Home দেশ-মহাদেশ শুভ্র মেঘের দেশ নিউজিল্যান্ড -মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

শুভ্র মেঘের দেশ নিউজিল্যান্ড -মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

নিউজিল্যান্ড দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের ওশেনিয়া অঞ্চলে অবস্থিত একটি দ্বীপরাষ্ট্র। দু’টি প্রধান বৃহৎ দ্বীপ-উত্তর দ্বীপ (তে ইকা-এ-মাউই) ও দক্ষিণ দ্বীপ (তে ওয়াইপাউনামু) এবং ৭০০ এরও বেশি ছোটো দ্বীপ নিয়ে দেশটি গঠিত। কুক প্রণালী নামের একটি অপেক্ষাকৃত সরু সামুদ্রিক প্রণালী প্রধান বৃহৎ দ্বীপ দু’টিকে পৃথক করে রেখেছে। কুক প্রণালী সবচেয়ে সরু স্থানে চওড়া ২২ কিলোমিটার বা ১৪ মাইল। এদেশের ক্ষুদ্র দ্বীপগুলোর মধ্যে স্টুয়ার্ট দ্বীপ ও চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জ উল্লেখযোগ্য। নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটন উত্তর দ্বীপে অবস্থিত। এটি বিশ্বের সমস্ত রাজধানীর মধ্যে সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত। এদেশের বৃহত্তম শহর অকল্যান্ড উত্তর দ্বীপেই অবস্থিত।

নিউজিল্যান্ডের উভয় দ্বীপই পাহাড়-পর্বতে পূর্ণ। দক্ষিণ দ্বীপে একটি দীর্ঘ পর্বতশৃঙ্খল অবস্থিত, যার নাম দক্ষিণ আল্পস। পর্বতগুলো মহাসাগরীয় আর্দ্র বায়ুগুলোকে ধরে রাখে এবং এর ফলে এগুলোর চারপাশে প্রায়ই ঘন কুয়াশার মতো মেঘের আবরণ দেখতে পাওয়া যায়। এদেশের বিচিত্র প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় আল্পসসহ তীক্ষè পর্বত শৃঙ্গগুলো টেকটোনিক প্লেটের উত্থান এবং আগ্নেয়গিরির উদগীরণের জন্য বহুলাংশে দায়ী।

নিউজিল্যান্ড মহাদেশীয় রাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ২০০০ কিলোমিটার (১২০০ মাইল) পূর্বে তাসমান সাগরে এবং নিউ ক্যালেডোনিয়া দ্বীপ, ফিজি ও টোঙ্গার ১০০০ কিলোমিটার (৬০০ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত।
দূরবর্তিতার কারণে নিউজিল্যান্ডের দ্বীপগুলো হলো মানববসতির সর্বশেষ বাসযোগ্য ভূমি। ১২৮০ থেকে ১৩৫০ সালের মধ্যে পলিনেশীয়রা এই দ্বীপগুলোতে বসতিস্থাপন শুরু করে এবং তারপর তারা সেখানে মাওরি সংস্কৃতি গড়ে তোলে। ১৬৪২ সালে ডাচ অভিযাত্রিক আবেল তাসমান হলেন প্রথম ইউরোপীয় যিনি নিউজিল্যান্ড দেখেন। ১৮৪০ সালে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিরা এবং মাওরি প্রধানরা ওয়াইটাঙ্গি চুক্তি সই করেন, যার মাধ্যমে দ্বীপগুলোর ওপর ব্রিটিশ সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করা হয়। ১৮৪১ সালে নিউজিল্যান্ড ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যের মধ্যে একটি উপনিবেশে পরিণত হয় এবং ১৯০৭ সালে এটি স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যে পরিণত হয়। ১৯৪৭ সালে এটি পূর্ণ সংবিধিবদ্ধ স্বাধীনতা লাভ করে এবং ব্রিটিশ রানী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে থেকে যান।

নিউজিল্যান্ডের মোট আয়তন ২ লাখ ৬৪ হাজার ২১ বর্গ কিলোমিটার (১ লাখ ৩ হাজার ৫০০ বর্গমাইল)। জনসংখ্যা ৫১ লাখ ১৮ হাজার ৫৮০ জন। এদেশের ৪৮.৫ শতাংশ মানুষ কোনো ধর্মই অনুসরণ করে না। প্রধান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছে ৩৭ শতাংশ খ্রিষ্টান, ২.৬ শতাংশ হিন্দু, ১.৩ শতাংশ মুসলিম, ১.১ শতাংশ বৌদ্ধ, ১.৯ শতাংশ অন্যান্য। ৬.৬ শতাংশের ক্ষেত্রে কোনো উত্তর মেলে না।

বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গ। নিউজিল্যান্ডের আদি অধিবাসী জাতির নাম মাওরি; তারা বৃহত্তম সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী। এর পরেই রয়েছে এশীয়রা এবং প্রশান্ত মহাসাগরের বিভিন্ন দ্বীপের লোক। এর ফলে, নিউজিল্যান্ডের সংস্কৃতি মাওরি এবং আদি ব্রিটিশ বসতিস্থাপনকারীদের থেকে উদ্ভূত হয়েছে। এদেশের সরকারি ভাষাগুলো হলো ইংরেজি, মাওরি ও নিউজিল্যান্ডের সাংকেতিক ভাষা।
ইংরেজি নিউজিল্যান্ডের সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা। আদিবাসী মাওরিদের মাতৃভাষা হলো মাওরি ভাষা। মাওরিরা পলিনেশিয়া নামক প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ অঞ্চল থেকে নিউজিল্যান্ডে আগমন করে। তারা এই দেশটিকে ‘আওতেয়ারোয়া’ নামে ডাকতো, যার অর্থ ‘দীর্ঘ শুভ্রমেঘের দেশ’। নিউজিল্যান্ডে ঐতিহ্যবাহী মাওরি সংস্কৃতি এখনও বেঁচে আছে। কিন্তু সেটি এখন আধুনিক নিউজিল্যান্ডের ইউরোপীয় সংস্কৃতির সাথে মিশে গেছে।

নিউজিল্যান্ড একটি উন্নত দেশ। আন্তর্জাতিক তুলনায়, বিশেষ করে শিক্ষা, নাগরিক স্বাধীনতা, সরকারের স্বচ্ছতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার দিক দিয়ে এদেশের অবস্থান অনেক উচ্চে। জাতীয় অর্থনীতিতে সেবা খাতের প্রাধান্য রয়েছে, এর পরেই রয়েছে শিল্প খাত ও কৃষির স্থান। আন্তর্জাতিক পর্যটন রাজস্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। পৃথিবীর সর্বাধিক বাসযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে নিউজিল্যান্ডের শহরগুলো অন্যতম। নিউজিল্যান্ড মেরিনো প্রজাতির ভেড়ার জন্য সুবিদিত, যেগুলোর পশম বিশ্বখ্যাত। দক্ষিণ দ্বীপের বিভিন্ন পাহাড়ে বহু বিশালাকার ভেড়ার খামার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ভেড়ার পশম ছাড়াও নিউজিল্যান্ড উৎকৃষ্ট মানের মাখন, পনির ও মাংস উৎপাদন করে। এদেশের মুদ্রার নাম নিউজিল্যান্ড ডলার।

নিউজিল্যান্ডে একক সংসদীয় সাংবিধানিক রাজতন্ত্র পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত। জাতীয়ভাবে, আইন প্রণয়নের ক্ষমতা একটি নির্বাচিত, এককক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের (প্রতিনিধি পরিষদ) ওপর ন্যস্ত। অপরদিকে নির্বাহী রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা প্রয়োগ করে থাকে। নিউজিল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধান হলেন ইংল্যান্ডের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং বর্তমানে এদেশে তার প্রতিনিধিত্ব করছেন গভর্নর-জেনারেল ডেম প্যাটসি রেড্ডি। প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যাপারে রানীর কোনো প্রভাব নেই, রানী কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধান। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর অধীন সংসদই হলো রাষ্ট্রক্ষমতার অধিকারী। প্রধানমন্ত্রীই নিউজিল্যান্ডের সরকারপ্রধান। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। প্রধান রাজনৈতিক দল দু’টি। বর্তমান ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টি এবং প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি।
এছাড়াও স্থানীয় সরকারের কাজের সুবিধার্থে নিউজিল্যান্ড ১১টি আঞ্চলিক পরিষদ ও ৬৭টি ভূখণ্ডগত কর্তৃপক্ষে বিভক্ত। নিউজিল্যান্ড রাজ্যের মধ্যে আরো রয়েছে টোকেলাও (একটি নির্ভরশীল ভূখণ্ড); কুক দ্বীপপুঞ্জ ও নিউই (মুক্ত সংযোগে স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যসমূহ); এবং রস ডিপেনডেন্সি (অ্যান্টার্কটিকায় নিউজিল্যান্ডের দাবিকৃত ভূখণ্ড)।

নিউজিল্যান্ড জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ অব ন্যাশন্স, আনজুস, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা, আসিয়ান প্লাস সিক্স, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমিউনিটি এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় আইল্যান্ডস ফোরামের সদস্য। দেশটির সঙ্গে অন্যান্য দেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই দেশের পাসপোর্টে ১১২টি দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করা যায়, যা পাসপোর্ট শক্তিসূচকে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।
এদেশের পরিবেশ এবং প্রাণিকুল বৈচিত্র্যময় ও অনন্য প্রকৃতির। মানববসতি প্রতিষ্ঠার পূর্বে এখানে প্রচুর স্থানীয় পাখি ছিল যার মধ্যে অনেক প্রজাতিই জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। দীর্ঘ চষ্ণুবিশিষ্ট কিন্তু উড়তে অক্ষম ‘কিউই’ নামের একটি পাখি শুধুমাত্র নিউজিল্যান্ডেই দেখতে পাওয়া যায়। কিউই পাখি এদেশের একটি জাতীয় প্রতীক। এমনকি নিউজিল্যান্ডের অধিবাসীদেরকেও মাঝে মাঝে প্রচারমাধ্যমে ‘কিউই’ বলা হয়।

নিউজিল্যান্ডের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ সামুদ্রিক। এদেশের তাপমাত্রা দক্ষিণের ১০ ডিগ্রি থেকে উত্তরের ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে। এদেশের ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হলো ৪২.৪ ডিগ্রি ও মাইনাস ২৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এদেশে তুষারপাত মৌসুম। সাধারণত দক্ষিণ দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণ অংশে এবং দেশের পার্বত্য এলাকাগুলোতে তুষারপাত হয়।
প্রায় ৭০০ বছর আগে পলিনেশীয় বিভিন্ন জাতি নিউজিল্যান্ড আবিষ্কার করে এবং এখানে বসতি স্থাপন করে। এরা ধীরে ধীরে একটি স্বতন্ত্র মাওরি সংস্কৃতি গড়ে তোলে। ১৬৪২ সালে প্রথম ইউরোপীয় অভিযাত্রী, ওলন্দাজ আবেল তাসমান, নিউজিল্যান্ডে নোঙর ফেলেন। ১৮শ শতকের শেষ দিক থেকে অভিযাত্রী, নাবিক, মিশনারি ও বণিকেরা নিয়মিত এখানে আসতে থাকে। ১৮৪০ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও নিউজিল্যান্ডের মাওরি গোত্রগুলো চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং এর ফলে নিউজিল্যান্ড ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে আসে। মাওরিদেরকে ব্রিটিশ নাগরিকদের সমান মর্যাদা দেওয়া হয়। এসময় নিউজিল্যান্ডে ব্যাপকভাবে ইউরোপীয় বসতি স্থাপন শুরু হয়। ইউরোপীয় অর্থনৈতিক ও বিচারব্যবস্থা আরোপের ফলে মাওরিরা তাদের বেশির ভাগ জমিজমা ইউরোপীয়দের কাছে হারিয়ে দরিদ্র হয়ে পড়ে।

১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হতে থাকে। অর্থনীতিতে সরকারের হস্তক্ষেপ বাড়ানো হয়। একই সময়ে মাওরিদের মধ্যে এক ধরনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব বা রেনেসাঁ ঘটে। মাওরিরা বিরাট সংখ্যায় শহরে বসতি স্থাপন শুরু করে এবং নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন শুরু করে।

১৯৮০-এর দশকে অর্থনীতিতে সরকারি হস্তক্ষেপ হ্রাস করা হয় এবং অনেক উদারপন্থী নীতি বাস্তবায়ন করা হয়। বৈদেশিক সম্পর্কের ব্যাপারে অতীতে নিউজিল্যান্ড যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অনুসারী ছিল, তবে বর্তমানে এ ব্যাপারে দেশটি অনেক স্বাধীন।
নিউজিল্যান্ডে বেশির ভাগই ব্রিটিশ উৎপত্তির খেলাধুলা হয়ে থাকে। রাগবি, গলফ, নেটবল, টেনিস, ফুটবল, ক্রিকেট, ঘৌড়দৌড়, বরফ সংশ্লিষ্ট স্পোর্টস ইত্যাদি এদেশে খেলা হয়ে থাকে। রাগবি এদেশের জাতীয় খেলা এবং এই খেলাটি প্রচুর দর্শক টানে। নিউজিল্যান্ড তার চরম মাত্রার খেলাধুলা, দুঃসাহসিক অভিযান ও কষ্টকর পর্বতারোহণের জন্য সুপরিচিত। এভারেস্ট বিজয়ী নিউজিল্যান্ডার স্যার এডমান্ড হিলারির সাফল্য এক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য।

নিউজিল্যান্ডের একটি শক্তিশালী জাতীয় ক্রিকেট টিম রয়েছে। দলটি ব্ল্যাকক্যাপস নামে পরিচিত। নিউজিল্যান্ড ১৯৩০ সালে ক্রাইস্টচার্চে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট খেলে বিশ্বের পঞ্চম টেস্ট খেলুড়ে দেশে পরিণত হয়। এর ২৬ বছর পর ১৯৫৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট জয় পায়। ১৯৭২-৭৩ সেশনে নিউজিল্যান্ড পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ওডিআই বা একদিনের ক্রিকেট খেলে। দেশটি দু’বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি।
দেশটিতে বড়ো আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামের খুব ঘাটতি রয়েছে। একমাত্র ওয়েলিংটন আঞ্চলিক স্টেডিয়ামটি মূলত ক্রিকেট মাঠ। ইডেন পার্ক ও ম্যাকলিন পার্ক মূলত রাগবি মাঠ। ল্যাংকাস্টার পার্ক পুনর্নির্মাণের মধ্যে চলছে। এছাড়া অন্যান্য কিছু খোলা মাঠ রয়েছে যেখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। নিউজিল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার সহযোগে ক্রিকেট বিশ্বকাপ দু’বার আয়োজন করেছে। তিনবার মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চলেছে। তিনবার যুব ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে।

SHARE

Leave a Reply