Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো হাদিসের আলো

হাদিসের আলো

শীতের সওগাত

শীত এসে গেছে। শীত মানেই তো পাতাঝরার গীত। কুয়াশার সাদায় মিশে, শীতল শীতল অনুভবে মন হয়ে যায় পরিযায়ী এক পাখি। ঘাসের ঠোঁটে, পাতায় পাতায় একটু শিশির একটু রোদের হীরা হীরা প্রেম। কী নিরূপমা এই শীতকাল। ঠিক যেন কবিতার মতো। মন তাই বলে ওঠে-
কুসুম কোমল সোনা রোদের চাদর যদি
হালকা উমের আদর মেখে পরতে পারো,
পুলক দোলায় নাচবে তখন হৃদয়-নদী
শীত সোহাগী, বলবে ডানা ছড়াও আরো!

উমায়েরের কাছে শীতের সবই ভালো লাগে। বেশি ভালো লাগে এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াতে। বাড়ির পাশেই মেঘনা নদী। মাঝে-মধ্যে বাদ ফজর ছুটে যায় নদীর কাছে। শীত সকালের নদীর শরীর যে দেখেনি, জীবনে সে আর কিইবা দেখেছে? তবে তার কাছে একটা জিনিস একদম ভালো লাগে না। তা হচ্ছে, শীতের দিনগুলো এত ছোটো, কখন ফুরিয়ে যায় বুঝাই যায় না। আর রাতগুলো কত বড়ো! শেষই হয় না যেন! এত সময় কি শুয়ে থাকা যায়? উমায়ের তার এ অনুভূতির কথা বড়ো আপুকে বলেই ফেলল! আপু হেসে বললেন, এ তো আল্লাহর এক অনন্য উপহার?

উপহার? একটু খুলে বলো না আপু, বলল উমায়ের। আপু বললেন, তাহলে ভালো করে শোনো। মুসনাদে আহমদে এসেছে, মহানবী (সা) বলেছেন, “শীতকাল হচ্ছে মুমিনের বসন্তকাল।” কারণ, শীতের রাত বড়ো হওয়ায় মুমিন রাতে নফল নামাজ আদায় করতে পারে এবং দিন ছোটো হওয়ায় রোজা রাখতে পারে।” (বায়হাকি)। কী, তোমার জবাব পেয়েছ? উমায়ের বলল, সত্যিই তো! এভাবে কখনোই ভাবিনি। চলো, আপু! আমরা কাল থেকে রোজা রাখব। আপু বললেন, অবশ্যই, ইনশাআল্লাহ। আর, রাতে উঠে নামাজ পড়বে না? উমায়ের বলল, ইনশাআল্লাহ আপু!
আপু বললেন, শীতকাল অনেক চমৎকার সময়। মহানবী (সা) একে ‘শীতল গনিমত’ বলেছেন। গনিমত হচ্ছে, বিনা পরিশ্রমে যুদ্ধের ময়দানে কুড়িয়ে পাওয়া সম্পদ। আর আল্লাহর প্রিয় বান্দাহ্রা তো এ মওসুমের অপেক্ষায় থাকেন। ভালোবেসে তাকে বরণ করে নেন পরম মমতায়। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলতেন, “শীতকালকে সুস্বাগত! এতে বরকত নাজিল হয়। এর রাতগুলো যেমন ইবাদাতে দাঁড়ানোর জন্য দীর্ঘ হয়, তেমনি দিনগুলো ছোটো হয় রোজা রাখার জন্য।”
উমায়ের বলল, চলো আমরাও বলি- “সুস্বাগত, শীতকাল!”
বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply