Home নিবন্ধ শিশুদের স্বাধীনতা -আবুল খায়ের নাঈমুদ্দীন

শিশুদের স্বাধীনতা -আবুল খায়ের নাঈমুদ্দীন

আমরা স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক। একথা সবাই মুখে মুখে মনে মনে জানি। কিন্তু সবাই কি নিজের মন মতো নিজের জীবন স্বাধীন মনে গড়ে তুলতে পারি?
আমরা বাচ্চাদের সুন্দর এবং ভালো কাজে সহযোগিতা করি। খারাপ কোনো কথা বা মন্দ কাজ কিছুই আমরা তাদের সামনে করি না বা বলি না। তাদেরকে ভালো রাখার জন্য আমাদের মনের রাগ ক্ষোভ আমরা তাদের সামনে প্রকাশ করি না। গোপনে সেটা সেরে নেই। এক কথায় আমরা তাদের সামনে অভিনয় করি। ইচ্ছার স্বাধীনতার বিষয়েও আমরা তাদের সামনে অভিনয় করি। তাদের যা ইচ্ছা তা করতে দেই না অন্য কিছুর গুরুত্ব বুঝাই। প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে তাদের ইচ্ছাটাকে পরিবর্তন করে দেই। অবশ্য এর কারণও আছে। তাদের সব চাহিদা ইচ্ছা করলেই পূরণ করা যায় না।
একটি শিশু জন্মের পর তার মা বাবা দাদা দাদি নানা নানিদের জন্য আনন্দের হয়ে জন্ম নেয়। তখন তার কোনো ভাষা থাকে না, ইচ্ছা থাকে না। মায়ের কোল থেকে আল্লাহ প্রদত্ত খাদ্য পান করে সে ধীরে ধীরে বড়ো হয়। তার জন্ম যেমন আশ্চর্য সৃষ্টি, তার বেড়ে ওঠাও তেমনি অবাক করা। সবার সামনেই শিশুটি ধীরে ধীরে বড়ো হয়ে পূর্ণাঙ্গ মানুষে রূপ নেয়।
এই বেড়ে ওঠার মধ্যেই শিশুর নতুন পৃথিবী। হাদীসে এসেছে- প্রত্যেক শিশুই স্বতন্ত্র বা স্বাধীনতা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। তার পরিবার তাকে যা শিক্ষা দেয় সে তাই শিখে। তার পরিবার যেভাবে শিক্ষা দেয় সেভাবেই সে শেখে। যে শিশু যে দেশে জন্মগ্রহণ করে সে শিশু সে দেশের কালচার বা সংস্কৃতি শিখে থাকে। যে ধরনের পরিবারে জন্ম নেয় সে ধরনের চাল চলন কাজ কারবার শিখে থাকে। অবশ্য উন্নত দেশে শিক্ষার বিষয়ে শিশুদের আগ্রহকে মূল্যায়ন করা হয়। তার আগ্রহ অনুযায়ী তাকে শিখতে দেওয়া হয়। এটাই শিক্ষার স্বাধীনতা। আমাদের দেশে ছোটো থেকে তার ইচ্ছার কোনো মূল্য দেওয়া হয় না। আমাদের দেশে গরীব পরিবারের শিশুরা উন্নত পরিবারের শিশুর মতো খাবারতো খেতে পারে না, এমনকি সব রকম খাবারের নামও জানে না। এখানে কি স্বাধীনতা আছে? উন্নত পরিবারের বাচ্চারা যেমন আরাম-আয়েশ পায়, অন্য সব পরিবারের শিশু কি সেই আরাম আয়েশ আর অধিকার পায়? গরীব পরিবারের শিশুরা অযতেœ অবহেলায় মানুষ হয়। তাদের উন্নত পরিবেশ দেওয়ার জন্য কেউ নেই। আরো দুঃখের বিষয় হলো অসংখ্য শিশু প্রতি বছর দরিদ্রতার কারণে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ে।
এমনকি স্কুলে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রেও সব শিশু তাদের পছন্দের স্কুলে ভর্তি হতে পারে না। কোনো কোনো স্কুলে অনেক টাকা লাগে। হয়তো সেই স্কুলটি সুন্দর, চারপাশে খোলা জায়গা, প্রচুর পরিমাণে খেলার সামগ্রী আছে। কোনো শিশু গ্রামের প্রকৃতি দেখতে দেখতে হেসে খেলে স্কুলে যায়। পথে গরু ছাগল হাঁস মুরগী কতো কিছু দেখে। শহরের শিশুরাতো খাঁচার মতো একটি গাড়িতে করে স্কুলে যায় আর আসে। এখানে ইচ্ছার স্বাধীনতা নেই। শহরের শিশুরা যেমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান দেখে প্রতিযোগিতা দেখে বা অংশগ্রহণ করে। গ্রামের শিশুরা কি তা কখনো দেখে?
শহরের শিশুদের স্বাধীনতা নেই এক জায়গায়- ওরা ইচ্ছা করলেই কোনো মাঠে গিয়ে খেলতে পারে না। রাস্তায় বেরিয়ে মুক্ত বাতাস বুকে ধারণ করে বুকটাকে কেউকারাডং এর মতো উচু করতে পারে না। পানিতে ঝাঁপিয়ে লাফালাফি করতে পারে না, সাঁতার শিখতে পারে না। এই স্বাধীনতা ও ব্যবস্থা তাদের জন্য নেই।
আমাদের সকল শিশুদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ করা দরকার। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুরাও ধনীদের পরিবারের মতো পরিবেশ চায়। ওদেরও মনে আনন্দ উৎসাহ থাকা চাই। সবার জন্য স্বাধীন শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করার প্রত্যাশা সকলের।

SHARE

Leave a Reply