Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো কুরআনের আলো

কুরআনের আলো

ওজন সমাচার

অনলাইনে কিছু শুকনো খাবার অর্ডার করেছিল আবদুল হাই। “বিশ্বটাকে দেখব আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে”- এ কথা একসময় শুধু কবিতায় ছিল। ছিল বইয়ের পাতায়। এখন তা আমাদের জীবনের পাতায় ঠাঁই করে নিয়েছে। আমরা এখন যা দেখতে চাই, যা খেতে চাই- সবই হাতের মুঠোয়! আবদুল হাই এই প্রথম কিছু অর্ডার করল অনলাইনে! ডেলিভারি ম্যান বাসায় এসে পৌঁছিয়ে দিলো। এই অনুভূতিটাই অন্যরকম।
প্যাকেট খুলে আবদুল হাই আরও অবাক হলো। খুবই ভালো জিনিস। যেমন ভেবেছে তার চেয়েও ভালো। আচ্ছা, ওজন ঠিক আছে তো? কৌতূহল থেকে মেপে দেখল। না, কম তো নেই-ই, বরং একটু বেশিই আছে! অদ্ভুত! আলহামদুলিল্লাহ পড়ল কয়েকবার। খুশিতে আব্বুকে বলল সবকিছু। আব্বু বললেন, তুমি ভালো মানুষের হাতে পড়েছ। তবে এ জগতে খারাপ মানুষের সংখ্যাও কম নেই। যারা ওজনে কম দেয়, মানহীন পণ্য দেয়।
আবদুল হাই বলল, ওজনে কম দেওয়া মানুষ তো প্রতারক। তাদের ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?
আব্বু বললেন, তাদের নামে একটি সূরা আছে কুরআনে। আল্লাহ বলেছেন- “দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা মাপে ও ওজনে কম দেয়। যারা মানুষের কাছ থেকে যখন মেপে নেয়, তখন পুরোপুরি নেয়। আর যখন তাদেরকে মেপে কিংবা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়। তারা কি ভাবে না, তাদেরকে আবার (কবর থেকে) উঠানো হবে? এক মহাদিবসে, যেদিন মানুষ বিশ্বজগতের প্রভুর সামনে দাঁড়াবে? না, না, (তারা মোটেও ঠিক কাজ করছে না)। পাপীদের আমলনামা অবশ্যই সিজ্জিনে আছে।” (সূরা মুতাফফিফিন : ১-৭)।
মহানবী (সা) মদিনায় এসে দেখলেন, ওজনে কম দেওয়া মদিনাবাসীদের কাছে খুবই সহজ একটি বিষয়! তখন আল্লাহ এ সূরা নাজিল করেন। এরপরই তারা এ কাজ থেকে বিরত হয়। নবী শুয়াইব (আ)-এর জাতির মধ্যেও এ স্বভাব সাধারণভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি তাদেরকে বারবার নসিহত করেছিলেন। তবুও তারা এ কাজ থেকে ফিরে আসেনি। এ অপরাধের কারণে আল্লাহ তাদের ওপর আজাব নাজিল করেছিলেন। তবে শুধু ওজন নয়, গণনায় কম দিলেও তা হারাম হবে। প্রাপকের প্রাপ্য পুরোপুরিই দিতে হবে। সেটা জীবনের সকল কাজেই। এমনকি ইবাদাতেও!
আবদুল হাই বলল, আল্লাহ আমাদের এমন হারাম কাজ থেকে দূরে রাখুন। আব্বু বললেন, আমিন!

SHARE

Leave a Reply