামর্থ্য নেই। যেহেতু ঈদের খুশি সবার জন্য তাই তোমাকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তোমার অনেক পোশাক থেকে একটি বা দু’টি পোশাক অন্যকে দিয়ে দিলে তোমার কম হয়ে যাবে না। এটা অবশ্যই করা উচিত। সবাইকে যদি ঈদের খুশিতে শামিল করা যায় তাহলে আনন্দ বেড়ে যাবে বহু গুণ। তাই তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী তোমার প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়াবে, বন্ধুর পাশে দাঁড়াবে। এতে আল্লাহ অনেক খুশি হবেন। তোমার পরিবারের অন্যরাও খুশি হবেন। আর সবার খুশি নিয়েই তো আমাদের ঈদ।
ঈদুল ফিতর হলো আমাদের জন্য রমযানের উপহার। আর রমযান হলো আমাদের জন্য শিক্ষার মাস। এক মাস পর একটি বছরের জন্য রমজান বিদায় নেয়। কিন্তু আমাদের জন্য রেখে যায় অনেক শিক্ষা। তাই ঈদ পালনের পরপরই সেই শিক্ষা ভুলে গেলে চলবে না। বরং সেই শিক্ষা অনুযায়ী আমাদের জীবন গড়তে হবে। আগামী এক বছর কাজে লাগাতে হবে রমজানের শিক্ষাকে। সেই শিক্ষা নৈতিকতার, সংযমের, ত্যাগের, আত্মশুদ্ধির, আত্মোপলব্ধির, আত্মসমালোচনার, আত্মার পবিত্রতার। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের এসব শিক্ষা মেনে জীবনে চলার তৌফিক দান করুন।
বন্ধুরা ঈদুল ফিতর হলো মুসলিমদের জন্য আনন্দের দিন। তোমাদের মাধ্যমে সেই আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়–ক। সবাই ভালো থেকো। তোমাদের সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনা করছি সবার জন্য ঈদ আনন্দের হোক। ঈদ মোবারক।

SHARE

Leave a Reply