Home গল্প তোমাদের গল্প মানুষ ও পৃথিবী -জালাল উদ্দীন ইমন

মানুষ ও পৃথিবী -জালাল উদ্দীন ইমন

আগুন আগুন বলে সবাই পালাচ্ছে। অনেকে বাচ্চাদের বের করে আনতে পারেনি। তাই বেশির ভাগই পুড়ে মরেছে। কেউ কেউ শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তিলে তিলে সাজানো সংসার মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেল। কী অন্যায়টা করেছিল জানে না!
গাছে গাছে বাসা বেঁধে থাকলে তাতে মানুষের ক্ষতি কী? ছোট্ট নিষ্পাপ মৌমাছি। তাদের কী আর মানুষের সাথে পেরে ওঠার সাধ্য আছে। তারা তো অহেতুক কামড়ায় না। এই যে, আসতে-যেতে দুষ্টু ছেলেপেলে কত ঢিল ছুড়ে চাক লক্ষ্য করে। কই, একবারও তো তাদের নাক-মুখ লাল করে দেয়নি। বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা মানুষের আছে। তাই বলে স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠবে কেন?

আমরাও জীব তারাও জীব। তবুও কেন এমন অমানবিক আচরণ!

সৈনিক মৌমাছি সারাদিন খেটে ফুল থেকে মধু আনে। মৌমাছির ঠোঁট স্পর্শ না করলে ওই কুড়ির কী আর সার্থকতা আছে? রঙ, গন্ধ, বিকাশ কিছুই তো পাবে না। পৃথিবীর হাজার রকম ফুলের রকমারি মধু। আসার সময়ও মানুষের কত ঝাক্কিঝামেলায় পড়তে হয় তার ইয়ত্তা নেই। মধু যাচাই-বাছাই। প্রক্রিয়াজাতকরণ। বিপণন। কত্ত কাজ! এসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কত জীবন দিতে হয়!

‘কেউ মরে বিল ছেঁচে কেউ খায় খই।’ মানুষ চাক থেকে মধু চুরি করে। মৌমাছির বাচ্চারা অনাহারে মরে। পৃথিবীর অমোঘ নিয়ম দুর্বলরাই মার খেয়ে যাবে।
মৌচাকে আগুন দেয়। জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। অন্যের ধন ভোগ করে আনন্দ পায়। এমনকি মানুষের স্বেচ্ছাচারিতার কারণেই পৃথিবী আজ ধ্বংসের মুখে। মানুষ নিজেরাও ধারণা করছে, তাদের অপরিণামদর্শিতার জন্য পৃথিবী একদিন ধ্বংস হবে। মানবজাতি বিলুপ্ত হবে। তবুও এদের কোনো চেতনা নেই।
জীবজগতের মধ্যে যারা সুনিয়ন্ত্রিত সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করে। আগামীতে একমাত্র তারাই টিকে থাকবে। একদিন এ কথা সত্য হবে। ‘কাঙালের কথা বাসি হলেও ফলে।’
এভাবে নিজেদের দুঃখের কথা তুলে ধরছিলেন মক্ষীরানি। ‘মানুষ পৃথিবীর জন্য হুমকিস্বরূপ’ শীর্ষক পশুসভায় আমন্ত্রিত দলপতিরা একে একে অভিযোগ শুনিয়ে গেলেন। তারা সকলেই পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। চিন্তিত মুখগুলো ফ্যাকাসে হয়ে এলো। এই ভেবে যে, পৃথিবী ধ্বংস হলে তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সুশৃঙ্খল জাতিকে বাঁচিয়ে রাখতে তারা এক অসাধারণ বুদ্ধি বের করলো। সকলেই গোল হয়ে সিদ্ধান্ত নিলো। তাদের গঠনের কিছুটা পরিবর্তন হলেই স্বজাতিকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।
সিংহ সহাস্য মুখে বলল, তাহলে আমাদের উচিত এ বিষয়ে ‘কিকি’র সাথে আলোচনা করা। সে হয়তো আমাদের বেঁচে থাকার উপযুক্ত পরিবেশের সন্ধান দিতে সাহায্য করতে পারে। যেহেতু, তাদের বুদ্ধিমত্তা মানুষের চেয়েও বেশি। এবং তারা পৃথিবীর চেয়ে অনেক এগিয়ে।

শিয়াল জানতে চাইল, ‘কিকি, কিকিটা আবার কে?’
জবাবে সিংহ বললো, ‘তোমরা হয়তো ভুলে গেছো। দুই বছর আগে, এলিয়েন পরিবারের একজন সদস্য পৃথিবীতে ছিটকে পড়েছিল। প্রচণ্ড আহত হয়ে বনের মধ্যে চিত হয়ে পড়েছিল। আমরা সবাই তার সেবাশুশ্রƒষা করে সুস্থ করে আবার পাঠিয়ে দিয়েছিলাম।

সবাই হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ালো। ‘ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে।’
এলিয়েন কিকিকে খবর পাঠানো হলো। এবং কৃতজ্ঞতা পূরণের উদ্দেশ্যে খবর পাওয়া মাত্র সে পৃথিবীতে নেমে এলো।
এলিয়েন কিকির আগমনে পুনরায় পশুসভার আয়োজন করা হলো। পশুরাজ সিংহ সবকিছু কিকিকে খুলে বললো।

কিকি জানালো,
আয়তন ও উপরিভাগের তাপমাত্রার বিচারে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মিল রয়েছে। ‘ট্রাপিস্ট ওয়ান’-এর মতো এমন সৌরজগতেরও খোঁজ পাওয়া গেছে, যেখানে পাঁচ-পাঁচটি গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে।
এখন তোমরা যদি চাও। আমি প্রতিটি প্রাণীর একজোড়া করে নিয়ে যাবো। সেখানে থাকতে তোমাদের কোনো অসুবিধে হবে না। পরিবেশের সাথেও খাপ খেয়ে যাবে।
কিকির কথায় তারা আশ্বস্ত হলো এবং প্রতিজোড়া প্রাণী ভিন্নগ্রহে পাঠিয়ে দিলো।

SHARE

Leave a Reply